৩. নারীদের কর্মে নিয়োগ
১৮৪২ সাল থেকে নারীদের আর মাটির তলায় কাজ করতে হয় না; এখন তারা নিযুক্ত হয় মাটির উপরকার নানা কাজে, যেমন, কয়লা বোঝাই করা, টবগুলিকে খাল বা ওয়াগন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া, বাছাই করা ইত্যাদি। গত তিন চার বছরে তাদের সংখ্যা প্রভূত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। (নং ১৭২৭)। তাদের মধ্যে অধিকাংশই খনি-মজুরদের স্ত্রী, কন্যা বা বিধবা পত্নী; বয়স ১২ থেকে ৫ বা ৬০। ( নং ৬৪৫, ১৭৭৯)। “নারীদের এই কর্মনিযুক্তিতে কর্মরত খনি-মজুরদের মনোভাব কি?” “আমার মনে হয়, তারা সাধারণ ভাবে একে নিন্দা করে।” (ং ৬৪) “আপনি এর মধ্যে আপত্তিজনক কি দেখতে পান?” “আমার মতে এটা নারীর পক্ষে অবমাননাকর” (নং ৬৪৪) “পোশাকে কোন বৈশিষ্ট্য আছে?” “হ্যা, এটা এট, বরং পুরুষের পোশাক এবং কিছু ক্ষেত্রে সব রকমের শালীনতার পরিপন্থী “নয়ে। বিচ ধূমপান করে?” “কেউ কেউ করে।” “অার অামার মনে হয় কাজটা বড় নোও।” “খুবই নোর। “তারা কালিঝুলিতে কদাকার হয়ে যায় !” “মাটির তলায় যারা কাজ করে, তাদের মতই কালিময় হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস যে-মহিলাদের শিশু-সন্তান আছে এবং খাদের কিনারায় অনেকেরই আছে, তারা তাদের প্রতি কর্তব্য করতে পারে না” (নং ৬৫০-৬৪৫, ৭০:।। “আপনি কি মনে করেন ঐ বিধবারা অন্য কোথাও কাজ করলে এখানে যে জুরি পায় (সপ্তাহে ৮শ থেকে শি, সেই মজুরি পেত?” “সে সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারি না।” (নং ৭০৯)। এই ভাবে জীবিক; অর্জন থেকে তাদের বাধা দিতে আপনি এখনো প্রস্তুত?” হায়রে, নির্মম-নির্দয় ব্যক্তি! “আমি প্রস্তুত।” (নং ৭১০) মেয়েদের কর্ম-নিয়োগ সম্পর্কে অঞ্চলে সাধারণ মনোভাব কি?” “মনোভাব কি?” “মনোভাব হচ্ছে এই যে এই কাজটা অবমাননাকর এবং খনি-শ্রমিক হিসাবে আমরা মনে করি যে, খাদের কিনারায় তাদের দেখতে পাওয়া ছাড়া অন্য কোন অধিকতর সম্মানের জায়গায় নদের দেখতে পাওয়া ভাল। … কাজের কোন কোন অংশ দারুণ কষ্টকর; এই ব্যালকাদের মধ্যে অনেকে দিনে ১০ টন পর্যন্ত মাল তোলে।” (নং ১৭১৫, ১৭১৭)। আপনি কি মনে করেন ফ্যাক্টরিতে যে-মেয়েরা কাজ করে তাদের চেয়ে কোলিয়ারিতে যে-মেয়েরা কাজ করে, তাদের নৈতিকতা নিচু মানের?” “……. ফ্যাক্টরিতে কাজ-করা মেয়েদের তুলনায় খারাপের শতকরা ভাগ কিছুটা বেশি হতে পারে।” (নং ১২৩৭),‘কিন্তু ফ্যাক্টরির নৈতিক মান সম্পর্কেও তো আপনি খুব খুশি নন?” “না, আমি খুশি নই।” (নং ১৭৩৩) “আপনি কি ফ্যাক্টরিতেও মেয়েদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান?” “না, আমি চাইনা।” (নং ১৭৩৪) “কেন চান না?” “আমি মনে করি মিল-ফ্যাক্টরিতে কাজ করা তাদের পক্ষে বেশি সম্মানজনক।” ( নং ১৭৩৫) “তবু, আপনি মনে করেন, এ কাজ তাদের নৈতিকতার পক্ষে হানিকর?“খাদের পারে কাজ করা যতটা হানিকর, ততটা নয়।” কিন্তু আমি ব্যাপারটা দেখছি সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে; আমি কেবল নৈতিক অবস্থানের দিক থেকেই দেখছি না। বালিকাদের উপরে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে এই অধঃপতন চরম শোচনীয়। যখন এই ৪০০ বা ৫০০ বালিকা খনি-শ্রমিকদের স্ত্রী হয়, তখন তাদের স্বামীরা এই অধঃপতনের দরুন দারুন কষ্ট ভোগ করে। এর ফলে তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে যায় এবং পানাসক্ত হয়।” (নং ১৭৩৬), “যদি আপনি কয়লা খনিতে মেয়েদের নিয়োগ বন্ধ করতে চান, তা হলে তোত আপনি লোহা কারখানাতেও তাদের নিয়োগ বন্ধ করতে চাইবেন; কি, তাই না?” “অন্য কোন ক্ষেত্রের কথা আমি বলতে পারিনা।” (নং ১৭৩৭)। লোহা-কারখানায় নিযুক্ত মেয়েদের পরিস্থিতি এবং কয়লাখনিতে মাটির উপরে নিযুক্ত মেয়েদের পরিস্থিতি—এ দুয়ের মধ্যে আপনি কি কোনো পার্থক্য দেখতে পান?” “এ সম্পর্কে আমি এখনো যাচাই করে দেখিনি” (নং ১৭৪০ )। “আপনি কি এমন কিছু দেখতে পান যা দুটি শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য-সূচক?” “আমি তা যাচাই করে দেখিনি, কিন্তু বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমি যা দেখেছি তা থেকে আমি জানি যে আমাদের অঞ্চলে অবস্থাটা অতি শোচনীয়।” : নং ১৭৪১)। “যেখানেই মেয়েদের নিয়োগ অধঃপতন ঘটায়, এমন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই কি হস্তক্ষেপ করবেন?” আমি মনে করি, এদিক থেকে এটা ক্ষতিকারক হবে : ইংরেজদের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুভূতিগুলি তার লাভ করেছে তাদের মায়েদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে।” (নং ১৭৫ . ) “সেটা তো কৃষিক্ষেত্রে নিয়োগের বেলাতেও সমান ভাবে প্রযোজ্য; নয় কি?” “হ্যা, কিন্তু সেট। কেবল দুটি ঋতুর জন্য, আর এখানে আমাদের কাজ রয়েছে চারটি ঋতুর সব কটি ঋতু জুড়েই। নং ১৭৫১) “তারা প্রায়ই কাজ করে দিন এবং রাত; গা ভিজে যায়; তাদের শরীর নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে।” “আপনি সম্ভবত ব্যাপারটি সম্পর্কে খোঁজ খবর করেন। নি?” “আমি যেতে যেতে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি, কিন্তু খাদের পাড়ে কাজের যে ফলাফল মেয়েদের উপরে ঘটে, আর কোনোখানেই তার তুলনা দেখিনি। এটা হল পুরুষের কাজ, বলিষ্ঠ পুরুষের কাজ।”। ১৭৫৩, ১৭৯৩, ১৭৯৪)। আপনার অনুভূতিটি এই রকম যে, উন্নততর শ্রেণীর খনি-শ্রমিকেরা, যারা নিজেদের আরো উন্নীত করতে চায়, মনুষ্যত্ব বিকশিত করতে চায়, তারা তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পায় না। বরং তাদের স্ত্রীরা তাদেরকে আরে, নীচে টেনে আনে।” “হ্যা।” i নং ১৮০৮)। এই বুর্জোয়াদের কাছ থেকে আরো কিছু ফুটিল প্রশ্নের পরে, অবশেষে, বিধবাদের জন্য, দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য তাদের সহানুভূতি’র গোপন রহস্যটি বেরিয়ে পড়ে। “কয়লা-মালিক কয়েকজন ভদ্রলোককে নিয়োগ করেন কাজকর্ম জারক করার জন্য এবং তার অনুমোদন পাবার জন্য। এরা যে পলিসিটি অনুসরণ করে তা হল যথাসাধ্য স্বল্প ব্যয়ের ভিত্তিতে সবকিছু পরিচালনা করা, আর এই বালিকাদের নিযুক্ত করে দৈনিক ১ শিলিং থেকে ১ শিলিং ৬ পেন্স মজুরির হারে, যেখানে একজন পুরুষ মানুষকে নিযুক্ত করতে লাগত দৈনিক ২ শিলিং ৬ পেন্স করে।” (নং ১৮১৬)।
