১৮৬৪ সালে আয়ার্ল্যাণ্ডে জোতের সংখ্যা ও আয়তন
ছবি। পেজ ৪৫৫
১৮৫১ থেকে ১৮৬১ সালের মধ্যে কেন্দ্রীভবনের ফলে ধ্বংস হয় প্রধানতঃ প্রথম। তিন ধরনের জোত-১ একরের কম এবং ১৫ একরের অনধিক। এই সবগুলিকেই অন্তর্হিত হতে হবে। তা হলে পাই “সংখ্যাতিরিক্ত” কৃষক এবং পরিবার প্রতি গড়ে কম করে ৪ জন ধরে নিলে, লোকসংখ্যা পাওয়া যায় ১২,২৮,২৩২ জন। যদি একটু বাড়িয়ে ধরে নেওয়া যায় যে, কৃষি-বিপ্লব সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পরে এদের ৪ ভাগ কর্ম-নিযুক্ত হবে, তা হলে দেশান্তর-গমনের জন্য থাকে ৯,২১,১৭৪ জন। ১৫ একরের অধিক ১০০ একরের অনধিক (৪) (৫) (৬) বৰ্গভুক্ত জোতগুলি ধনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শস্যোৎপাদন ও মেষ-পালনের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং, যেমন ইংল্যাণ্ডে ঘটেছে, তেমন এখানেও দ্রুত বিলীয়মান সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে। আবার যদি উপরের মত ধরে নিই যে, দেশান্তর গমনের জন্য রয়েছে আরো ৭,৮,৭৬১ জন লোক, তা হলে মোট দাড়ায় ১৭,৯,৫৩২ জন। এবং যেমন Papetit vient en mangeant’, রেনট্রল-এর চোখ অচিরেই আবিষ্কার করবে, ৬৫ লক্ষ মানুষ নিয়েও আয়ার্ল্যাণ্ডের অবস্থা আগের মতই শোচনীয়, এবং শোচনীয় এই কারণে যে, সে অতিরিক্ত জনাকীর্ণ। সুতরাং তার নির্জনীকরণকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে করে সে পারে তার সত্যকার ভবিতব্যতা সাধন করতে, ইংল্যাণ্ডের মেষ ও গবাদি পশুর চারণক্ষেত্রে পরিণত হতে।[১০১]
* মোট এলাকার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ধাপা, ভোবা, পোড় জমি।
এই মন্দ জগতের সমস্ত ভাল জিনিসের মত, এই মুনাফাজনক পদ্ধতিটিরও আছে কিছু অসুবিধা। আয়ার্ল্যাণ্ডে খাজনার পুঞ্জীভবনের সঙ্গে আমেরিকায় আইরিশদের পুঞ্জীভবনও সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে। ভেড়া ও ষাড়ের দ্বারা নির্বাসিত আইরিশম্যান ‘ফেনিয়ান (ইংরেজ সরকার বিরোধী আইরিশ বিপ্লবী সংস্থার সদস্য) হিসাবে পুনরাবির্ভূত হয় সমুদ্রের পরপারে; এবং সাত-সাগরের বয়োবৃদ্ধা মহারানীর মুখোমুখি অভূদিত হয় এক তরুণ পরাক্রান্ত প্রজাতন্ত্র :
Acerba fata Romanos agunt
Scelusque fraternae necis
————
১. ইংরেজ সরকারের ‘টেস্থ রিপোর্ট, ইনল্যাণ্ড রেভিনিউ, লণ্ডন, ১৮৬৬, পৃঃ ৩৮।
২. ঐ
৩. এই পরিসংখ্যানগুলি তুলনার পক্ষে যথেষ্ট, কিন্তু, অনাপেক্ষিক ভাবে দেখলে, মিথ্যা, কেননা সম্ভবতঃ ১৩,০০,০০,০০০ আয় বাৎসরিক অঘোষিত থেকে যায়। ইনল্যাণ্ড রেভিনিউ কমিশনারদের কাছ থেকে ধারাবাহিক প্রতারণার অভিযোগ, বিশেষ করে, বাণিজ্য ও শিল্পগত শ্রেণীগুলির দ্বারা অনুষ্ঠিত প্রতারণার অভিযোগ, হামেশাই শোনা যায়। যেমন, “একটা যৌথ মূলধনী কোম্পানি বিবরণ দাখিল করল যে তার কযোগ্য মুনাফা হল £৬,৩০০, কর-নিৰ্ণায়ক অফিসার তা বাড়িয়ে করলেন ৫৮৮,০০০, এবং শেষ পর্যন্ত এই পরিমাণটির উপরে কর দেওয়া হয়। আরেকটি কোম্পানি দেখিয়েছিল তার কর-যোগ্য মুনাফা £১,৯০,০০০; শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে তার মুনাফা £২,৫০,০০০। (ঐ, পৃঃ ৪২)।
৪. ‘আদমসুমারি ইত্যাদি, ঐ, পৃঃ ২৯। জন ব্রাইটের ঘোষণা যে, ১৫০ জন জমিদার অর্ধেক ইংল্যাণ্ডের এবং ১২ জন অর্ধেক স্কটল্যাণ্ডের মালিক, কখনো খণ্ডিত হয়নি।
৫. চতুর্থ রিপোর্ট ইত্যাদি, ইনল্যাণ্ড রেভিনিউ কমিশন, লণ্ডন, ১৮৬৩, পৃঃ ১৭।
৬. কয়েকটি আইন-অনুমোদিত বাদ বিয়োগের পরে এগুলিই হল নীট আয়। মজুরিতে ৫ শতাংশ হ্রাস ঘটেছিল। ১৮৬৭ সালে অনুরূপ ঘটনার প্রতিবাদে প্রেস্টনে ২০,০০০ শ্রমিকের ধর্মঘট হয়। (চতুর্থ জার্মান সংস্করণে সংযোজন : অব্যবহিত পরেই যে-সংকট ফেটে পড়ে, এই ঘটনা তারই পূর্বাভাস। এফ. এঙ্গেলস)
৭. “আদমসুমারি, ঐ, পৃঃ ১১।
৮. ১৮৪৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি, কমন্স সভায় গ্ল্যাডস্টোনের বক্তৃতা টাইমস ১৮৪৩, ১৪ই ফেব্রুয়ারী—“এই দেশের সামাজিক পরিস্থিতিতে এটা একটা শোচনীয় দিক যে আমরা অনস্বীকার্য ভাবে দেখতে পাচ্ছি, এই মুহূর্তে যখন জনগণের পরিভোগ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, অভাব ও দুর্দশার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে উচ্চতর শ্ৰেণীগুলিরমধ্যে ঘটছে সম্পদের নিরন্তর সঞ্চয়ন, ঘটছে তাদের অভ্যাসগত বিলাস ও ভোগসম্ভারের বৃদ্ধি।” (স্কানসা’, ১৩ ফেব্রুয়ারি)।
৯. ১৮৬৩, ১৬ই এপ্রিল কমন্স সভায় গ্লাভস্টোনের বক্তৃতা। মনিস্টার ১৭ই এপ্রিল।
১০. ‘ব্লু বুক’ এ সরকারি বিবরণ দ্রষ্টব্য : ‘মিসেলানিয়াস স্ট্যাটিষ্টিকস অব দি ইউনাইটেড কিংডম, ৪র্থ বিভাগ, লণ্ডন ১৮৬৬, পৃঃ ২৬০-২৭৩। অনাথ আশ্রমের পরিসংখ্যানের পরিবর্তে, ‘মিনিস্টিরিয়াল জানাল-এ রাজবংশের শিশুদের জন্য যৌতুক সুপারিশের সালংকার বক্তব্যগুলি পড়লেও চলবে। সেখানে জীবনধারণের দ্রব্যসামগ্রীর দুমূল্যতার কথা কখনো ভুলে যাওয়া হয় না!
১১. গ্লাভস্টোন কমন্স-সভা, ৭ই এপ্রিল, ১৮৬৪: হান্সার্ড-এর বর্ণনা এইরূপআর, আরো বৃহত্তর ক্ষেত্রে—কী এই মানব-জীবন! বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অস্তিত্বের সংগ্রাম। গ্ল্যাডস্টোনের ১৮৬৩ ও ১৮৬৪ সালের বাজেট-বক্তৃতাগুলিতে নিরন্তর স্ববিরোধ একজন ইংরেজ লেখক বইলো-র নিম্নোদ্ধত কবিতাংশের সাহায্যে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেনঃ
Voila, l’homme en effet. It va du blanc au noir
Il condamne au matin ses sentiments du soir.
Importun a tout autre, a soi-meme incommode.
Il change a tout moment d’esprit comme de mode.
