উল্লিখিত শিল্পগুলিতে একেই তো মজুরি শোচনীয় (খড়-বিনুনির স্কুলগুলিতে খুব বিরল ক্ষেত্রেই তা ৩ শিলিং পর্যন্ত ওঠে), তা-ও আবার টাকার বদলে জিনিসে মজুরি দেওয়ার দরুন তার আর্থিক পরিমাণ আরো কমিয়ে দেওয়া হয়; এই জিনিস মজুরি দেবার প্রথা সর্বত্রই বিদ্যমান, বিশেষ করে, লেস-উৎপাদনকারী জেলাগুলিতে।[১৯]
————
১. ‘শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-৩, ১৮৬৪, টীকা ৪৪৭ পৃঃ ১০৮।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাবে মেশিনারির উপরে ভিত্তিশীল হস্তশিল্পের পুনরুদ্ধার একটি চলতি ঘটনা; সুতরাং যখনি ফ্যক্টরি-ব্যবস্থায় অবশ্যম্ভাবী অতিক্রমণ সংঘটিত হয়, তখনি তজ্জনিত কেন্দ্রীভবন, ইউরোপ, এমনকি, ইংল্যাণ্ডেরও তুলনায় পদক্ষেপে এগিয়ে যায়।
৩. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর ১৮৬৫, পৃঃ ৬৪।
৪. মিঃ গিল্পট বার্মিংহামে প্রথম বড় আকারে ইস্পাত-কলম কারখানা স্থাপন করেন। সেই ১৮৫১ সালেই তা উৎপাদন করত বছরে ১৮,০০,০০,০০০ কলম এবং ব্যবহার করত ১২০ টন ইস্পাত। যুক্তরাজ্যে এই শিল্পের একচেটিয়া অধিকার ছিল। বার্মিংহামের হাতে, বর্তমানে তা উৎপাদন করে হাজার হাজার মিলিয়ম ইস্পাত কলম। ১৮৬১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, এই শিল্পে নিযুক্ত কর্মীসংখ্যা ছিল ১,৪২৮ জন, যাদের মধ্যে ছিল ১,২৬৮ জন নারী-৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে বেশি বয়স্ক।
৫. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-২”, ১৮৬৪ টীকা ৪১৫ পৃঃ ৬৮।
৬. এবং, সত্য কথা বলতে কি, শিশুরা এখন শেফিডে নিযুক্ত করা হয় ফাইল কাটিং-এ।
৭. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-৫”, ১৮৬৬ পৃঃ ৩ টীকা ২৪ পৃঃ ৬, টীকা ৫৫, ৫৬, পৃঃ ৭, টীকা ৫৯-৬০।
৮. ঐ, পৃঃ ১১৪, ১১৫ টীকা ৬, ৭। কমিশনার সঠিক ভাবেই মন্তব্য করেছেন, যদিও সাধারণত মেশিন মানুষের স্থান গ্রহণ করে, কিন্তু এখানে আক্ষরিক ভাবেই অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েরা মেশিনের স্থান গ্রহণ করেছে।
৯. কম্বল ব্যবসা এবং জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়, দ্রষ্টব্য অষ্টম রিপোর্ট৮৬৩, পৃ ১৯৬২০৮।
১০. “শিশু-নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-৫, ১৮৬৬, পৃঃ ১৬-১৮ টীকা ৮৬-৯৭ এবং পৃঃ ১৩০-১৩৩ টাকা ৩৯-৭১ এবং ৩য় রিপোর্ট ১৮৬৪ পৃঃ ৪৮, ৫৬ দ্রষ্টব্য।
১১. “জনস্বাস্থ্য, ষষ্ঠ রিপোর্ট”, লণ্ডন ১৮৬৪, পৃঃ ২৯, ৩১।।
১২. ঐ, পৃঃ ৩০। ডাঃ সাইমন মন্তব্য করেন, লণ্ডনের ২৫ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়সী দর্জি এবং মুদ্রণ-কর্মীর মধ্যে মৃত্যুহার বেশি। এর কারণ নিয়োগ কর্তারা মফস্বল থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত অনেক অল্পবয়সীদের সংগ্রহ করে আনে শিক্ষানবিশ এবং প্রশিক্ষার্থী হিসাবে, যারা আসে ঐ শিল্পে দক্ষতা অর্জনের জন্য। এদের বেশির ভাগই আবার ফিরে যায় কঠিন রোগাক্রান্ত হয়। (ঐ) এই সংখ্যা লণ্ডনের অদমশুমারীতে উল্লেখ আছে—ঐ জায়গার মৃত্যুহার হিসাবে না ধরে লণ্ডন-মৃত্যু হার গণনা করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই প্রকৃত পক্ষে দেশে ফিরে আসে, বিশেষতঃ রোগের প্রকোপের সময়।
১৩. আমি এখানে বলেছি হাতুড়িপেটা পেরেকের কথা, কেটে বা মেশিনে তৈরি পেরেকের কথা নয়। দ্রষ্টব্য : “শিশু নিয়োগ কমিশন, তৃতীয় রিপোর্ট”, পৃঃ ১১-১৯ টীকা ১২৫-১৩০, পৃঃ ৫২, টীকা ১১, পৃঃ ১১৪, টীকা ৪৮৭ পৃঃ ১৩৭, টাকা ৬৭৪।
১৪. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-২, পৃঃ ২২, টীকা ১৬৬।
১৫. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-২”, ১৮৬৪, পৃঃ ১৯, ২০, ২১। .
১৬. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ২১, ২২।
১৭. “শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট, পৃ ১৯, ৩০।
১৮. শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ৪০, ৪১।
১৯. শিশু নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট-১”, ১৮৬৩, পৃঃ ১৮৫।
.
ঙ. আধুনিক ম্যানুফ্যাকচার ও গৃহশিল্পের আধুনিক যান্ত্রিক শিল্পে অতিক্রমণ। ঐসব শিল্পে কারখানা-আইনের প্রয়োগে এই বিপ্লবের ত্বরিতায়ন।
নারী ও শিশুদের শ্রমের নিছক অপব্যবহারের মাধ্যমে, কাজ করা ও বেঁচে থাকার জন্য যে সমস্ত অবস্থা প্রয়োজন তার প্রত্যেকটির নিছক লুণ্ঠনের মাধ্যমে এবং অতি-শ্রম ও নৈশশ্রমের মাধ্যমে শ্রম-শক্তিকে সস্তা করার এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হয় অনতিক্রম্য স্বাভাবিক প্রতিবন্ধকের দ্বারা। ঠিক একই ভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় এই পদ্ধতিগুলির উপরে প্রতিষ্ঠিত সাধারণ ভাবে পণ্যসামগ্রীকে সস্তা করার এবং ধনতান্ত্রিক শোষণ-কার্যের প্রক্রিয়া। যখনি এই বিন্দুটিতে উপনীত হওয়া যায়-যদিও তাতে লাগে অনেক বছর—তখনি ঘণ্টা বেজে ওঠে মেশিনারি প্রবর্তনের এবং সেই সঙ্গে বিক্ষিপ্ত গৃহ-শিল্পগুলির ও ম্যানুফ্যাকচারগুলি কারখানা-শিল্পে দ্রুতগতি রূপান্তরণের।
এই আলোড়নের এক বিরাট আয়তনের দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যায় পরিধেয় পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে। শিশু-নিয়োগ কমিশন’-এর শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে এই শিল্পের মধ্যে পড়ে খড়ের টুপি প্রস্তুতকারক, মেয়েদের টুপি-প্রস্তুতকারক, ক্যাপ-প্রস্তুতকারক, দজি মেয়েদের মাথার সাজ ও পোশাক-আশাক প্রস্তুতকারক, শার্ট-প্রস্তুতকারক; কঁচুলি প্রস্তুতকারক, দস্তানা-প্রস্তুতকারক, জুতো-প্রস্তুতকারক এবং, তা ছাড়াও, আরো অনেক শাখা যেমন গলাবন্ধ, কলার ইত্যাদি। ১৮৬১ সালে ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলসে এই শিল্পগুলিতে নিযুক্ত নারীদের সংখ্যা ছিল ৫,৮৬, ২৯৯; এদের মধ্যে অন্ততঃ ১১৫, ২৪২ জন ছিল ২০ বছর বয়সের নীচে এবং ১৬,৬৫ জন ১৫ বছর বয়সের নীচে। ১৮৬১ সালে যুক্তরাজ্যে নারী-শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল ৭,৫৩,৩৩৪ জন। টুপি তৈরি, জুতো তৈরি, দস্তানা তৈরি ও দর্জির কাজে নিযুক্ত পুরুষ শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল ৪,৩৭,৯৬৯; এদের মধ্যে ১৪,৯৬৪ জন ছিল ১৫ বছর বয়সের নীচে, ৮৯,২৮৫ জন ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে এবং ৩,৩৩,১১৭ জন ২০ বছর। বয়সের উপরে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে অনেকগুলি ক্ষুদ্রতর শাখা-প্রশাখাকে ধরা হয়নি। কিন্তু যেভাবে আছে, সেই ভাবেই সংখ্যাগুলিকে ধরা যাক; তা হলে ১৮৬১ সালের আদমশুমারি অনুসারে একমাত্র ইংল্যান্ড ও ওয়েসেই আমরা পাই ১৩,২৪,২৭৭ জন, কৃষি ও গো-পালনে যত লোক নিযুক্ত রয়েছে তার প্রায় সমান। মেশিনারির যাদু-দ্বারা উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ পণ্য-সম্ভারের এবং ঐ মেশিনারির দ্বারা মুক্তি প্রদত্ত বিরাট শ্রমিক-জনতার কি অবস্থা হয়, তা আমরা উপলব্ধি করতে শুরু করি।
