১. খনিতে ১০ বছর ও তদুর্ধ বছর বয়স্ক বালকদের নিয়োগ :
খনিতে যাতায়াতের সময় হিসাবে নিয়ে কাজের সময় সচরাচর ১৪ বা ১৫ ঘণ্টা; সকাল ৩, ৪ ও ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৫ ও ৬টা অবধি (নং ৬,৪৫২,৮৩)। বয়ঃপ্রাপ্তরা কাজ করে দুই শিফটে, প্রত্যেকটি শিফট ৮ ঘন্টা করে, কিন্তু খরচের দরুন, বালকদের বেলায় কোন অদল-বদল করা হয় না (নং ৮,২০৩,২০৪)। প্রধানত কমবয়সী বালকদের নিযুক্ত করা হয় খণর বিভিন্ন অংশে হাওয়া চলাচলের দরজা খোলা ও বন্ধ করার কাজে; অপেক্ষাকৃত বেশিবাসীদের নিযুক্ত করা হয় কয়ল, বনের এত ভাই কাজে (নং ১২২,৭৩৯,১৭৪৭); এই দীর্য ঘটা ধরে তারা খনিগতে কাজ করে ১৮ ব৷ ১২ বছর বয়স পর্যন্ত, যখন তাদের লাগানো হয় নিয়মিত খনিখননের কাজে (নং ১৬১)। যে-কোনো পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় শিশু ও কিশোর-কিশোীদের প্রতি এখন আরো খারাপ আচরণ করা হয়, আরো কঠোর কাজ করানো হয় (নং ১৬৬৩–১৬৬৭ )। খনি-ধনিকরা প্রায় সর্বসম্মতভাবে দ করে যে পার্লামেন্ট ১৪ বছরের কমবয়সী শিশুদের খনির কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ করে একটা আইন পাশ করুক। এবং এখন হুসি ভিভিয়ান, যিনি নিজেই একজন খনি-ধনিক, প্রশ্ন করছেন, “শ্রমিকের পরিবারে দারিদ্রের উপরেই কি নির্ভর করে ন শ্ৰ’মকের মতামত?” মিঃ ব্রুস : “আপনি কি মনে করেন, যেখানে মাতা বা পিতা কেউ আহত, রোগগ্রস্থ, কিংবা যেখানে পিতা মৃত এবং কেবল মাতাই জীবিত, সেখানে ১২/১৪ বছরের একটি শিশু যদি পরিবারের জন্য দিনে ১ শি ৭ পেন্স আয় করে, তা হলে খুব কঠিন ব্যাপার হবে?”… আপনাকে নিশ্চয়ই একটা সাধারণ নিয়ম বেঁধে দিতে হবে? আপনি কি এমন একটি আইন প্রণয়নের সুপারিশ করতে প্রস্তুত যা ১২/১৪ বছরের কমবয়সী শিশুদের কাজে নিয়োগ ঢালাওভাবে বন্ধ করে দেবে, তা তাদের মাতা-পিতার অবস্থা যা-ই হোক না কেন? “হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত।” (নং ১০৭-১১০ )। ভিভিয়ান : “যদি ধরে নেওয়া যায় যে, ১৪ বছরের কমবয়সী শিশুদের কর্ম-নিয়োগ নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ করা হল, তা হলে, তাদের মাতা-পিতার অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের জন্য কাজের খোঁজ করবে, যেমন ম্যানুফ্যাকচারে।” “সাধারণভাবে সেটা হবে না বলেই আমার ধারণা।” (নং ১৭৪)। কিশ্লেয়ার্ড : “কিছু বালক দারোয়ানের কাজ করে?” “হ্যাঁ।” “যতবার আপনি দরজা খোলেন বা বন্ধ করেন সাধারণত ততবারই কি একটা প্রবল দমকা বাতাসের সৃষ্টি হয় না?” এটা শুনতে বেশ সহজ বলেই মনে হয় কিন্তু আসলে এটা একটা কষ্টকর ব্যাপার?” “সেখানে সে আটকে থাকে ঠিক যেন জেলখানার সেলের মধ্যে কয়েদীর মত।” বুর্জোয় ভিভিয়ান : “যখনি একটি বালকের হাতে একটা ল্যাম্প দেওয়া হয়, সে কি পড়তে পারে না?” ! সে পারে, যদি তাকে মোম দেওয়া হয়। তবে আমার ধারণা, তাকে যদি বই পড়তে দেখা যায়, তা হলে সেট। তার দোষ বলে ধরা হবে। সেখানে তাকে তার কাজ করতে হয়; তার করণীয় একটা কর্তব্য রয়েছে এবং তাকে সবচেয়ে আগে সেদিকেই মন দিতে হবে; আমি মনে করিনা, খনির গর্তে তাকে বই পড়তে দেওয়া হবে।” (নং ১৩৯, ১৪১, ১২৩, ১৫৮, ১৬)।
২. শিক্ষাঃ
খনি-শ্রমিকের। চায় কারখানার ক্ষেত্রে যেমন আছে, খনির ক্ষেত্রেও তেমন তাদের শিশুদের বাধ্যতামূলক শিক্ষার জন্য একটি আইন পাশ করা হোক। তারা বলে যে, ১০ এবং ১২ বছরের শিশুদের কর্মে নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসাবে স্কুল-সার্টিফিকেট দেখানোর যে নিয়ম আছে, সেটা একটা ফাকি। এই বিষয়ে সাক্ষীদের পরীক্ষা করার ব্যাপারট। সত্য সত্যই ভঁড়ামে’। “এই আইনটি কার বিরুদ্ধে প্রয়োজন—শিক্ষক না মাতা পিতার বিরুদ্ধে?” “আমার মনে হয়, উভয়েরই বিরুদ্ধে।” “আপনি কি বলতে পারেন না কার বিরুদ্ধে বেশ :” “না, আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না।” ( নং ১১৫, ১১৬) “শিশুর যতে স্কুলে যাবার জন্য কয়েক ঘণ্টা করে ছাড়া পায়, এমন কোনো ইচ্ছা নিয়োগকতদের মধ্যে দেখা যায় কি?” “না, তার জন্য কাজের ঘণ্টা কখনো কমানে হয় না।” { নং ১৩৭)। মিঃ কিন্নেয়ার্ড, “আপনি কি বলতে পারেন, যে সাধারণভাবে খনি-মজুরের। তাদের শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন করে? আপনার কি এমন দৃষ্টান্ত জানা আছে যে, কাজ শুরু করার সময়ে তার যতটা শিক্ষা ছিল, পরে তা থেকে তার শিক্ষ। খুব বেশি একটা উন্নত হয়েছে? বরং যখন তারা ফিরে যায়, তখন তার আগে যতটাও বা আয়ত্ত করেছিল, তাও হারিয়ে ফেলে?” “সাধারণতঃ তাদের আরো অবনতি ঘটে, তাদের উন্নতি হয় না। তারা বিভিন্ন বদঅভ্যাস আয়ত্ত করে; তার মদে ও জুয়ায় এবং অনুরূপ সব ব্যাপারে মেতে ওঠে এবং সম্পূর্ণ সর্বনাশের গহ্বরে তলিয়ে যায়।” (নং ২১১) “শিক্ষাদানের জন্য তারা কি নৈশ বিদ্যালয় স্থাপনের মত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হয়?” “সামান্য কয়েকটা কোলিয়ারি আছে যেখানে নৈশ স্কুল চালু আছে, এবং সম্ভবতঃ সেইসব স্কুলে কিছুসংখ্যক ছেলে যায়। কিন্তু শারীরিক ভাবে তারা এমন শান্ত থাকে যে স্কুলে গিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয় না।” (নং ৪৫৪)। “তা হলে আপনি শিক্ষার বিরুদ্ধে?”—সিদ্ধান্ত করেন বুর্জোয়া ব্যক্তিটি। “নিশ্চয়ই নয়, কিন্তু :(নং ৪৪৩)। “কিন্তু নিয়োগ কর্তারা কি স্কুল-সাটিফিকেট দাবি করতে বাধ্য নন?” “আইনত তারা বাধ্য; কিন্তু তারা যে তা করেন, সে ব্যাপারে আমি অবহিত নই।” “তা হলে এটাই আপনার মত যে সার্টিফিকেট দাবি করার এই যে ধারাটি তা কোলিয়ারিগুলিতে সাধারণত মেনে চলা হয় না।” (নং ৪৪৩, ৪৪৪)। “লোকেরা কি এই শিক্ষার প্রশ্নে বিশেষ আগ্রহ দেখায়? বেশির ভাগ লোকই দেখায়।” (নং ৭১৭) তারা কি এ ব্যাপারে ব্যগ্র যে আইনটি কার্যকরী করা হোক?” “বেশির ভাগই ব্যগ্র। { নং ৭১৮) “আপনি কি মনে করেন, এই দেশে আপনি যদি কোন আইন পাশ করেন, তা হলে জনগণ নিজেরাই যদি সেই আইন কার্যকরী করতে এগিয়ে না আসে, সেই আইন ফলপ্রসূ হতে পারে?” এমন অনেকেই আছেন যারা বালকের নিয়োগে আপত্তি করতে চান, কিন্তু তা করলে তারা সম্ভবত চিহ্নিত হয়ে যাবেন?” (নং ৭২০ ) “কাদের দ্বারা চিহ্নিত?” “তাদের নিয়োগকর্তাদের দ্বারা।” (নং ৭২১)। “আপনি কি মনে করেন কোন লোক আইন মেনে কাজ করলে, নিয়োগকর্তা তার পিছনে লাগবেন?” “আমার বিশ্বাস, হঁ্যা, লাগবেন।” (নং ৭২২)। “লেখাপড়া জানে না এমন ১০-১২ বছর-বয়সী কোন বালকের নিয়োগে কোন শ্রমিককে আপত্তি তুলতে আপনি শুনেছেন কি?” “এটা মানুষের ইচ্ছার উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।” (নং ১২৩) “আপনি কি পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন?” “আমি মনে করি, খনি-শ্রমিকদের শিক্ষার জন্য ফলপ্রসূ কিছু করতে হলে তা অবশ্যই পার্লামেন্টের আইনের দ্বারা বাধ্যতামূলক করতে হবে।” (নং ১৬৩৪)। “আপনি কি বাধ্যবাধকতাটা কেবল কয়লাখনি-শ্রমিকদের পক্ষেই আরোপ করতে চান, গ্রেট ব্রিটেনের সমস্ত শ্রমজীবী জনগণের পক্ষেই আরোপ করতে চান?” “আমি এখানে এসেছি কয়লা-শ্রমিকদের হয়ে কথা বলতে।” (নং ১৬৩৬)। আপনি অন্যান্য বালকদের থেকে ওদের আলাদা করে দেখছেন কেন?” “কারণ আমি মনে করি, ওরা সাধারণ নিয়মের একটি ব্যতিক্রম।” (নং ১৬৩৮)। “কোন দিক থেকে?” “শারীরিক দিক থেকে।” (নং ১৬৩৯)। “অন্যান্য শ্রেণীর ছেলেদের তুলনায় ওদের ক্ষেত্রে শিক্ষা বেশি মূল্যবান হবে কেন?” “আমি জানি না যে তা বেশি মূল্যবান; কিন্তু খনির কাজে অতিরিক্ত খাটুনি খেটে তাদের পক্ষে সাণ্ডে স্কুলে বা ডে-স্কুলে লেখাপড়া শিখবার সুযোগ ঢের কম।” (নং ১৬৪০)। “এই ধরনের একটি প্রশ্নকে সম্পূর্ণভাবে স্বতন্ত্র করে দেখা অসম্ভব।” (নং ১৬৪৪)। “স্কুলের সংখ্যা কি যথেষ্ট প্রচুর?”-“না।” (নং ১৬৪৬)। “যদি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়ম করে দেওয়া হয় যে প্রত্যেকটি শিশুকে স্কুলে যেতে হবে, তা হলে প্রত্যেকের যাবার মত অত স্কুল কোথায় হবে?” “না, হবে না, কিন্তু আমি মনে করি, তেমন অবস্থা উদ্ভূত হয় তা হলে স্কুলেরও উদ্ভব ঘটবে।” (নং ১৬৪৭)। আমার ধারণা, তাদের (ছেলেদের কেউ লিখতে পড়তে জানে না।” “বেশির ভাগই জানে না। বয়স্কদের মধ্যেও বেশির ভাগ জানেন না।” (নং ৭৫, ৭২৫)।
