“কর্ম-নিযুক্ত বলতে বোঝাবে মনিবের কিংবা মাতা-পিতার যে-কোন একজনের অধীনে কোন হস্তশিল্পে মজুরির বিনিময়ে বা বিনা-মজুরিতে নিযুক্ত থাক।।”
“মাতা-পিতার যে-কোন একজন বলতে বোঝাবে হয় মাত, নয় পিতা কিংবা অভিভাবক কিবা এমন কোন লোক, যার হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে আছে কোন …… শিশু, তরুণ-বয়স্ক ব্যক্তি বা মহিল।।”
“শিশু, তরুণ-বয়স্ক ব্যক্তি বা মহিলার চাকরির ব্যাপারে আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে ৭ম অনুচ্ছেদে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কেবল কর্মশালার অধিকারীকেই নয়, তা সে মাতা বা পিতাই হোক বা অন্য কেউ হেকি, তাকেই যে কেবল জরিমানা দিতে হবে, তাই নয়, “শিশু, তরুণ-তরুণী বা মহিলার মাতা বা পিতা কিংবা অন্য কোন ব্যক্তি যে তার শ্রম থেকে সুবিধা ভোগ করে বা তার উপরে নিয়ন্ত্রণ ভোগ করে, তাকেও জরিমানা দিতে হবে।”
‘কারখানা আইন সম্প্রসারণ আইন, যা বৃহৎ শিল্পগুলির ক্ষেত্রেই কেবল প্রযোজ্য, তা এক গাদা ব্যতিক্রম ও মালিকের সঙ্গে কাপুরুষোচিত আপস-রফার ফলে কারখানা আইন’-এর তুলনায় শিথিলতা-প্রাপ্ত হল।
‘কর্মশালা নিয়ন্ত্রণ আইন’, য. ছিল সর্বাংশে শোচনীয়, তাও পৌর ও স্থানীয় কতৃপক্ষের হাতে পড়ে অকেজো হয়ে গেল, অথচ এদের উপরেই ভয় ছিল এই আইন কার্যকরী করার। ১৮৭১ সালে পার্লামেন্ট যখন তাদের হাত থেকে এই ক্ষমতা তুলে নিয়ে কারখানা-পরিদর্শকদের হাতে ন্যস্ত করল এবং এই ভাবে এক কলমের খোঁচায় পপিদর্শকদের দায়িত্বে আরো একশ-হাজার কর্মশালা এবং তিনশ ইট-কারখানা স্থাপন করল, তখন খুব সতর্কভাবেই ব্যবস্থা করা হল, যাতে তাদের স্টাফে আর আট জনের বেশি লোক যুক্ত করা না হয় অথচ এই অতিরিক্ত দায়িত্ব-দানের আগে থেকেই এই স্টাফে লোক ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম।[২৯]
তা হলে ইংল্যাণ্ডের ১৮৬৭ সালের আইনে যেটা আমাদের নজরে পড়ে সেটা হল, একদিকে ধনতান্ত্রিক শোষণের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে খুবই ব্যাপক ও অসাধারণ সব ব্যবস্থা গ্রহণে শাসক শ্রেণীগুলির পার্লামেন্ট নীতিগত ভাবে বাধ্য হয়; অন্য দিকে, সেই ব্যবস্থাগুলিকে কার্যে পরিণত করতে সে দ্বিধা, বিরুদ্ধতা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে।
১৮৬২ সালের তদন্ত কমিশন খনি-শিল্পের জন্যও একটি নোতুন আইনের প্রস্তাব করে ছিল; অন্যান্য শিল্পের তুলনায় এই শিল্পের একান্ত বৈশিষ্ট্য এই যে, এখানে ভুস্বামী ও ধনিকের স্বার্থ হাতে হাত মিলায়। এই দুটি স্বার্থের পারস্পরিক বৈরিত কারখানা আইন প্রণয়নের পক্ষে সহায়ক হয়েছে; অন্য দিকে, এই বৈরিতার অনুপস্থিতি খনি আইন প্রণয়নে বিলম্ব ও প্রতারণার যথেষ্ট কারণ হিসাবে কাজ করেছে।
১৮৪০ সালের তদন্ত কমিশন এত ভয়ানক, এত শোচনীয় সব ব্যাপার ফাস করে দিয়েছিল এবং তার ফলে গোটা ইউরোপ জুড়ে এমন নিনি পড়ে গিয়েছিল যে নিজের বিবেককে রক্ষা করার জন্য ১৮৮২ সালে খনি আইন পাশ করতে হয়, যে, আইনে সে কেবল ১০ বছরের কমবয়সী শিশুদের এবং নারীদের খনিগর্ভে কাজ করার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে।।
তারপরে, আর একটি মাইন, ১৮৬০ খনি-পরিদর্শন আইন, পাশ হয় এবং তাতে সংস্থান রাখা হয় যে, বিশেষ ভাবে এই কাজের জন্যই মনোনীত সরকারি কর্মচারীরা খনিগুলি পরিদর্শন করবে এবং যদি তারা স্কুল থেকে?প্ত প্রয়োজনীয় টফিকেট না দেখাতে পারে বা স্কুলে একটি নির্দিষ্ট সখ্যক ঘটা হাজিব? না দেয়, এ হলে ১০ এবং ১২ বছরের মধ্যবর্তী নমস্ক ছেলের খনির কাজে নিযু ও হবে না। স্কুল-পরিদর্শকদের হাস্যকর ভাবে স্বল্প সংখ্যা, তাদের ক্ষমতার যৎসামান্যত এবং অন্যান্য করণের দরুন এই আইনটি সম্পূর্ণ অকেজে!-ই থেকে যায়; যতই ‘আম! এগো ততই এই অন্যান্য কারণগুলি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
খনি প্রসঙ্গে প্রকাশিত সাম্প্রতিকতম ‘র, বুক-গুলির মধ্যে একটি হল “খনি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট এবং তৎসহ সাক্ষ্যপ্রমাণ ইত্যাদি, ১৩শে জুলাই, ১৮৬৬।” এই কমিটি গঠিত হয় কমন্স সভা থেকে নাছাই-কর সদস্যদের নিয়ে এবং এর অধিকার ছিল সাক্ষীদের তলব ও জেরা করবার, উক্ত রিপোর্টটি এই কমিটিরই কাজ। রিপোর্টটি একটি মোট আকারের ‘ফোলিও’ ই; যার মধ্যে খোদ রিপোর্টটি হচ্ছে মাত্র পাঁচ লাইনের এই বকুব্যটি : কমিটির বলার মত কিছু নেই; অরে।। সাক্ষীকে জেরা করা দরকার !
সাক্ষীদের যে-পদ্ধতিতে জেরা করা হয়, ত ই ল্যাণ্ডের আদালতগুলিতে যে-পদ্ধতিতে জো করা হয়, তাকেই মনে পড়িয়ে দেয়, যেখানে উকিল চেষ্টা করেন ধৃষ্ট, অপ্রত্যাশিত, দ্ব্যর্থবোধক ও জটিলতাপূর্ণ ও প্রসঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক শূন্য প্রশ্নের সাহায্যে সাক্ষীকে ভয় দেখাতে, চমকে দিত এবং বিভ্রান্ত করে দিতে এবং তার পরে তার কাছ থেকে আদায় করা উত্তরগুলির উপরে নিজের ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিতে। এই তদন্তে কমিটির সদস্যরা নিজেরাই জেরা করেন, এবং তাদের মধ্যে থাকেন খনির ভূস্বামী ও খনিজ-আহরণকারী ধনিক উভয়েই; সাক্ষীরা প্রায় সকলেই হল খনি-শ্রমিক। গোটা প্রহসনটা মূলধনের মর্ম-প্রকৃতির এত বৈশিষ্ট্যসূচক যে তা থেকে কয়েকটি অনুচ্ছেদ এখানে উদ্ধৃত না করে পারা যায় না। সংক্ষেপে উপস্থিত করার উদ্দেশ্যে আমি। সেগুলিকে বিভিন্ন শিরোনামায় ভাগ করেছি। এই সঙ্গে বলে রাখছি যে, প্রত্যেকটি প্রশ্ন ও তার উত্তর ইংল্যাণ্ডের ব্লু-বুকগুলিতে নম্বর দ্বারা চিহ্নিত আছে।
