৩. ডাঃ আইকিন, ডেসক্রিপশন অব দি কাউন্টি ফ্রম ৩০ টু ৪০ মাইলস রাউণ্ড ম্যাঞ্চেস্টার’, ল, ১৭৯৫, পৃঃ ১৮২।
৪. অ্যাডাম স্মিথ, ঐ, খণ্ড ৩, অধ্যায় ৩।
৫. এমনকি জে. বি. সে পর্যন্ত বলেন, ‘Les epargnes des riches se font aux depens des pauvres’, ‘নোমান প্রালেতারিয়ান বেঁচে থাকত প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই সমাজের খরচে। এখন এটা প্রায় বলা যায় যে, আধুনিক সমাজ বেঁচে থাকে প্রালেরিয়ানদের খরচে, শ্রমের পারিশ্রমিকের বাইরে সে যা রাখে, তার উপরে। ( সিম দি: Etudes ইত্যাদি’, t. i পৃঃ ২৪)।
৬. ম্যালথাস : প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল ইকনমি’, পৃঃ ৩১৯, ৩২০।
৭. ‘অ্যান ইনকুইরি ইনটু দোজ প্রিন্সিপলস রেস্পেকটিং দি নেচর অব ডিমাণ্ড, পৃ: ৬৭।
৮. ঐ, পৃঃ ৫৯।
৯. (সিনিয়র, Principes fondamentaux de Econ. Pol, trad. Arrivabene. Paris, 1836, P. 308 )। পুরানো চিরায়ত মতবাদীদের পক্ষে এটা হয়ে পড়ে মাত্রাতিরিক্ত বেশি। “মিঃ সিনিয়র এই কথাটির (শ্রম ও মুনাফার’ ) পরিবর্তে বসিয়েছেন শ্রম ও সংবরণ’ কথাটি। যে তার আয়কে রূপান্তরিত করে, সে তার ব্যয় থেকৈ যে ভোগ করতে পারত, তা থেকে নিজেকে সংবরণ করে। মূলধন নয়, মূলধনের ব্যবহারই হচ্ছে মুনাফার হেতু। (জন ক্যাজেনোভ, ঐ, পৃঃ ১৩০ টীকা)। বিপরীত ভবে জন স্টুয়ার্ট মিল এক দিকে রিকার্ডোর মুনাফার তত্ত্বটি গ্রহণ করেন। এবং অন্য দিকে সিনিয়র-এর ‘সংবরণের পারিশ্রমিক’-টিও অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি অসম্ভব সব দ্বন্দ্বের মধ্যে যেমন আরামে থাকেন, তেমনি আবার সমস্ত দ্বন্দ্বতত্ত্বের (ডায়ালেকটিক’-এর) উৎস যে হেগেলীয় দ্বন্দ্ব, তা নিয়ে খুব বিপদে পড়েন। এই সরল চিন্তাটা এই হাতুড়ে অর্থত্বিকের কখনো মনে এল না যে, মানুষের প্রত্যেকটি কাজকেই দেখা যেতে পারে তার বিপরীতটা থেকে সংবরণ’ বলে। খাওয়া মানে উপোস করা থেকে সংবরণ, হাঁটা মানে এক ঠায় দাঁড়ানট থেকে সংবরণ, কাজ করা মানে আলসেমি থেকে সংবরণ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ভদ্রলোকেরা যদি একবার স্পিনোজার ‘ডিটারমিনাশিও এস্ট, নেগাশিও’-র উপরে কিছুটা ধ্যান দিতেন তত ভাল করতেন।
১০. সিনিয়র, ঐ, পৃঃ ৩৪২।
১১. “যেমন, কেউই এগুলিকে পরিভোগ না করে তার গম বুনতে এবং তাকে বাবোমাস জমিতে পড়ে থাকতে দেবে না কিংবা বছর বছর ধরে তার মদ ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে ধরে রেখে দেবে না যদি না সে অতিরিক্ত মূল্য আশা করে।” (স্কোপ, “পলিটিক্যাল ইকনমি”, edit. by A. Potter, নিউ ইয়র্ক, ১৮৪১, পৃঃ ১৩৩-৩৪)।
১২. “La privation que s’impose le capitaliste, en pretant ( 79cy অর্থনীতির স্বীকৃত রীতি অনুযায়ী এই বাক্যালংকারটি ব্যবহার করা হয় শোষিত শ্রমিককে শোষণকারী ধনিকের সঙ্গে, যাকে আবার অন্যান্য ধনিকেরা টাকা ধার দেয়, তরে সঙ্গে, এক করে দেখাবার উদ্দেশ্যে ) ses instruments de production au travailleur, au lieu d’en consecrer la valcur a son propre usage, en la transforment en objets d’utilite ou d’agrement” ( G. de Molinari, ঐ p. 36 )।
১৩. “La eonservation d’un capital exige…un effort constant pour resister a la tentation de la consommer” (Courcelle-Seneuil. d. p. 57)
১৪. আয়ের সেই বিশেষ বিশেষ শ্রেণীগুলি, যারা জাতীয় মূলধনের অগ্রগতিতে সর্বাপেক্ষা প্ৰচর ভাবে অবদান যোগায়, তারা তাদের অগ্রগতির বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয় এবং সেই কারণে সেই অগ্রগতির বিভিন্ন অবস্থানে অবস্থিত জাতিসমূহে তারা বিভিন্ন। মুনাফা সমাজের গোড়াকার পর্যায়গুলিতে, মজুরি ও খাজনার তুলনায়, সঞ্চয়নের গুরুত্বহীন উৎস।”যখন জাতীয় শিল্পক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যসত্যই ঘটেছে, তখন মুনাফা-সঞ্চয়নের উৎস হিসাবে তুলনামূলক ভাবে অধিকতর গুরুত্ব অর্জন করে।” (রিচার্ড জোন্স, “Text Book ইত্যাদি” পৃ: ১৬, ২১)।
১৫. ঐ, পৃঃ ৩৬।
.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ —মূলধনে ও আয়ে আনুপাতিক বিভাজন থেকে স্বতন্ত্রভাবে সঞ্চয়নের পরিমাণ নির্ধারণকারী ঘটনাসমূহ। এমশক্তি শোষণের মাত্রা। বিনিযুক্ত মূলধন ও পরিভুক্ত মূলধনের মধ্যে ববিষ্ণু ব্যবধান। অগ্রিম-প্রদত্ত মূলধনের আয়তন।
যে-অনুপাতে উদ্বৃত্ত-মূল্য মূলধনে ও আয়ে বিভক্ত হয়, সেই অনুপাতটি নির্দিষ্ট থাকলে, সঞ্চয়ীকৃত মূলধনের আয়তন স্পষ্টতই নির্ভর করে উদ্বৃত্ত-মূল্যের অপেক্ষিক আয়তনের উপরে। ধরা যাক, শতকরা ৮০ ভাগ মূলধনীকৃত হয়েছিল এবং শতকরা ২. ভাগ খেয়ে ফেলা হয়েছিল, তা হলে মোট উদ্বৃত্ত-মূল্যের পরিমাণ ৩,০০০ পাউণ্ড হয়েছে, না ১,২০০ পাউণ্ড হয়েছে, তদনুযায়ী সঞ্চয়ীকৃত মূলধন হবে ২,৪০০ পাউণ্ড বা ১,২০০ পাউণ্ড। সুতরাং, যে-সমস্ত ব্যাপার উদ্বৃত্ত-মূল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে, সেই সমস্ত ব্যাপারগুলিই কাজ করে সঞ্চয়নের আয়তন নির্ধারণে। আমরা সেগুলিকে আবার সংক্ষেপে বিবৃত করছি—কিন্তু কেবল যেখানে যেখানে সেগুলি সঞ্চয়ন প্রসঙ্গে নোতুন বক্তব্য প্রকাশ করে।
স্মরণীয় যে, উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার নির্ভর করে, প্রথমত, শ্রম-শক্তিকে কতটা শোষণ করা হয় তার মাত্রার উপরে। রাষ্ট্রীয় অর্থতত্ত্ব এই ঘটনাটিকে এত বেশি মূল্য দেয় যে, তা মাঝে মাঝে শ্রমের বর্ধিত উৎপাদনশীলতাজনিত সঞ্চয়নবৃদ্ধিকে শ্রমিকের উপরে বর্ণিত শোষণ-জনিত সখন-বৃদ্ধির সঙ্গে অভিন্ন বলে গণ্য করে।[১] উদ্বৃত্ত-মূল্যের উৎপাদন-সংক্রান্ত অধ্যায়গুলিতে সব সময়েই ধরে নেওয়া হয়েছিল যে মজুরি অন্ততঃ পক্ষে শ্রমশক্তির মূল্যের সমান। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এই মূল্য থেকে মজুরির জোর করে হ্রাস করার ঘটনা এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে যে, সেই সম্পর্কে একটু আলোচনা করা দরকার। বস্তুত, তা শ্রমিকের আবশ্যিক পরিভোগ-ভাণ্ডারকে, কয়েকটি মাত্রার মধ্যে, রূপান্তরিত করে মূলধনের সঞ্চয়ন-ভাণ্ডারে।
