—————-
১. প্ৰাচীন জার্মানরা জমির পরিমাণ নির্ধারিত করত একদিনে কতটা জমির ফসল কাটা যেত, সেই নিরিখ দিয়ে এবং সেই এককের নাম ছিল ট্যাববের্ক, ট্যাগবান্নে ইত্যাদি (jurnale, or terra jurnalis, or dioroalis), মান্নস্মাড্ ইত্যাদি (জি. এল. ফন মউরার প্রণীর ‘Einleitung…zur Geschichte dar Mark,-&c. Verfassungo’ মুনচেন, ১৮৫৪, পৃঃ ১২৯)
(২) কাজেই গালিয়ানি যখন বলেন যে; মূল্য হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যেকারী সম্পর্ক-“La Ricchezza e una ragione tra due persone,” তাঁর উচিত ছিল এ কথাটাও যোগ করা যে : বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যেকার সম্পর্ক বিভিন্ন দ্রব্যের মধ্যেকার সম্পর্ক রূপে প্রকাশিত। (Galiane : Della Moneta, P. 221, Milano, 1803)
(৩) “নিয়মবদ্ধ সময়ের ব্যবধানে যে বিপ্লব দেখা দেয়। তার নিয়মকে আমরা কি বলে অভিহিত করব? এতো প্রকৃতির নিয়ম ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষের জ্ঞানের অভাবের উপর এই নিয়ম প্রতিষ্ঠিত এবং মানুষের কার্যকলার এই নিয়মের ক্ষেত্রে “Umrisse Zu einer Kritik der Nationalokonomie“-“Deutsch Franzosische Jahrlencher”–সম্পাদনা : আর্নল্ড রুজ, কার্ল মার্কস।
(৪) এমনকি রিকার্ডোর মধ্যেও পাওয়া যায় স্ত্ৰবিন্সন-জাতীয় গল্প। “তঁর লেখায় আদিম শিকারী এবং আদিম ধীবর দেখা দেয় পণ্যের মালিক হিসেবে। তারা বিনিময় করে শিক্ষার-লব্ধ পশু আর ধূত। মৎস্য! বিনিময়ের হার নির্ধারিত হয়। পশু আত্ন মৎস্যের মধ্যে বিধৃত শ্ৰম-সময়ের দ্বারা। এই ভাবে তিনি তাদের দিয়ে ইতিহাসের পরের কাজটি আগেভাগেই করিয়ে রাখেন। শিকারী আর ধীবর তাদের হাতিয়ার ইত্যাদির হিসেব করে ১৮১৭ সালের লিওন এক্সচেঞ্জ-এর দাম। অনুযায়ী। যে বুর্জেীয়া “কর্মটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় সেটি ছাড়া একমাত্র মিঃ ওয়েনএর প্যারালালোগ্রাম ই তার চোখে সমাজের একমাত্র ‘ফৰ্ম বলে প্রতীয়মান হয়।” (কার্ল মার্ক্স, “Zur Kritik, Etc.” পৃঃ ৩৮, ৩৯)
(৫) বিদেশে এমন একটা হাস্যকর ধারণা গড়ে উঠেছে যে ‘‘সাধারণ সম্পত্তি ব্যাপারটি তার আদিমরূপে কেবল স্লাভ কিংবা রুশদের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। ‘আমরা দেখিয়ে দিতে পারি যে রোমান, টিউটন এবং কেলটি-দের মধ্যেও তার অস্তিত্ব ছিল; ভগ্নাবস্থায় হলেও এর কিছু কিছু চিহ্ন এখনো ভারতে দেখা যায়। এশিয়ার, বিশেষ করে ভারতের, সাধারণ সম্পত্তির বিভিন্ন রূপের গবেষণা যখন আরও ভালোভাবে হবে তখন দেখতে পাওয়া যাবে যে রূপগত বৈচিত্র্য থেকে তার অবসানেরও বৈচিত্ৰ্য দেখা গিয়েছে। যেমন, রোমান এবং টিউটন ব্যক্তিগত সম্পতির বিভিন্ন আদিমরূপ ভারতীয় সাধারণ সম্পত্তির বিভিন্ন রূপ থেকে অনুমেয়। (কার্ল মার্ক্স, Zur Kritik পৃঃ ১০)
(৬) মূল্যের পরিমাপ সম্বন্ধে রিকার্ডোর বিশ্লেষণই সবচেয়ে ভালো; তবে তার অসম্পূর্ণতা ধরা পড়ে তার গ্রন্থের তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডে। মূল্য সম্বন্ধে সাধারণভাবে চিরায়ত অর্থনীতিবিদদের দুর্বলতা এই যে তারা কখনো সুস্পষ্টরূপে এবং সম্পূর্ণ সচেতনভাবে শ্রমের এই দুই রূপের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখান নি; শ্রম যা মূল্যের ভিতর থাকে এবং ঐ একই শ্রম যা আবার ব্যবহার মূল্যের ভিতরও থাকে। অবশ্য, কার্যতঃ এ পার্থক্য করা হয়েছে, কেননা, তারা একবার দেখিয়েছেন শ্রমের পরিমাণগত দিক এবং আর একবার দেখিয়েছেন তার গুণগত দিক। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না যে শ্রমের পরিমাণগত সমতার মধ্যেই উহা আছে তার গুণগত অভিন্নতা অর্থাৎ নির্বিশেষে মনুষ্য-শ্রমে তার রূপায়ণ। উদাহরণস্বরূপ রিকার্ডে বলেন যে, তিনি ডেস্টাট দ্য ক্রেসির সঙ্গে এ বিষয়ে একমত : “যেহেতু এটা সুনিশ্চিত যে আমাদের একমাত্র আদি ধন হল আমাদের শারীরিক ও নৈতিক ক্ষমতাগুলি, সেহেতু সেগুলির নিয়োগ, অর্থাৎ কোন-না-কোন ধরনের শ্রমই, হচ্ছে আমাদের একমাত্র আদি বিত্ত; আমরা যেসব জিনিসকে বলি ধন তা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র এই নিয়োগ থেকেই। . . . এটাও নিশ্চিত যে, ঐ সমস্ত জিনিসগুলি কেবল সেই শ্রমেরই প্রতিনিধিত্ব করে, যে-শ্রম তাদের সৃষ্টি করেছে; এবং যদি তাদের একটি মূল্য থাকে, কিংবা দুটি বিভিন্ন মূল্য থাকে, তা হলে তারা সেই মূল্য পেয়ে থাকতে পারে কেবল যে-শ্রম থেকে তাদের উদ্ভব ঘটে, সেই শ্রমের মূল্য থেকেই।” (রিকার্ডে, ‘প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল ইকনমি, লণ্ডন, ১৮২১, পৃঃ ৩৩৪)। আমরা কেবল এখানে এটাই বলতে চাই যে, রিকার্ডে ডেস্টাটের কথাগুলির উপরে নিজের গভীরতর ব্যাখ্যা আরোপ করেছেন। ডেস্টাট যা বলেছেন, আসলে এই এক দিকে, ধন বলতে যেসব জিনিস বোঝায়, তা সবই, যে-শ্রম তাদের সৃষ্টি করে, সেই শ্রমের প্রতিনিধিত্ব করে; কিন্তু, অন্য দিকে, তারা তাদের “দুটি বিভিন্ন মূল্য” (ব্যবহার-মূল্য ও বিনিময়-মূল্য)। অর্জন করে “শ্রমের মূল্য’ থেকে। তিনি এই ভাবে হাতুড়ে অর্থনীতিবিদরা যে-মামুলি ভুল করে থাকেন, সেই একই ভুল করেন, ধারা একটি পণ্যের (এক্ষেত্রে শ্রমের) মূল্য ধরে নেন বাকি সব পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করার জন্য। কিন্তু রিকার্ডে ব্যাখ্যা করেন যেন ডেস্টাট বলেছেন যে, (শ্রমের মূল্য নয়) শ্রমই ব্যবহার-মূল্য ও বিনিময়-মূল্য- উভয় মূল্যের মধ্যে মূর্ত হয়। যাই হোক, রিকার্ডে নিজেই শ্রমের দ্বিবিধ চরিত্রের উপরে-যা মূত হয় দ্বিবিধ ভাবে, তার উপরে-এত কম গুরুত্ব আরোপ করেন যে, তিনি তঁর “মূল্য এবং ধন, তাদের পার্থক্যসূচক গুণাবলী”। সংক্রান্ত অধ্যায়টিকে নিয়োগ করেছেন জে-বি-সে’র মত তুচ্ছ খুঁটিনাটির শ্রমসাধ্য পর্যালোচনায়। এবং পরিশেষে তিনি বিস্মিত হয়ে যান এই দেখে যে ডেস্টাট একদিকে তঁর সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, শ্ৰমই হল মূল্যের উৎস, এবং অন্য দিকে জে-বি-সে’র মূল্য সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গেও ঐকমত প্ৰকাশ করেন।
