————
১. ইংল্যাণ্ডে মেয়েদের টুপি তৈরি ও পোশাক-আশাক তৈরির কাজ প্রধানত নিয়োগ-কর্তার জায়গাতেই করা হয়; কিছু করে যারা সেখানে থাকে সেই মহিলারা আর কিছু করে যারা বাইরে থেকে আসে তারা।
২. মিঃ হোয়াইট নামে জনৈক কমিশনার একটি সামরিক পোশাক তৈরির ম্যানুফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন, যেখানে কাজ করত ১,০০০ থেকে ১,২০০ ব্যক্তি, প্রায় সকলেই মহিলা। তিনি একটি জুতো তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছিলেন, যেখানে কাজ করত ১,৩০০ জন, যাদের মধ্যে অর্ধেকই ছিল শিশু ও অল্পবয়সী ছেলে-মেয়ে।
৩. একটি দৃষ্টান্ত : রেজিস্ট্রার জেনারেল-এর সাপ্তাহিক মৃত্যু-তালিকায়, ২৬শে ফেব্রুয়ারী, ১৮৬৪, অনশনজনিত ৫টি মৃত্যুর উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐ একই দিনে ‘টাইমস পত্রিকায় আরো একটি মৃত্যুর খবর বের হয়। এক সপ্তাহে ৬টি অনশন-মৃত্যু।
৪. “শিশু নিয়োগ কমিশন, দ্বিতীয় বিপোর্ট, ১৮৬৪, পৃঃ ৬৭; নং ৪৬-৯, পৃঃ ৮৪; নং ১২৪, পৃঃ ৭৩; নং ৪৪১, পৃঃ ৬৮, নং ৬, পৃঃ ৮০; নং ১২৬, পৃঃ ৭৮; নং ৮৫, পৃ ৭৬ নং ৬৯, পৃঃ ৭২, নং ৪৮৩।
৫. “কাজের ঘরের জায়গাগুলির খাজনাই সম্ভবতঃ সেই উপাদান, যা শেষ পর্যন্ত বিষয়টিকে নির্ধারণ করে এবং তার ফলে প্রধান শহরেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিয়োগকর্তাকে ও পরিবারকে কাজ দেবার পুরানো প্রথাটি সবচেয়ে বেশি কাল বজায় ছিল এবং সবচেয়ে আগে আবার চালু করা হয়েছে।” (“শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ৮৩, নোট : ১২৩) এই উদ্ধৃতির শেষ অংশটিতে কেবল জুতো তৈরির শিল্পের কথাই বলা হয়েছে।
৬. দস্তানা তৈরি ও অন্যান্য শিল্পে, যেখানে কর্মীদের অবস্থা দুঃস্থদের তুলনায় কোনো মতে ভাল নয়, সেখানে এটা ঘটেনা।
৭. ঐ পৃঃ ৮৩, টীকা ১২২।
৮. একমাত্র লাইসেস্টারেই পাইকারি বুট ও জুতো শিল্পে ১৮৬৪ সালে ব্যবহারে ছিল ৮০ টি সেলাই-কল।
৯. “শিশু নিয়োগ কমিশন, দ্বিতীয় বিপোর্ট, ৩৮৬৪, পৃঃ ৮৪, নং ১২৪।
১০. দৃষ্টান্ত : লণ্ডনে পিমলিকোয় ‘আর্মি ক্লোদিং ডিপো; লণ্ডনডেরিতে টিল্পি ও হেণ্ডার্সনে সার্ট ফ্যাক্টরি; লিমারিকে মেসার্স টেইট-এর ফ্যাক্টরিতে, যেখানে কাজ করে ১,২০০ কর্মী।
১১. “কারখানা-ব্যবস্থার দিকে প্রবণতা” (ঐ, পৃঃ ৬৭)। “গোটা কর্ম-নিয়োগের ব্যাপারটা তখন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এবং লেস’ শিল্পে, বয়নকার্যে যে পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে, সেই দিকে যাচ্ছে” (ঐ, নং ৪০৫)। “একটি সম্পূর্ণ বিপ্লব” (ঐ, পৃঃ ৪৬, নং ৩১৮)। ১৮৪০ সালে শিশু নিয়োগ কমিশনের সময়ে মোজা-তৈরি তখনো হত দৈহিক শ্রমের সাহায্যে। ১৮৪৬ সাল থেকে নানা ধরনের মেশিন প্রবর্তিত হয়, যেগুলি চলত বাষ্পে। মোজা-তৈরিতে নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে ৩ বছর বয়স থেকে শুরু করে সব বয়সের কর্মীর সংখ্যা ১৮৬২ সালে ছিল প্রায় ১,২৯,৩০০। এদের মধ্যে ৪,৬৩ জন কাজ করত কারখানা-আইনের অধীনে, ১৮৬২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মাসের ‘পার্লামেন্টারি রিটান” দ্রষ্টব্য।
১২ যেমন মৃৎ-সামগ্রী শিল্পে গ্লাসগোর ‘ব্রিটেন পটারি’-র মেসার্স করেন রিপোর্ট করেন :“আমাদের পরিমাণ ঠিক রাখবার জন্য আমরা ব্যাপক ভাবে মেশিন চালু করছি, যেগুলি চালায় অদক্ষ শ্রমিকেরা; প্রতি দিনই আমরা আরো নিশ্চিত হচ্ছি যে পুরনো ব্যবস্থার তুলনায় আমরা বেশি পরিমাণ উৎপন্ন করতে পারি (“রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ১৩)। “কারখানা আইনের একটা ফল হল জোর করে মেশিনারি প্রবর্তন করা।” (ঐ, পৃঃ ১৩-১৪)।
১৩. যেমন, মৃৎশিল্পে (পটারিজ’-এ) কারখানা-আইনের বিস্তার-সাধনের পরে, হস্ত-চালিত ‘জিগার’-এর বদলে শক্তি-চালিত ‘জিগার’-এর ব্যবহারে বিপুল বৃদ্ধি।
১৪. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ৯৬ এবং ১২৭।
১৫. দিয়াশলাই তৈরি ক্ষেত্রে এই এবং অন্যান্য মেশিনারি প্রবর্তনের ফলে কেবল একটি বিভাগেই ২৩০ জন যুবক-যুবতীর পরিবর্তে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সের ৩২ জন বালক-বালিকা নিয়োগ করা যয়। শ্রমের এই সাশ্রয় আরো বেশি করে সাধিত হয় ১৮৬৫ সালে বাম্প-শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে।
১৬. “শিশু নিয়োগ কমিশন, দ্বিতীয় রিপোর্ট, ১৮৬৪”, পৃঃ ১, নং ৫০।
১৭. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫, পৃঃ ২২।
১৮. “কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, এই সমস্ত উন্নয়ন যদিও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি প্রযুক্ত হয়েছে, তা হলেও সেগুলি কোনক্রমেই ব্যাপক নয় এবং অনেক পুরনো ম্যানুফ্যাক্টরিতেই নোতুন মূলধন নিয়োগ না করে সেগুলিকে নিয়োগ করা যায় না অথচ এই মূলধন নিয়োগ বর্তমান অধিকারীদের অনেকেরই সাধ্যের বাইরে।” উপ পরিদর্শক মে লিখেছেন, “আমি আনন্দ না করে পারিনা যে, এমন একটা ব্যবস্থা ( যেমন কারখানা-আইন প্রসারণ আইন’) প্রবর্তন ফলে সাময়িক বিশৃংখলা হলেও এবং বস্তুতঃ পক্ষে যে-সমস্ত খারাপ জিনিস তা দূর করতে চায় সরাসরি তার নির্দেশক হলেও…” ইত্যাদি ইত্যাদি (“রিপোর্টস অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬৫)।
১৯. যেমন ব্লাস্ট ফার্নেস-এর ক্ষেত্রে, “সপ্তাহের শেষ দিকে কাজের সময় সাধারণত বেড়ে যায়, কেননা মানুষের অভ্যাসই হল সোমবারটা, এমনকি মঙ্গলবারটাও আলসেমি করে কাটিয়ে দেওয়া।” (“শিশু নিয়োগ কমিশন, তৃতীয় রিপোর্ট”, পৃঃ ৬)। “ছোট মালিকদের কাজের সময় খুব অনিয়মিত। তারা ২/৩ দিন করে হারায় এবং তার পরে সেই ক্ষতিটা পূরণ করার জন্য সারা রাত ধরে কাজ করে। তারা সব সময়েই তাদের নিজেদের শিশুদেরকে নিযুক্ত করে, অবশ্য যদি থাকে।” (ঐ, পঃ ৭) “কাজে আসতে এই নিয়মিকতার অভাব উৎসাহিত হয় অতিরিক্ত সময় কাজ করে ক্ষতি পূরণের এই সম্ভাব্যতার দ্বারা। (ঐ, পৃঃ ২৮) “বার্মিংহামে বিপুল পরিমাণ সময় নষ্ট হয় কিছুটা সময় আলসেমি করে কাটিয়ে, বাকি সময়টা গোলামি করতে হয়।” (ঐ, পৃঃ ১১)।
