উপস্থিত কর্মত সামাজিক মূলধনের আয়তন এবং তার বৃদ্ধিপ্রাপ্তির মাত্রার সঙ্গে, উৎপাদনের আয়তনের সম্প্রসারণ এবং শ্রমিক সমষ্টিতে গতি-সঞ্চারের সঙ্গে, তাদের শ্রমের উৎপাদনশীলতার বিকশের সঙ্গে, সম্পদের সমস্ত উৎসের বৃহত্তর প্রসার ও পূর্ণতার সঙ্গে, যে-আয়তনে মূলধন-কর্তৃক শ্রমিকদের বৃহত্তর আকর্ষণ তাদের বৃহত্তর বিকর্ষণের দ্বার’ অনুসারিত হয়, সেই আয়তনেরও সম্প্রসারণ ঘটে; মূলধনের আঙ্গিক গঠনে, ও তার যুক্তিগত রূপে পরিবর্তনের ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধি পায়; এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রসমূহ ক্র-বর্ধমান সংখ্যায় এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে—কখনো যুগপৎ, কখনো বা পর্যায়ক্রমে। সুতরাং শ্রমিক জনসংখ্যা নিজের উৎপাদিত মূলধনের সঞ্চয়নের সঙ্গে, সেই উপায়-উপকরণগুলিও উৎপাদন করে, যেগুলি তাকেই পরিণত করে আপেক্ষিক ভাবে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্যে, পরিণত করে একটি আপেক্ষিক উত্ত-জন সংখ্যায়—এবং এটা করে সব সময়েই একটা ক্রমবর্ধমান মাত্রায়।[৩] এটাই হল ধনতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির স্ববিশেষ জনসংখ্যা সংক্রান্ত নিয়ম; এবং বাস্তবিক পক্ষে প্রত্যেকটি বিশেষ ঐতিহাসিক উৎপাদন-পদ্ধতিরই স্ববিশেষ জনসংখ্যা সংক্রান্ত নিয়ম, যা কেবল সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিটির সীমার মধ্যেই কার্যকর জনসংখ্যা সংক্রান্ত কোন অমূত নিয়ম, কার্যকর আছে কেবল উদ ও পশুদের মধ্যে—যেহেতু মানুষ সেখানে হস্তক্ষেপ করেনি।।
কিন্তু যদি একটি উদ্বৃত্ত শ্রমজীবী জনসংখ্যা হয় ধনতান্ত্রিক ভিত্তিতে সঞ্চয়নের কিংব সম্পদ সৃষ্টির একটি আবশ্যিক ফল, তা হলে এই উদ্বৃত্ত জনসংখ্যা, বিপরীত ভাবে, পরিণত হয় ধনতাকি সঞ্চয়নের অনুথেকে, এমনকি, ধনতান্ত্রিক উৎপাদন-পদ্ধতি অতিতের একটি শতে। এট। গড়ে তোলে একটি ব্যবহারযোগ্য সংরক্ষিত শিল্প-কর্মী বাহিনী, য এমন ভাবে মূলধনের অধিকারে থাকে, যেন মূলধনই তাকে নিজের খরচে লালন-পালন করেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তব মাত্র নির্বিশেষে, এই উদ্বৃত্ত জনসংখ্যা মূলধনের আত্ম-প্রসারণের পরিবর্তনশীল প্রয়োজন পূরণের জন্য, সৃষ্টি করে এমন এক মানবিক সামগ্রী-সম্ভার, যাকে সব সময়েই শোষণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়। সঞ্চয়ন, এবং তার সহগামী শ্রমের উৎপাদনশীলতার বিকাশের সঙ্গে, মূলধনের আকস্মিক সম্প্রসারণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়; এট। বৃদ্ধি পায় কেবল এই কারণে নয় যে কর্মরত মূলধনে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়; কেবল এই কারণে নয় যে মূলধন যার একটি স্থিতিস্থাপক অংশ মাত্র, সমাজের সেই অনাপেক্ষিক সম্পদ বৃদ্ধি পায়; কেবল এই কারণে নয় যে সর্বপ্রকার বিশেষ প্রেরণার প্রভাবে ক্রেডিট এই সম্পদের একটি বিরাট অংশ অতিরিক্ত মূলধনের আকারে এক সঙ্গে তুলে দেয় উৎপাদনের প্রয়োজন-সাধনে। এটা এই কারণেও বৃদ্ধি পায় যে, উৎপাদন-প্রক্রিয়ার কারিগরি অবস্থাগুলি-মেশিনারি, পরিবহন ইত্যাদি নিজেরাই এখন উদ্বৃত্ত-উৎপন্নসামগ্রী-সম্ভারের ক্ষিপ্রতম গতিতে উৎপাদনের উপায়-উপকরণে রূপান্তরণ সম্ভব করে তোলে। সঞ্চয়নের অগ্রগতির কল্যাণে সুবিপুল ভাবে বর্ধিত এবং অতিরিক্ত মূলধনে রূপান্তরযোগ্য সামাজিক সম্পদ সম্ভার উদ্ভ্রান্ত ভাবে নিজেকে সতেজে ঠেলে দেয় উৎপাদনের পুরাগত শাখাগুলির মধ্যে যেগুলির বাজার সহসা প্রসার লাভ করে, কিংবা নব-গঠিত শাখাগুলির মধ্যে, যেমন রেলপথ ইত্যাদিতে—যেগুলির প্রয়োজন উদ্ভূত হয় পুরাগত শাখাগুলির অগ্রগতি থেকেই। অন্যান্য ক্ষেত্রের কোন ক্ষতি না করে, এই ধরনের সমস্ত ক্ষেত্রে যাতে সহসা বিরাট বিরাট জনসমষ্টিকে বিশেষ বিশেষ চূড়ান্ত অবস্থানে নিক্ষেপ করা যায়, তার সম্ভাব্য ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে। অতিরিক্ত জনসংখ্য। এই সমস্ত জনসমষ্টি সরবরাহ করে। আধুনিক শিল্পের স্বভাবসিদ্ধ গতিপথ হল—গড় কর্মতৎপরতা, উচ্চ মাত্রায় উৎপাদন, সংকট ও অচলাবস্থার পর্যায়ক্রমিক দশ-বৎসরান্তিক চক্রপথ (যা মাঝে মাঝে ব্যাহত হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আন্দোলনের দ্বারা; এই-গতিক্রমটি নির্ভর করে সংরক্ষিত শিল্প-কর্মী বাহিনীর তথা উদ্মও-জনসমষ্টির নিরন্তর গঠন, বৃহত্তর বা ক্ষুদ্রতর অংশের কর্ম-নিয়োজন, এবং ঐ বাহিনীর পুনর্গঠনের উপরে। শিল্প-চক্রের বিভিন্ন পর্যায় আবার সংগ্রহ করে উদ্বও জনসমষ্টি এবং এই ভাবে কাজ করে তার পুনরুৎপাদনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠক হিসাবে। আধুনিক শিল্পের এই বিশেষ গতিক্রমটি মানব-ইতিহাসের কোনো পূর্ববর্তী পর্যায়ে ঘটেনা, এমনকি, ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের শৈশবেও তা ছিল অসম্ভব। মূলধনের গঠন-বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটত, কিন্তু খুবই মন্থর গতিতে। সুতরাং তার সঞ্চয়নের সঙ্গে তদনুযায়ী শ্রমের চাহিদাও মোটামুটি সঙ্গতি রেখে বৃদ্ধি পেত। যেহেতু আরো আধুনিক যুগের তুলনায় সঞ্চয়নের অগ্রগতি ছিল মন্থর, সেহেতু তা শোষণযোগ্য শ্রমজীবী জনসংখ্যার স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হত, যে-সীমাবদ্ধতা থেকে কেবল বল প্রয়োগের পথেই নিষ্কৃতি পাওয়া যেত, যার কথা আমরা পরে উল্লেখ করব। উৎপাদন-আয়তনের দমকে দমকে সম্প্রসারণ তার একই রকম আকস্মিক সংকোচনের পূর্বাভাস; সংকোচন আবার সম্প্রসারণের সূচনা করে, কিন্তু ব্যবহারযোগ্য মানবিক সামগ্রী ছাড়া, জনসংখ্যার অনাপেক্ষিক বৃদ্ধির উপরে নির্ভর না করে শ্রমিক-সংখ্যায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ছাড়া, এই সম্প্রসারণ অসম্ভব। যে-সরল প্রক্রিয়াটি শ্রমিকের একটা অংশকে নিরন্তর “মুক্তি দেয়, সেই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে, যে-সব পদ্ধতি বর্ধিত উৎপাদনের অনুপাতে নিযুক্ত শ্রমিকদের সংখ্যা হ্রাস করে সেই সব পদ্ধতির মাধ্যমে, এই শ্রমিক সংখ্যায় এই বৃদ্ধি ঘটানো হয়। সুতরাং আধুনিক শিল্পের গতিশীলতার সমগ্র রূপটি নির্ভর করে শ্রমজীবী জনসংখ্যার একটি অংশকে নিরন্তর বেকার বা আধা-বেকারে পর্যবসিত করার উপরে। রাষ্ট্রীয় অর্থতত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতা এই ঘটনায় বেরিয়ে পড়ে যে, ক্রেডিটের সম্প্রসারণ ও সংকোচন-যা শিল্প-চক্রের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের একটি লক্ষণ
