——————
১. ধর্মনিষ্ঠার জন্য যে শতাব্দীটি এত বিশিষ্ট, সেই দ্বাদশ শতাব্দীতে পণ্যসম্ভারের মধ্যে অনেক সুক্ষ্ম জিনিসকেও ধরা হত। ঐ শতাব্দীর একজন ফরাসী কবি লাঁদিত-এর বাজারে প্রাপ্তব্য দ্রব্যাদির বিবরণ দিতে গিয়ে কেবল কাপড়, জুতো, চামড়া, চাষের যন্ত্রপাতির কথাই বলেন নি, সেই সঙ্গে তিনি “femmes folles de leur corps”-এর কথাও বলেছেন।
২. পণ্যদ্রব্যের উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইনগত সম্পৰ্কসমূহ থেকেই প্রুধো তাঁর ‘ন্যায়’ সংক্রান্ত ‘শাশ্বত ন্যায়’ (‘justice eternelle’) সংক্রান্ত ধারণাটি গ্রহণ করেন।। এই ভাবে সমস্ত সৎ নাগরিকদের প্রবোধ দিয়ে তিনি দেখাতে চেষ্টা করেন পণ্যোৎপাদন-ব্যবস্থা উৎপাদনের ব্যবস্থা হিসেবে ‘ন্যায়’-এর মতোই শাশ্বত। তারপরে তিনি নজর দেন। বাস্তবে প্ৰচলিত পণ্যোৎপাদন ব্যবস্থার এবং সেই সঙ্গে তৎসংশ্লিষ্ট আইন-প্ৰণালীর সংস্কাঞ্চ সাধনের দিকে । সে রসায়নবিদ বস্তুব সংশ্লেষণ ও বিশ্লেষণ সম্পর্কিত বিধানগুলি অনুধাবন না করে ‘শাশ্বত ধ্যানধারণা’র ( ‘eternal ideas’ ) সাহায্যে বস্তুর সংশ্লেষণ ও বিশ্লেষণকে নিয়ন্ত্রিত করার দাবি করেন, তার সম্বন্ধে আমরা কী মনোভাব পোষণ করব ? ‘কুসীদবৃত্তি’ ‘শাশ্বত ন্যায়’-এর বিরোধীএ কথা বললেই কি কুসীদ বৃত্তি সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি পায় ? গীর্জার পাদ্রীরাও তো বলেন কুসীদবৃত্তি “grace eternelle”, “foi eternelle” এবং “ia volonte eternelle de Dieu”-এর বিরোধী, কিন্তু তাতে আমাদের জ্ঞান কতটা বাড়ল?
(৩) “প্ৰত্যেকটি জিনিসেরই ব্যবহার দ্বিবিধ । — একটি ব্যবহার সেই জিনিস হিসেবেই, দ্বিতীয়টি তা নয়। যেমন, জুতো পরাও যায়, আবার অন্য কিছুর সঙ্গে বিনিময়ও করা যায়। দুটিই কিন্তু জুতোর ব্যবহার। যে ব্যক্তি অর্থ বা খাদ্যের বিনিময়ে জুতো দিয়ে দেয়, সে-ও জুতোকে জুতো হিসেবেই ব্যবহার করে। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে নয়। কেননা, বিনিময়ের জন্য তা তৈরি হয়নি।”-(অ্যারিস্ততল, “De Rep.” l.i.c.9)
(৪) এ থেকে আমরা পেট-বুর্জোয়া সমাজতন্ত্রের ধূর্ততার একটা ধারণা করে নিতে পারি। এই সমাজতন্ত্র পণ্যোৎপাদন বহাল রেখেই অর্থ এবং পণ্যের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব অপসারিত করতে চায়, এবং কাজে কাজেই, যেহেতু এই দ্বন্দ্বের দৌলতেই অর্থের অস্তিত্ব সেই হেতু অর্থকে নির্বাসিত করতে চায়, এ যেন পোপকে বাদ দিয়ে ক্যাথলিক ধর্মকে বহাল রাখার মত। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য “Zur Kritik der Pol. Oekon. p. 61, 5 q.
(৫) যে পৰ্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ব্যবহার-মূল্য বিনিমিত না হয়ে, একটি মাত্র দ্রব্যের সমার্ঘ হিসেবে এলোমেলোভাবে একগাদা দ্রব্য হাজির করা হয়-বন্য যুগের : মানুষ যা করত-, ততদিন পর্যন্ত প্ৰত্যক্ষ দ্রব্য-বিনিময় ব্যবস্থা থাকে। তার শৈশবেই।
(৬) “Zur Kritik. . . …,” p. 135. “Imetalli. . naturalmente moneta.“ (Galiani, “Della moneta in Custodios Collection : Parte Moderna t. iii.)
(৭) এ বিষয়ে দ্রষ্টব্য আলোচনার জন্য আমার “Zur Kritik…” “-এর “মহার্ঘ ধাতু” শীৰ্ষক পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য।
(৮) Il danaro e la merce universale.” (Verri 1.c. পৃঃ ১৬)
(৯) “সোনা ও রূপা (যাদের এক কথায় বলা হয় ‘বুলিয়ান’) নিজেরাই পণ্যদ্রব্য যাদের মূল্যও বাড়ে ও কমে। সুতরাং কম-পরিমাণ বুলিয়ান যখন বেশি পরিমাণ উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয় করে, তখন বুলিয়ান-এর মূল্য বেশি। (“A Discourse on The General Notions of Money, Trde and Exchange” as They stand in Relation each to other by a Merchant, 1695 Lond p. 7). সোনা এবং রূপা মুদ্রা-আকারে অথবা অমুদ্রা-আকারে, সবরকম দ্রব্যের পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হলেও মদ, তেল, তামাক, কাপড় অথবা অন্যান্য সামগ্রীর তুলনায় কম পণ্য নয়। (A Discouse concerning Trade and that in particular of the East Indies”, London 1689, P. 2). রাজ্যের মজুদ পণ্যদ্রব্য ও ধনসম্পদকে অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায়না আবার সোনা ও রূপাকে পণ্যদ্রব্য থেকে বিয়োজিত করাও যায়না। (“The East India Trade and Most Profitable Trade”, London 1677, P. 4).
(১০) “L’oro e l’argento hanno valore come metalli anteriore all esser moneta” (Galiani l.c.). লক বলেন, “অর্থের উপযোগী গুণাবলীর অধিকারী হবার দরুণ রৌপ্য মানবজাতির সর্বজনীন সম্মতির ভিত্তিতে অর্জন করুল একটি কাল্পনিক মূল্য।” পক্ষান্তরে জা ল’ (Jean Law) বলেন, “কোন একটি বিশেষ দ্রব্যকে বিভিন্ন জাতি একটি কাল্পনিক মূল্যে ভূষিত করবে কিভাবে, , , অথবা কিভাবে এই কাল্পনিক মূল্য নিজেকে বজায় রাখবে? কিন্তু নিচের কথা থেকে বোঝা যায়, আসলে তীর ধারণা ছিল অকিঞ্চিৎকার। রূপা ব্যবহার-মূল্যের অনুপাতে বিনির্মিত “হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত মূল্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। অর্থের উপযোগী গুণাবলীর অধিকারী হবার দরুণ এটি অতিরিক্ত মূল্য পেয়েছে। (Jean Law: “Considerations sur le numeraire et le commerce’ in E. Daire’s Edit, of *Economistes Financiers du XVIII. Siecle”-(P.470).
