(১১) ‘L Argent en (des denrees) est le signe’ (V. de Forbeonnais : ‘Elements du Commerce. Nouv. Edit. Leyde, 1766, t. II., p. 143) ‘Comme signe il est attire par les denrees. (l.c.p. 155.) ‘L’argent est un signre d’une chose et la represente.’’ (Montesquieu. “Esprit des Lois,” (OEuvres, London, 1767, t. II, p. 2) ‘L’argent n’est pas simple signe, car il est lui meme richesse; il ne represente pas les valeurs, il les equivaut.’’ (Le Trosne, lcp. 910).” ‘মূল্যের ধারণা অনুযায়ী একটি মূল্যবান দ্রব্য কেবল একটি প্রতীকমাত্র; দ্রব্যটি কি তা গণনীয় নয়, দ্রব্যটির মূল্য কি তাই গণনীয়’-হেগেল (I. c. p. 100)। অর্থনীতিবিদদের অনেক আগেই আইনজীবীরা এই ধারণাটি চালু করেছেন যে, অর্থ হচ্ছে একটি প্রতীক মাত্র, এবং মহার্ঘ ধাতুগুলির মূল্য নিছক কল্পনাজাত। এটা তারা করেন মুকুটধারী মাথাগুলির প্রতি চাটুকারসুলভ সেবায়, মুদ্রাকে হীনমূল্য করার ব্যাপারে এই মুকুটধারীদের অধিকারের সমর্থনে, গোটা মধ্য যুগ ধরে, রোমক সাম্রাজ্যের ঐতিহ্য এবং pandects থেকে লব্ধ অর্থরে ধারণা অনুযায়ী। তাঁদের একজন যোগ্য পণ্ডিত, ভ্যালয়-এর ফিলিপ, ১৩৪৬ সালে এক বিধাল বলেন, “Quaucun puisse ni doive faire doute Says an apt scholar of theirs, philips of valoi in a deorce of 1346. que a nous et a notre majeste royal n’appartiennent seulement … le mestier, le fait, l’etat, la provision et toute l’ordonnance des monnaies, de donner tel cours, et pour tel prix comme il nous plait et bon nous semble”, রোমক আইনের বিধি ছিল যে অর্থের মূল্য সম্রাটের বিধান দ্বারা ধাৰ্য। অর্থকে একটি পণ্য হিসাবে গণ্য করা ছিল স্পষ্ট ভাবে নিষিদ্ধ। “Pecunnias viro nulli emer fas erit, nam in usu publico constitutas oportet non esse mercem.” এই প্রশ্নে কিছু ভাল কাজ করেছেন জি এফ পাগনিনি। “Saggio sopra il giusto pregio delle cose, 1751” Custodi “Parte Moderna, t, II, তাঁর বইয়ের দ্বিতীয় ভাগে পাগনিনি তঁর আক্রমণ পরিচালনা করেন। বিশেষ করে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।
(১২) পেরুর মৃত্তিকাগাের্ভ থেকে লণ্ডনে এক আউন্স রূপা নিয়ে আসতে যে-সময় লাগে, সেই সময়ের মধ্যে যদি এক বুশেল শস্য উৎপন্ন করা যায়, তা হলে দুয়ের স্বাভাবিক দাম হবে সমান। এখন যদি নতুন কোনো কৌশলের ফলে ঐ সময়ের মধ্যে দুই বুশেল শস্য উৎপাদন সম্ভব হয়, তা হলে এক আউন্স রূপা হবে দুই বুশেলের সমান -William Petty: “A Treatise of Taxes and Contributions, 1667, p. 32.
(১৩) বিদগ্ধ অধ্যাপক রশ্চিগর আমাদের প্রথম জানালেন, “অর্থ সংক্রান্ত ভ্ৰান্ত সংজ্ঞাগুলি প্ৰধানতঃ দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়; কতকগুলি সংজ্ঞায় অর্থকে পণ্যের চেয়ে বড় করে দেখানো হয়েছে, আবার কতকগুলিতে দেখানো হয়েছে ছোট করে; তার পরে অর্থের প্রকৃতি সম্পর্কে বিবিধ রচনার একটা লম্বা ও খিচুড়ি তালিকা দিলেন, যা থেকে বোঝা যায় যে, তত্ত্বটির আসল ইতিহাস সম্বন্ধে তঁর দূরতম ধারণাও নেই; এবং তার পরে তিনি এই নীতিনিষ্ঠ বক্তব্য রাখলেন, “বাকিদের ব্যাপারে, এটা অস্বীকার করা যায় না যে, পরবর্তী অৰ্থনীতিবিদদের অধিকাংশই অন্যান্য পণ্য থেকে অর্থের পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না” (যাক, তা হলে এটা একটি পণ্যের চেয়ে হয় বেশি, নয় কম!) “এ পর্যন্ত গ্যানিল-এর আধা বণিকবাদী প্রতিক্রিয়া একেবারে ভিত্তিহীন নয়।” (Wilhelm Roscher, Die Grundlagen der Nationaloekonomie, 3rd Edn., 1858 pp, 207-210), বড়! ছোট! যথেষ্ট! একেবারে নয়! এ পর্যন্ত! ধারণা ও ভাষা সম্পর্কে কী স্পষ্টতা ও যথাযথতা! আর এই পেশাদারি বোলচালকেই রশ্চার সবিনয় অভিহিত করেছেন, রাষ্ট্ৰীয় অৰ্থনীতির “অঙ্গ সংস্থানগত শারীরবৃত্ত ভিত্তিক পদ্ধতি বলে! একটি আবিষ্কারের জন্য কৃতিত্ব অবশ্য তারই প্ৰাপ্য, যথা অৰ্থ হচ্ছে “একটি মনোরম পণ্য।”
০৩. অর্থ, অথবা পণ্য-সঞ্চলন (তৃতীয় অধ্যায়)
তৃতীয় অধ্যায় — অর্থ, অথবা পণ্য-সঞ্চলন
৩.১ মূল্যের পরিমাপ
এই গ্রন্থের আগাগোড়াই, সরলতার স্বার্থে, আমি ধরে নিয়েছি যে সোনাই হচ্ছে অর্থ-পণ্য।
অর্থের প্রথম প্রধান কাজ হল পণ্যসমূহ যাতে নিজ নিজ মূল্য প্রকাশ করতে পারে, কিংবা একই সংজ্ঞাধীন, গুণগত ভাবে সমান এবং পরিমাণগত ভাবে তুলনীয় বিভিন্ন আয়তন হিসেবে তাদের বিভিন্ন মূল্যকে অভিব্যক্ত করতে পারে, তার জন্য তাদেরকে উপযুক্ত সামগ্রী সরবরাহ করা। এই ভাবে অর্থ কাজ করে মূল্যের সর্বজনীন পরিমাপক হিসেবে। এবং কেবল এই কাজটির গুণেই সমার্ঘ সামগ্রী হিসেবে সর্বোৎকৃষ্ট পণ্য যে সোনা সেই সোনাই পরিণত হয় অর্থে।
অর্থ বিভিন্ন পণ্যকে একই মান দিয়ে পরিমেয় করে তোলে—একথা ঠিক নয়। বরং ঠিক উলটো। যেহেতু সমস্ত পণ্যই, মূল্য হিসেবে, হচ্ছে বাস্তবায়িত মনুষ্যশ্রম, সেই হেতু তাদের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যকেও মাপা যায় একই অভিন্ন বিশেষ পণ্যের দ্বারা, এবং এই বিশেষ পণ্যটিকে রূপান্তরিত করা যায় তাদের সকলের মূল্যের অভিন্ন পরিমাপ রূপে, তথা, অর্থ রূপে। পণ্যের মধ্যে যে পরিমাণ মূল্য অর্থাৎ শ্রম-সময় নিহিত থাকে, সেই মূল্যের পরিমাপক হিসেবে অর্থকে তার পরিদৃশ্যমান রূপ বলে অবশ্যই ধরে নিতেই হবে।[১]
