টিংকার্স এণ্ড : উইনস্লোর কাছেই অবস্থিত। একটি শোবার ঘর, যাতে ছিল ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি ও ৪টি শিশু; লম্বায় ১১ ফুট চওড়ায় ৯ ফুট এবং যেখানটা সবচেয়ে উঁচু সেখানটা উচ্চতায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি; আরেকটি লম্বায় ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, চওড়া ৯ ফুট ও উচু ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি; বাস করত ৬ জন। একজন কয়েদির পক্ষে যতটা জায়গা। তাবশ্যক বলে বিবেচনা করা হয়, এদের প্রত্যেকেই থাকত তার চেয়ে কম জায়গায়। কোন বাড়ির একটার বেশি শোবার ঘর ছিল না, কোনোটারই খিড়কির দরজা ছিল ন জল ছিল অতি দুষ্প্রাপ্য; সাপ্তাহিক বাড়ি ভাড়া ১ শি ৪ পে থেকে ২ শি অবধি। যেসব বাডি প্রদর্শন করা হয়, তাদের মধ্যে ১৬টিতে, এমন লোক ছিল মাত্র একজন, যে উপার্জন করত সপ্তাহে ১০ শিলিং। উপরে বর্ণিত অবস্থায় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে-পরিমাণ হাওয়া পাওয়া যেত তা যদি তাকে গোটা রাত সব দিক থেকে মাপে ৪ ফুট এমন একটি বাক্সে আটকে রাখা হত, তবে সে যে-পরিমাণ হাওয়া পেত, তার সমান। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রাচীন গুহাগুলিতেও তো কিছু পরিমাণ অ-পরিকল্পিত হাওয়া-চলাচলের সংস্থান ছিল।
(৪) কেম্ব্রিজশায়ার
গ্যাম্বলিংগের মালিক কয়েকজন জমিদার। এতে রয়েছে এমন জঘন্যতম সব কুঁড়েঘর যা আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। খড়ের দড়ি পাকানোর হিড়িক। “একটা মারাত্মক অবসাদ, অপরিচ্ছন্নতার কাছে এক হতাশ আত্মসমর্পণ গ্যাম্বলিংগেতে রাজত্ব করে। যার কেন্দ্রস্থলে অবহেলা, তার উত্তর দক্ষিণ দুই প্রান্ত পরিণত হয় অত্যাচারে, যেখানে বাড়ি-ঘরগুলি জীর্ণ হয়ে চূর্ণ হয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। ‘প্রবাসী’ অনুপস্থিত জমিদারে এই গরিব বস্তিবাসীদের রক্ত মোক্ষণ করে অবাধে। ভাড়া অত্যন্ত চড়া; ৮-৯ জন করে লোককে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয় একটা শোবার ঘরে; দুটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে প্রত্যেকের ১টি বা ২টি বাচ্চা আছে এমন ৬ জন করে তোক একটি মাত্র শোবার ঘরে বাস করে।
(৫) এসেক্স
এই কাউন্টিতে অনেক প্যারিশে জনসংখ্যায় এবং গৃহসংখ্যায় হ্রাসপ্রাপ্তি হাতে হাত দিয়ে যায়। কিন্তু অন্ততপক্ষে ২২টি প্যারিশে বাড়ি-ঘরের ধ্বংসকাণ্ডে জনসংখ্যার অগ্রগতিকে নিবারণ করতে পারেনি কিংবা “শহরে আবাসন”-এর নামে যে নির্বাসন সাধারণত ঘটে, তা ঘটাতে পারেনি। ফিনগ্রিনহো-তে ৩,৭৪৩ একরের এক প্যারিশে ১৮৫১ সালে ছিল ১৪৫টি বাড়ি। ১৮৬১ সালে তা দাঁড়াল মাত্র ১১টিতে। কিন্তু লোকেরা চলে যেতে রাজি হলনা এবং এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হল ১৮৫১ সালে ২৫২ জন ব্যক্তি বাস করত ৬১টি বাড়িতে কিন্তু ১৮৬১ সালে ২৬২ জন ব্যক্তি গাদাগাদি করে আশ্রয় নিল ৪৯টি বাড়িতে। ব্যাসিলডেনে ১৮৫ সালে ১৫৭ জন ব্যক্তি বাস করত ১,৮২৭ একর জমির উপরে ৩৫টি বাড়িতে; দশ বছরের শেষে সেখানে দেখি ১৮০ জন ব্যক্তিকে ২৭টি বাড়িতে। ফিনগ্রিনহে, সাউথ-ফার্ণব্রিজ, উইডফোর্ড, ব্যাসিলডেন এবং ব্যাডেন ক্র্যাগ-এর প্যারিশগুলিতে ১৮৫১ সালে যেখানে ৮,৪৪৯ একরের উপরে ৩১৬টি বাড়িতে বাস করত ১,৩৯২ জন মানুষ, সেখানে ১৮৬১ সালে ঐ একই এলাকায় ২৪৯টি বাড়িতে বাস করে ১,৪৭৩ জন মানুষ।
(৬) হেয়ারফোর্ডশায়ার
ইংল্যাণ্ডে যে-কোনো কাউন্টির তুলনায় এই ছোট্ট কাউন্টিকে “উচ্ছেদের তাড়নায়” বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ন্যাডবিতে ভিড়েঠাসা সাধারণতঃ দু-রুমের কুটির– গুলির বেশির ভাগেরই মালিক ছিল জোত-মালিকেরা। তারা অনায়াসেই সেগুলি বাৎসরিক £৩ বা ৫s হারে ভাড়া দিয়ে দিত আর মজুরি দিত সাপ্তাহিক ৯ শিলিং হারে।
(৭) হণ্টিংডন
হাটফোর্ড: ১৮৫১ সালে বাড়ি ছিল ৮৭টি; কিছু কাল পরেই ১,৭২০ একরের এই ছোট প্যারিশটির ১৯টি কুটির ধ্বংস করে দেওয়া হয়; জনসংখ্যা ছিল ১৮৫১ সালে, ৪৫২; ১৮৫২ সালে, ৮৩২; এবং ১৮৬১ সালে, ৩৪১। পরিদর্শন করা হয় প্রতিটি ১ রুম-বিশিষ্ট ১৪টি বাড়ি, একটিতে থাকত এক বিবাহিত দম্পতি, ৩টি বড় ছেলে, ১টি বড় মেয়ে, ৪টি শিশু-সন্তান-মোট ১০ জন; আরেকটিতে, ৩ জন বয়স্ক ব্যক্তি, ৬টি শিশু। একটি রুমে ঘুমোত ৮ জন লোক, রুমটির দৈর্ঘ্য ছিল ১১ ফুট ১০ ইঞ্চি, প্ৰস্ত ১২ ফুট ২ ইঞ্চি, উচ্চতা ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি; রুমটির ভিতর দিকে প্রসারিত অংশগুলি বাদ না দিয়ে মাথাপিছু পরিসর ছিল গড়ে প্রায় ১৩০ কিউবিক ফুট। ১৪টি শোবার ঘরে থাকত ৩৪ জন বয়স্ক ব্যক্তি এবং ৩৩টি শিশু। খুব বিরল ক্ষেত্রেই এই কুটিরগুলির সঙ্গে বাগানের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু অধিবাসীদের অনেকেই ‘রুড’-পিছু। ১২১ বর্গগজ পিছু) ১০ থেকে ১২ শিলিং হারে ছোট ছোট প্লট’ চাষ করতে সক্ষম ছিল, এই ‘প্লটগুলি ছিল বাড়ি থেকে বেশ দূরে; বাড়িগুলিতে কোনো পায়খানা ছিল না। তাদের বিষ্ঠা ইত্যাদি ফেলবার জন্য তাদের ঐ প্লটে যেতে হত, কিংবা, এখানে যা ছিল রেওয়াজ, বোজ ওখানে না গিয়ে, “একটা ঘেরা জায়গায় একটা অনেক দেরাজওয়ালা আলমারির মধ্যে ফিট-করা একটা দেরাজে তা জমিয়ে রাখা সপ্তাহে এক দিন করে সেটা বের করে ঐ জমিতে যেখানে দরকার সেখানে ফেলে আসা।” জাপানেও জীবনযাত্রা এর তুলনায় ভদ্রভাবে নির্বাহিত হয়।
(৮) লিংকনশায়ার
ল্যাংটফট রাইট-এর বাড়িতে এখানে একজন লোক থাকে; সঙ্গে তার স্ত্রী, মা ও ৫টি সন্তান; বাড়িটিতে সামনের দিকে আছে একটি রান্নাঘর, ধোলাই ঘর এবং ঐ রান্না-ঘরটিরই উপরে শোবার ঘর; রান্না ও শোবার ঘর দৈর্ঘ্যে ও প্রস্তে ১২ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ৯ ফুট ৫ ইঞ্চি। শোবার ঘরটি হল মাথার উপরে একটি খুপরি; দেয়ালগুলি পাশাপাশি ছাদে গিয়ে লেগেছে একটা মিছরির মঠের মত; সামনের দিকে একটা ঝাঁপ-তোলা জানালা। “সে সেখানে কেন থাকত? বাগানটার জন্য? না, সেটা খুবই ছোট। ভাড়া? চড়া, সপ্তাহ-পিছু ১ শি. ৩ পে। তার কাজের জায়গা থেকে কাছে? না, ৬ মাইল দূরে, তাকে রোজ হাঁটতে হয় যাতায়াতের ১১ মাইল। সে সেখানে থাকত কারণ সেটাই ছিল ভাড়া পাবার মত একমাত্র ‘কট” এবং সে চেয়েছিল যে-কোনো জায়গায়, যে কোনো দামে, যে কোনো অবস্থায় সম্পূর্ণ নিজের জন্য একটা কট। ল্যাংটফটে ১২টি শোবার ঘর, ৩৮ জন বয়স্ক লোক এবং ১৩৬টি শিশু সমেত ১২টি বাড়ির পরিসংখ্যান নীচে দেওয়া হল :
