৯. “Chaque travail doit (This appears also to be part of the droits et devoirs du citoyen ) laisser un excedant.” Proudhon.
১০. F. Schouw: “Die Erde, die pflanzen und der Mensch” 2 Ed. Leipz 1854, P. 148.
১১. জন স্টুয়ার্ট মিল, “প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল ইকনমি”, ১৮৬৮, পৃঃ ২৫২-২৫৩।
১৭. শ্রমশক্তির দামে এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যে আয়তনের পরিবর্তন
সপ্তদশ অধ্যায় — শ্রমশক্তির দামে এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যে আয়তনের পরিবর্তন
শ্রম-শক্তির মূল্য নির্ধারিত হয় জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যক সেই সব দ্রব্য সামগ্রীর মূল্যের দ্বারা, যেগুলি একজন গড় শ্রমিকের অভ্যাসগত ভাবে প্রয়োজন হয়। একটি নির্দিষ্ট সমাজের একটি নির্দিষ্ট যুগে এই অত্যাবশ্যক দুব্য-সামগ্রীর পরিমাণ কি তা পরিজ্ঞাত, এবং সেইজন্য তাকে একটি স্থির রাশি বলে গণ্য করা যায়। যা পরিবর্তিত হয়, তা হচ্ছে এই পরিমাণটির মূল্য। তা ছাড়া, আরো দুটি উপাদান আছে, যারা শ্রমশক্তির মূল্য নির্ধারণে অংশ নেয়। এক, সেই শক্তিকে বিকশিত করার জন্য ব্যয়, যে-ব্যয় পরিবর্তিত হয় উৎপাদন-পদ্ধতির সঙ্গে; অন্যটি, তার প্রকৃতিগত বিভিন্নতা—পুরুষ এবং নারী, শিশু এবং বয়স্কের শ্রম-শক্তির মধ্যে বিভিন্নতা। এই ধরনের শ্রমশক্তির নিয়োগ, যা আবার আবশ্যক হয় উৎপাদন পদ্ধতির প্রয়োজনে, তা শ্রমিকের পরিবার-পোষণের খরচে এবং বয়স্ক পুরুষ শ্রমিকের শ্রম-শক্তি মূল্যে বিরাট পার্থক্য ঘটায়। কিন্তু এই দুটি উৎপাদনকেই নিম্নলিখিত পর্যালোচনা থেকে বাদ রাখা হচ্ছে।[১]
আমি ধরে নিচ্ছি, (১) পণ্য-দ্রব্যাদি বিক্রয় হয় তাদের নিজ নিজ মূল্যে; এবং (২) শ্রমশক্তির দাম মাঝে মাঝে তার মূল্যের চেয়ে উপরে ওঠে কিন্তু কখনো তার নীচে নামে না।
এটা ধরে নিয়ে আমরা দেখেছি যে উদ্বৃত্ত-মূল্যের আয়তন নির্ধারিত হয় তিনটি বিষয়ের দ্বারা : (১) শ্রম-দিবসের দৈর্ঘ্য কিংবা শ্রমে বিস্তৃত আয়তন, (২) শ্রমের স্বাভাবিক তীব্রতা কিংবা তার নিবিড় আয়তন, যার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট পৰিমাণ শ্রম একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যয়িত হয়; (৩) শ্রমের উৎপাদনশীলতা, যার দ্বারা একই পরিমাণ এম একটি নির্দিষ্ট সময়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বা অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণ উৎপাদন—যা নির্ভর করে উৎপাদনের অবস্থাবলী কতটা বিকাশ লাভ করেছে তার উপরে। এটা পরিষ্কার যে, অত্যন্ত বিভিন্ন ধরনের নানা সন্নিবেশ ঘটতে পারে, যেমন, তিনটি বিষয়ের মধ্যে একটি স্থির ও দুটি অ-স্থির কিংবা দুটি স্থির ও একটি অস্থির কিংবা তিনটিই যুগপৎ অস্থির। এবং এই সন্নিবেশ সমূহের সংখ্যা এই ঘটনার ফলে বধিত হয় যে, যখন এই তিনটি বিষয়ই যুগপৎ পরিবর্তিত হয়, তখন তাদের নিজ নিজ পরিবর্তনগুলির পরিমাণ ও গতিমুখ বিভিন্ন হতে পারে। নীচে আমরা কেবল প্রধান প্রধান সন্নিবেশগুলি নিয়েই আলোচনা করব।
১. শ্রম-দিবসের দৈর্ঘ্য ও শ্রমের তীব্রতা স্থির ঃ শ্রমের উৎপাদনশীলতা অস্থির
এইগুলি ধরে নিলে, শ্রমশক্তির মূল্য নির্ধারিত হয় তিনটি নিয়মের দ্বারা :
(১) নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের একটি শ্রম-দিবস সব সময়ে একই পরিমাণ মূল্য সৃষ্টি করে। শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং, তার সঙ্গে, উৎপন্ন দ্রব্যের সমষ্টি এবং, প্রত্যেকটি একক পণ্যের দাম কিভাবে পরিবর্তিত হয়, তাতে কিছু যায় আসে না।
যদি ১২ ঘণ্টার একটি শ্রম-দিবসে উৎপাদিত মূল্য হয়, ধরা যাক, ৬ শিলিং, তা হলে যদিও উৎপন্ন দ্রব্যের সমষ্টি শ্রমের উৎপাদনশীলতার সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, তা হলে একমাত্র ফল হয় এই যে, ছয় শিলিং-এ প্রতিফলিত মূল্যটি একটি বেশিসংখ্যক বা অল্পসংখ্যক দ্রব্যে বিস্তৃতি লাভ করে।
(২) উদ্বৃত্ত-মূল্য এবং শ্রমশক্তির মূল্য বিপরীত দিকে পরিবর্তিত হয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন, তার বৃদ্ধি বা হ্রাস, শ্রমশক্তির মূল্যে বিপরীত দিকে, এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যে একই দিকে পরিবর্তন ঘটায়।
১২ ঘণ্টার একটি শ্রম-দিবস যে মূল্য সৃষ্টি করে তা একটি স্থির রাশি, ধরুন, ছয় শিলিং। এই স্থির রাশিটি দুটি মূল্যেরউদ্বৃত্ত-মূল্য এবং শ্রমশক্তির মূল্যের যোগফল; এই দ্বিতীয়টিকে অর্থাৎ শ্রমশক্তির মূল্যটিকে শ্রমিক তুল্যমূল্য দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে। এটা স্বতঃস্পষ্ট যে যদি একটি স্থির রাশি দুটি অংশ দিয়ে গঠিত হয়, তা হলে একটিকে না কমিয়ে অন্যটি বাড়তে পারে না। ধরা যাক, শুরুতে দুটি অংশই সমান : শ্রমশক্তি ৩ শিলিং এবং উদ্বৃত্ত মূল্য ৩ শিলিং। তা হলে, এম শক্তির মূল্য ৩ শিলিং থেকে বেড়ে ৪ শিলিং হতে পারে না, যদি উদ্বৃত্ত-মূল্য ৩ শিলিং থেকে কমে ২ শিলি না হয়; এবং উদ্বৃত্ত-মূল্যও ৩ শিলিং থেকে বেড়ে ৪ শিলিং হতে পারে না, যদি শ্রম শক্তির মূল্য ৩ শিলিং থেকে কমে ২ শিলিং না হয়। অতএব, এই পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত-মূল্যে কিংবা শ্রমশক্তির মূল্যের কোনটিরই অনাপেক্ষিক আয়তনে কোনো পরিবর্তন ঘটতে পারে না, যদি তাদের আপেক্ষিক আয়তনে অর্থাৎ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে আপেক্ষিকভাবে একটি যুগপৎ পরিবর্তন না ঘটে।
অধিকন্তু, শ্রমশক্তির মূল্য কমতে পারে না এবং, অতএব, উদ্বৃত্ত-মূল্য বাড়তে পারে না যদি শ্রমের উৎপাদনশীলতায় বৃদ্ধি না ঘটে। যেমন, উল্লিখিত ক্ষেত্রে, শ্রমশক্তির মূল্য নি শিলিং থেকে দুই শিলিং-এ কমে যেতে পারে না যদি শ্রমের উৎপাদনশীলতায় একটি বৃদ্ধি ঘটার ফলে আগে যে-পরিমাণ অত্যাবশ্যক দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করতে লাগত ৬ ঘণ্টা সেই একই পরিমাণ অত্যাবশ্যক দ্রব্যসামগ্রী এখানে ৪ ঘণ্টার মধ্যে উৎপাদন করা সম্ভব না হয়। অন্য দিকে, শ্রমশক্তির মূল্য তিন শিলিং থেকে বেড়ে চার শিলিং হতে পারে না, যদি শ্রমের উৎপাদনশীলতায় একটি হ্রাস না ঘটে, যার ফলে—আগে যে-পরিমাণ অত্যাবশ্যক দ্রব্যাদি উৎপাদন করতে ছয় ঘণ্টাই ছিল যথেষ্ট -সেই একই পরিমাণ অত্যাবশ্যক দ্রব্যাদি উৎপাদন করতে এখন লাগে আট ঘণ্টা। এ থেকে যে ব্যাপারটা বেরিয়ে আসে, তা এই যে, শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে শ্রম-শক্তির মূল্য হ্রাস পায় এবং, অতএব, উদ্বৃত্ত-মূল্য বৃদ্ধি পায়; অন্য দিকে; এই উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেলে শ্রমশক্তির মূল্য বৃদ্ধি পায়, এবং উদ্বৃত্ত-মূল্য হ্রাস পায়।
