২. আমাদের ভুললে চলবে না যে, এমন কি ভূমিদাসও কেবল তার বাড়ি সংলগ্ন জমিটির মালিক, যদিও কর-প্রদানকারী মালিক ছিলনা, সেই সঙ্গে সাধারণ জমিরও সহ-অধিকারী ছিল। “Le paysal ( in Silesia, under Frederick ll.) est scrf.” যাই হোক, এই ভূমিদাসেরা সাধারণ-জমিতে অধিকার ভোগ করত। “On n’a pas pu encore engager le. Silesicns au partage des communes tandis que dans la Nouvelle Marche, il n’y a guere de village ou ce partage ne soit exscute avec le plus grand succes.” ( Mirabeau : “De la Monarchie Prussienne.’ Londres, 1788, t. ii. pp. 125, 126.)।
৩, জাপান তার ভূমি-সম্পত্তির বিশুদ্ধ সামন্ততান্ত্রিক সংগঠন ও সুকুমার সংস্কৃতি সহ আমাদের সমস্ত ইতিহাস বইয়ের তুলনায় ইউরোপীয় মধ্যযুগের ঢের বেশি খাঁটি ছবি উপস্থিত করে; তার কারণ আমাদের বইগুলি লেখা হয়েছিল বুর্জোয়া সংস্কারের প্রভাবে। মধ্যযুগের বিনিময়ে উদার হওয়া খুবই সুবিধাজনক।
৪. টমাস মোর তার ‘ইউটোপিয়া’য় বলেন, “আপনাদের যে ভেড়াগুলি ছিল এত শান্ত ও নিরীহ এবং এত অল্প খেয়ে খুশি, সেগুলি, আমি শুনতে পেলাম, এখন সেগুলি হয়ে উঠেছে এমন রাক্ষস, এমন বুনো যে তারা খেয়ে ফেলছে, গিলে ফেলছে খোদ মানুষ গুলোকেই।” লণ্ডন ১৮৬৯, পৃঃ ৪১।
৫. স্বাধীন, সম্পন্ন কৃষক-সমাজ এবং পদাতিক বাহিনীর মধ্যেকার সম্পর্ক বেকন তুলে ধরেছেন। ৫. শ্রেষ্ঠ বিচারশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সাধারণ মত এই যে যুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি নিহিত থাকে তার পদাতিক বাহিনীর মধ্যে। এবং ভালো পদাতিক বাহিনী গঠন করতে হল দাসসুলভ ও অভাবগ্রস্ত পরিবেশে কোনক্রমে বেড়ে ওঠা লোকদের দিয়ে চলবে না, চাই স্বাধীন ও প্রাচুর্যপূর্ণ পরিবেশে লালিত লোকদের। সুতরাং যদি কোন রাষ্ট্র অভিজাত ও ভদ্রলোকের জন্যই সবচেয়ে বেশি করে থাকে এবং চাষী আর হলধরেরা কেবল তাদের কাজের লোক বা মজুর হিসাবে বা কেবল কুঁড়েঘরের বাসিন্দা (যা ঘরবাসী ভিখারী ছাড়া আর কিছু নয়) হিসাবেই থাকে, তা হলে সেখানে হয়ত একটা ভাল অশ্বারোহী বাহিনী হতে পারে, কিন্তু কিছুতেই একটা ভালো পদাতিক বাহিনী হতে পারে না। এবং এটা দেখা যায় ফ্রান্সে ও ইতালীতে এবং আরো কিছু বিদেশী জায়গায়, যার জন্য সেখানে পদাতিক যোদ্ধা হিসাবে নিয়োগ করতে হয় সুইজার ইত্যাদিদের ভাড়াটে দল; এবং তা থেকে যা পরিণতি হয়, ঐসব দেশে লোকসংখ্যা বেশি কিন্তু সৈন্যসংখ্যা খুবই কম। (দি রেইন অব হেনরি দি সেভেন্থ’, কেনেট-এর ইংল্যাণ্ড থেকে আক্ষরিক পুনর্মুদ্রণ, ১৭১৯, লণ্ডন, ১৮৭৩, পৃঃ ৩০৮)।
৬. ডঃ হান্টার, ঐ, পৃঃ ১৩৪। পুরনো আইন অনুসারে যে-পরিমাণ জমি বরাদ্দ করা হত, আজকের দিন মজুরদের পক্ষে তা অত্যধিক বলে বিবেচিত হবে এবং তা বরং তাদের ছোট কৃষি-মালিকে রূপান্তরিত করবে। (জর্জ রবার্টস: ‘দি সোশ্যাল হিস্ট্রি অব দি পিপল’ইন পাস্ট সেঞ্চুরিজ,, পৃঃ ১৮৪, ১৮৫)।
৭. “ ‘টাইদ (রাষ্ট্রকে প্রদত্ত খাজনা : ফসলের এক-দশমাংশ) হিসাবে প্রাপ্ত ভাণ্ডারে গরিবদের অংশীদারিত্বের অধিকার প্রাচীন বিধি-বিধানের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।” ( টাকেট:‘এ হিষ্ট্রি অব দি পাস্ট অ্যাণ্ড প্রেজেন্ট অব দি লেবার, পপুলেশন, ১৮৪৬, পৃ: ৮৪-৮০৫)।
৮. উইলিয়ম কবেট : ‘হিষ্ট্রি অব প্রোটেস্ট্যান্ট রিফর্মেশন, পৃ: ৪৭১।
৯. প্রোটেস্ট্যান্টবাদের “সারমর্ম অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়টিতেও দেখা যায় : ইংল্যাণ্ডের দক্ষিণে কয়েকজন জমির মালিক এবং বিত্তবান কৃষি-মালিক একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে এলিজাবেথের গরিব আইনের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে দশটি প্রশ্ন প্রস্তুত করে। এই প্রশ্নগুলিকে তারা পেশ করে সেই যুগের একজন প্রসিদ্ধ বিধান-বিশেষজ্ঞের সার্জেন্ট গিগের বিবেচনার জন্য, (পরে প্রথম জেমস-এর আমলে যিনি বিচারক হয়েছিলেন। প্রশ্ন ৯ : প্যারিশের অধিকতর বিত্তবান কৃষি-মালিকদের কেউ কেউ একটি সুকৌশল পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যার সাহায্যে এই আইনটিকে (এলিজাবেথের ৪৩ তম আইনটিকে) কার্যকরী করার তাবৎ ঝামেলা পরিহার করা যায়। তারা প্রস্তাব করেছেন যে আমরা প্যারিশে একটি কারাগার স্থাপন করব এবং তার পরে এলাকায় একটি নোটিস দেব যে যদি কেউ এই প্যারিশের গরিবদের ভাড়া খাটাতে চান, তা হলে তারা একটা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে সীল-করা খামে প্রস্তাব দিন তারা কত কম দামে তাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিতে চান এবং তাঁদের এই কর্তৃত্ব দেওয়া হবে যে তারা এমন যে-কাউকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন, যে-লোক এই কারাগারে আবদ্ধ থাকে নি। এই পরিকল্পনার প্রস্তাবকদের ধারণা যে আশেপাশের কাউন্টিগুলিতে এমন অনেক ব্যক্তি পাওয়া যাবে, যারা শ্রম করতে অনিচ্ছুক হয়ে এবং বিনা শ্রমে জীবন-কাটাবার জন্য কোন জোত বা জাহাজ নেবার মত সঙ্গতি বা ক্রেডিট না থাকায় প্যারিশের কাছে একটি অতি সুবিধাজনক প্রস্তাব করতে পারে। যদি কোন ঠিকাদারের অধীনে গরিবদের মধ্যে কেউ মারা যায়, তা হলে পাপটা হবে তার, কেননা প্যারিশ তাদের প্রতি কর্তব্য করেছে। কিন্তু আমাদের আশংকা, বর্তমান আইনটিতে এই ধরনের সুবিবেচনাপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই; কিন্তু আপনাকে জানাচ্ছি যে, যে কাউন্টির বাকি ভূমি-স্বত্বভোগীরা এবং নিকটবর্তী “খ” কাউন্টির ভূমি-স্বত্বভোগীরা খুব চটপট মিলিত হবে তাদের সদস্যদের এমন একটি আইন প্রস্তাব করার নির্দেশ দিতে, যা প্যারিশকে ক্ষমতা দেবে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে গরিবদের কারারুদ্ধ করে রাখবার এবং কাজ করবার চুক্তি করতে এবং এই মর্মে ঘোষণা করতে যে, কোনো লোক যদি এই ভাবে কারারুদ্ধ হতে অস্বীকার করে, তা হলে সে কোনো ত্রাণ-সাহায্যের দাবিদার হতে পারবে না। আশা করা যায়, এর ফলে দুর্দশাগ্রস্ত লোকেরা ত্রাণ-সাহায্য চাওয়া থেকে নিবৃত্ত হবে” (আর ব্ল্যাকি, “দি হিষ্ট্রি অব পলিটিক্যাল লিটারেচর ফ্রম দি অলিয়েস্ট টাইমস”, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃঃ ৮৪-৮৫)। স্কটল্যাণ্ডে ভূমিদাসপ্রথার অবসান ঘটেছিল ইংল্যাণ্ডের কয়েক শতাব্দী পরে। এমনকি ১৬৯৮ সালেও সালটুন-এর ফ্লেচার স্কচ পার্লামেন্টে ঘোষণা করেন, “স্কটল্যাণ্ডে ভিখারীর সংখ্যা ২,০০,০০০-এর কম নয়। নীতিগত ভাবে একজন প্রজাতন্ত্রী হিসাবে যে-প্রতিকার আমি সুপারিশ করতে পারি, তা হলো পুরনো ভূমিদাস-প্রথাকে ফিরিয়ে আনা, যারা নিজেদের জীবিকার ব্যবস্থা নিজেরা করতে পারে না তাদের সকলকে আবার গোলাম করা।” ইডেন তাঁর পূর্বোক্ত বইয়ে (পৃঃ ৬০-৬১) বলেন, “ভূমিদাসত্বের হ্রাসপ্রাপ্তি থেকেই গরিবদের উৎপত্তি। আমাদের স্বদেশীয় গরিবদের মাতা এবং পিতা হল শিল্প এবং বাণিজ্য। আমাদের স্কচ প্রজাতন্ত্রীর মত ইডেনও কেবল একটিমাত্র ভুল করেছেন; ভূমিদাসত্বের অবসান কৃষি-শ্রমিককে সর্বহারা করেনি, তাকে সর্বহারা করেছে জমিতে তার সম্পত্তির অবসান; প্রথমে করেছে সর্বহারা এবং পরে ভিখারী। ফ্রান্সে যেখানে সম্পত্তি থেকে কৃষি-শ্রমিকের উৎপাদন ঘটেছিল অন্য ভাবে, সেখানে ১৫৭১ সালের মৌলিন্স-এর অধ্যাদেশ’ এবং ১৮৫৬ সালের অনুশাসন ইংল্যাণ্ডের গরিব-আইনগুলির স্থান গ্রহণ করে।
