৭৯. এই সব ভদ্রলোকদের একজনের কাছে তার ভাড়ার স্বাদ এত রুচিকর যে, সে তদন্ত কমিশনের কাছে ক্ষেপে গিয়ে ঘোষণা করে, এই গোটা হৈ-চৈটা কেবল এই প্রথার নামটার জন্য। যদি একে “গ্যাং” না বলে “গ্রামীন শিশুদের বৃত্তিগত স্বাবলম্বন সমিতি” বলে ডাকা হত, তা হলে সব কিছুই ঠিক হয়ে যেত।
৮০. “গ্যাং-প্রথায় কাজ অন্য কাজের চেয়ে সন্তা; এই কারণেই তাদের নিযুক্ত করা। হয়,” একথা একজন প্রাক্তন গ্যাং-সর্দারের (ঐ, পৃঃ ১৭, ১৪)। একজন কৃষি-মালিকের। মতে, “গ্যাং-প্রথা নিশ্চিত ভাবেই কৃষি-কতার পক্ষে সবচেয়ে সস্তা, এবং নিশ্চিতভাবেই শিশুদের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ।। ঐ, পৃঃ ১৬, ৩)।
৮১. “শিশুরা গ্যাং-প্রথায় যে-কাজ করে, নিঃসন্দেহে তার বেশিটাই আগে করত পুরুষ ও নারীরা। যেখানে এখন বেশি সংখ্যক সংখ্যক নারী ও শিশুকে নিযুক্ত করা হয়, সেখানে আগের চেয়ে বেশি পুরুষ বেকার থাকে।” (ঐ, পৃঃ ৪৩, নোট ২০২) অন্ত দিকে, কতকগুলি কৃষিপ্রধান জেলায়, বিশেষ করে আবাদি এলাকায়, শ্রম-সমস্যা, দেশান্তর-গমন এবং বড় বড় শহরে যাবার জন্য রেলের সুবিধার দরুন, এমন গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে আমি (অর্থাৎ একজন বড় জমিদারের কর্মকর্তা) মনে করি যে শিশুদের কাজ অপরিহার্য। (ঐ, পৃঃ ৮৩, নোট ১৮৩) কেননা বাকি সভ্য জগৎ থেকে আলাদা ভাবে ইংল্যাণ্ডের কৃষি-জেলার শ্রম-সমস্যা আসলে হচ্ছে জমিদার ও কৃষি-মালিকের সমস্যা, যথা কৃষিকর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যার নিরন্তর বর্ধমান দেশান্তর-গমন সত্ত্বেও, দেশের মধ্যে আপেক্ষিক ভাবে একটি যথেষ্ট উদ্বৃত্ত-জনসংখ্যা বৃক্ষা করা এবং তার সাহায্যে কৃষি-শ্রমিকের মজুরি ন্যনতম হারে বেঁধে রাখা কি করে সম্ভব?
৮২. ‘জন-স্বাস্থ্য রিপোর্ট’-এ, যেখানে শিশু-মৃত্যুর কথা আলোচিত হয়, সেখানে ‘গ্যাং’ প্রথার কথা কেবল প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা হয়; সেই কারণে পত্র-পত্রিকায় এবং ইংরেজ জনসাধারণের কাছে তা অজ্ঞতাই রয়ে যায়। অন্য দিকে, ‘শিশু নিয়োগ কমিশন’-এর শেষ রিপোর্টটি যখন সংবাদপত্রের হাতে আসে তখন সাড়া পড়ে যায়। ‘লিবারল’ পত্র-পত্রিকারা প্রশ্ন তুলল কি করে ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহিলারা এবং সরকারি গীর্জার উচ্চ-বেতনভোগী যাজকেরা তাদের জমিদারিতে তাদেরই নাকের ডগায় এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে উঠতে দিলেন, তখন তাঁরা দক্ষিণ সাগরের দ্বীপবাসীদের নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য বিপরীত মেরু পর্যন্ত দ্রুত ‘মিশন’ প্রেরণ করেন এবং সুসংস্কৃত পত্র-পত্রিকাগুলি তখন এই চিন্তায় মগ্ন হয় কী করে কৃষি-জনসংখ্যার এমন নিদারুণ অধঃপতন ঘটল যে তারা নিজেদের শিশুদের এমন গোলামিতে বেচে দিতে পারে। যে-অভিশপ্ত অবস্থার মধ্যে এই সুকোমল ব্যক্তিবর্গ কৃষিশ্রমিককে নিক্ষেপ করেন, তাতে তারা যদি তাদের সন্তানদের খেয়েও ফেলে, তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। যা আশ্চর্যজনক তা হল এই যে অবস্থার মধ্যেও চরিত্রের কী বলিষ্ঠ সুস্থতা সে বজায় রেখেছে। সরকারি রিপোর্টগুলিই প্রমাণ করে মাতাপিতার। এই ‘গ্যাং’-প্রথাকে কত যুণা করে। এমন টের সাক্ষ্য প্রমাণ আছে যা থেকে বোঝা যায় যে অনেক ক্ষেত্রেই বাপ-মায়েরা তাদের উপরে যে চাপ ও প্রলোভন সৃষ্টি করা হয় তা প্রতিরোধ করবার। জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতার সাহায্য পেলে তারা খুশি হত। কখনো প্যারিশ অফিসারেরা কখনো নিয়োগকর্তারা তাদের চাপ দেয়, এমনকি তাদের নিজেদের চাকরি খোয়াবার ভয় দেখিয়ে, যাতে যে-বয়সে তাদের শিশুদের ইস্কুলে পাঠালে স্পষ্টতই ভাল হত, সেই বয়সেই তাদের কাজে লাগিয়ে দেয়। সময় ও শক্তির এই সার্বিক অপচয়; শ্রমিক ও তার শিশুদের উপরে আরোপিত এই অতিরিক্ত ও অলাভজনক ক্লান্তিজনিত ক্লেশভোগ; ঘরের গাদাগাদি ভিড় এবং গ্যাং’-এর সংক্রামক প্রভাব থেকে তার শিশুদের সুকুমার বৃত্তিগুলির অবলুপ্ত ও তাদের নৈতিক সর্বনাশের প্রত্যেকটি দৃষ্টান্ত তার মনে কী অনুভূতি সৃষ্টি করে তা সহজেই বোঝা যায়। তাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে যে তাদের দৈহিক ও মানসিক ক্লেশের অনেকটাই আসে সেইসব কারণ থেকে, যার জন্য তারা দায়ী নয়; তাদের যদি ক্ষমতা থাকত, তা হলে তারা তা কখনো মেনে নিত না; এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ক্ষমতা তাদের নেই। (ঐ, পৃঃ ২, ৮২, ৩, নং ৯৬)।
৮৩. আয়াণ্ডের জনসংখ্যা ১৮৩১ সালে ৫,৩১৯,৮৬৭ জন ব্যক্তি; ১৮১১-তে ৬,৮৪,৯৯৬; ১৮২১-এ ৬,৮৬৯,৫৪৪; ১৮৩১-এ ৭,৮২৮,৩৪৭; ১৮৪১-এ ৮,২২২,৬৬৪।
৮৪. যদি ফসলও একরপ্রতি হ্রাস পায়, তা হলে ভুলে গেলে চলবে না যে দেড় শতাব্দী ধরে ইংল্যাণ্ড, আয়ল্যাণ্ডের মৃত্তিকার নিঃশেষিত উপাদানগুলি প্রতিস্থাপন করার মত উপায়াদি তার কৃষকদের না দিয়ে, পরোক্ষ ভাবে দেই দেশের মৃত্তিকা রপ্তানি করেছে।
৮৫. যেহেতু আয়লাকে গণ্য করা হয় “জনসংখ্যা-নীতির” প্রতিশ্রুত দেশ বলে, টমাস স্যাডলরে তার জনসংখ্যা সম্পর্কিত বইখানা প্রকাশিত হবার আগে প্রকাশ করেন। তার সেই বিখ্যাত গ্রন্থ, “আয়লা, তার সমস্যা এবং প্রতিকার।” ২য় সংস্করণ, লণ্ডন, ১৮২৯। এখানে তিনি এক-একটি প্রদেশের এবং প্রত্যেকটি প্রদেশের এক-একটি কাউন্টির। পরিসংখ্যান তুলনা করে, প্রমাণ করে দেন যে, সেখানে, ম্যালথাস যা বলেন, তা নয়; দুর্দশা জনসংখ্যার অনুপাতে বৃদ্ধি পায় না, বরং বৃদ্ধি পায় তার বিপরীত হারে।
