৮৬. ১৮৫১ থেকে ১৮৭৪-এর মধ্যে মোট প্রবাসগামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩,২৫,৯২২ জন।
৮৭. মার্কির ‘আয়লা ইণ্ডাষ্ট্রিয়াল, পলিটিক্যাল অ্যান্ড সোস্যাল’, ১৮৭৩, অনুযায়ী ৯৪৬ ভাগ জোত ১০০ একর পর্যন্ত পৌঁছায় না, ৫’৪ ভাগ ১০০ একর ছাড়িয়ে যায়।
৮৮. ‘রিপোর্টস ফ্রম দি পুয়োর ল ইনস্পেক্টরস অন দি ওয়েজেস অব এগ্রিকালচারাল লেবারার্স ইন ডাবলিন; আরো দেখুন ‘এগ্রিকালচারাল লেবারার্স (আয়া), রিটার্ণ,’ ইত্যাদি, ৮ মার্চ, ১৮৬১, লণ্ডন, ১৮৬২।
৮৯. ঐ, পৃঃ ২৯।
৯০. ঐ, পৃ ১২।
৯১. ঐ, পৃঃ ১২।
৯২. ঐ, পৃঃ ২৫।
৯৩. পৃঃ ২৭।
৯৪. ঐ, পৃঃ ২৫।
৯৫. ঐ, পৃঃ ১।
৯৬. ঐ, পৃঃ ৩১, ৩২।
৯৭. ঐ, পৃঃ ২৫।
৯৮. ঐ, পৃঃ ৩০।
৯৯. ঐ, পৃঃ ২১, ১৩।
১০০. “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৬, পৃঃ ৯৬।
১০১. কি করে ব্যক্তিগত জমিদারেরা এবং ইংরেজ আইনসভা জোর করে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে এবং আয়ার্ল্যাণ্ডের জনসংখ্যা হ্রাস করে তাদের পক্ষে সন্তোষজনক সংখ্যায় নামিয়ে আনতে দুর্ভিক্ষ ও তার ফলাফলকে কাজে লাগিয়েছিল, তা আমি তৃতীয় খণ্ডে (ইং সং ) ভূমিগত সম্পত্তির পরিচ্ছেদে দেখাব। সেখানেও আমি ছোট কৃষি-মালিক এবং কৃষি-মজুরের অবস্থা আবার আলোচনা করব। আপাতত কেবল একটি প্রশ্ন : নাসাউ ডবল সিনিয়র তার মরণোত্তর প্রকাশিত গ্রন্থখানিতে (জানলিস, কনভার্সেশনস অ্যাণ্ড এসে রিলেটিং টু আয়লা’, খণ্ড ২, পৃঃ ২৮২) বলেন, ডাঃ জি বলেন, আমরা আমাদের গরিব আইন পেয়েছি, এবং এটা জমিদারদের বিজয়-লাভের পক্ষে একটা মস্ত বড় হাতিয়ার কিন্তু তার চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার হল প্রবাসন। আয়ার্ল্যাণ্ডের কোনো বন্ধু চাইবেন না যে, (জমিদার এবং ছোট ছোট কেলটিক কৃষি-মালিকদের মধ্যে) এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক; আরো বেশি চাইবেন না যে এই যুদ্ধে প্রজারা বিজয়ী হোক। যত তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যায়, পশু-চারণের উপযোগী যে স্বল্প জনসংখ্যা দরকার হয়, সেই জনসংখ্যা সমেত যত তাড়াতাড়ি আয়লাকে একটি পশু-চারণে পরিণত করা যায়, ততই সর্বশ্রেণীর পক্ষে ভাল হয়। ১৮১৫ সালের ইংরেজ শস্য আইন গ্রেট ব্রিটেনে অবাধ শস্য-আমদানির একচেটিয়া অধিকার আয়ার্ল্যাণ্ডের জন্য জয় করে নিল। সুতরাং এই আইন শস্য-চাষকে কৃত্রিম ভাবে সাহায্য করল। ১৮৪৬ সালে শস্য-আইন প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে এই একচেটিয়া অধিকারের অকস্মাৎ অবসান ঘটল। অন্যান্য ঘটনা ছাড়াও, এই একটি ঘটনাই আয়ার্ল্যাণ্ডের কৃষি-জমিকে গো-চরে পরিণত করার পক্ষে, জমি কেন্দ্রীকরণের পক্ষে এবং ছোট চাষীদের উচ্ছেদ সাধনের পক্ষে দারুণ প্রেরণা সঞ্চার করল। ১৮১৫ থেকে ১৮৪৬ পর্যন্ত আইরিশ-জমির ফলপ্রসূতার প্রশংসা করা এবং গম উৎপাদনের জন্য প্রকৃতি নির্দিষ্ট বলে ঘোষণা করার পরে, ইংরেজ কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদেরা আবিষ্কার করলেন যে, তা পশুখাদ্য ছাড়া আর কিছু উৎপাদনের উপযুক্ত নয়। মশিয়ে লিয়সে দ্য লাভার্গে চ্যানেলের ওপারে চটপট তার পুনরাবৃত্তি করলেন। লাভার্গের মত গম্ভীর প্রকৃতির মানুষও শেষ পর্যন্ত এমন ছেলেমানুষিতে ধরা পড়লেন।
২৬. আদিম সঞ্চয়নের গুপ্তকথা
অষ্টম বিভাগ–তথাকথিত আদিম সঞ্চয়ন
ষষ্ঠবিংশ অধ্যায়–আদিম সঞ্চয়নের গুপ্তকথা
আমরা দেখেছি অর্থ কিভাবে মূলধনে পরিবর্তিত হয়; মূলধনের মাধ্যমে কিভাবে উদ্বৃত্ত-মূল্য গঠিত হয় এবং উদ্বৃত্ত-মূল্য থেকে গঠিত হয় আরো মূলধন। কিন্তু মূলধনের সঞ্চয়নের পূর্বশর্ত হল উদ্বৃত্ত-মূল্য; উদ্বৃত্ত-মূল্যের পূর্বশর্ত হল ধনতান্ত্রিক উৎপাদন এবং ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের পূর্বশর্ত হল পণ্যোৎপাদনকারীদের হাতে প্রভূত পরিমাণ মূলধন ও শ্রমশক্তির অস্তিত্ব। সুতরাং, মনে হয় যেন সমগ্র প্রক্রিয়াটাই আবর্তিত হয় একটি পাপচক্রে, যা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি যদি ধরে নিই যে ধনপন্ত্রিক সঞ্চয়নের আগেই একটি আদিম সঞ্চয়নের অস্তিত্ব ছিল (অ্যাডাম স্মিথ-কথিত পূর্ববর্তী সঞ্চয়ন) যে সঞ্চয়ন ধনতান্ত্রিক উৎপাদন-পদ্ধতির ফল নয়, তার সূচনা-বিন্দু।
ধর্মতত্ত্বে ‘আদি পাপ’ যে-ভূমিকা গ্রহণ করে, রাষ্ট্রীয় অর্থতত্ত্বে ‘আদিম সঞ্চয়ন’ সেই একই ভূমিকা গ্রহণ করে। অ্যাডাম আপেলটিতে কামড় দিয়েছিল এবং তার পরে মানব জাতির উপরে পাপ নেমে এসেছিল। যেহেতু কথাটাকে হাজির করা হয় অতীতের একটি কাহিনী হিসাবে, সেহেতু ধরে নেওয়া হয় যে, তার উৎপত্তির ব্যাখ্যাটা পাওয়া গেল। সেই সুদূর অতীতে দু’রকমের লোক ছিল; এক রকমের, যারা ছিল পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান এবং, সর্বোপরি, মিতাচারী সম্রান্ত; এবং অন্য রকমের, যারা ছিল কুড়ে, পাজি, উড়নচণ্ডে, এবং তদুপরি, উচ্ছংখল জীবনে অমিতব্যয়ী। আদি পাপের সেই পুরা-কাহিনীটা আমাদের সুনিশ্চিত ভাবে বলে দেয় কেমন করে মানুষ অভিশপ্ত হল তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেটের খোরাক জোগাড় করতে; কিন্তু অর্থ নৈতিক আদি পাপের ইতিবৃত্ত আমাদের কাছে প্রকাশ করে যে এমন সব লোকও আছে যাদের পক্ষে এটা মোটেই অপরিহার্য নয়। কুছ পরোয়া নেই। এই ভাবে পরিণামে যা ঘটল, তা এই যে, প্রথম ধরনের লোকদের হাতে সঞ্চিত হল ঐশ্বর্য এবং দ্বিতীয় ধরনের হাতে রইল না নিজেদের চামড়া ছাড়া বিক্রি করার মত আর কিছুই। আর এই আদি পাপ থেকেই এক দিকে শুরু হল সুবিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের দারিদ্র সমস্ত পরিশ্রম সত্ত্বেও যাদের নিজেদেরকে ছাড়া বিক্রি করার মত আর কিছু নেই; অন্য দিকে শুরু হল অত্যল্প সংখ্যক লোকের নিরন্তর ঐশ্বর্য বৃদ্ধি—যদিও বহুকাল আগে থেকেই তারা কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে। এমন নিরেট ছেলেমানুষি আমাদের কাছে দিন-রাত প্রচার করা হয় সম্পত্তির সমর্থনে। যেমন, মিঃ তিয়র্স; রাষ্ট্রবিদসুলভ গাম্ভীর্য সহকারে ফরাসী জনগণের কাছে—একদা যারা ছিল এত ‘আধ্যাত্মিক’, সেই ফরাসী জনগণের কাছে তিনি একথা পুনরাবৃত্তি করার মত সাহস দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সম্পত্তির প্রশ্ন যখনি এসে পড়ে, তখনি শিশুদের মানসিক খাদ্যই যে সব বয়সের, বিকাশের সব পর্যায়ের মানুষের পক্ষে উপযুক্ত খাদ্য, সেটা ঘোষণা করা একটা পবিত্র কর্তব্য হিসাবে দেখা দেয়। বাস্তব ইতিহাসে কিন্তু এই কুকীর্তি সুবিদিত যে, যুদ্ধজয়, ক্রীতদাসত্ব, লুণ্ঠন ও হত্যা—এক কথায়, বল-প্ৰয়োগই গ্রহণ করেছে প্রধান ভূমিকা। রাষ্ট্রীয় অর্থতঙ্কের মনোরম কথাকাহিনীতে স্মরণাতীত। কাল থেকে বিরাজ করছে অনাবিল শান্তি-সুষমা। আবহমান কাল ধরেই ন্যায় ও “শ্রম” কাজ করে এসেছে সমৃদ্ধির একমাত্র উৎস হিসাবে;-অবশ্য, বর্তমান বছরটিকে বাদ দিয়ে। আসলে কিন্তু আদিম সঞ্চয়নের পদ্ধতিগুলি আর যাই হোক, কখনন শান্তি সুষমায় উচ্ছল ছিল না।
