২০. (“শিশু নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট”, পৃঃ ৩২)। “বলা হয় যে, রেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দরুন এই আকস্মিক ‘অর্ডার’ এবং তজ্জনিত তাড়াহুড়ো, খাবার সময়ের বেনিয়ম, কর্মীদের বেশি সময় ধরে কাজ ইত্যাদির রেওয়াজ বিপুল ভাবে বেড়ে গিয়েছে।” (ঐ পৃঃ ৩১)
২১. “শিশু নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট”, পৃঃ ৩৫ নং ২৩৫, ২৩৭।
২২. “শিশু নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট”, পৃঃ ১২৭, নং ৫৬।
২৩. “১৮৩২-৩৩ সালে ‘শিপিং-অর্ডার’ যথাসময়ে পুরণ না করার জন্য লোকসানের যুক্তিটি কারখানা মালিকদের ছিল একটা প্রিয় যুক্তি। এই বিষয়ে এখন যে যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, তখন তার যা গুরুত্ব হত, এখন তা হতে পারে না: তখন মানে, যখন বাষ্পের দরুন সমস্ত দূরত্ব অর্ধেক হয়ে গিয়েছে এবং পরিবহনের নোতুন নিয়ম-কানুন প্রবর্তিত হয়েছে, তার আগে। যতবার পরীক্ষা করা গিয়েছে, তত বারই যুক্তিটি অসার বলে বলে প্রতিপন্ন হয়েছে। আমি নিশ্চিত এখনো পরীক্ষা করলে, তাই হবে।” (“রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ৫৪, ৫৫)।
২৪. “শিশু নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট”, পৃঃ ১৮, নং ১১৮।
২৫. সেই ১৬৯৯ সালে জন বেলার্স মন্তব্য করেছিলেন : ফ্যাশনের অনিশ্চয়তার দরুন অভাবী দরিদ্রের সংখ্যা বেড়ে যায়। এর দুটি ক্ষতিকর দিক আছে। প্রথমত, শীতকালে। কাজের অভাবে ঠিক-মজুরদের অবস্থা হয় শোচনীয়; বস্ত্র ব্যবসায়ী ও তঁত মালিকেরা বসন্ত কাল আসার আগে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য পুজি খাটাতে সাহস করে না; এবং তারা জানে বসন্ত কাল এলে তখন তাদের মজুদ প্রকাশ করার সাহস পায় না বসন্তকাল আসবার আগে কেউ তাদের নিয়োগ করে না; তখন বোঝা যায় কি ফ্যাশন আসবে। দ্বিতীয়তঃ, বসন্তকালে ঠিক-মজুরদের সংখ্যা অপ্রতুল, কিন্তু তঁত-মালিকদের কহুসংখ্যক শিক্ষানবিশ অবশ্যই সংগ্রহ করতে হয়, কারণ ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তাদের যোগাতে হয় গোটা রাজ্যের প্রয়োজন; সুতরাং, দেশ উজাড় করে, লাঙল থেকে হাত লুটে এনে কাজ করাতে হয়; এরাই আবার শীতকালে পরিণত হয় ভিখারীতে কিংবা ভিক্ষা করতে লজ্জা বোধ করলে মারা যায় অনাহারে।” “এসেজ অ্যাবাউট দি পুয়োর”, পৃঃ ৯।
২৬. “শিশু নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট”, পৃঃ ১৭১, নোট ৩৪।
২৭. ব্রাডফোর্ডের কিছু ব্ৰপ্তানি-প্রতিষ্ঠানের সাক্ষ্য নিম্নরূপ : “এই অবস্থায় এটা পরিষ্কার যে কোনো বালককে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা বা ৭টা ৩০-এর বেশি খাটাবার দরকার নেই। এটা কেবল বাড়তি হাত আর বাড়তি বিনিয়োগের ব্যাপার। যদি কিছু মালিক এত লোভী না হত, তা হলে বালকদের এত দেরি পর্যন্ত কাজ করতে হত না; একটা বাড়তি মেশিনের খরচ মাত্র ১৬ বা £১৮; এখন যে অতিরিক্ত সময় খাটানো হয়, তার বেশির ভাগটারই কারণ হল যন্ত্রপাতি আর জায়গার অভাব।” (“শিশু নিয়োগ কমিশন, পঞ্চম বিপোর্ট”, পৃঃ ১৭১, নং ৩৫, ৩৬, ৩৮)।
২৮. ঐ, লণ্ডনের এক ম্যানুফ্যাকচারার, যিনি অন্যান্য ব্যাপারে কাজের ঘণ্টার বাধ্যতা মূলক নিয়ন্ত্রণকে দেখে থাকেন ম্যানুফ্যাকচারারদের বিরুদ্ধে কাজের লোকদের এবং পাইকারী ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে স্বয়ং ম্যানুফ্যাকচারারদের সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বলেন, “আমাদের ব্যবসার উপরে চাপ সৃষ্টি করে জাহাজ-মালিকেরা; তারা এমন সময়ে জাহাজে পাল তুলে দিতে চায়, যাতে করে গন্তব্য স্থলে একটা নির্দিষ্ট ঋতুতে পৌঁছে গিয়ে মাল বেচতে পারে, এবং সেই সঙ্গে আবার পাল-তোলা জাহাজ আর বাম্প-চালিত জাহাজের মধ্যে মাল-ভাড়ার পার্থক্যটাও পকেটস্থ করতে পারে, কিংবা যারা দুটি বাষ্প-চালিত জাহাজের মধ্যে আগেরটা ধরতে চায়, যাতে করে তাদের প্রতিযোগীদের চেয়ে আগে গিয়ে বিদেশী বাজারে পৌছাতে পারে।”
২৯. একজন ম্যানুফ্যাকচারকারীর মতে এটাকে অতিক্রম করা যেত পার্লামেন্টের একটি সার্বিক আইনের চাপের অধীনে কারখানার প্রসার-সাধনের বিনিময়ে।” ঐ পৃঃ ১৩, নোট : ৩৮।
.
নবম পরিচ্ছেদ– কারখানা-আইনঃ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিবিধ অনুচ্ছেদঃ
ইংল্যাণ্ডে সেই আইনের সাধারণ সম্প্রসারণ
কারখানা সংক্রান্ত আইন-প্রণয়ন হল উৎপাদন-প্রক্রিয়ার স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত রূপের বিরুদ্ধে সমাজের প্রথম সচেতন ও সুশৃংখল প্রতিক্রিয়া; আমরা আগেই দেখেছি, তুলোর সুতো, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, বৈদ্যুতিক তারবার্তা যেমন আধুনিকশিল্পের আবশ্যিক অবদান, কারখানা-আইনও তেমন তাই। ইংল্যাণ্ডে সেই আইনের সম্প্রসারণ সম্পর্কে আলোচনায় যাবার আগে আমরা কারখানা-আইনগুলির কয়েকটি অনুচ্ছেদের দিকে সংক্ষেপে নজর দেব, এমন কয়েকটি অনুচ্ছেদ যেগুলির সঙ্গে কাজের ঘণ্টার সম্পর্ক নাই।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলির শব্দ-বিন্যাসই এমন যাকে ধনিকদের পক্ষে সেগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া সহজ নয়; এই শব্দ-বিন্যাস ছাড়া ঐ অনুচ্ছেদগুলিতে আর যা আছে, তা একেবারেই নগণ্য; বস্তুতপক্ষে, সেগুলি দেয়ালে চুনকাম, অন্যান্য কিছু ব্যাপারে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা, আলো-বাতাস চলাচলের বন্দোবস্ত এবং বিপজ্জনক মেশিনারির বিরুদ্ধে সুরক্ষা-সংক্রান্ত সংস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তৃতীয় গ্রন্থটিতে আমরা সেই অনুচ্ছেদগুলির সম্পর্কে মালিকদের উন্মত্ত বিরোধিতার বিষয়ে ফিরে আসব, যে অনুচ্ছেদগুলি তাদেরই শ্রমিকদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষার জন্য কয়েকটি উপকরণ বাবদ তাদের উপরে সামান্য অর্থব্যয় চাপিয়ে দিয়েছিল। তাদের সেই বিরোধিতা স্বাধীন বাণিজ্যের মন্ত্রটির উপরে করে নতুন ও প্রাজ্জ্বল আলোকসম্পাত, যে মন্ত্রটি বলে যে, যে-সমাজে রয়েছে স্বার্থে স্বার্থে সংঘাত, সেই সমাজে প্রত্যেকটি ব্যক্তিই এগিয়ে নিয়ে যায় সকলের অভিন্ন স্বার্থ“আর কিছু করে নয়, কেবল তার নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ সাধন করেই! একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। পাঠক জানেন যে, গত ২০ বছরে শন শিল্প বিপুলভাবে বিস্তার লাভ করেছে এবং সেই বিস্তার লাভের সঙ্গে আয়ার্ল্যাণ্ডে শন-পাটিকরণের কল (স্কাচিং মিল’)-ও বিস্তার লাভ করেছে। ১৮৬৪ সালে এই দেশে এই ধরনের মিলের সংখ্যা ছিল ১,৮০০টি। নিয়মিত ভাবে শরৎকালে ও শীতকালে নারী ও তরুণ-বয়স্ক ব্যক্তিদের”, নিকটবর্তী ক্ষুদ্র কৃষক-ঘরের স্ত্রী পুত্র ও কন্যাদের—এমন একটি শ্রেণীর মানুষ যাৱা মেশিনারির ব্যাপারে সম্পূর্ণ অনভ্যস্ত, তাদের তাদের ক্ষেতের কাজ থেকে তুলে নেওয়া হয় স্কাচিং মিল’—গুলির বোলারে শন যোগাবার কাজে। যেসব দুর্ঘটনা ঘটে, তা সংখ্যা ও প্রকৃতি উভয় দিক থেকেই ইতিহাসে তুলনারহিত। কর্ক-এর অদূরে কিডিনানে একটি স্কাচিং মিলে ১৮৫২ থেকে ১৮৫৬ সালের মধ্যে ছটি প্রাণনাশা দুর্ঘটনা এবং ষাটটি অঙ্গহানি ঘটে, যে দুর্ঘটনাগুলির প্রত্যেকটি নিবারণ করা যেত, যদি কয়েক শিলিং মাত্র খরচ করে কয়েকটি সহজ উপকরণের ব্যবস্থা করা হত। ডাউনপ্যাট্রিকের কারখানাসমূহের সার্টিফাইং সার্জন ডাঃ ডবলু হোয়াইট তাঁর ১৫ই ডিসেম্বর, ১৮৩৫ তারিখের সরকারি বিপোর্টে বলেন, “স্কাচিং মিলগুলিতে যে সব গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলি সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ প্রকৃতির। অনেক ক্ষেত্রেই দেহের চার ভাগের এক ভাগ ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে হয় মৃত্যু আর নয়তে অক্ষমতা ও যন্ত্রণাভোগের এক করুণ ভবিষ্যৎ। দেশে মিলের সংখ্যাবৃদ্ধি অবশ্যই এই ভয়ংকর পরিণামের আরো বিস্তার ঘটাবে, এবং যদি সেগুলিকে আইন-সভার অধীনে আনা হয়, তা হয়ে সেটা হবে একটা বিরাট আশীর্বাদ। আমি নিশ্চিত, যদি স্কাচিং মিলগুলির যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা করা করা হয়, তা হলে জীবন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিপুল ক্ষয়-ক্ষতি নিবারণ করা যায়।”[১]
