৬৮. সপ্তাহে ১০ শিলিং মজুরিতে নিযুক্ত একজন লোকের কাছ থেকে নিয়োগকর্তা বস্তুতঃ পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে একটা মুনাফা সংগ্রহ করে নিচ্ছে এবং যে বাড়ির মূল্য খোলা বাজারে ২০ পাউণ্ডের বেশি হত না তার জন্য বেচারা খামার-মজুরকে ভাড়া দিতে হচ্ছে বছরে ৪-৫ পাউণ্ড করে। এই কৃত্রিম হার মালিক বজায় রাখতে পারছে, কেননা তার একথা বলার ক্ষমতা আছে, হয় আমার বাড়িতে থাকে। আর নয়তো ‘ত্র ভাড়া খোজো।” : যদি কোন লোক নিজের অবস্থা ভাল করতে চায়, রেল ওয়েতে ‘প্লেট-লেয়ার হিসাবে কাজ করতে চায়, কিংবা খনি-মজুরের কাজে যেতে চায়, সেই একই ক্ষমতা তাকে বলার জন্য তৈরী, ‘আমার জা এই সামান্য মজুরিতে কাজ করো, কিংবা এক সপ্তাহের নোটিশে কেটে পড়ো; সঙ্গে নিয়ে যাও তোমার শুয়োর এবং বাগানে যে-আলু লাগিয়েছ তার জন্য যা পাও নিয়ে নেও। আর যদি সে বোঝে যে এতে তার বেশি লাভ হবে তা হলে মালিক তাকে ঘরে থাকতে দিয়ে বেশি ভাড়া দাবি করবে—তার কাজ ছেড়ে দেবার শাস্তি হিসাবে। ডঃ হান্টার, পৃঃ ১৩২)
৬৯. ‘নোতুন বিবাহিত দম্পতিরা বয়ঃপ্রাপ্ত ভাই ও বোনদের পর্যবেক্ষণের পক্ষে খুব কল্যাণকর বিষয় নয়; এবং যদিও দৃষ্টান্ত দেবার দরকার নেই, এমন মন্তব্য করার পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে যে, অনাচারের অপরাধের মেয়ে অংশীদারটির ভাগ্যে জোটে তীব্র মনোকষ্ট এমনকি, কখনো কখনো মৃত্যু। ( ডাঃ হান্টার, পৃঃ ১৩৭)। একজন গ্রামীণ পুলিশ, তিনি দীর্ঘকাল ধরে লণ্ডনের নিকৃষ্ট মহল্লাগুলিতে গোয়েন্দার কাজ করেছেন, তিনি তার গ্রামের বালিকাদের সম্পর্কে বলেন, লণ্ডনের সবচেয়ে খারাপ অঞ্চলগুলিতে আমার গোয়েন্দা-জীবনের কয়েক বছরে আমি তাদের সাহস ও নির্লজ্জতার তুলনা পাইনি। তারা বাস করে শুয়োরের মত, বড় বড় ছেলে আর মেয়েরা, মায়েরা আর বাবারা—অনেক সময়ে সকলেই একই রুমে। (শিশু নিয়োগ কমিশন, ষষ্ঠ রিপোর্ট, ১৮৬৭, পৃঃ ৭৭ sq. ১৫৫:)।
৭০. জনস্বাস্থ্য, সপ্তম রিপোর্ট, ১৮৬৫, পৃঃ ৯, ১৪।
৭১. খামার-বাসী এই কৃষি-মজুরের কাজ তত ঈশ্বরের দান; এই কাজ তাকে মর্যাদা দান করে। সে গোলাম নয়, শান্তির সৈনিক, এবং জমিদারের দেয়। বিবাহিত লোকদের ‘কোয়ার্টাস’-এ সে স্থান পায়; সৈন্যের কাছ থেকে দেশ যেমন সেবা দাবি করে, তেমন জমিদারও তার উপরে জোর করে কাজের ভার চাপানোর ক্ষমতা ভোগ করে। সৈনিক যেমন বাজারের হারে মজুরি পায় না, সেও তেমন পায় না। সৈন্যের মত তাকেও বাচ্চা বয়সে ধরা হয়, যখন সে একমাত্র তার কাজ ও নিজের অঞ্চল ছাড়া বাকি সব কিছু সম্পর্কে থাকে অজ্ঞ। যেমন করে ‘বিদ্রোহ আইন’ সৈন্যকে নিয়ন্ত্রিত করে, তেমন করে বাল-বিবাহ এবং বসতি-সংক্রান্ত নানাবিধ আইন-কানুন তাকে নিয়ন্ত্রিত করে। (ডাঃ হান্টার, ঐ পৃঃ ১৩২)। কখনো কখনো এক-আধ জন অত্যন্ত কোমল-হৃদয় জমিদার নিজেরই তৈরি করা নির্জনতার জন্য অনুশোচনা করেন। ‘হুকহাম সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পরে অভিনন্দনের উত্তরে লড লেইসেস্টার বলেন, নিজের দেশে একা থাকাটা বিষাদজনক। আমি চারদিকে তাকাই এবং দেখি আমার ছাড়া আর কারো কোনো বাড়ি নেই। এই দৈত্যপুরীর আমি দৈত্য, আমার সব প্রতিবেশীকে আমি খেয়ে ফেলেছি।
৭২. গত দশ বছর ধরে ফ্রান্সেও এই একই ঘটনা-প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে-অনুপাতে সেখানে ধনতান্ত্রিক উৎপাদন কৃষিতে আত্মবিস্তার করছে, সেই অনুপাতে ‘গ উত্ত’-কৃষি জনসংখ্যাকে শহরে ঠেলে পাঠাচ্ছে। এখানেও আমরা উদ্বৃত্ত জনসংখ্যার মূলে দেখি আবাসন ও অন্যান্য অবস্থার অবনতি। জমির এই বিলি ব্যবস্থার ফলে যে বিশেষ ‘proletariat foncier-এর উদ্ভব ঘটেছে সেই সম্পর্কে কলিন্স-এর পূর্বোদ্ধত গ্রন্থ এবং মার্কসের এইটিন্থ মেয়ার অব লুই বোনাপাত দ্রষ্টব্য। ২য় সংস্করণ, হামবুর্গ, ১৮৬৯, পৃঃ ৫৬ ইত্যাদি ১৮৪৬ সালে ফ্রান্সে শহরবাসীর সংখ্যা ছিল ২৪°৪২ এবং গ্রামবাসীর ৭৫৫৮; ১৮৬১ সালে তা দাড়ায় যথাক্রমে ২৮°৪৬ এবং ৭১১৪। গত ৫ বছরে গ্রামবাসী জনসংখ্যার শতকরা হ্রাস আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। সেই ১৮৪৬ সালেই পিয়ারে দুপে গেয়েছিলেন,
“Mal vetus, loges des trous,
Sous les combles, dans les decombres,
Nous vivons avec les hiboux
Et les larrons, amis des mobres.
৭৩. “শিশু নিয়োগ কমিশন-এর ষষ্ঠ ও সর্বশেষ রিপোর্ট,” ১৮৬৭ সালের মার্চ মাসের শেষে প্রকাশিত। এর একমাত্র আলোচ্য বিষয় কষিগত ‘গ্যাং-প্রথা।
৭৪. “শিশু নিয়োগ কমিশন, ৬ষ্ঠ রিপোর্ট”, সাক্ষ্য ১৭৩, পৃঃ ৩৭।
৭৫. কিছু কিছু ‘গ্যাং-সর্দার’ নিজেদেরকে করে তুলেছে ৫০০ একর পর্যন্ত জমির কৃষি-মালিক কিংবা সারি সারি বাড়ির সত্বাধিকারী।
৭৬. লুডফোর্ড-এর অর্ধেক তরুণী (‘গ্যাং’-এ) বেরিয়ে গিয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ঐ, পৃঃ ৬।
৭৭. “হালের বছরগুলিতে তাদের ( ‘গ্যাং’-এর) সংখ্যা আরো বেড়েছে। কিছু জায়গায় এই প্রথা নোতুন চালু হয়েছে। যেখানে যেখানে এই প্রথা কয়েক বছর ধরে চালু রয়েছে, সেখানে সেখানে আরো বেশি সংখ্যায় এবং আরো কম বয়সের বাচ্চারা নিযুক্ত হচ্ছে।” (ঐ, পৃঃ ৭৯)।
৭৮. “ছোট কৃষকেরা কখনো ‘গ্যাং’ নিয়োগ করে না।” “গরিব জমিতে নয়, যে জমি ৪০-৫. শিলিং খাজনা দেবার ক্ষমতা রাখে, সেই জমিতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় নারী ও শিশুরা নিযুক্ত হয়।” (ঐ, পৃঃ ১৭, ১৪)।
