৪. ‘করোনার’-এর (মৃত্যু সম্পর্কে তদন্তকারীর) তদন্ত কার্যঃ
“করোনার’-এর তদন্ত প্রসঙ্গে, দুর্ঘটনা ঘটার পরে যে তদন্তকার্য চালানো হয়, তাতে আপনার জেলার শ্রমিকদের আস্থা কি?” “না; তাদের আস্থা নেই। (নং ৩৬০ )। “কেন নেই?” “প্রধানত এই কারণে আস্থা থাকে না যে, স্বাদের এই কাজের জন্য সাধারণত মনোনীত করা হয়, খনি বা এ-জাতীয় কোনো কিছু সম্পর্কে তার কিছুই জানেন না।” “শ্রমিকদের কি জুরিতে ডাকা হয় না?” আমি যতদূর জানি, কখনো সাক্ষী হিসাবে ডাকা হয় না।” “সাধারণতঃ কাদের এই সব জুরিতে ডাকা হয়?” “ডাকা হয় সাধারণতঃ এলাকার ব্যবসায়ীদের তাদের যা অবস্থান তাতে অনেক সময়েই তারা নিয়োগ কর্তাদের ……. কর্মশালা-মালিকদের ……. প্রভাধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়। তারা সাধারণত এমন ধরনের মানুষ, যাদের কোনো জ্ঞান নেই, এবং তাদের সামনে যেসব সাক্ষীদের হাজির করা হয় তাদের কথা বার্তা কিংবা যেসব শব্দ তারা ব্যবহার করে তা তারা কদাচিৎ বুঝতে পারে।” “আপনারা কি চান যে জুরি এমন লোক নিয়ে গঠিত হোক যারা খনির কাজে নিযুক্ত চিলেন?” “হ্যা, অংশত তাই চাই।… শ্রমিকেরা মনে করে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ যা হাজির করা হয়, বোনারের সাধারণত তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।” (নং ৩৬১, ৩৬৪, ৩৬৬, ৩৬৮, ৩৭১, ৩৭৫)। “জুরি ডাকবার একটা মহৎ উদ্দেশ্যই হচ্ছে যে তা হবে নিরপেক্ষ; নয় কি?” “হ্যা, সেটাই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।” “আপনি কি মনে করেন যে প্রধানত শ্রমিকদের দিয়েই যদি জুরি গঠিত হত, তা হলে তা হত পক্ষপাতশূন্য?“আমি এমন কোনো উদ্দেশ্য দেখিনা যার বশে শ্রমিকের পক্ষপাতী হয়ে কাজ করত। …একটা খনির কাজকর্ম কিভাবে চলে, সে সম্পর্কে স্বভাবতই তাদের ভাল জ্ঞান থাকে।” “আপনি মনে করেন না যে, শ্রমিকদের পক্ষে একটা প্রবণতা থাকবে অন্যায় ভাবে কঠোর রায় দেবার?” “না, আমি মনে করি ন।” (নং ৩৭৮, ৩৭৯, ৩৮০ )।
৫. মিথ্যা ওজন ও পরিমাপঃ
শ্রমিকেরা দাবি করে যে, তাদের মজুরি পাক্ষিক হিসাবে না দিয়ে সাপ্তাহিক হিসাবে দেয়া হোক এবং টবগুলির ভিতরকার জিনিসের ঘন ক্ষেত্র অনুসারে না দিয়ে ওজন অনুসারে দেওয়া হোক; তারা জাল বাটখারা দিয়ে মিথ্যা ওজনের বিরুদ্ধেও প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থা দাবি করে। (নং ১০৭১) “যদি টবগুলি জুয়াচুরি করে বাড়ানো হয়, তা হলে ১৪ দিনের নোটিশ দিয়েই তো কেউ কাজ বন্ধ করে দিতে পারে?” “কিন্তু সে যেখানেই যাবে, সেখানে দেখবে সেই একই জুয়াচুরি।” (নং ১০৭১), “কিন্তু যেখানে ঐ অন্যায় করা হচ্ছে, তো সে ছেড়ে যেতে পারে?” “এটা সর্বব্যাপক, যেখানেই সে যাক, সেখানেই তাকে এটা মেনে নিতে হবে। (নং ১০৭২), “১৪ দিনের নোটিশ দিয়েই কি কেউ ছেড়ে যেতে পারে? “হঁ্যা, পারে।” (নং ১০৭৩)। এবং তবু তারা খুশি নয় !
৬. খনি পরিদর্শনঃ
বিস্ফোরণের ফলে হতাহত হওয়াই শ্রমিকের একমাত্র দুর্ভোগ নয়। (নং ২৩৪ ) “আমাদের লোকেরা কোলিয়ারিগুলির হাওয়া-চলাচল ব্যবস্থার দুরবস্থা সম্পকেও তীব্র অভিযোগ জানায়। হাওয়া চলাচল ব্যবস্থা এত খারাপ যে শ্বাস-প্রশ্বাসও কষ্টকর বোধ হয়; তাদের কাজের সঙ্গে কিছু কাল যুক্ত থাকার পরে তারা যে-কোনো রকমের কর্ম-নিয়োগের পক্ষে অচল হয়ে পড়ে; বাস্তবিক পক্ষে, খনির যে-অংশে আমি কাজ করছি, ঠিক সেই অংশটিতেই, লোকের বাধ্য সেই কারণেই তাদের কাজ ছেড়ে দিতে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক গ্যাস না থাকা সত্বেও কেবল হাওয়া-চলাচলের অব্যবস্থার জন্য তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন কয়েক সপ্তাহ ধরে বেকার অবস্থায় হয়েছে। প্রধান প্রধান যাতায়াত-পথে সাধারণত প্রচুর পরিমাণ বাতাস থাকে কিন্তু যেখানে মানুষদের কাজ করতে হয় সেখানে তা নিয়ে যাবার জন্য কোনো চেষ্টাই কম হয় না।” “আপনার পরিদর্শকের কাছে আবেদন করেন না কেন?” “সত্য কথা বলতে কি, এমন অনেকেই আছে যারা এ ব্যাপারে ভয় পায়; পরিদর্শকের কাছে দরখাস্ত করার ফলে বলি হয়েছে এবং চাকরী থেকে বরখাস্ত হয়েছে, এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে।” “কেন, অভিযোগ জানানোর জন্য সে কি দাগী হয়ে যায়? সে কি অন্য খনিতে কাজ পেতে অসুবিধা বোধ “হ্যা। আপনি কি মনে করেন যে আইনের সংস্থানগুলি মানা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য আপনার অঞ্চলের খনিগুলি পরিদর্শনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে?” “না, পরিদর্শন আদৌ কখনো হয় না:…..৭ বছর আগে একবার একজন পরিদর্শক খনিগর্ভে নেমেছিলেন; এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত এইভাবেই চলছে। ……আমি যে জেলায় কাজ করি, সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিদর্শকও নেই। আমাদের আছেন একজন বৃদ্ধ পরিদর্শক, যার বয়স ৭০ বছরের উপরে এবং যার পরিদর্শন করার কথা ১৩০টিরও বেশি খনি।” “আপনারা কি চান যে উপ-পরিদর্শকদের একটা শ্রেণীও থাকে?” “হ্যা।” (নং ২৩৪, ২৪১, ২০১, ২৫৪, ২৭৪, ২৭৫, ৫৫ ৪, ২৭৬, ১৯৩)। “কিন্তু আপনি কি মনে করেন সরকারের পক্ষে এমন এক পরিদর্শকবাহিনী পোষণ কর সব যারা আপনার যা যা চান, তার সব কিছুই করবেন অথচ লোকেরা তাঁদের কোন তথ্য যোগাবে না?” “না, আমার মনে হয়, সেটা হবে প্রায় অসম্ভব। এটা বাঞ্ছনীয় যে, পরিদর্শকেরা একটু ঘন ঘন আসুন।’ “হ্যাঁ, এবং ডেকে পাঠাবার আগেই।” (নং ২৮০, ২৭৭)। “আপনি কি মনে করেন যে পরিদর্শকদের এত ঘন ঘন পরিদর্শনের ফলে বায়ু-চলাচলের সুব্যবস্থার দায়িত্ব।। কোলিয়ারি-মালিকদের কাধ থেকে সরে গিয়ে বর্তাবে সরকারি কর্মচারীদের কাঁধে?” “না, আমি তা মনে করিনা; আমি মনে করি, ইতিপূর্বেই যেসব আইন তৈরি হয়ে আছে সেগুলিকেই কার্যকরী করা তারা তাদের কর্তব্য হিসাবে গ্রহণ করবেন।। নং ২৮৫)। যখন আপনি উপ-পরিদর্শক নিয়োগের কথা বলেন, তখন কি আপনি বোঝাতে চান যে তাঁদের বেতন হবে কম এবং তারা হবেন অপকৃষ্ট মাপের কর্মচারী?” আপনি যদি উৎকৃষ্ট লোক পান, তা হলে আমি অপকৃষ্ট লোক চাইব কেন?” নং ২৫৪ )। “আপনি কি কেবল আরো পরিদর্শক চান, নাকি চান পরিদর্শক হিসাবে নিচু মানের লোক?” “আমি চাই এমন লোক, যিনি কোলিয়ারিগুলিতে কড়া নেড়ে নেড়ে ঘুরবেন এবং দেখবেন সব কিছু ঠিক চলছে কিনা; চাই এমন মানুষ যে নিজের ভয়ে ভীত নয়।” (নং ১৯৫) “নিচু মানের পরিদর্শক নিয়োগের জন্য আপনার যে অভিলাষ, তা যদি পূরণ করা হয়, তা হলে আপনি কি মনে করবেন না যে কুশলতার অভাব ঘটবে?” “আমি তা মনে করি না, আমি মনে করি, সরকার সেদিকে নজর দেবে এবং যোগ্য লোককে সেই পদে নিয়োগ করবে।” (নং ২৯৭)। এই ধরনের পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত কমিটির চেয়ারম্যানের কাছেও বাড়াবাডি বলে মনে হয় এবং তিনি বাধা দিয়ে মন্তব্য করেন, “আপনি এমন এক ক্লাস মানুষ চান, যারা খানর সমস্ত খুটিনাটি ব্যাপার দেখাশোনা করবেন এবং প্রতি কোণে ও রন্ধ্রে প্রবেশ করবেন এবং আসল তথ্য সম্পর্কে অবহিত হবেন। তাঁর প্রধান পরিদর্শকের কাছে রিপোর্ট করবেন, যিনি তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে প্রয়োগ করবেন তাদের দ্বারা উপস্থাপিত তথ্যগুলি অনুধাবনে?” (নং ২৯৮, ২৯৯ ! “খনির এইসব পুরনো কর্মক্ষেত্রগুলিতেও যদি বায়ু-চলাচলের সুব্যবস্থা করতে হয়, তা হলে কি বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না?” “হ্যা, ব্যয় হয়তো হবে, কিন্তু তাতে জীবনও রক্ষা পাবে।” (নং ৫৩১ ) ১৮৬৫ সালে আইনের ১৭তম অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে জনৈক কর্মরত খশ্রমিক বলেন, “এখন যদি পরিদর্শক কোন খনির একটি অংশকে কাজের জন্য অনুপযুক্ত বলে দেখেন, তা হলে তাকে খনি-মালিক ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে রিপোর্ট করতে হয়। তা করার পরে, মালিককে ২০ দিনের সময় দেওয়া হয় ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য; ২০ দিন পার হয়ে গেলে তার অধিকার থাকে খনিতে কোনো পরিবর্তন সাধনে অস্বীকার করার; কিন্তু যখন সে অস্বীকার করে, তখন তা তাকে লিখতে হয় স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে এবং সেই সঙ্গে পাঠাতে হয় তার মনোনীত পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ারের নাম, যাদের মধ্য থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব নিযুক্ত করেন একজনকে, আমার মনে হয় সালিশ হিসাবে কিংবা নিযুক্ত করেন একাধিক সালিশকে, সুতরাং সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি যে খনির মালিক কার্যত নিজেই তার সালিশদের নিয়োগ করে।” ( নং ৫৮১)। বুর্জোয়া পরীক্ষক, যিনি নিজেও একজন খনি-মালিক। “কিন্তু এটা কি নিছক অনুমান-ভিত্তিক আপত্তি নয়।” (নং ৫৮৬) “তাহলে, খনি ইঞ্জিনিয়ায়ারদের সততা সম্পর্কে আপনার ধারণা খুবই দুর্ভাগ্যজনক?” “এটনিশ্চিত ভাবেই চরম অন্যায় ও সংস্কারদুষ্ট।” নং ৫৮৮। “খন-ইঞ্জিনিয়ারদের কি জনসমক্ষে একটা লোকমান্য চরিত্র নেই? এবং আপনি কি মনে করেন না যে, আপনি যেমন আশংকা করছেন তেমন পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত করা থেকে দঅনেক উর্ধে?” “আমি ঐ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে এই ধনের প্রশ্নের জবাব দিতে চাই না। আমার বিশ্বাস, অনেক ক্ষেত্রেই তারা স্বতই পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করবে এবং যেখানে মানুষের বন বিপ:, সেখানে তা করার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকা উচিৎ নয়।” ( নং ৫৮৯) এই একই বুর্জোয়া ব্যক্তিটি কিন্তু এই প্রশ্নটি করতে লজ্জা বোধ করেন না! “আপনি কি মনে করেন যে একটা বিস্ফোরণ ঘটলে খনি-মালিকেরও ক্ষতি সহ করতে হয়। সর্বশেষে, “সরকারকে ডেকে না এনে আপনারা, ল্যাংকাশায়ারের শ্রমিকের, আপনার কি পারেন না আপনাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষ, করতে?” “না”। (নং ১০৪২)
