ছবি। পেজ ৩৮৪
১৮৫৫ সালে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত হয়েছিল ৬,১৪,৫৩, ৭৯ টন কয়লা, যার মূল্য ছিল ১,৬১,১৩,১৬৭ পাউণ্ড; ১৮৬৪ সালে ৯,২৭,৮৭,৮৭৩ টন, মূল্য ২,৩১,৯৭,৯৬, পাউণ্ড; ১৮৫৫ সালে ৩২,১৮,১৫৭ টন লৌহপিণ্ড, মূল্য ৮০,৪৫,৩৮৫ পাউণ্ড; ১৮৬৪ সালে ৪৭,৬৭,৯৫১ টন, মূল্য ১,১৯,১৯,৮৭৭ পাউণ্ড। ১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যে চালু রেলপথের দৈর্ঘ্য ছিল ৮০,৪৫৪ মাইল, আদায়ীকৃত মূলধন ছিল ২৮,৬৩,৬৮,৭৯৪ পাউণ্ড; ১৮৬৪ সালে রেলপথের দৈর্ঘ্য দাঁড়াল ১২,৭৮৯ মাইল, আদায়ীকৃত মূলধন ৪২,৫৭,১৯, ৬১৩ পাউণ্ড। ১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যের মোট রপ্তানি ও আমদানি ছিল ২৬,৮২, ৩,১৪৫ পাউণ্ড; ১৯৬৫ সালে ৪৮,৯৯,২৩,২৮৫ পাউণ্ড। নিমোর্ধত সারণীটি থেকে রপ্তানির গতি জানা যায়ঃ
১৮৪৬ £ ৫,৮৮,৪১,৩৭৭
১৮৪৯ ৬,৩৫,৯৬,০৫২
১৮৫৬ ১১,৫৮,২৬,৯৪৮
১৮৬০ ১৩,৫৮,৪২,৮১৭
১৮৬৫ ১৬,৫৮,৮২,৪৩২
১৮৬৬ ১৮,৮৯,১৭,৫৬৩
এই সময়ে ১৮৬৭ সালের মার্চ মাসে ভারত ও চীনের বাজার আবার ব্রিটিশ তুলাজাত পণ্যের রপ্তানিতে সরবরাহের বাহুল্য ঘটেছে। ১৮৬৬ সালে তুলা-শ্রমিকদের উল্লিখিত উদাহরণগুলির পরে রেজিস্ট্রার-জেনারেল’-এর ব্রিটিশ জাতির বিজয় ঘোণা সহজেই বোঝা যায় : “যদিও জনসংখ্যা দ্রুত গতিতেই বৃদ্ধি পেয়েছে, তা হলেও তা শিল্প ও সম্পদের অগ্রগতির সঙ্গে পা মিলিয়ে এগোতে পারেনি।” [৭]
এখন এই শিল্পের প্রত্যক্ষ সংঘটকদের, তথা এই সম্পদের উৎপাদকদের দিকে শ্রমিক-শ্রেণীর দিকে নজর দেওয়া যাক। গ্ল্যাডস্টোনের কথায়, “এই দেশের সামাজিক। অবস্থার সর্বাপেক্ষা বিষাদজনক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে, যখন জনগণের পরিভোগ-ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং যখন শ্রমিক-শ্রেণী ও কর্মীদের অভাব ও দুর্গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এখানে ঘটছে উচ্চতর শ্রেণীগুলির হাতে সম্পদের নিরন্তর সঞ্চয়ন এবং সম্পদের নিরন্তর বৃদ্ধি।”[৮]—এতৎ উবাচ এই মহামতি মন্ত্রী-মহোদয়, ১৮৪৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি, কমন্স সভায় তাঁর ভাষণে। ২০ বছর পরে, ১৮৬৩ সালের ১৬ই এপ্রিল, যে-বক্তৃতা দিয়ে তিনি বাজেট উত্থাপন করেন, তাতে তিনি বলেন, “১৮৪২ থেকে ১৮৫২ সাল অবধি দেশের কর-যোগ্য আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ শতাংশ। … ১৮৫৩ থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত আট বছরে, ১৮৫৩ সালকে ভিত্তি হিসাবে ধরে, এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশ। এই ঘটনা এত আশ্চর্যজনক যে প্রায় অবিশ্বাস্য সম্পদ ও শক্তি এই উন্মাদনাকর সংবৃদ্ধি : যা সমগ্র ভাবে সম্পত্তিবান শ্রেণীগুলির মধ্যে সংবদ্ধ…. নিশ্চয়ই শ্রমজীবী জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষ ভাবে মঙ্গলজনক হবে, কেননা তা সাধারণ। ভোগের পণ্যদ্রব্যাদিকে সস্তা করে দেয়। যখন ধনীরা আরো বেশি ধনী হচ্ছে, তখন দরিদ্র হচ্ছে আরো কম দরিদ্র। যাই হোক, দারিদ্র্যের চরম দশা হ্রাস পেয়েছে কিনা, তা আমি বিনা বিচারে বলতে পারি না।[৯] কী অক্ষম ভাবান্তর-গ্রহণ! শ্ৰমিক-শ্রেণী যদি “দরিদ্র”-ই থেকে গিয়েছে, কেবল যে-অনুপাতে তারা বিত্তবান শ্রেণীগুলির জন্য “সম্পদ ও শক্তির, উন্মাদনাকর বৃদ্ধি ঘটিয়েছে সেই অনুপাতে কম দরিদ্র হয়েছে, তা হলে তারা আপেক্ষিক ভাবে আগের মতই দরিদ্র থেকে গিয়েছে। দারিদ্র্যের চরম দশা যদি না হ্রাস পেয়ে থাকে, তা হলে তা বৃদ্ধি পেয়েছে, কেননা সম্পদের চরম বৃদ্ধি ঘটেছে। জীবনধারণের উপায়-উপকরণ সস্তা হয়ে যাওয়া সম্পর্কে সরকারি পরিসংখ্যানে, তথা লণ্ডন অফ্যান অ্যাসাইলাম-এর (লণ্ডন অনাথ আশ্রম’-এর) হিসাবে দেখা যায় যে, ১৮৫১-১৮৫৩ সালের তিন বছরের গড়ের তুলনায় ১৮৬০-১৮৬২ সালের তিন বছরের গড় দাম ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তী তিন বছরে ১৮৬৩-১৮৬৫মাংস, মাখন, দুধ, চিনি, নুন, কয়লা, এবং জীবনধারণের অন্যান্য অনেকগুলি দ্রব্যসামগ্রীর দাম ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে।[১০] ১৮৬৪ সালের ৭ই এপ্রিল তারিখে প্রদত্ত গ্লাডস্টোনের পরবর্তী বাজেট বক্তৃতাটি তোত উদ্বৃত্ত-মূল্য সৃজনের অগ্রগতি ও দরিদ্র’-শোষিত জনগণের সুখ সম্বন্ধে পিণ্ডার-রচিত বন্দনা-সঙ্গীতের মত। তিনি তার বক্তৃতায় দুঃস্থতার “প্রান্তবর্তী” জনগণের কথা, যে-সব শিল্প-শাখায় মজুরি বৃদ্ধি পায়নি”, সে-সবের কথা বলেন এবং, সর্বশেষে, এক কথায়, শ্ৰমিক-শ্রেণীর সুখের কথা বিবৃত করেন, “মানব-জীবন, প্রতি দশটি ক্ষেত্রের মধ্যে নয়টিতেই কেবল অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।”[১১] অধ্যাপক ফসেট গ্ল্যান্ড স্টোনের মত সরকারি বিচার-বিবেচনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন; তিনি সোজা-সুজিই ঘোষণা করেন, “আমি অবশ্য অস্বীকার করি না যে, (গত দশ বছরে) মূলধনের এই সংবৃদ্ধির ফলে আর্থিক মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু এই বাহ্যিক সুবিধা অনেক পরিমাণেই হয়েছে বিনষ্ট, কারণ জীবনধারণের জন্য আবশ্যক দ্রব্যসামগ্রী হয়েছে আরো মহার্ঘ” (তার বিশ্বাস মূল্যবান ধাতুসমূহের মূল্যহ্রাসের দরুন — ধনী দ্রুত গতিতে আবো ধনবান হয়, অথচ শিল্পে নিযুক্ত শ্রেণীগুলির সচ্ছলতা-ভোগের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় না। তারা (শ্রমিকেরা। ব্যবসায়ীদের প্রায় ক্রীতদাসে পরিণত হয়, কেননা তারা তাদের কাছে ঋণী।”[১২]
