কমিশন তা চূড়ান্ত রিপোর্টে প্রস্তাব করেছে যে ১৪,০০,০০০ শিশু কিশোর কিশোরীও মহিলাকে কারখানা আইনের আওতায় আনা হোক; এদের মধ্যে অর্ধেকই শোষিত হয় ছোট কারখ নাগুলতে এবং ঘরোয়া কাজের মাধ্যমে;[২৫] কমিশন বলেছে, কিন্তু পার্লামেন্ট যদি এই সম সংখ্যক শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মহিলাকেই উল্লিখিত আইনের আশ্রয়ে নিয়ে আমাকে সঠিক বলে বিবেচনা করে …… তা হলে নিঃসন্দেহে সেই আইনের কল্যাণকর ফল কেবল তার আশু লক্ষ্যস্থানীয় অল্প বয়সী ও ক্ষীণবল ব্যক্তিদের উপরেই পড়বে না, প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের উপরেও পড়বে যারা এই সব কর্ম-প্রতিষ্ঠানে অবলম্বে এর প্রভাবে আসবে। এই আইন তাদের জন্য নিয়মিত ও পরিমিত কাজের ঘণ্টা বাধ্যতামূলক করবে; এই এই আইন তাদের কাজের জায়গা গুলিতে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যবস্থা কবে, এই আইন স্বভাবতই সেই শারীরিক শক্তি-সঞ্চয় কৃষ্টি ও পুষ্টি ঘটৰে যার উপরে তার নিজের এবং তার দেশের মঙ্গল এতটা নির্ভর ক; এই আইন উদীয়মান শিশু-প্রজন্মকে রক্ষা করবে কচি বয়সের অত্যধিক খানি চুপ থেকে, যা তাদের শরীরকে ভেঙে দেয় এবং অসময়ে অপটু করে দেয়। সর্বশেসে, এই আইন তাদের জন্য আন্তঃ ১৩ বছর পর্যন্ত-নিশ্চিত করবে প্রাথমিক শিক্ষ, লভে: সুযোগ এবং অবসান ঘটবে সেই চরম অজ্ঞতার। যার অতি বিশ্ব বরণ উপস্থিত কর। হয়েছে আমাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারদের রিপোর্টে, যা পড়া যায়না গভীরতম বেদনা এবং জাতীয় অধঃপতনের এক প্রগাঢ় অনুভূতি ছাড়া।[২৬]
১৮৬৫ সালের ৫ই ফেব্রুঃ রি রাজকীয় ভাষণের মধ্যমে টোকি মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে যে, তারা শিল্প-কমিশনের প্রস্তাবগুলিকে “বিল”-এর আকার দিয়েছেন।[২৭] ঐ পর্যন্ত উপনীত হতে তাদের লেগেছে আরো ২ বছরের এক্সপেরিমেন্টাম ইন কর্পোর ভিলি। সেই ১৮৯০ সালেই শিশুশ্রম সম্পর্কে একটি পার্লামেন্টির কমিশন নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৮৪২ সালে প্রকাশিত এই কমিশনের রিপোর্টে উদঘাটিত হয়, নাসাউ ডবলু সিনিয়র-এর ভাষায়, একদিকে মনিব ও মাতা-পিতার অর্থ-গৃপ্নতা, স্বার্থপরতা ও নিষ্ঠুরতার এবং অন্যদিকে, কিশোর ও শিশু-বয়সী ছেলে-মেয়েদের দুর্দশা, অধঃপতন ও সাশের এক সবচেয়ে ভয়ংকর চিত্র। ধরা যেতে পারে যে এটা একটা অতীত যুগের চিত্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে দেখা যায় যে, এই বিভীষিকাগুলি অতীতেও যেন ছিল, আজও তেমন আছে। প্রায় ২ বছর আগে হার্ডউইক কর্তৃক প্রকাশিত এক পুস্তিকায় বলা হয়েছে যে ১৮৪২ সালে যেসব অনাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আজও সেগুলি পূ-প্রস্ফুটিত আকারে রয়ে গিয়েছে। শ্ৰমিক-শ্রেণীর শিশুদের নীতি ও স্বাস্থ্যের প্রতি সাধারণ অবহেলার এটা একটা অদ্ভুত দৃষ্টান্ত যে গত ২০ বছর ধরে এই রিপোর্টটির প্রতি কোনো দৃষ্টি দেওয়া হয়নি, যে। দীর্ঘ সময় ধরে নীতি’ কথাটির মানে কি সে সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা ছাড়াই বড় হয়ে উঠেছে যে শিশুরা, যাদের না ছিল কোনো জ্ঞান, ধর্মবোধ বা স্বাভাবিক স্নেহ-মমতা, তারাই আজ হয়েছে বর্তমান যুগের মাতা-পিতা।”[২৮]
যেহেতু সামাজিক ব্যবস্থা পালটে গিয়েছে, সেই হেতু পার্লামেন্টের আজ সাহস হয়নি ১৮৬২ সালের কমিশনের দাবিগুলিকে তাকবন্দী করে রাখবার যেমন সে রেখেছিল ১৮৪২ সালের কমিশনের দাবিগুলিকে। অতএব, ১৮৬৪ সালে যখন কমিশন তার রিপোর্টের চার ভাগের এক ভাগও প্রকাশ করে উঠতে পারেনি, তখনি মৃৎ শিল্প (কুম্ভকার-শিশু সমেত) কাগজের ঝালর, দিয়াশলাই, কার্টিজ ও ক্যাপ প্রস্তুতকারক এবং ফুশ্চিয়ান-কাটারদের নিয়ে আসা হয়, বস্ত্র-শিল্পে যে-আইনটি চালু ছিল, সেই আইনটির আওতায়। ১৮৬৭ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারির রাজকীয় ভাষণের মাধ্যমে। তৎকালীন টোরি মন্ত্রিসভা উক্ত শিল্প-কমিশনের সুপারিশগুলির ভিত্তিতে “বিল” উত্থাপনের কথা ঘোষণা করে; কমিশন অবশ্য তার কাজ শেষ করেছিল ১৮৬৬ সালেই।
১৮৬৭ সালের ১৫ই আগস্ট এবং ২১শে আগস্ট কারখানা আইন সম্প্রসারণ আইন এবং কর্মশালা নিয়ন্ত্রণ আইন যথাক্রমে রাজকীয় অনুমোদন লাভ করে। প্রথম আইনটি বড় বড় শিল্পের ক্ষেত্রে এবং দ্বিতীয় আইনটি ছোট ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
প্রথমটি প্রযোজ্য ব্লাস্ট ফানেস, লোহ ও তামা কল, ঢালাই কারখানা, মেশিন শণ, তামা ম্যানুফ্যাক্টরি, গাট্টা-পার্চা কারখানা, কাগজ কল, কাচ কারখানা, তামাক ম্যানুফ্যাক্টরি, ছাপাখানা (সংবাদপত্র সমেত), বই-বাধাই, সংক্ষেপে উল্লিখিত ধরনের সমস্ত শিল্প-প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেখানে ৫০ বা তদূর্ধ্ব সখ্যক শ্রমিক যুগপৎ এবং বছরে অন্তত ১০০ দিন কাজ করে।
কর্মশালা নিয়ন্ত্রণ আইনটির কর্ম-পরিধি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেই সম্পর্কে একটা ধারণা দেবার জন্য আমরা তার ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ থেকে নিচেকার অংশগুলি উদ্ধত করছি।
“হস্তশিল্প” বলতে বোঝাবে যে-কোন দৈহিক শ্রম, যা বৃত্তিগত ভাবে প্রয়োগ করা হয় কোন একটি জিনিস বা তার কোন একটি অংশ তৈরি করে কিংবা বিক্রয়ের জন্য কোন একটি জিনিসের পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন, অলংকরণ ও সম্পূর্ণতা বিধান অথবা অন্য ভাবে তার অভিযোজন ঘটিয়ে লাভ করার উদ্দেশ্য।”
“কর্মশালা বলতে বোঝাবে যে-কোন ঘর বা জায়গা, তার উপরে কোন হাত থাক বা না থাক, যেখানে কোন হস্তশিল্প সম্পাদিত হয় কোন শিশু, কিশোর-কিশোরী বা মহিলার দ্বারা এবং এই শিশু, কিশোর-কিশোরী বা মহিলাদের নিয়োগ করে যে-ব্যক্তি তার যে ঘরে বা জায়গায় প্রবেশের অধিকার আছে এবং যার উপরে তার নিয়ন্ত্রণ আছে।”
