উপরে যে বনেদি ধরনের ‘গ্যাং-টির বর্ণনা দেওয়া হল, সেটিকে বলা হয় সাধারণ, সার্বজনিক বা ভ্রাম্যমান ‘গ্যাং’। কেননা ব্যক্তিগত ‘গ্যাং’-ও আবার আছে। সাধারণ ‘গ্যাং’-এর মতই সেগুলি তৈরি হয়, তবে সেগুলির সদস্যসংখ্যা কম এবং তারা কাজ করে গ্যাং”-সর্দারের অধীনে নয়, খামারের কোন বৃদ্ধ ভৃত্যের অধীনে, যাকে খামার মালিক আরো ভালভাবে কি করে ব্যবহার করা যায়, তা জানে না। যাযাবর জীবনের মজা এখানে উধাও এবং সমস্ত সাক্ষীরাই এ ব্যাপারে একমত যে, শিশুদের যা দেওয়া হয় এবং যে ব্যবহার করা হয় তা আরো খারাপ।
গত কয়েক বছর ধরে ‘গ্যাং’-প্রথা আরো বিস্তার লাভ[৭৭] করেছে। কেবল যে গ্যাং সর্দারের স্বার্থে তা চালু আছে তা নয়, চালু আছে বৃহৎ কৃষকদের[৭৮], এবং পরোক্ষভাবে জমিদারদের[৭৯] ধন-বৃদ্ধির স্বার্থে। নিজের শ্রমিকদের স্বাভাবিক মানের বেশ কিছুটা নীচে রাখা এবং তৎসত্ত্বেও সব সময়েই বাড়তি কাজের জন্য বাড়তি হাতের যোগান ঠিক রাখার অথবা যথাসম্ভব কম পরিমাণ টাকায়[৮০] যথাসম্ভব বেশি পরিমাণ শ্রম নিঙড়ে নেবার এবং বয়স্ক পুরুষ শ্রমিককে “অপ্রয়োজনীয়” করে দেবার এমন সুকৌশল ব্যবস্থা আর নেই। ইতিমধ্যে যে-ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় কেন, এক দিকে, কৃষি-শ্রমিকের কম বা বেশি পরিমাণ কর্মাভাবের কথা স্বীকার করা হয়, অন্য দিকে, আবার একই সময়ে, বয়স্ক পুরুষ শ্রমের অভাব এবং তার শহরে অভিপ্রয়ারেন[৮১] কারণে ‘গ্যাং’-প্রথাকে “প্রয়োজনীয়” বলে ঘোষণা করা হয়। লিংকনশায়ারে আগাছা মুক্ত পরিচ্ছন্ন জমি এবং অপরিচ্ছন্ন মানবিক আগাছা-এই দুটি হল ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের মেরু এবং প্রতি-মেরু। [৮২]
(চ) আয়র্ল্যাণ্ড
এই পরিচ্ছেদ শেষ করার আগে আমরা কিছুক্ষণের জন্য আয়ার্ল্যাণ্ডে যাব। প্রথমে, পরিস্থিতির প্রধান প্রধান তথ্যসমূহ।
আয়ার্ল্যাণ্ডের জনসংখ্যা ১৮৪১ সালে পৌছেছিল ৮২,২২,৬৬৪-তে; ১৮৫১ সালে নেমে যায় ৬৬,২৩,৯৮৫-তে; ১৮৬১ সালে ৫৮,৫৩,৩০৯-এ; ১৮৬৬ সালে ৫২ মিলিয়ন এ-১৮০১ সালে যা ছিল প্রায় সেই মানে। এই সংখ্যা-হ্রাস শুরু হয় দুর্ভিক্ষের বছরে, ১৮৪৬ সালে, যার ফলে কুড়ি বছরেরও কম সময়ে আয়লাও হারাল তার জনসংখ্যার ৫ ভাগেরও বেশি লোককে।[৮৩] ১৮৫১ সালের মে মাস থেকে ১৮৬৫ সালের জুলাই মাস অবধি আয়ল্যাণ্ড থেকে যারা দেশান্তরে চলে যায় তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৫৯১, ৪৮৭ জন; ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ অবধি এই সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশি। লোকজন বাস
ধনতান্ত্রিক সঞ্চয়নের সাধারণ নিয়মের বিবিধ উদাহরণ ৪৩৯ করত এমন বাড়ির সংখ্যা ১৮৫১ থেকে ১৮৬১ সালের মধ্যে কমে যায় ২,৯৯টি। ১৮৫১ থেকে ১৮৬১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ একর আয়তন জোতের সংখ্যা বেড়ে যায় ৬১,০০টি; ৩০ একরের বেশি আয়তনের ১৯,০০০টি; অন্য দিকে, জোতের মোট সংখ্যা কমে যায় ১২৩,০০০টি এই কমে যাবার একমাত্র কারণ হল ১৫ একরের কম আয়তনের জোতগুলির বিলুপ্তি সাধন অর্থাৎ সেগুলির কেন্দ্রীকরণ।
সারণী (ক) — পশু-সম্পত্তি
ছবি। পেজ ৪৩৯
জনসংখ্যার হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে স্বভাবতই তাদের উৎপাদনসম্ভারেও হ্রাস ঘটেছিল। আমাদের যা প্রয়োজন, তাতে ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত এই ৫ বছর বিবেচনা করাই যথেষ্ট—যে ক’বছরে পাঁচ লক্ষেরও বেশি লোক দেশান্তরে চলে যায় এবং অনাপেক্ষিক জনসংখ্যা ১ মিলিয়নের-এরও বেশি কমে যায়।
উল্লিখিত সারণী থেকে যে ফলাফল পাওয়া যায়, তা এই :
ছবি। পেজ ৪৪০
এবারে কৃষিকর্মের দিকে নজর দেওয়া যাক, যা থেকে মানুষ এবং গবাদি পশু পায় তাদের প্রাণ-ধারণের উপায়। নিচেকার সারণীটিতে দেওয়া হল আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেকটি বছরের হ্রাস বা বৃদ্ধির হিসাব–ঠিক তার আগেকার বছরের তুলনায়। দানা-শস্যের মধ্যে ধরা হয়েছে গম, জই, যব, রাই, সিম ও শুটি; সবজি শস্যের মধ্যে ধরা হয়েছে আলু, শালগম, বিট, গাজর, মূলো, কপি, কলাই ইত্যাদি।
[* আমরা যদি আরো একটু পিছন দিকে যেতাম, তা হলে ফল হত আরো প্রতিকূল। যেমন, ১৮৬৫-তে ভেড়া ৩,৬৮৮৭৪২, কিন্তু ১৮৫৬-তে ৩,৬৯৪,২৯৪; শুয়োর ১৮৬৫-তে ১,২৯৯,৮৯৩ কিন্তু ১৮৫৮-তে ১,৪০৯,৮৮৩]
ছবি। পেজ ৪৪১
১৮৬৫ সালে “খাস জমি”-র শিরোনামের অধীনে এল অতিরিক্ত ১,২৭,৪৭০ একর। এর প্রধান কারণ এই যে, “অনাবাদি জলা ও পতিত জমি”-র আয়তন ১০১,৫৪৩ একর কমে যায়। আমরা যদি ১৮৬৫-কে ১৮৬৪-র সঙ্গে তুলনা করি, আমরা দেখতে পাই যে, ২৪৬,৬৬৭ কোয়ার্টার দানা শস্য কমে গিয়েছে, যার মধ্যে ৪৮,৯৯৯ গম; ১৬৩,৬০৫ জই; ২৯,৮৯২ যব ইত্যাদি। আলু কমে যায় ৪৪৬,৩৯৮ টন, যদিও ১৮৬৫ সালে আলুর চাষের জমি বেড়ে গিয়েছিল।
ছবি। পেজ ৪৪২
* এই তথ্যগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে “কৃষি-পরিসংখ্যান, আয়লা, সাধারণ তথ্য-সার, ডাবলিন”, ১৮৭৬ ইত্যাদি, এবং কৃষি-পরিসংখ্যান, আয়াণ্ড, থেকে। অনুমতি গড় উৎপন্নের সারণী, ডাবলিন, ১৮৬৬। এই পরিসংখ্যান-সমূহ সরকারি এবং পালামেন্টে বাৎসরিক উপস্থাপিত। [ দ্বিতীয় সংস্করণে টাকা। ১৮৭২ সালের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় ১৮৭১ সালের তুলনায় কৰ্ষিত এলাকার ১৩৪,৯১৫ একর হ্রাস। কাঁচা সব জির চাষ বৃদ্ধি; গমের জমি ১৬,০০০ একর, ওটের জমি ১৪,০০, বার্লি ও রাইয়ের ৪…, আলুর ৬৬,৬৩২, শন ৩৪,৬৭, ঘাস, রেপসিড ইত্যাদির ৩০,০০০ একর হ্রাস। গত পাঁচ বছরে গমের জমির হ্রাস লক্ষ্য করা যায় নিম্ন লিখিত পর্যায়ক্রমে : ১৮৬৮, ২৮৫,০০০ একর; ১৮৬৯, ২৮০,০০০; ১৮৭৩, ২৫৯,০০; ১৮৭১, ২৪৪,০০; ১৮৭২, ২২৮,০০০। ১৮৭২ সালে আমরা দেখি ঘোড়া বেড়ে গিয়েছে ২৬০ টি, শৃঙ্গী গবাদি পশু ৮,০০ ৩টি, ভেড়া ৬৮,৬০৯টি কিন্তু শুয়োর কমে গিয়েছে, ২৩৬,…টি ]
