(৯) অর্থনীতিতে কতকগুলি শব্দগত বিতর্ক সম্বন্ধে মতামত-বিশেষত: মূল্য এবং চাহিদা ও সরবরাহ সম্পর্কে” লিণ্ডন, ১৮২১, পৃঃ ১৬।
(১০) এস, বেইলি l.c, পৃঃ ১৬৫।
(১১) ‘অবজার্ভেশনস’-এর লেখক এবং এস. বেইলি রিকার্ডোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন যে তিনি বিনিময়-মূল্যকে আপেক্ষিক সত্তা থেকে অন্যাপেক্ষিক সত্তায় পরিণত করেছেন। প্ৰকৃত ঘটনা তার বিপরীত। তিনি হীরা, স্বর্ণ প্রভৃতি বস্তুর বাঙ্ক সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করেছেন, এই সম্পর্কের মধ্যে তাদের আত্মপ্রকাশ হয় বিনিময়-মূল্য রূপে, তারপর তিনি আবিষ্কার করেছেন বাহরূপের পিছনে লুকানো প্রকৃত সম্পর্কটি অর্থাৎ কেবল মনুষ্যশ্রমের অভিব্যক্তিরূপে তাদের পারস্পরিক সম্বন্ধটি। রিকার্ডোর শিষ্যরা যদি বেইলির জবাবে কিছু বোঝাতে না পেরে কিছু কড়া কথা বলে থাকেন। তো তার কারণ হচ্ছে এই যে, মূল্য এবং বিনিময় মূল্যরূপে তার আত্মপ্রকাশ, এই দুয়ের মধ্যে যে গূঢ় সম্পর্ক বর্তমান তার কোন সুত্র তুরা খুঁজে পাননি রিকার্ডোর নিজ গ্রন্থের মধ্যে।
০২. বিনিময় (দ্বিতীয় অধ্যায়)
বিনিময়
দ্বিতীয় অধ্যায়
এটা পরিষ্কার যে পণ্যেরা নিজেরা বাজারে যেতে পারে না এবং নিজেরাই নিজেদের বিনিময় করতে পারে না। সুতরাং আমাদের যেতে হবে তাদের অভিভাবকবৃন্দের কাছে; এই অভিভাবকেরাই তাদের মালিক। পণ্যেরা হল দ্রব্যসামগ্ৰী , সুতবাং মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষমতা তাদের নেই। যদি তাদের মধ্যে বিনিময়ের অভাব দেখা দেয়, তা হলে সে বলপ্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ সে তাদের দখল নিয়ে নিতে পারে।(১) যাতে করে এই দ্রব্যসামগ্ৰীগুলি পণ্যরূপে পৰ্ব্ব স্পরের সঙ্গে বিনিময়ের সম্পর্কে প্ৰবেশ করতে পারে, তার জন্য তাদের অভিভাবকদেরই তাদেরকে স্থাপন করতে হবে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে; তাদের অভিভাবকেরাই হচ্ছে সেই ব্যক্তিরা যাদের ইচ্ছায় তারা পরিচালিত হয়, অভিভাবকদের কাজ করতে হবে এমন ভাবে যাতে একজনের পণ্য অন্য জন আত্মসাৎ না করে এবং পরস্পরের সন্মতির ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রক্রিয়া ছাড়া কেউ তার পণ্যকে ছেড়ে না দেয়। সুতরাং অভিভাবকদের পরস্পরকে স্বীকার করে নিতে হবে ব্যক্তিগত স্বত্বের অধিকারী বলে। এই আইনগত সম্পর্কই আত্মপ্ৰকাশ করে চুক্তি হিসেবে-তা সেই আইনগত সম্পর্কটি কোন বিকশিত আইনপ্ৰণালীর অঙ্গ হোক, বা না-ই হোক, এই আইনগত সম্পর্কটি দুটি অভিপ্ৰায়ের মধ্যকার বাস্তব অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন ছাড়া অন্য কিছুই নয়। এই অর্থনৈতিক সম্পর্কটিই নির্ধারণ করে দেয় এই ধরনের প্রত্যেকটি আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়বস্তু।(২) ব্যক্তিদের উপস্থিতি এখানে কেবল পণ্যসমূহের প্রতিনিধি তথা মালিক হিসাবে। আমাদের অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে আমরা সাধারণভাবে দেখতে পাব যে অর্থনৈতিক রঙ্গমঞ্চে যেসব চরিত্র আবিভূতি হয়, সেসব চরিত্র তাদের নিজেদের মধ্যে যে অর্থনীতিগত সম্পর্কগুলি থাকে, সেই সম্পর্কগুলিরই ব্যক্তিরূপ ছাড়া অন্য কিছু নয় ।
যে ঘটনাটি একটি পণ্যকে তার মালিক থেকে বিশেষিত করে, তা প্ৰধানতঃ এই যে, পণ্যটি বাকি প্রত্যেকটি পণ্যকে তার নিজেরই মূল্যের দৃশ্যরূপ বলে দেখে থাকে । সে হল আজন্ম সমতাবাদী ও সর্ব-বিবাগী, অন্য যে কোনো পণ্যের সঙ্গে সে কেবল তার আত্মাটিকে নয়, দেহটিকেও বিনিময় করতে সর্বদাই প্ৰস্তুত-সংশ্লিষ্ট পণ্যটি যদি এমনকি ম্যারিটনেসি থেকেও কুরূপ হয়, তা হলেও কিছু এসে যায় না। পণ্যের মধ্যে বাস্তববোধ সংক্রান্ত ইন্দ্ৰিয়ের এই যে অভাব, তার মালিক সে অভাবের ক্ষতিপূরণ করে দেয় তার নিজের পাঁচটি বা পাঁচটিরও বেশি ইন্দ্ৰিয়ের দ্বারা। তার কাছে তার পণ্যটির তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবহারমূল্য নেই। তা যদি থাকত, তা হলে সে তাকে বাজারে নিয়ে আসত না। পণ্যটির ব্যবহারমূল্য আছে। অন্যদেব কাছে, কিন্তু তার মালিকদের কাছে তার একমাত্র প্রত্যক্ষ ব্যবহারমূল্য আছে বিনিময়-মূল্যের আধার হিসেবে, এবং, কাজে কাজেই, বিনিময়ের উপায় হিসেবে।(৩) অতঃপর যে পণ্যের মূল্যে উপযোগের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনে ( সেবায় ) লাগতে পারে তাকে সে হাতছাড করতে মনস্থির করে। সমস্ত পণ্যই তাদের মালিকদের কাছে ব্যবহার মূল্য বিবজিত কিন্তু তাদের অ-মালিকদের কাছে ব্যবহার মূল্য-সমন্বিত । সুতরাং পণ্যগুলির হাত বদল হতেই হবে । আর এই যে হাত-বদল তাকেই বলা হয় বিনিময়, বিনিময় তাদেরকে পরস্পরের সম্পর্কের স্থাপন করে মূল্য হিসেবে এবং তাদেরকে বাস্তবায়িতও করে মূল্য হিসাবে। সুতরাং ব্যবহার মূল্য হিসেবে বাস্তবায়িত হবার “আগে পণ্যসমূহকে অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে বিনিময়-মূল্য হিসেবে।
অন্যদিকে, মূল্য হিসেবে বাস্তবায়িত হবার আগে তাদের দেখাতে হবে, যে তারা ব্যবহার-মূল্যের অধিকারী। কেননা যে শ্রম তাদের উপরে ব্যয় করা হয়েছে তাকে ততটাই ফলপ্ৰসু বলে গণ্য করা হবে, যতটা তা ব্যয়িত হযেছে এমন একটি রূপে যা অন্যাঠের কাছে উপযোগপূর্ণ। ঐ শ্রম অন্যান্যের কাছে উপযোগপূর্ণ কিনা, এবং কাজে কাজেই, তা অন্যান্যের অভাব পূরণে সক্ষম। কিনা, তা প্রমাণ করা যায়। কেবলমাত্র বিনিময়ের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
