ডাঃ হান্টার কৃষি-শ্রমিকদের ৫,৩৭৫টি কুটিরে সমীক্ষা চালান—কেবল নিছক কৃষি-জেলাগুলিতেই নয়, ই’ল্যাণ্ডের সমস্ত কাউন্টিতেই। এই কুটিরগুলির মধ্যে ২,১৯৫ টির ছিল মাত্র একটি করে শোবার ঘর (প্রায়ই যা ব্যবহৃত হত বসার ঘর হিসাবেও ), ২,৯৩০টির ছিল কেবল দুটি করে, এবং ২৫০টির দুটির বেশি করে। ডজনখানেক কাউন্টি থেকে সংগৃহীত কয়েকটি নমুনা আমি এখানে উপস্থিত করব।
(১) বেডফোর্ডশায়ার
রেসলিংওয়ার্থঃ শোবার ঘর, দৈর্ঘ্যে প্রায় ১২ ফুট এবং প্রস্থে ১০ ফুট, যদিও অনেকগুলি এর চেয়ে ছোট। ঘোট একতলা কুটির, প্রায়ই ‘পার্টিশন’ দিয়ে দুটি শোবার ঘরে বিভক্ত, একটি বিছানা অনেক ক্ষেত্রেই রান্নাঘরে, উচ্চতায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। খাজনা বাৎসরিক ৩ পাউণ্ড। ভাড়াটেদেরই নিজেদের পায়খানা তৈরি করে নিতে হয়, জমিদার কেবল একটা গর্ত খুড়ে দেয়। যখনি কেউ একটা পায়খানা তৈরি করে নেয়, তখন থেকেই কাছাকাছি গোটা তল্লাটের মানুষ সেটা ব্যবহার করতে শুরু করে। রিচার্ডসন নামে এক পরিবারের একটি বাড়ি ছিল সৌন্দর্যে অনুপম। তার প্লাস্টার দেওয়ালগুলি ছিল নতজানু মহিলার পরিচ্ছদের মত পরিস্ফীত। ছাদের এক প্রান্তের কোণটি ছিল উত্তল অন্য প্রান্তের অবতল। এবং, দুর্ভাগ্যক্রমে, চিমনিটি দাড়িয়েছিল এই দ্বিতীয়টির উপরে মাটি ও কাঠের তৈরি একটি বাঁকানো নল, যেন একটি হাতির শু। একটি লম্বা লাঠি দিয়ে চিমনিটিকে ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে না পড়ে য.য়। দরজা ও জানালা ছিল হীরকাকার।” যে ১৭টি বাড়ি আমরা দেখেছি, তাদের মধ্যে ৪টির ছিল একটির বেশি শয়ন-ঘর, আর ঐ চারটি ছিল অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসাঠাসি। এক শোর-ঘর-বিশিষ্ট কুটিরগুলিতে থাকত ৩ জন করে বয়স্ক ব্যক্তি ও ৩টি করে শিশু একটি বিবাহিত দম্পতি ও ৬টি শিশু ইত্যাদি।
ডান্টনঃ উচু ভাড়া, ৪ পাউণ্ড থেকে ৫ পাউণ্ড, মানুষটির সাপ্তাহিক মজুৰ্বি ১. শিলিং। খডের দড়ি পাকিয়ে পরিবারটি ভাড়া দেবার আশা পোষণ করে। ভাড়া যত উচু হয়, ততই তা দেবার জন্য আরো বেশি সংখ্যক লোকের একসঙ্গে কাজ করার দরকার হয়। এটি শিশু সহ ৬ জন বয়স্ক ব্যক্তি একটি শয়নঘরে বাস করে, ভাড়া দেয় ৩ পাউণ্ড ১০ শিলিং। ডাণ্টনের সবচেয়ে সস্তা বাড়ি, বাইরে থেকে ১০ ফুট লম্বা, ১০ ফুট চওডা; ভাড়া ৩ পাউণ্ড। যে-বাড়িগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে ১টি মাত্র দুটি শয়নকক্ষ-বিশিষ্ট। গ্রামটির একটু বাইরে “ভাড়াটেরা বাড়ির পাশে মলত্যাগ কত”, দরজার নিচের ৯ ইঞ্চি পচে-গলে গিয়েছে; দরজার প্রবেশ পথ মানে মাত্র একটা ফাক, রাতে যা বন্ধ করে দেওয়া হয় কয়েকটা ইটের সাহায্যে; বন্ধ করে দেবার পরে সুকৌশলে একটু উপরে ঠেলে দেওয়া হয় এবং একটি মাদুর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। জানালার অর্ধেকট। তার পাল্লা ও সার্শি সমেত মহাপ্রয়াণে গিয়েছে। আসবার-শূন্য এই ঘরটিতে গাদাগাদি করে থাকত ৫টি শিশু-সন্তান সহ ৩ জন বয়স্ক লোক। বিগত্সওয়েড ইউনিয়নের বাকি অংশের তুলনায় ডাণ্টনের অবস্থা খারাপ ছিল না।
(২) বার্কশায়ার
বীনহাম ঃ ১৮৬৪ সালের জুন মাসে একটি লোক তার স্ত্রী ও চার সন্তান সহ একটি কট’-এ ( একতলা টিরে বাস করত। এক কন্যা কাজ থেকে বাড়ি ফিরল ‘স্কার্লেট’ জর নিয়ে। সে মারা গেল। একটি শিশু আক্রান্ত হল, সে-ও মারা গেল। যখন ডাঃ হান্টারকে ডাকা হল, তিনি দেখলেন একটি ম-ও একটি শিশু টাইফাসে শয্যাগত। বাবা এবং বাকি শিশুটি বাইরে শুত, কিন্তু বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখা এখানে একটা সমস্যা হয়ে দাড়াল, কারণ এই শোচনীয় গ্রামটির ভিড়ে-ঠাসা বাজারে পোয়র জন্য পড়ে থাকত ঐ জ্বরাক্রান্ত পরিবারটির কাপড়-চোপড়। ২-এর বাড়ির ভাড়া ছিল সপ্তাহে ১ শিলিং; স্বামী স্ত্রী ও দুটি সন্তানের জন্য একটি শোবার ঘর। একটি বাড়ির ভাড়া ছিল সপ্তাহে ৮ পেন্স, লম্বায় ১৪ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং চওড়ায় ৭ ফুট; রান্না-ঘর উচ্চতায় ৬ ফুট; শোবার ঘরটিতে কোনো জানালা, আগুনের ঝাঁঝরি, দরজা বা ফাক ছিলনা, একমাত্র বারান্দায় বেরোবার পথটি ছাড়া, কোনো বাগান ছিল না। একটি লোক এখানে কিছু কাল ছিল দুটি বড় বড় মেয়ে ও একটি বড় ছেলেকে নিয়ে, বাবা ও ছেলে ঘুমোত বিছানায়, মেয়ে দুটো যাতায়াতের পথে। ওরা যখন এখানে থাকত তখন দুটি মেয়েরই একটা করে বাচ্চা, ছিল, কিন্তু একজন দুঃস্থ-নিবাসে আঁতুড়ে গিয়েছিল। পরে ফিরে আসে।
(৩) বাকিংহামশায়ার
১,০০০ একর জমির উপরে উপরে ৩ টি কুটির, ১৩০-১৪৫ জন লোকের বাস। ব্রাডেনহাম প্যারিশ-এ অন্তর্ভূক্ত ১,০০০ একর, ১৮৫১ সালে বাড়ির সংখ্যা ছিল ৩৬, জনসংখ্যা ছিল ৮৪ জন পুরুষ ৫৪ জন নারী। ১৮৬১ সালে নারী-পুরুষের এই বৈষম্যের আংশিক প্রতিকার হয়, তখন পুরুষ ও নারীর সংখ্যা যথাক্রমে দাঁড়ায় ৯৮ ও ৮৭ জন; ১০ বছরে পুরুষ ও নার্বীর যথাক্রমিক বৃদ্ধি ১৭ ও ৩৩ জন। ইতিমধ্যে, বাড়ির সংখ্যা কিন্তু একটি কমে গিয়েছে।
উইনস্লো : এর বড় অংশ সুন্দর শৈলীতে নোতুন করে নির্মিত; বাড়ির জন্য চাহিদা খুব প্রকট; অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থার কুঁড়েগুলিও ভাড়া দেওয়া হয় সাপ্তাহিক ১ শিলিং থেকে ১শিলিং ৩ পেন্স হারে।
ওয়াটারইটন : ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে এখানে জমিদারেরা শতকরা ২০ ভাগ বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। একজন দরিদ্র শ্রমিক যাকে প্রায় ৪ মাইল ডিঙ্গিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল : সে কি কাছে পিঠে একটা কুঁড়েঘর যোগাড় করে নিতে পারে না? উত্তরে সে বলল, “না আমার মত একটা বড় পরিবারকে ঠাই না দিয়ে কি করতে হয়, তারা তা ভাল জানে।”
