১৪. “তুমি কেড়ে লও আমার জীবন,
যখন তুমি কেড়ে লও সেই সব উপায়,
যা দিয়ে আমি করি জীবন-ধারণ।”—শেক্সপিয়ার
১৫. স্যান ফ্রান্সিকো থেকে ফিরে একজন ফরাসী শ্রমিক লেখেন : “আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারতাম না যে ক্যালিফোর্নিয়ায় আমাকে যত রকম কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল, তত রকম কাজ আমি করতে সক্ষম। আমার দৃঢ় ধারণা ছিল ছাপার কাজ ছাড়া আমি আর কোনো কাজের নই। একবার এই ভাগ্যান্বেষীদের জগতে গিয়ে, যার। তাদের সার্টের মতই ঝটপট পেশা বদল করে, আমিও তাদের মত হয়ে গেলাম। খনির কাজে মজুরি তেমন ভাল না হওয়ায়, আমি খনি ছেড়ে শহরে গেলাম। সেখানে গিয়ে আমি পর-পর টাইপোগ্রাফার, স্লেটার, প্লাম্বার ইত্যাদি হলাম। এই ভাবে যখন দেখলাম আমি সব কাজেরই মোগ্য, তখন আমি আর একটা জড়পিণ্ড রইলাম না, আমি নিজেকে বোধ করলাম মানুষ হিসাবে। (এ কর্বন : “De Penseignement professionnel”, 2eme ed. p. 50. )
১৬. রাষ্ট্রীয় অর্থতত্ত্বের ইতিহাসে সত্যই একটি বিস্ময় জন বেলা তর রাষ্ট্রীয় অর্থ তত্তের ইতিহাস নামক গ্রন্থে সতেরো শতকের শেষে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে দেখিয়েছিলেন। শিক্ষা ও শ্রম-বিভাগের বর্তমান ব্যবস্থার অবসান ঘটানে। কত প্রয়োজন যার ফলে সমাজের একদিকে দেখা দেয় অস্বাভাবিক স্ফীতি, অন্যদিকে অস্বাভাবিক ক্ষয়। অন্যান্য কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন : অলস শিক্ষা অলসতার শিক্ষার চেয়ে ভাল নয় দৈহিক শ্রম হল বিধাতার স্বাভাবিক আদিম প্রতিষ্টান খাদ্য যেমন দেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন, শ্রম তেমন তাকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন কেননা, মানুষ আরামে যা সঞ্চয় করে, ব্যারামে তা হারায় জীবনের প্রদীপে শ্রম তেল যোগায়, চিন্ত। তাকে প্রজ্জ্বলিত করে : একটা বালখিল্যসুলভ বুদ্ধিহীন ব্যস্ততা”। “বেসডাউ’-দের এবং তাদের আধুনিক অনুকারীদের প্রতি আগে থেকেই হুশিয়ারি) “শিশুদের মনকে করে রাখে বুদ্ধিহীন।” (“প্রপোজালস ফর রেইজিং এ কলেজ অব ইণ্ডাষ্ট্রি অব অল ইউজফুল ট্রেডস অ্যাণ্ড হ’জব্যাণ্ডি, ১৬৯৬, পৃঃ ১২, ১৪, ১৮।
১৭. এই ধরনের শ্রম প্রধানতঃ চলে ছোট ছোট কর্মশালায়, যেমন আর দেখেছি লেস-তৈরি ও খড়ের বিনুনি বঁধার শিল্পে, শেফিল্ড, বার্মিংহাম ইত্যাদি জায়গার ধাতু-শিল্প-গুলিতে আরো বিস্তারিতভাবে দেখানো যায়।
১৮. “শিশু নিয়োগ কমিশ, পঞ্চম রিপোর্ট”, পৃঃ ২৫, নং ১৬২ এবং দ্বিতীয় রিপোর্ট পৃ: ৩৮, নং ১৮৫, ২৮৯ পৃঃ ২৫, ১৫, নং ১৯১।
১৯. “কারখানা-শ্রম ঘরোয়া শ্রমের মতই বিশুদ্ধ ও সরল হতে পারে।” (“রিপোর্টস অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১২৯)।
২০. “রিপোর্টস অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ২৭-৩২।
২১. “রিপোর্ট : ফ্যাক্টরিজ”-এ অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে।
২২. “শ নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম রিপোর্ট”, পৃঃ ১৩, নং ৩৫।
২৩. ঐ পৃঃ ১, নং ২৮।
২৪. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ২৫, নং ১৬৫-১৬৭, ক্ষুদ্রায়তন শিল্পের তুলনায় বৃহদায়তন শিল্পের সুবিধা সম্পর্কে ‘শিশু নিয়োগ কমিশন, তৃতীয় রিপোর্ট’, পৃঃ ১৩, নং ১৭১, পৃঃ ২৫, নং ১২১, পৃঃ ২৬, নং ১২৫, পৃঃ ২৭, নং ১৪০ দ্রষ্টব্য।
২৫. উক্ত আইনের অধীনে আনবার জন্য যেসব শিল্পের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে : লেস তৈরি, মোজ-বোনা, খড়-বিনুনি, বিভিন্ন প্রকারের পরিধেয় প্রস্তুত, কৃত্রিম ফুল তৈরি, জুতো তৈরি, টুপি তৈরি, দানা বানানো, দজির কাজ, ব্লাস্ট ফানেল থেকে সুচ পর্যন্ত সমস্ত ধাতুর কাজ, ইত্যাদি, কাগজ-কল, গ্লাস-তৈরী, তামাক কারখানা ভারতীয় রবার তৈরী, বিনুনী কাজ (কাপড় বোনার জন্য ) হাতে গালিচা বোনা, ছাতা তৈরি, প্যারাসল তৈরি, টফু ও নাটাই তৈরি, টাইপ-প্রেসে মুদ্রণ, বই বাঁধানো, মণিহারি দ্রব্যাদি তৈরি, কাগজের থলে, কাড, রঙ্গিন কাগজ ইত্যাদি সহ ) দডি তৈরি, অলংকার নির্মাণ, ইট তৈরি, হাতে রেশম উৎপাদন, মোমের ঝাড়লণ্ঠন তৈরি, লবণ তৈরি, সিমেন্ট কারখানা, চিনি শোধনাগার, বিস্কুট বানানো, কাঠের বিভিন্ন শিল্প ইত্যাদি।
২৬. “শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম বিপোর্ট’, পৃঃ ২৫, নং ১৬৯।
২৭. কারখানা আইন বিস’র আইন পাশ হয় ১৮৬৭ সালের ১২ই আগস্ট-এর আওতায় আসে সমস্ত ঢালাই কারখানা, কামর-শালা, ধাতু-ম্যানুফ্যাক্টরি, কাচ কারখানা, কাগজ মিল, রাবার কারখানা, তমা ম্যানুফ্যাক্টরি, ছাপাখানা, বই-বাই শালা এবং ৫ জনের বেশি লোক নিয়োগ করে এমন সমস্ত কাশাল; এই আইনগুলির ব্যাপারে পরবর্তী খণ্ডে আমি আবার ফিরে আসব।
২৮. সিনিয়র, ‘সোশ্যাল সাইন্স কংগ্রেস’, পৃঃ ৫৫-৫৮।
২৯. এই স্টাফের “কর্মীবৃন্দের মধ্যে পড়ে ২ জন পরিদর্শক, ২ জন সহকারী পরিদর্শক এবং ৪১ জন উপ-পরিদর্শক। ১৮৭১ সালে নিযুক্ত হয়েছিল ৮ জন অতিরিক্ত উপ-পরিদর্শক, ১৮৭১-৭২ সালে ইংল্যাণ্ড, স্কটল্যাণ্ড ও আয়ার্ল্যাণ্ডে এই আইন প্রয়োগ করতে মোট খরচ হয়েছিল £২৫৩৫৭-এরও বেশি, যার মধ্যে দোষী মালিকদের বিরুদ্ধে মামলার খরচও ধরা হয়েছে।
৩০. সমবায় ফ্যাক্টরি এবং স্টোর-এর প্রতিষ্টাতা রবার্ট ওয়েন রূপান্তর সাধনের এই বিক্ষিপ্ত উপাদানগুলির প্রভাব সম্পর্কে তাঁর অনুগামীদের ভ্রান্ত ধারণাসমূহের শরিক ছিলেন ন্য-এ কথা আগেই বলা হয়েছে; তিনি কারখান:-ব্যবস্থাকে কেবল কার্যক্ষেত্রেই তার পরীক্ষ:-নিরক্ষার একমাত্র ভিত্তি হিসাবেই গ্রহণ করেন নি, সেই সঙ্গে তত্ত্ব ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থাকে ঘোষণা করেছিলেন সমাজ-বিপ্লবের সূচনা-স্থল হিসাবে। লিডেন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হের ভিসারিং-এর এ বিষয়ে সংশয় আছে বলে মনে হয়, যখন তিনি তার “Handbook van Praktiscle Staatshuishoudkunde, 1860-62”-তে, যাতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে হাতুড়ে অর্থনীতির সমস্ত মামুলি উক্তি গুলির, তাতে তিনি কারখানা-ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হস্তশিল্পকে প্রবল ভাবে সমর্থন করেন। (চতুর্থ জার্মান সংস্করণে সংযোজিত ) : “পরস্পর-বিরোধী কারখানা-আইন, কারখানা-আইন সম্প্রসারণ আইন এবং কর্মশালা আইনের মাধ্যমে ইংরেজ আইন প্রণেতারা পরস্পর-পরিপন্থী বিধি-বিধানের যে অদ্ভুত জট পাকিয়েছেন, সেগুলি শেষ পর্যন্ত অসহ্য হয়ে উঠল, এবং এই ভাবেই এই বিষয়টি সংক্রান্ত যাবতীয় আইন ১৮৭৮ সালের কারখানা ও কর্মশালা আইনে বিধিবদ্ধ কর; হল। অবশ্য, ইংল্যাণ্ডের এই শিল্প বি.ধর কোনো বিশদ সমালোচনা এখানে উপস্থিত করা যাবে না। নিচের মন্তব্য গুলকেই যথেষ্ট বলে ধরতে হবে। এই আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে :
