৭. “এ ডিসার্টেশন অন দি পুয়োর লজ, বাই এ ওয়েলউইশার অব ম্যানই’ (রেভাঃজে টাউনসেণ্ড), ১৭৮৬, পুনর্মুদ্রিত, লণ্ডন ১৮১৭পৃঃ ১৫,৩৯,৪১। এই সুকোমল যাজকটির লেখা থেকে ম্যালথাস প্রায়ই পাতার পরে পাতা টুকে দিয়েছেন; যাজকটি নিজে কিন্তু তার মতবাদের বেশির ভাগটাই ধার করেছেন জেমস স্টুয়ার্ট মিল থেকে। অবশ্য ধার করার সময় কিছুটা অদল-বদলও করেছেন। যেমন, স্টুয়ার্ট বলেন, “এখানে এই ক্রীতদাস-প্রথার মধ্যে ছিল মানুষকে জোর করে পরিশ্রমী করার একটা ব্যবস্থা,” [ অ-শ্রমিকদের জন্য ] ‘মানুষ তখন বাধ্য হত কাজ করতে [ অর্থাৎ মুফতে অন্যের জন্য খাটতে ], কারণ তারা তখন ছিল অন্যের ক্রীতদাস; মানুষ এখন বাধ্য হয় কাজ করতে [ অর্থাৎ অ-শ্রমিকদের জন্য মুফতে কাজ করতে ], কারণ তারা তাদের প্রয়োজনের ক্রীতদাস, তা থেকে তিনি গীর্জার ঐ স্থূলকায় পদাধিকারীর মত এই সিদ্ধান্ত করেন না যে, মজুরি-শ্রমিককে অবশ্যই উপোস করে থাকতে হবে। বরং তিনি চান তাদের অভাব বৃদ্ধি করতে এবং তাদের অভাবের এই বর্ধিত সংখ্যাকে “অধিকৃতর সুকোমল” ব্যক্তি-বনের জন্য শ্রম-সাধনায় উদ্বোধিত করতে।
৮. স্টর্চ: H. Fr, cours d’Economie politique…nation. 28 ৩য় খণ্ড, প্যারিস ১৮২৩, পৃঃ ২২৩।
৯. সিসম দি : Nouveax priacipes d’Economie politique, vol—11 Paris, 1819. পৃঃ ৭৯, ৮৩, ৮৫।
১০. Deslutt de Tracy, 1.c., p. 231; “Les nations pauvres, c’est la ou le peuple est a son aise; et les nations riches, c’est la ou il est ordinairement pauvre.”
.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ–ধনতান্ত্রিক সঞ্চয়নের সাধারণ নিয়মের বিবিধ উদাহরণ।
(ক) ইংল্যাণ্ড : ১৮৪৬-১৮৬৬
ধনতান্ত্রিক সঞ্চয়ন অনুধাবন করার পক্ষে গত ২০ বছরের সময়কাল যত অনুকূল, আধুনিক সমাজের আর কোনো কাল ততটা নয়। মনে হয় যেন এই কালটা ফরচুন্যাটাস এর ভাণ্ডার পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত দেশের মধ্যে ইংল্যাণ্ডই হল আবার একমাত্র চিরায়ত উদাহরণ, কেননা বিশ্বের বাজারে তার স্থান সর্বাগ্রে, কেননা একমাত্র এখানেই ধনতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পূর্ণ ভাবে বিকশিত, এবং সর্বশেষে, কেননা ১৮৪৬ সাল থেকে অবাধ বাণিজ্যের স্বর্ণযুগের প্রবর্তন মামুলি অর্থনীতির শেষ আশ্রয়টি ভেঙে দিয়েছে। উৎপাদনে যে সুবিপুল অগ্রগতি ঘটে-২০ বছরের পরবর্তী ১০ বছরের অগ্রগতি আবার পূর্ববর্তী ১০ বছরের অগ্রগতিকেও ছাড়িয়ে যায়—তার কথা চতুর্থ বিভাগেই বিশদ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও গত অর্ধ-শতাব্দীতে ইংল্যাণ্ডের জনসংখ্যার অনাপেক্ষিক বৃদ্ধি ছিল খুবই বিরাট, তবু আপেক্ষিক বৃদ্ধি কিংবা সংবৃদ্ধির হার নিরন্তর কমে গিয়েছিল।
ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলস-এর জনসংখ্যার বাৎসরিক শতকরা বৃদ্ধির হার দশমিক সংখ্যায় :
১৮১১-১৮২১ শতকরা ১.৫৩৩
১৮২১-১৮৩১ শতকরা ১.৪৪৬
১৮৩১-১৮৪১ শতকরা ১.৩২৬
১৮৪১-১৮৫১ শতকরা ১.২১৬
১৮৫১-১৮৬১ শতকরা ১.১৪১
অন্য দিকে, এবারে বিবেচনা করা যাক সম্পদ বৃদ্ধির কথা। এখানে, আয়করের আওতায় আসে এমন মুনাফা, জমির খাজনা ইত্যাদিই হল সবচেয়ে নিশ্চিত ভিত্তি। ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৪ সালের মধ্যে আয়করের আওতাভুক্ত মুনাফার বৃদ্ধি (জোত-মালিক ও আরো কিছু বৰ্গকে বাদ দিয়ে) দাড়িয়েছিল ৫০.৪৭ শতাংশ কিংবা বাৎসরিক গড় হিসাবে ৪.৫৮[১] শতাংশ, সেক্ষেত্রে ঐ একই সময়কালে জনসংখ্যার বৃদ্ধি বাৎসরিক গড় হিসাবে দাড়িয়েছিল প্রায় ১২ শতাংশ। ১৮৫৩ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত করের আওতা ভুক্ত জমির খাজনার (বাড়ি-ঘর, রেলপথ, খনি, মৎস্যক্ষেত্র ইত্যাদি ধরে ) বৃদ্ধি ঘটেছিল ৩৮ শতাংশ কিংবা বাৎসরিক ৩.৬২ শতাংশ। এই শিরোনামায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে ঘটেছিল বৃহত্তম বৃদ্ধি :
১৮৫৩ সালের বাৎসরিক আয়ের তুলনায় ১৮৬৪ সালের বাৎসরিক আয়ের আধিক্যঃ
বাড়িঘর : ৩৮৬০ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৩.৫০ শতাংশ
পাথর-খাত : ৮৪৭৬ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৭৭০ শতাংশ
খনি : ৬৮.৮৫ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৬.২৬ শতাংশ
লোহা-কারখানা : ৩৯.৯২ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৩.৬৩ শতাংশ
মাছচাষ : ৫৭.৩৭, শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৫.২১ শতাংশ
গ্যাস-কারখানা : ১২৬.০২, শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ১১.৪৫ শতাংশ
রেলপথ : ৮৩.২৯ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধি ৭.৫৭ শতাংশ [২]
১৮৫৩ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত যদি আমরা চারটি করে পর-পর বছরের তিনটি প্রন্তে ভাগ করে, সেই প্রস্তগুলিকে তুলনা করি, আমরা দেখতে পাই যে বৃদ্ধিপ্রাপ্তির হার নিরন্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন, ১৮৫৩ এবং ১৮৫৭ সালের মধ্যে এই বৃদ্ধিপ্রাপ্তির হার হল বাৎসরিক ১.৭৩ শতাংশ; ১৮৫৭ এবং ১৮৬১ সালের মধ্যে ২.৭৪ শতাংশ এবং ১৮৬১ এবং ১৮৬৪ সালের মধ্যে ৯৩০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের আয়কর-যোগ্য আয়সমূহের যোগফল ১৮৫৬ সালে ছিল £ ৩০,৭০,৬৮,৮১৮, ১৮৫৯ সালে £ ৪ ৩২,৮১,২৭,৪১৬; ১৮৬২ সালে £ ৩৫,১৭,৪৫,২৪১; ১৮৬৩ সালে £ ৩৫,৯১,৪২,৮৯৭; ১৮৬৪ সালে £ ৫ ৩৬,২৪,৬২,২৭৯; ১৮৬৫ সালে £ ৩৮,৫৫,৩০,৩২০। [৩]
ঐ একই সময়ে মূলধনের সঙ্গে একত্রে চলেছিল সংকেন্দ্রীভবন ও কেন্দ্রীভবন। যদিও ইংল্যাণ্ডের বেলায় কৃষিক্ষেত্রের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই (আয়ার্ল্যাণ্ডের আছে), ১০টি কাউন্টিতে তা স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল। এই সব পরিসংখ্যান থেকে যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল, তাতে দেখা যায়, ১৮৫১ থেকে ১৮৬১ সাল অবধি ১০০ একরের কম আয়তনের জোতের সংখ্যা ৩১,৫৮৩ থেকে কমে দাঁড়িয়েছিল ২৬,৫৯৭টি যার মানে, ৫,১৬টি জোত কয়েকটি করে একত্রে নিক্ষিপ্ত হয়ে বড় বড় জোতে পরিণত হয়েছিল।[৪] ১৮১৫ থেকে ১৮২৫ সাল অবধি ১৩,০০,০০০ বেশি মূল্যের কোনো ব্যক্তিগত ভূ-সম্পত্তি (এস্টেট) উত্তরাধিকার করের অধীনে আসেনি। ১৮২৫ থেকে ১৮৫৫ সাল অবধি কিন্তু এমন আটটি এসেছিল, এবং ১৮৫৬ থেকে ১৮৫৯ সালের জুন মাস অবধি, অর্থাৎ ৪.৫ বছরে এসেছিল ৪টি।[৫] অবশ্য, কেন্দ্রীভবনের তথ্য সবচেয়ে ভাল ভাবে পাওয়া যায় ১৮৬৪ এবং ১৮৬৫ সালের ‘আয়কর তপশিল’ ‘খ’-এর একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ থেকে ( মুনাফা-জোত ইত্যাদির মুনাফা বাদ দিয়ে)। আগে ভাগেই বলে রাখি যে, এই উৎস থেকে প্রাপ্ত আরগুলি ৬০ পাউণ্ডের উপরে সব কিছু বাদে কর দেয়। ইংল্যাণ্ড, ওয়েলস্ ও স্কটল্যাণ্ডে করের আওতাভুক্ত এই আয়সমূহের পরিমাণ ১৮৬৪ সালে হয়েছিল £ ৯,৫৮,৪৪,২৩২; ১৮৬৫ সালে £ ১০,৫৪,৫৩,৫৭৯। [৬] ১৮৬৪ সালে মোট ২,৮,৯১,৭০৯ জনসংখ্যার মধ্যে কর-আরোপিত ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল ৩,৭৮,৪১৬ জন; ১৮৬৫ সালে মোট ২,৪১,২৭, ০৩ জনসংখ্যার মধ্যে কর-আবোপিত ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল ৩,৩২,৪৩১ জন। নিম্ন-প্রদত্ত সারণীটিতে এই দুই বছরে এই সব আয়ের বন্টন দেখানো হল।
