এইভাবে প্রাঞ্জল ভঙ্গিতে প্রমাণ করে দেবার পরে যে, এমনকি যদি ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের কোনো অস্তিত্ব না থাকত, তা হলেও তা সব সময়েই অস্তিত্বশীল থাকত, মিল খুব সঙ্গতভাবেই দেখিয়েছে যে এমনকি যখন তা অস্তিত্বশীল থাকে না, তখন তার অস্তিত্বও থাকে না। “এবং প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে (যখন শ্রমিক হচ্ছে একজন মজুরি শ্রমিক যাকে ধনিক প্রাণ-ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী অগ্রিম দেয়, তখন তাকে অর্থাৎ সেই শ্রমিককে দেখা যেতে পারে একই আলোকে” (অর্থাৎ ধনিক হিসাবে), কেননা, বাজার-দর থেকে কমে সে তার শ্রম দান করায় (!), তাকে গণ্য করা যেতে পারে এমন একজন হিসাবে যে তার নিয়োগকর্তাকে “পার্থক্যটি” (?) ধার দিচ্ছে এবং সুদ-সমেত তা ফেৎ পাচ্ছে।”[১১] আসলে, শ্রমিক, ধরা যাক, এক সপ্তাহের জন্য ধনিককে মুফতে আগাম দেয় তার এম এবং সপ্তাহের শেষে পায় তার তার বাজারদর আর, মিলের মতে, এটাই তাকে রূপান্তরিত করে ধনিকে। সমতল ভূমিতে, সাদামাঠা টিপিগুলিকে মনে হয় পাহাড় বলে এবং বর্তমানে বুর্জোয়া শ্রেণীর মানসিক জড়তার সমল থেকে পরিমাপ করতে হয় তার মহান মনীষাদের উচ্চতা।
————
১. “একটি স্বতন্ত্র শ্রেণী হিসাবে মালিক-ধনিকদের খোদ অস্তিত্বটাই শিল্পের উৎপাদনশীলতার উপরে নির্ভরশীল।” (ব্যামসে, “অ্যান এসে অন দি ডিষ্ট্রিবিউশন অব ওয়েলথ,” ১৮৩৬, পৃঃ ২৫৬)। “যদি প্রত্যেকটি মানুষের শ্রম কেবল তার নিজের খাদ্যের পক্ষে যথেষ্ট হত, তা হলে কোনো সম্পত্তি হতে পারত না।” (ব্ল্যাভেনস্টোন, থটস অন দি ফাণ্ডি সিস্টেম এ্যাণ্ড ইটস্ এফেক্টস, পৃঃ ১৪, ১৫)।
২. একটি সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর যেসব অঞ্চল ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে, সেখানে এখনো অন্তত ১০,৩,০০০ রাক্ষস আছে।
৩. “আমেরিকার বন্য ইণ্ডিয়ানদের মধ্যে, প্রায় সব কিছুই শ্রমিকের, ৯৯ শতাংশই পড়ে শ্রমের ভাগে। ইংল্যাণ্ডে শ্রমিক বোধ হয় দুই-তৃতীয়াংশও পায় না। (“দি অ্যাডভান্টেজেস অব দি ইস্ট ইণ্ডিয়া ট্রেড”, ইত্যাদি, পৃঃ ৭৩)।
৪. ডিওডোরাস হিস্টোরিশে বিবলিওথেক” খণ্ড ১, ৩, ১৮২৮, ৮০।
৫. “প্রথমটি (প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন তা অত্যন্ত মহৎ ও সুবিধাজনক, তেমন তা মানুষকে করে দেয় অসতর্ক, অহংকারী এবং আতিশয্যপ্রবণ; অপর পক্ষে, দ্বিতীয়টি সৃষ্টি করে সতর্কতা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও কর্মনীতি।” (“ইংল্যাণ্ড’স ট্রেজার বাই ফরেন টেড”, লণ্ডনের বণিক টমাস মান কর্তৃক লিখিত এবং এখন জনহিতার্থে তার পুত্র কর্তৃক প্রকাশিত। ১৬৬৯, পৃঃ ১৮১, ১৮২)। যেখানে জীবনধারণের দ্রব্য-সামগ্রী ও খাদ্যের উৎপাদন বহুলাংশে স্বতঃস্ফুর্ত এমন জলবায়ু এমন যে পোশাক বা আবরণের প্রয়োজন হয়না: অন্য দিকে হতে পারে চরম, তেমন এক ভূখণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবার তুলনায় বৃহত্তর কোন অভিশাপ কোনো জনসমষ্টির পক্ষে আমি কল্পনা করতে পারি না। শ্রমের দ্বারা উৎপাদনে অক্ষম যে ভূমি তা সেই ভূমির মই মন্দ যা কোনো শ্রম ছাড়াই উৎপাদন করে প্রচুর।” (“অ্যান ইনকুইরি ইনটু দি কজেস অব দি প্রেজেন্ট হাই প্রাইস অব প্রভিশনস”, লণ্ডন ১৭৬৭ পৃঃ ১০)।
৬. নীলনদের জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার আবশ্যকতা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্ম হল এবং তার সঙ্গে হল কৃষি-কর্মের নির্দেশক হিসাবে পুরোহিতদের আধিপত্যের। “Le solstice est le moment. de lannee ou commence la crue du Nil, et celui que les Egyptiens ont du observer avec le plus d’attentention…C’etait cette anne tropique qu’il leur importait de marquer pour se diriger dans leurs operations agricoles. Ils durent donc chercher dans le ciel un signe apparent de son retour.” (Cuvier : “Discours sur les revolutions du globe”. ed. Hoefer, Paris, 1863, p. 141).
৭. ভারতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংবদ্ধ উৎপাদনকারী সমাজ-সজাগুলির উপরে রাষ্ট্রের ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ছিল জল-সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ। ভারতের মুসলমান শাসকেরা এটা তাদের ইংরেজ উত্তরাগতদের চেয়ে ভাল বুঝেছিলেন। ১৮৬৬ সালের দুর্ভিক্ষের কথা মনে করাই যথেষ্ট, যে দুর্ভিক্ষে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত উড়িষ্যায় মারা গিয়েছিল ১০ মিলিয়নের ( এক কটি ) বেশি হিন্দু (অর্থাৎ ভারতীয়—বাং অনুবাদক)।
৮. এমন দুটি দেশ নেই যা সমান প্রাচুর্য সহকারে সমান সংখ্যক জীবন-ধারণের জন্য আবশ্যক দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করে—এবং সমান পরিমাণ শ্রমের ফলে। যে-জলবায়ুতে মানুষ বাস করে, তার তীব্রতা বা নাতিশীতোষ্ণতার সঙ্গে তাদের অভাব বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়; সুতরাং, বিভিন্ন দেশের অধিবাসীরা অভাবের দরুন বাধ্য হয়ে যেসব ব্যবসা করে তার অনুপাত একই হতে পারে না; পরিবর্তনের মাত্রাও তাপ ও শৈত্যের মাত্রার তুলনায় বেশি দূর নির্ণয় করা যায় না; যা থেকে কেউ এই সাধারণ সিদ্ধান্তে আসতে পারেন যে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমের ঠাণ্ডা জলবায়ুতে সবচেয়ে বেশি, গরম জলবায়ুতে মানুষই কেবল বেশি জামা-কাপড় চায় না, মাটিও চায় বেশি কর্ষণ।” (“অ্যান এসে অন দি গভর্নিং কজেস অব দি ন্যাচারাল রেট অব ইন্টারেস্ট, ১৭৫, পৃঃ ৫৯)। এই যুগান্তকারী অনামী গ্রন্থটির লেখক হলেন জে ম্যাসি। হিউম তাঁর সুদের তত্ত্বটি এখান থেকে নিয়েছিলেন।
