৮. যেমন, স্কচ ‘ব্লিচিং’-কারখানায় “স্কটল্যাণ্ডের কিছু অঞ্চলে (১৮৬২ সালের কারখানা-আইন প্রবর্তনের আগে) এই কাজটি পরিচালনা করা হত এক ধরনের ওভার-টাইম’ ব্যবস্থার মাধ্যমে; কাজের নিয়মিত সময় ছিল দিনে ১০ ঘণ্টা, যার জন্য একজন দৈনিক মজুরি পেত টাকার অঙ্কে ১ শিলিং ২ পেন্স; প্রতিদিন ওভারটাইম হত ৩-৪ ঘণ্টা, যার জন্যে পেত ঘণ্টাপিছু ৩ পেন্স হারে। এই ব্যবস্থার ফল দাঁড়ায় এই নিয়মিত ঘণ্টা কাজ করে কেউ সপ্তাহে ৮ শিলিং-এর বেশি আয় করতে পারত নাওভারটাইম বাদ দিয়ে তারা একটা ন্যায্য দিনের মজুরি পেত না।” (“রিপোর্ট ফ্যাক্টরিজ, ৩০ এপ্রিল ১৮৬৩, পৃঃ ১০)। “দীর্ঘতর সময় কাজ করার জন্য বয়স্ক পুরুষ শ্রমিকদের বেশি মজুরির প্রলোভন ছিল এত প্রবল যে তা প্রতিরোধ করা যেত না।” (ঐ, ১৮৪৮, পৃঃ ৫)। লণ্ডনে বই-বাঁধাইয়ের কাজে নিযুক্ত আছে বহু সংখ্যক তরুণী, বয়স ১৪ থেকে ১৫; তাদের কাজ করার কথা চুক্তিনামা অনুসারে নিদিষ্ট কয়েক ঘণ্টা। সে যাই থাক, প্রত্যেক মাসের শেষ সপ্তাহে তাদের কাজ করতে হয় রাত ১০, ১১, ১২, এমনকি ১টা পর্যন্ত-বয়স্ক শ্রমিকদের সঙ্গে পাঁচ-মিশেলি সংসর্গে। “মালিকেরা তাদের প্রলুব্ধ করে বাড়তি পয়সা ও রাতের খাবারের লোভ দেখিয়ে; তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় কাছাকাছি কোন হোটেলে। এই ভাবে এই তরুণী-অমৃতপুত্রীদের মধ্যে (শিশু নিয়োগ কমিশন”, পঞ্চম রিপোর্ট, পৃঃ ৪৪, নং ১৯১) যে ব্যাভিচারের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তার ক্ষতিপূরণ হয়ে যায় এই ঘটনায় যে, অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে তারা বহুসংখ্যক বাইবেল ও ধর্মগ্রন্থও বাঁধাই করে থাকে।
৯. ‘রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ’, ৩০ এপ্রিল ১৮৬৩, ঐ দ্রষ্টব্য। ১৮৬০ সালে বিরাট ধর্মঘট ও ‘লক-আউট’ চলাকালে পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন করে, লণ্ডনের শ্রমিকেরা ঘোষণা করেছিল যে, তারা ঘণ্টার হিসাবে মজুরি মেনে নেবে কেবল দুটি শর্তে : ১) কাজের ঘণ্টার দামের সঙ্গে যথাক্রমে ৯ ও ১০ ঘণ্টার স্বাভাবিক কাজের বোজ কায়েম করতে হবে এবং ৯ ঘণ্টার কাজের বরাজের চেয়ে ১০ ঘণ্টার কাজের নোজর বেলায় ঘন্টা-পিছু মজুরি উচু হবে : (3) স্বাভাবিক কাজের রোজের বাইরে প্রতিটি কাজের ঘণ্টাকে ওভারটাইম বলে ধরতে হবে এবং তার জন্য আনুপাতিক ভাবে উচ্চতর হারে মজুরি দিতে হবে।
১০. এটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যেখানে দীর্ঘতর কাজের দিনই রেওয়াজ, সেখানে অল্পতর মজুরিও রেওয়াজ। (রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৩, পৃঃ ৯)। “যে-কাজের জন্য পাওয়া যায় সামান্য খাবারের খয়রাতি, সেই কাজটাই অত্যধিক লম্বা।” (জনস্বাস্থ্য, ষষ্ঠ রিপোর্ট, ১৮৬৪ পৃঃ ১৫)।
১১. ‘রিপোর্ট ফ্যাক্টরিজ, ৩০ এপ্রিল, ১৮৬০, পৃঃ ৩১, ৩২।
১২. দৃষ্টান্ত স্বরূপ, ইংল্যাণ্ডের হাতে পেরেক তৈরি করার মজুরের যে শোচনীয় সাপ্তাহিক মজুরি পায়, তার জন্যও তাদের খাটতে হয় দৈনিক ১৫ ঘণ্টা করে। এটা দিনের অনেকটা সময় (সকাল ৬টা থেকে রাত আটটা অবধি) এবং মাত্র ১১ পে বা ১ শি পেতে তাকে গোটা সময়টাই দারুণ খাটতে হয়। আর তা ছাড়া আছে যন্ত্রের ক্ষয়-ক্ষতি, আগুন জালানোর খরচ এবং বাজে লোহার জন্য ক্ষতি—সব মিলিয়ে এ থেকেও আবার বেরিয়ে যায় ২২ বা ৩ পেন্স। (শিশু নিয়োগ কমিশন তৃতীয় রিপোর্ট, পৃঃ ১৩৬ নং ৬৭১) ঐ একই সময়ে মেয়েরা পায় সপ্তাতে মাত্র ৫ শি (ঐ, পৃঃ ১৩৭ নং ৬৭১)।
১৩. যদি কোন কারখানা-শ্রমিক প্রচলিত দীর্ঘ সময় কাজ করতে অস্বীকার করত, তা হলে অচিরেই তার জায়গায় এমন কাউকে নিয়োগ করা হত যে, যে-কোনো দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে রাজি হত; এই ভাবে আগের লোকটিকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হত।” (কারখানা পরিদর্শকদের রিপোর্ট, ৩০শে এপ্রিল, ১৮৪৮, সাক্ষ্য পৃ ৩৯, ঢাকা ৫৮) “যদি একজন মানুষ দুজনের কাজ করে তা হলে সাধারণত মুনাফার হার বেড়ে যায় শ্রমের বাড়তি যোগানের দরুন তার দাম কমে যায় বলেই এটা হয়।” ও সিনিয়র, ঐ, পৃঃ ১৫)।
১৪. ‘শিশু-নিয়োগ কমিশন’, তৃতীয় বিপোর্ট, সাক্ষ্য, পৃঃ ৬৬, নং ২২।
১৫. “রিপোর্ট ইত্যাদি : রুটি-কারখানার ঠিকা-মজুরদের অভিযোগ সম্পর্কে”, গুন, ১৮৬২, পৃঃ ৫২। সাক্ষ্য, নোট ৪৭৯, ৩৫৯, ২৭। যাই হোক, পুরো-দামী রুটি-ওয়ালারাও তাদের লোকদের রাত ১১টা থেকে পর দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করে তার পরে তাদের কাজ করানো হয় গোটা দিন সেই সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এ কথা উপরে বলা হয়েছে এবং “পুরোদামী”-দের মুখপাত্র বেনেট নিজেই স্বীকার করেছেন। (ঐ, পৃঃ ২২)।
২১. সংখ্যা-ভিত্তিক মজুরি
একবিংশ অধ্যায় — সংখ্যা-ভিত্তিক মজুরি
সময়-ভিত্তিক মজুরি যেমন শ্রমশক্তির মূল্য বা দামের পরিবর্তিত রূপ, ঠিক তেমন সংখ্যা-ভিত্তিক মজুরিও হল সময়-ভিত্তিক মজুরির পরিবর্তিত রূপ।
সংখ্যা-ভিত্তিক মজুরিতে প্রথম দৃষ্টিতে মনে হয় যেন শ্রমিকের কাছ থেকে ক্রীত ব্যবহার-মূল্য তার শ্রমশক্তির জীবন্ত শ্রমের কাজ নয়, তা হল উৎপন্ন দ্রব্যটিতে ইতিপূর্বেই রূপায়িত শ্রম; মনে হয় যেন এই শ্রমের দাম সময়-ভিত্তিক মজুরির মত একই ভগ্নাংকের দ্বারাঃ
শ্রমশক্তির দৈনিক মুল্য/একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘণ্টার শ্রম-দিবস
