স্টর্চ বলেন, “সামাজিক সম্পদে অগ্রগতি জন্ম দেয় সমাজের পক্ষে উপকারী এই শ্ৰেণীটিকে ….. যে-শ্রেণীটি সম্পাদন করে সবচেয়ে ক্লান্তিকর, সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে বিরক্তিকর কার্যগুলি; এক কথায়, যে-শ্রেণীটি তার কাঁধে তুলে নেয় জীবনে যা কিছু অসহনীয় ও অবমাননাকর; এবং, এই ভাবে, অন্যান্য শ্রেণীর জন্য ব্যবস্থা করে দেয় অবকাশ, মানসিক প্রশান্তি এবং চিরাচরিত (c’est bon!) চারিত্রিক সন্ত্রম।”[৮] টর্চ নিজেকে প্রশ্ন করেন, তা হলে বর্বর যুগের তুলনায়, যে ধনতান্ত্রিক সভ্যতার জনগণের এত দুর্গতি, এত অধঃপতন, তার অগ্রগতিটা কোথায়? তিনি কেবল একটি উত্তরই খুজে পান : নিরাপত্তায় !
সিসম দি বলেন, শিল্প ও “বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যাণে প্রত্যেক শ্রমিকই পারে তার নিজের পরিভোগর জন্য যা প্রয়োজন তার চেয়ে ঢের বেশি উৎপাদন করতে। কিন্তু একই সময়ে, যখন তার শ্রম-সম্পদ উৎপাদন করে, তখন যদি তাকে ডাকা হত সেই সম্পদ নিজেই পরিভোগ করতে, তা হলে তা শ্রমের জন্য তার যে-উপযুক্ততা, তা কমিয়ে দিত।” তার মতে, “মানুষ” (অর্থাৎ অ-শ্রমিক। “সম্ভবতঃ সমস্ত শিল্পকলাগত উৎকর্ষ এবং, উৎপাদনকারীরা আমাদের জন্য যেসব ভোগ্য সামগ্রীর সরবরাহ করে, সেগুলিকে ছাড়াই জীবন কাটাত, যদি সেই সব কিছু শ্রমিকের মত নিরন্তর পরিশ্রম করে, তাদের ক্রয় করতে হত।….. পরিশ্রম আজ তার প্রতিমূল্য থেকে বিচ্ছিন্ন; ঘটনা এই নয় যে, যে আগে কাজ করে, সেই পরে বিশ্রাম ভোগ করে; ঘটনা এই যে, একজন কাজ করে আর অন্য একজন বিশ্রাম ভোগ করে। সুতরাং শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতার অনির্দিষ্ট পরিবৃদ্ধির একমাত্র ফল হতে পারে কেবল অলস ধনীদের বিলাস ও সম্ভোগ বৃদ্ধি।”[৯]
সর্বশেষে, দেস্তুত দ্য ত্রাসি নামে সেই মেছে রক্তের বুর্জোয়া তত্ত্ববাগীশদের নির্লজ্জ হঠোক্তি : “দরিদ্র দেশগুলিতে লোকেরা থাকে আরামে, ধনীদেশগুলিতে তারা সাধারণতঃ দরিদ্র।”[১০]
————
১. যখন ১৮৬৬ সালের শেষের ছ’মাস লণ্ডনে ৮ থেকে ১০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ কৰ্মচ্যুত হয়, তখন সেই একই সময়ের ফ্যাক্টরি রিপোর্টে বলা হয়, এটা সম্পূর্ণ সত্য বলে মনে হয় না যে, চাহিদা সব সময়েই, যে-মুহূর্তে সরবরাহের দরকার হবে, সেই মুহূর্তেই তা উৎপাদন করবে। শ্রমের ক্ষেত্রে চাহিদা তা করেনি, কেননা গত বছর শ্রমিকের অভাবে অনেক মেশিনারি অলস পড়েছিল।” (“রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৬ পৃঃ ৮১।
২. বার্মিংহামে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সম্মেলনে শহরের মেয়র জে. চেম্বারলেন, এখন (১৮৮৩) ব্যবসা-পর্ষদ-এর সভাপতি—এর উদ্বোধনী ভাষণ, ১৫ই জানুয়ারী, ১৮৭৫।
৩. ইংল্যাণ্ড ওয়েলসের ১৮৬১ সালের আদমসুমারিতে প্রদত্ত ৭৮১টি শহর, “ধারণ করত ১০,৯৬০,৯৯৮ জন অধিবাসী, যেখানে গ্রাম ও মফস্বলের প্যারিশগুলি ধারণ করত ৯,১০৫,২২৬ জন। ১৮৫১ সালে ৫৮টি শহর চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং সেগুলিতে আর সেগুলির চার পাশে মফস্বল এলাকাগুলির জনসংখ্যা ছিল প্রায় সমান সমান। কিন্তু যেখানে যেখানে পরবর্তী-দশ বছরে গ্রামে ও মফস্বলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেল ৫ লক্ষ, সেখানে শহরে তা বৃদ্ধি পেল ১৫ লক্ষ (১,৫৫৪, ৬৭)। মফস্বলের প্যারিশগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ, শহরগুলির ১৭৩ শতাংশ। বৃদ্ধির হারের এই পার্থক্যের কারণ গ্রাম থেকে শহরে গমন। মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির ও ভাগ ঘটেছে শহরে। (“আদমসুমারি” ইত্যাদি, পৃঃ ১১, ১২)।
৪. “মনে হয় দারিদ্র্য প্রজননের পক্ষে অনুকূল”, (অ্যাডাম স্মিথ )। বীর ও বুদ্ধিমান আব্বে গ্যালিয়ানির মতে, এটা ঈশ্বরের এক বিশেষ ভাবে প্রাজ্ঞ ব্যবস্থা। «Iddio af che girl uominiche esercitano mestieri di primautilita nascono abbondantemente” (গ্যালিয়ানি ঐ, পৃঃ ৭৮)। “দুর্ভিক্ষ ওমহামারীর চরম অবস্থায় পর্যন্ত দুর্দশা জনসংখ্যাকে না কমিয়ে বরং বাড়ায়।” (এস লেইংগ। “ন্যাশনাল ডিস্ট্রেস”, ১৮৪৪, পৃঃ ৬৯)। পরিসংখ্যানের সাহায্যে এটা প্রমাণের পরে লেইংগ বলেন, “সকল মানুষ যদি স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে থাকতে পারত, তা হলে পৃথিবী জনহীন হয়ে যেত।”
৫. “De jour en jour il devient donc plus clair que les rapports de production dans lesquels se meut la bourgeoisie n’ont pas un caractere un, un caractere simple, mais un caractere de duplicite que dans les memes rapports dans lesquels se produit la richesse, la misere se produit aussi; que dans les memes rapports dans lesquels il y a developpement des forces productives, il y a une force productive de repression; que ces rapports de produisent la richesse bourgeoise, c’est-a-dire la richesse de la classe bourgeoise, qu’en ancantissant continuellement la richesse des membres integrants de cette classe et en produisant un proletariat toujours croissant.” (Karl Marx : “Misere de la Philosophie,” p. 116.)
৬. জি অর্টেস, “Della Economia Nazionale libri sei, 1777. in Custodi, Parte Moderna, t. xxi. pp. 6, 9, 22, 25, etc. অর্টেস বলেন : “In luoco di progettar sistemi inutili per la felicita de’popoli, mi limitero a investigare la ragione della loro infelicita.”
