৬. “রিপোর্ট ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১১৮। একজন সিলক-ম্যানুফ্যাকচারার সরল ভাবে শিশু নিয়োগ কমিশনার’-দের বলেন, আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, নৈপুণ্যসম্পন্ন কর্মী তৈরি করার সত্যিকার গুপ্তকথা হল শিশুকালে শিক্ষ। ও শ্রমের মধ্যে ঐক্যসাধন। অবশ্য, শ্রম যেন বেশি কঠোর, বিরক্তিকর বা অস্বাস্থ্যকর না হয়। এই ঐক্যসাধনের সুবিধা সম্পর্কে আমার কোনো সংশয় নেই। আমি চাই আমার নিজের সন্তানের। যদি তাদের লেখাপড়ায় বৈচিত্র্য সঞ্চারের জন্য কিছু কাজ ও কিছু খেলার সুযোগ পেত।” “শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম রিপোর্ট, পৃঃ ৮২, নং ৩৬।)
৭. সিনিয়র, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দি প্রমেশন অব সোশ্যাল সাইন্স” এর সপ্তম বাৎসরিক কংগ্রেসে প্রদত্ত বক্তৃত, পৃঃ ৬৬। কেমন করে আধুনিক শিল্প, যখন তা একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌছেছে, তখন উৎপাদনের পদ্ধতিতে এবং উৎপাদনের সামাজিক অবস্থায় তা যে বিপ্লব ঘটায়, তার দ্বারা মানুষের মনকেও বিপ্লবায়িত করে, তা সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় যদি ১৮৬৩ সালে প্রদত্ত সিনিয়র-এর বক্তৃতাটির সঙ্গে ১৮৩৩ সালের কারখানা আইনের বিরুদ্ধে তার শ্লেষাত্মক আক্রমণের তুলনা করা যায় কিংবা যদি উল্লিখিত কংগ্রেসের মতামতসমূহের সঙ্গে এই ঘটনাটির তুলনা করা য; যে, ইংল্যাণ্ডের কয়েকটি মফস্বল অঞ্চলে গরিব মাতা-পিতার তাদের শিশুদের শিক্ষ: দিতে চাইলে তাদের ওপরে নেমে আসে অনাহারে মৃত্যুবরণের দণ্ড। যেন, মিঃ স্মেল সমারসেটশায়ারে এটাকে একটা মামুলি ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন যে, যখন একজন গরিব মানুষ প্যারিশ থেকে ত্রাণসামগ্ৰী চায়, তখন তাকে তার শিশুদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনতে হয়। মিঃ উলারটন নামে ফেলটহাম-এর ধর্মযাজকও এমন সব দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছেন, যে কয়েকটি পরিবারকে সম সাহয্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, “কেননা তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠাবেই।”
৮. যেখানেই মনুষ্য-চালিত হশিল্প-যন্ত্র যান্ত্রিক শক্তি-চালিত যন্ত্রের সঙ্গে প্রতি যেগিত করে, সেখানেই যে-শ্রমিক তাকে চালায় তার ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন ঘটে যায়। প্রথমে ২.-চালিত ইঞ্জি, তার স্থান নেয়, পরে সে অবশ্যই বাম্প-চালিত ইঞ্জিনটির স্থান নেবে। কাজে কাজেই, উদ্বেগ এবং ব্যয়িত শ্রমের পরিমাণ হয় দানবিক, এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে যায়। এই নির্যাতনের বলি হয়। যেমন কমিশনারদের মধ্যে একজন ১৫ লজ, কভেন্টি, এব, তার আশেপাশে বিন-লুম চালনায় নিযুক্ত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালকদের দেখেছিলেন—ছোট ছোট মেশিন চালনায় নিযুক্ত অরে। অল্পবয়সী শিশুদের কথা না হয় নাই উল্লেখ করা হল : “এটা একটা অসাধারণ ব্লজনক কাজ। বালকটি কেবল বাষ্প-শক্তির বিকল্প মাত্র।” (“শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চ রিপোট, ১৮৬৬, পৃঃ ১১৪, নোট ৬)। সরকারি রিপোর্ট যাকে বলা হয়েছে “গোলামী ব্যবস্থা” তার মারাত্মক ফলগুলি সম্পর্কে দেখুন : ঐ, পৃঃ ১১৪ ইত্যদি।
৯. “শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম রিপোর্ট”, পৃঃ ৩, নং ২৪।
১০. “শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম রিপোর্ট”, পৃঃ ৭, নং ৬০।।
১১. বেশি বছর আগে নয়, স্কটল্যাণ্ডের হাইল্যাণ্ডস-এর কিছু অংশে, প্রত্যেক চাষী তার নিজের ‘ট্যান’-করা চামড়া দিয়ে নিজের জুতো তৈরি করে নিত। অনেক খামার কুটিরবাসী মেষপালক তাদের স্ত্রী ও শিশুদের নিয়ে এমন জামাকাপড় পরে গাজায় যেত যা তৈরি করতে তাদের নিজেদের ছাড়া আর কারো হাতের ছোঁয়া লাগেনি। এই সব তৈরি করতে কেবল সুচ, অঙ্গুষ্ঠান এবং কয়েকটি লোহার সরঞ্জাম ছাড়া আর কিছুই প্রায় তারা ক্রয় করত না। এমন কি রঙও মেয়েরা নিষ্কর্ষণ করে অনত গাছপালা, ঝোপঝাড় থেকে (ডুগান্ড স্টুয়ার্ট : “ওয়ার্কস”, হামিলটন সংস্করণ, অষ্টম খণ্ড, পৃঃ ৩২৭-৩২৮)।
১২. এতিয়েনে বইলো-র “Livre des meticrs” নামক বিখ্যাত গ্রন্থে আমরা দেখতে পাই যে, একজন ঠিক-মজুর মালিকদের মধ্যে গৃহীত হলে তাকে শপথ করতে হত ভাইয়ের মত ভালবাসা দিয়ে তাকে সম-ব্যবসায়ীদের ভালবাসতে, তাদের নিজ নিজ ব্যবসায়ে তাদের সাহায্য করতে, ব্যবসায়ের গুপ্ততথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ না করতে এবং, তা ছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রীতে এটি দেখিয়ে ক্রেতাদের মনোযোগ নিজের সামগ্রীর প্রতি আকৃষ্ট না করতে।
১৩. উৎপাদনের হাতিয়ারসমূহে এবং সেই সঙ্গে, উৎপাদনের সম্পর্ক এবং সমস্ত সামাজিক সম্পর্কসমূহে ক্রমাগত বিপ্লব না ঘটিয়ে বুর্জোয়া শ্রেণী অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে না। বিপরীত পক্ষে, পূর্ববর্তী সময় শিল্প-শ্রেণীর অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম শর্তই ছিল উৎপাদনের পুরনো পদ্ধতিগুলিকে অপরিবর্তিতভাবে সংরক্ষিত করা। উৎপাদনে নিরন্তর বিপ্লব সাধন, সমস্ত সামাজিক অবস্থায় অব্যাহত অস্থিতিশীলতা, চিরস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বুর্জোয়া যুগকে পূর্ববর্তী সকল যুগ থেকে বিশিষ্টতা দান করে, সমস্ত স্থানু, শিলীভূত সম্পর্কসমূহ তাদের প্রাচীন ও পবিত্র সংস্কারগুলিসহ ভেসে যায়; নবগঠিত সম্পর্কসমূহ সংযত হবার আগেই সেকেলে হয়ে যায়। যা কিছু দৃঢ়, বাতাসে উবে যায়; যা কিছু শুচি, অশুচি হয়ে যায় এবং মানুষ, সর্বশেষে, সুস্থিত বিচার-বুদ্ধি নিয়ে তার জীবনের বাস্তব অবস্থাবলীও তার স্বজাতির সঙ্গে তার সম্পন্সমূহের মুখোমুখি হতে পারে।”; ‘ম্যানিফেস্টো অব দি কমিউনিস্ট পার্টি’-এফ, এঙ্গেলস-এর কার্ল মার্ক, ১৮৪৮, পৃঃ ৫}।
