একটি অনাপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-জনসংখ্যার ক্রমবর্ধিষ্ণু উৎপাদন সম্প্রসারিত হয়, এই উদ্দেশ্য আরো প্রবল হয়ে ওঠে। মূলধনের সঞ্চয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবলতা আরো বৃদ্ধি পায়।
আমরা দেখেছি, ধনতান্ত্রিক উৎপাদন-পদ্ধতি এবং শ্রমের উৎপাদন-ক্ষমতার বিকাশ একই সঙ্গে যা সঞ্চয়নের হেতু ও ফল-ধনিককে সক্ষম করে একই পরিমাণ অস্থির মূলধনের বিনিয়োগের সাহায্যে, কিন্তু প্রত্যেকটি ব্যাক্তিগত শ্রম-শক্তির আরো ( ব্যাপক ও নিবিড়) শোষণের মাধ্যমে, আরো বেশি পরিমাণ শ্রমকে কর্ম-প্রযুক্ত করতে। আমরা আরো দেখেছি, ধনেক যতই বেশি বেশি করে দক্ষ শ্রমিকের বদলে অদক্ষ শ্রমিককে, পরিণত শ্রমশক্তির বদলে অপরিণত শ্রমশক্তিকে, পুরুষ শ্রমের বদলে নারী শ্রমকে, বয়স্কদের শ্রমের বদলে কিশোর ও শিশুদের শ্রমকে নিয়োগ করতে থাকে, ততই ধনিক একই মূলধনের সাহায্যে বৃহত্তর পরিমাণ শ্রমশক্তি ক্রয় করে।
সুতরাং, এক দিনে, সঞ্চয়নের অগ্রগতির সঙ্গে, একটি বৃহত্তর পরিমাণ অস্থির মূলধন, নোতুশ শ্রমিক নিয়োগ না করেও, অধিকতর শ্রমকে কর্ম-প্রযুক্ত করে; অন্য দিকে, একই আয়তনের অস্থির মূলধন একই পরিমাণ শ্রমশক্তির সাহায্যে অধিকতর শ্রমকে কর্ম-প্ৰযুক্ত করে; এবং, শেষ পর্যন্ত, উচ্চতর মানের শ্রমশক্তিকে নিম্নতর মানের শ্রমশক্তির দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে। সুতরাং, যে কৃৎকৌশলগত বিপ্লব সঞ্চয়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংঘটিত হয় এবং তার দ্বারা ত্বরান্বিত হ:, তার তুলনায়, এবং মূলধনের স্থর শেঃ অনুপাতে তার অস্থির অশে হ্রাসপ্রাপ্তির তুলনায়, একটি আপেক্ষিক উত্ত-জনসংখ্যার উৎপাদন বা শ্রমিকদের মুক্তি দান আরো বেশি দ্রুত বেগে অগ্রসর হতে থাকে। উৎপাদনের উপায়সমূহ য মাত্রায় ও কার্যকরী ক্ষমতায় বৃদ্ধি পাবার সঙ্গে অল্পতম মাত্রায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের উপর হয়ে ওঠে, তা হলে আবার সেই পরিস্থিতিটি সংশোধিত হয় এই ঘটনার দ্বা: যে, শ্রমের উৎপাদনশীলতা যে-অনুপাতে বৃদ্ধি পায়, মূলধন তার শ্রমিকদের জন্য চাহিদার তুলনায় তার শ্রমের সরবরাহকে অায়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি করে। শ্রমিকশ্রেণীর কর্ম নিযুক্ত অংশটির অতিরিক্ত কাজের ফলে সংরক্ষিত বাহিনীর অয়জ আরো স্ফীত হয়, অন্য দিকে, আবার, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই সংর ক্ষত বাহিনী কর্ম-নিযুক্ত শ্রমিকদের উপরে যে বৃহত্তর চাপ সৃষ্টি করে, তা তাদের বাধ্য রে অতিরিক্ত কাজ এবং মূলধনের কর্তৃত্ব ও হুকুমকে স্বীকার করে নিতে। শ্রমক-শ্রেণীর এক শের অতিরিক্ত কাজের দরুন। অপরাংশের এই বাধ্যতামূলক কর্মহীনতার যন্ত্রণাযোগ এবং এদের এই যন্ত্রণাভোগের দরুন আবার ওদের ঐ অতিরিক্ত কাজের বোঝা–এটাই ওঠে ব্যক্তিগত ধনিকদের আরো ধনবান হবার একটি উপায়[৭] এবং এটাই আবার সেই সঙ্গে স্বরান্বিত করে সামাজিক সঞ্চয়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংরক্ষিত বাহিনীর সম্প্রসারণ। আপেক্ষিক উত্তজনসংখ্যা গড়ে তোলায় এই উপাদানটি কত গুরুত্বপুর্ণ, ইংল্যাণ্ডের দৃষ্টান্ত থেকেই তা বোঝা যায়। শ্রম বাঁচাবার জন্য তার কারিগরি উপায়-উপকরণ সুবিপুল। তা সত্ত্বেও, যদি কাল সকালে এমকে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে কমিয়ে আনা যেত এবং বয়স ও নারী-পুরুষ হিসাবে শ্রমিক-শ্রেণীর বিভিন্ন অংশে আনুপাতিক ভাগ করে দেওয়া যেত, তা হলে দেখা যেত যে, বর্তমানে যে আয়তনে উৎপাদন চলছে, সে আয়তনে উৎপাদন চালানোর পক্ষে ইংল্যাণ্ডের শ্রমজীবী জনসংখ্যা অনেক কম। আজ যে-শ্রমিকদের অনুৎপাদনশীল” বলে গণ্য করা হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই তখন “উৎপাদনশীল” শ্ৰমিকে পরিণত হবে।
সমগ্র ভাবে দেখলে মজুরির সাধারণ গতি-প্রকৃতি একান্তভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় সংরক্ষিত শিল্প-কর্মীবাহিনীর সম্প্রসারণ ও সংকোচনের দ্বারা এবং তা আবার ঘটে শিল্প-চক্রের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন অনুসারে। সুতরাং মজুরির গতি-প্রকৃতি শ্রমজীবী জনগণের অনাপেক্ষিক সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির দ্বারা নির্ধারিত হয় না, নির্ধারিত হয় শ্রমিক শ্রেণী কোন্ কোন্ অনুপাতে সক্রিয় ও সংরক্ষিত কর্মীবাহিনীতে বিভক্ত, সেই সেই অনুপাতের দ্বারা, উভ-জনসংখ্যার আপেক্ষিক পরিমাণের হ্রাস বা বৃদ্ধির দ্বারা যে-মাত্রায় এই জনসংখ্যা এখন কর্ম-নিযুক্ত হয়, তখন কর্ম-বিমুক্ত হয় সেই মাত্রার দ্বারা। আধুনিক শিল্পের পক্ষে-যার বৈশিষ্ট্য হল দশ-বাৎসরিক চক্র ও সময়ক্রমিক পর্যায় সমূহ, সঞ্চনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যেগুলি পর পর আরো দ্রুত গতিতে ও অনিয়মিত ভাবে সংঘটিত দোলন-বিদোলনের দরুন আরো জটিল হয়ে ওঠে —সেই আধুনিক শিল্পের পক্ষে, সেটি হত একটি সুন্দর নিয়ম, যে-নিয়মটি মূলধনের পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণ ও সংকোচনের দ্বারা শ্রমের চাহিদা ও সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে-যার ফলে শ্রমের বাজার কখনো হয় আপেক্ষিক ভাবে ‘উন-পূৰ্ণ ( ‘আণ্ডার-ফুল’ }, কেননা মূলধন সম্প্রসারিত হচ্ছে; কখনো হয় ‘অতি-পূর্ণ’ (ওভার ফুল’ ), কেননা মূলধন সংকুচিত হচ্ছে—দাবি করে যে, মূলধনের কাজ নির্ভর করে জনসংখ্যার অনাপেক্ষিক পরিবর্তনের উপরে। অথচ এটাই হল অথতাত্ত্বিকদের বদ্ধমূল ধারণা। তাঁদের মতে, মজুরি বৃদ্ধি পায় মূলধনের সঞ্চয়নের ফলে। উচ্চতর মজুরি শ্রমজীবী জনসংখ্যাকে আরো দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে প্রণােদিত করে, এবং তা চলতে থাকে যে-পর্যন্ত না শ্রমজীবীর বাজার অতিরিক্ত পূর্ণ হয়ে যায়, এবং, সেই কারণে, শ্রমের সরবরাহের তুলনায় আপেক্ষিক ভাবে মূলধন অপ্রতুল হয়ে পড়ে। মজুরি যখন হ্রাস পায়, তখন আমরা মেতেলের উটো দিকটি প্রত্যক্ষ করি। মজুরি হ্রাসের ফলে
