৫. “এতটা ওজন তুলল তাকে (সুতো-কাটুনিকে) দিয়ে দেওয়া হয়, তার বদলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রার সূক্ষ্মতা-সম্পন্ন এতটা ওজন সুতো দিতে হয় এবং এই ভাবে সে যা ফিরিয়ে দেয় তার জন্য সে পায় পাউণ্ড-পিছু এত পরিমাণ পারিশ্রমিক। যদি তার কাজে খুৎ থাকে, তা হলে তার জন্য তাকে দণ্ড ভোগ করতে হয়; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম যতটা করার কথা, তা থেকে কম করলে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং করতে সক্ষম এমন একজনকে সংগ্রহ করা হয়।
৬. ‘যখন কাজটি কয়েকজনের হাতের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, যাদের প্রত্যেকেই নিজের নিজের মুনাফার অংশ নেয়, অথচ কাজ করে কেবল শেষের লোকটিই, তখন মহিলা-কর্মীটির হাতে যে মজুরি গিয়ে পৌছায়, তা শোচনীয় ভাবে বেমানান।” (“শিশু নিয়োগ কমিশন, দ্বিতীয় রিপোর্ট, পৃঃ ৭০ নং ৪২৪)।
৭. এমন কি ধ্বজাধারী ওয়াটস পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন, “পিস-ওয়ার্ক ব্যবস্থায় এটা হত একটা বিরাট উন্নতি, যদি একজন লোকের নিজের স্বার্থে বাকিদের উপরে খবরদারি করার বদলে, একটি বিশেষ কাজে নিযুক্ত সকলেই হত চুক্তিটির শরিক, প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী।” (ঐ, পৃঃ ৫৩) এই ব্যবস্থার জঘন্যতা সম্পর্কে দ্রষ্টব্য “শিশু নিয়োগ কমিশন,” তৃতীয় রিপোর্ট পৃঃ ৬৬নং ২২, পৃঃ ১১ নং ১২৪ পৃঃ ১১, নং ১৩, ৫৩, ৫৯ ইত্যাদি ইত্যাদি।
৮. এই স্বতঃস্ফুর্ত ফল-লাভে প্রায়শই আবার কৃত্রিম ভাবে সাহায্য যোগানো হয়, যেমন, লণ্ডনের ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে একটা চলতি কৌশল হল এক-এক দল শ্রমিকের প্রধান হিসাবে এমন এক-একজন লোককে বাছাই করা যে-লোকটি অতিরিক্ত দৈহিক শক্তি ও তৎপরতার অধিকারী এবং তাকে এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত মজুরি দেওয়া যাতে সে নিজে প্রাণপণ পরিশ্রম করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করে তার সঙ্গে পাল্লা দিতে। ( ট্রেড ইউনিয়নে) লোকদের বিরুদ্ধে তৎপরতা, কুশলতা-বৃদ্ধি ও কর্মোদ্যম সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করার যে-সব অভিযোগ মালিকেরা করে থাকেন, এ থেকে, বিনা মন্তব্যেই, তার অনেক দূর পর্যন্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।” (ডানিং, ট্রেড ইউনিয়নস অ্যাণ্ড স্ট্রাইকস : দেয়ার ফিলসফি অ্যাণ্ড ইন্টেনশন’, ১৮৬০, পৃঃ ২২-২৩)। যেহেতু লেখক নিজেই একজন শ্রমিক এবং একটি ট্রেড ইউনিয়নের সম্পাদক, তাতে এটা একটু অত্যুক্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু পাঠক জে সি মটনের “বহুমান্য” “সাইক্লোপেডিয়া অব অ্যাগ্রিকালচার”-এর অন্তর্ভূক্ত “লেবারার” শীর্ষক নিবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন, যেখানে এই পদ্ধতিটির সুপারিশ করা হয়েছে।
৯. যারা সকলে ‘পিস-ওয়ার্ক-এর ভিত্তিতে মজুরি পায়, তারা সকলেই কাজের আইনগত মাত্রার লংঘন থেকে লাভবান হয়। উপরি-সময় কাজ করবার এই ইচ্ছা সম্পর্কিত এই মন্তব্যটি বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য সেই সব মহিলাদের ক্ষেত্রে যারা নিযুক্ত হয় বোনা বা সুতো গুটি করা কাজে। রিপোর্ট ফ্যাক্টরিজ, ৩০ এপ্রিল, ১৮৫৮, পৃঃ ৯। “এই ব্যবস্থা (পিওয়ার্ক’ ), নিয়োগকর্তার পক্ষে খুবই সুবিধাজনক অল্পবয়সী মৃৎ কর্মী (পটার’) চার-পাচ বছর ধরে যখন নিযুক্ত থাকে ‘পিস’-কাজের ভিত্তিতে কিন্তু সামান্য মজুরিতে, তখন এই ব্যবস্থা দারুণ উপরি-খাটুনি খাটতে তাকে সরাসরি উৎসাহ যোগায়।মৃৎ-কর্মীদের স্বাস্থ্য যে এত খারাপ, এটাকে তার একটা কারণ বলে ধরা উচিত।” (“শিশুনিয়োগ কমিশন”, প্রথম রিপোর্ট, পৃঃ ১৩)।
১০. “যেখানে কোন শিল্পে কাজের জন্য মজুরি দেওয়া হয় ‘পিস’-এর ভিত্তিতে, ‘এতটা কাজের জন্য একটা’-এই ভিত্তিতে সেখানে মজুরির পরিমাণ দারুণভাবে বিভিন্ন হতে পারে। কিন্তু বোজ হিসাবে মজুরির হার মোটামুটি অভিন্ন হয়—যে হারটিকে নিয়োগকর্তা ও নিযুক্ত ব্যক্তি উভয়েই সেই শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সাধারণভাবে চালু মান হিসাবে মেনে নেয়।” (ডানিং, ঐ পৃঃ ১৭)।
১১. “Le travail des compagnons-artisans sera regle a la journee ou a la piece… Ces maitres-artisans savent a peu pres combien d’ouvrage un compagnon-artisan peut faire par jour dans chaque metier, et les payent souvent a proportion de l’ouvrage qu ils font; ainsi ces compagnons travaillent autant qu’ils peuvent, pour leur propre interet, sans autre inspection.” (Cantillon. “Essai sur la Nature du Commerce en general,” Amst. Ed., ‘1756, pp. 185, এবং 202). প্রথম সংস্করণটি প্রকাশিত হয় ১৭৫৫ সালে; কেনে, জেমস স্টুয়ার্ট, অ্যাডাম স্মিথ প্রমুখ সকলেই ক্যান্টিন-এর এই বই থেকে অনেক কিছু নিয়েছেন। এই সংস্করণটিতে ‘পিস’-ভিত্তিক মজুরিকে দেখানো হয়েছে কেবল সময়-ভিত্তিক মজুরিরই একটা রকমফের হিসাবে। ক্যান্টিনের ফরাসী সংস্করণে বলা হয়েছে যে এটা ইংরেজি সংস্করণের অনুবাদ। কিন্তু ইংরেজি সংস্করণটি : লণ্ডন শহরের প্রয়াত সওদাগর ফিলিফ ক্যালিন-এর লেখা “দি অ্যানালিসিস অব ট্রেভ, কমার্স” ইত্যাদি কেবল পরবর্তী তারিখেই নয় (১৭৫৯), তার বিষয়বস্তু প্রমাণ করে যে সেখানা পরবর্তী সময়ের সংশোধিত সংস্করণ; যেমন, ফরাসী সংস্করণে হিউম তখনো উল্লিখিত হননি কিন্তু ইংরেজি সংস্করণে, পেটী ও স্থান পেয়েছেন কদাচিৎ। ইংরেজী সংস্করণটি স্বভাবতই কম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাতে ইংল্যাণ্ডের বাণিজ্য বুলিয়ন ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে, যা ফরাসী সংস্করণে নেই। ইংরেজী সংস্করণের নাম-পত্রে লেখা এই কথাগুলি : “অত্যন্ত উদ্ভাবনশীল এক প্রয়াত ব্যক্তির পাণ্ডুলিপি থেকে প্রধানত সংকলিত ও সংশোধিত’ ইত্যাদি”। স্পষ্টতই বিশুদ্ধ কল্পকথা; এই ধরনের ব্যাপার তখন খুব প্রচলিত ছিল।
