১৮৬৫ সালে ইংল্যাণ্ডে কয়লাখনি ছিল ৩,২১৭টি এবং পরিদর্শক ছিলেন ১২ জন। ইয়র্কশায়ারের জনৈক খনি-মালিক নিজেই হিসাব করেছেন ( ‘টাইমস’, ২৬শে জানুয়ারি, ১৮৬৭), এক দিকে তাদের অফিসের কাজ করে, যা তাদের গোটা সময় টাকেই নিয়ে নেয়, একজন পরিদর্শকের পক্ষে প্রতি দশ বছরে একবার করে একটি খান পরিদর্শন করা সম্ভব হয়। গত দশ বছরে যে সংখ্যায় ও ব্যাপকতায় ( অনেক ক্ষেত্রে ২০০-৩০০ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে ‘ উভয়তই বিস্ফোরণ ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেছে, তাতে আশ্চর্যের কারণ নেই। এইগুলিই হচ্ছে “অবাধ ধন উৎপাদনের সৌন্দর্য।* [* এই বাক্যটি ৪র্থ জার্মান সংস্করণের সশে মিলিয়ে যুক্ত করা হয়েছে –সম্পাদক ইং সংস্করণ।]
১৮৭২ সালে প্রণীত অত্যন্ত টিপূর্ণ আইনটিই সর্বপ্রথম খনিতে নিযুক্ত শিশুদের কাজের ঘণ্ট, নয়ন্ত্রণ করে এবং তথাকথিত দুর্ঘটনার জন্য খনিজ-আহণকারী ধনকে এবং খানর স্বত্বাধিকারী ভূস্বামীকে, কিছুটা পরিমাণে দায়ী বলে ঘোষণা করে।
শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মহিলাদের কৃষিকর্মে নিয়োগ সম্পর্গে ১৮৬৭ সালে নিযুক্ত রাজকীয় কমিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ কয়েক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কৃষিকর্মের ক্ষেত্রে কারখানা আইন, কিছুটা সংশোধিত আকারে, প্রয়োগের চেষ্টা কয়েকবার হয়েছে কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। যে ব্যাপারটির দিকে আমি এখানে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই, তা হল ঐ নীতিসমূহের সর্বব্যাপক প্রয়োগের অনুকূলে একটি অপ্রতিরোধ্য প্রবণতার অস্তিত্ব।
যখন শ্রমিক শ্রেণীর মানসিক ও শারীরিক উভয়বিধ নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজনে সমস্ত বৃত্তিতে কারখানা-আইনের সম্প্রসারণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে, তখন অন্যদিকে, যেমন আমরা আগেই দেখেছি, ঐ সম্প্রসারণই আবার বহুসংখ্যক বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পের বৃহদায়তনে পরিচালিত স্বল্পসংখ্যক সংযোজিত শিল্পে রূপান্তরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। এইভাবে তা মূলধনের কেন্দ্রীভবন ও কাখোনা-ব্যবস্থা, একান্ত প্রাধান্য অর্জনকে ত্বরিতয়িত করে। তা পুরাতন ও অতিক্রান্তিকালীন উভয় ধরনের রূপকেই ধ্বংস করে দেয়, যার নেপথ্যে মূলধনের রাজত্ব এখনো অশত প্রচ্ছন্ন; এবং তার স্থলে অভিষিক্ত করে মূলধনের প্রত্যক্ষ আধিপত্যকে; কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তা আবার নিজের আধিপত্যের পথে বিরোধিতাকে সর্বব্যাপক করে তোলে। যখন তা, প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা কর্মশালায় অভিন্নতা, নিয়মিত, শৃংখল ও মিতব্যয়িতা বলবং করে, তখন তা, শ্রম-দিনের দৈর্ঘ্যের আরোপিত সীমাবদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে যে প্রেরণা সঞ্চার করে, সেই প্রেরণাকে আরো প্রল ভাবে উদ্দীপিত করে এবং সমগ্রভাবে ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের নৈরাজা, শ্রমের ব্রতী, শ্রমিকের সঙ্গে মেশিনারির ও তিযোগিতার বৃদ্ধিসাধন করে। ক্ষুদে ও ঘরোয়া শিল্পগুলকে ধ্বংস করে দিয়ে, তা “বাড়তি জনসংখ্যা”-র শেষ আশ্রয়গুলিকেও ধ্বংস করে দেয় এবং তারই সঙ্গে ধ্বংস করে দেয় গোটা সমাজ-ব্যবস্থার সর্বশেষ নিরাপত্তা-ব্যবস্থাটিকে, সেফটি ভালব’-টিকে।। উৎপাদন-প্রক্রিয়াগুলির অস্থাবলীকে পণত করে তুলে এবং সংযোজন সাধন করে, তা ধণতান্ত্রিক উৎপাদন-ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব ও বৈরিতগুলিকেও আরো পরিণত করে তোলে এবং এইভ বে, নোতুন এক সমাজ গঠনের উপাদানসমূহসহ, পুরান ব্যবস্থাকে চুরমার করে দেবার প্রয়োজনীয় শক্তির সংস্থান করে।[৩০]
১. “শিশু নিমোগ কমিশন, পঞ্চম বিপোট”, পৃ ১৫, নং ৭২ ইত্যাদি
২. “রিপোর্ট ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১২৭।
৩. পরীক্ষা করে পাওয়া গিয়েছে, একজন স্বাস্থ্যবান সাধারণ ব্যক্তির প্রত্যেকটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে প্রায় ২০ কিউবিক ইঞ্চি বায়ু পরিভুক্ত হয়। এভাবে ২৫ কিউবিক ইঞ্চি বায়ু ব্যবহার করে। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টায় যে বায়ু টেনে নেয় তার পরিমাণ হচ্ছে ৭,২০,০০০ কিউবিক ইঞ্চি বা ৪১৬ কিউবিক ফুট। কিন্তু এটা পরিষ্কার, যে বায়ু একবার টেনে নেওয়া হয়েছে, তা প্রকৃতির বিপুল কর্মশালায় শোধিত হবার আগে আর একই উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে না। ভ্যালেন্টিন এবং ব্ৰনার-এর পরীক্ষা থেকে দেখা যায় যে, একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৩০০ কিউবিক ইঞ্চি কার্বনিক অ্যাসিড পরিত্যাগ করে; ২৪ ঘন্টায় ফুসফুস প্রায় ৮ আউন্স সলিড কার্বন নিঃসরণ করে। প্রত্যেকটি মানুষের চাই অন্তত ৮০০ কিউবিক ফুট।” (হাক্সলি)।
৪. ইংরেজ কারখানা আইন অনুসারে, মাতা-পিতা তাদের ১৪ বছরের কমবয়সী শিশুদের কারখানা-আইনের অন্তর্গত কারখানায় পাঠাতে পারে না, যদি সেই সময়ে তারা তাদের প্রাথমিক শিক্ষা নিতে অনুমতি না দেয়। ম্যানুফ্যাকচারারের দায়িত্ব এই আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাজ করা। কারখানা-শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং তা শ্রমের একটি শর্ত।” (“রিপোর্ট অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১১১।)
৫. কারখানার শিশু ও নিঃস্ব শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শিক্ষার সঙ্গে দৈহিক ব্যায়াম (এবং বালকদের বেলায় ড্রিল) সংযুক্ত করার অতি সুবিধাজনক ফল সমূহ প্রসঙ্গে দেখুন “ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রােমোশন অব সোশ্যাল সাইন্স”-এর সপ্তম বার্ষিক কংগ্রেসে এন. ডবলু সিনিয়র-এর বক্তৃতা : “রিপোর্ট অব প্রসিডিংস ইত্যাদি”, লণ্ডন, ১৮৬৩, পৃঃ ৬৩, ৬৪ এবং সেই সঙ্গে কারখানা পরিদর্শকের রিপোর্ট, ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১১৮, ১১৯, ১২০, ১২৬ ইত্যাদি।
