৯. স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ নৈতিক বিকাশও ইউরোপের, বিশেষ করে, ইংল্যাণ্ডের আধুনিক শিল্পের অবদান। তাদের বর্তমান রূপে ঐ রাষ্ট্রগুলিকে এখন (১৮৬৬) ইউরোপের উপনিবেশ বলেই গণ্য করা উচিত। [ চতুর্থ জার্মান সংস্করণে সংযোজিত-“তারপর থেকে তারা বিকশিত হয়েছে এমন একটি দেশে যার শিল্প এখন দখল করেছে দ্বিতীয় স্থান। অবশ্য তার জন্য তাদের ঔপনিবেশিক চরিত্র এখন সম্পূর্ণ ভাবে লোপ পায়নি।” এফ, এঙ্গেলস ]
১০. ‘লক-আউট’-এর ফলে কর্মচ্যুত লাইসেস্টার-এর জুতো-প্রস্তুতকারীরা ১৮৬৬ সালের জুলাই মাসে ইংল্যাণ্ডের ‘ট্রেড সোসাইটিজ’-এর কাছে এক আবেদনে বলা হয়ঃ ২০ বছর আগে সেলাইয়ের বদলে ‘রিবেট’-এর প্রবর্তন করে লাইসেস্টারের জুত শিল্পে বিপ্লব ঘটানো হয়। সেই সময়ে ভাল মজুরি আয় করা যেত। বিভিন্ন ফার্মের মধ্যে বিরাট প্রতিযোগিতা চলতকে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জিনিস তৈরি করবে। কিন্তু অল্পকাল পরেই এক খারাপ ধরনের প্রতিযোগিতার প্রাদুর্ভাব ঘটে—কে কত কম দামে জিনিস বেচে অন্যকে কোণঠাসা করতে পারবে। এর ক্ষতিকর ফল শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করল মজুরি ছাটাইয়ের আকারে, এবং মজুরি এত দ্রুত এত দারুণ কমে গেল যে অনেক ফার্ম এখন দেয় আগেকার মজুরির অর্ধেক। কিন্তু মজুরি যতই কমে যাচ্ছে, প্রত্যেকটি কমতির সঙ্গে সঙ্গে মুনাফা বেড়েই যাচ্ছে। এমনকি অত্যন্ত দুঃসময়কেও মালিকেরা কাজে লাগায় শ্রমিকের মজুরি দারুণ ভাবে ছাঁটাই করে অর্থাৎ তার জীবন ধারণের দ্রব্য-সামগ্রীকে সরাসরি লুঠ করে তার মুনাফা অসাধারণ ভাবে বাড়িয়ে নিতে। একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট হবে (এটা ইঙ্গিত দেয় ‘কভেন্টি সিক-উইভিং’-এ সংকটের)। “মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষ থেকেই আমি যেসব খবর পেয়েছি তাতে কোন সন্দেহ নেই যে, মজুরি যে-হারে ছাঁটাই করা হয়েছে তা বিদেশী মালিকদের পঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য যতটা দরকার অথবা অন্যান্য ঘটনার দরুণ যতটা দরকার, তার চেয়ে বেশি বেশির ভাগ শ্রমিককে কাজ করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম মজুরিতে। এক পিস রিবন, যা তৈরি করে তন্তুবায় পাঁচ বছর আগে পেত ৬ পা ৭ শিলিং, এখন পায় ৩ শিলিং ৬ পেন্স অথবা ৩ শিলিং ৬ পেন্স; অন্য ধরনের যে কাজের দাম আগে ছিল ৪ শিলিং বা ৪ শিলিং ও পেন্স, তার দাম এখন হয়েছে ২ শিলিং বা ২ শিলিং ৩ পেন্স। চাহিদা বাড়াবার জন্য মজুরি যতটা কমানো দরকার, তার চেয়ে বেশি কমানো হয়েছে বলে মনে হয়। বস্তুত পক্ষে, অনেক ধরনের রিবনের বুনন-খরচ কমানো হলেও, তৈরি জিনিসগুলির বিক্রির দাম কিন্তু কমানো হয়নি।” (মিঃ এফ. ভি. লঙএর রিপোর্ট, ‘শিশু নিয়োগ কমিশন’, ৫ম রিপোর্ট, ১৮৬৬, পৃঃ ১১৪)।
১১. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ৩০।
১২. ঐ, পৃঃ ১৯। ক্যাপিট্যাল (২য়)—১১
১৩. রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ ৩১ অক্টোবর ১৮৬৩ পূঃ ৪১-৪৫
১৪. ঐ, পৃঃ ৪১-৪২।
১৫. ঐ, পৃ: ৫৭।
১৬. ঐ, পৃঃ৫০-৫১।
১৭. ঐ, পৃঃ ৬২-৬৩।
১৮. রিপোর্টস ইত্যাদি, ৩১ এপ্রিল, ১৮৬৪, পৃঃ ২৭।
১৯. রিপোর্টস ইত্যাদি ৩১ অক্টোবর ১৮৬৫, পৃঃ ৬১-৬২, মিঃ হারিস চিহ্ন কনস্টেবল অব বোলটন-এর চিঠি থেকে উদ্ধৃত।
সংগঠিত ভাবে দেশান্তর-গমনের জন্য একটি সমিতি গঠনের উদ্দেশ্যে ল্যাংকাশায়ারের কারখানা-কর্মীদের এক আবেদনে (তাং ১৮৬৩) আমরা দেখতে পাই : “একথা খুব কম লোকই অস্বীকার করবেন যে কারখানা-কর্মীদের বর্তমান ভূপাতিত অবস্থা থেকে তুলতে হলে, তাদের বিরাট সংখ্যায় দেশান্তরে চলে যাওয়া অত্যাবশ্যক, কিন্তু দেশান্তর অভিমুখে একটা অবিরাম প্রবাহ প্রয়োজন এবং তা ছাড়া সাধারণ সময়েও যে তারা তাদের অবস্থা বজায় রাখতে পারে না, তা দেখানোর জন্যই আমরা সবিনয়ে এই তথ্যগুলি আমরা এখানে একত্রে উপস্থিত করছি : ১৮১৪ সালে রপ্তানিকৃত তুলাজাত দ্রব্যাদির সরকারী মূল্য ছিল £ ১,৭৬,৬৫-৩৭৮, যেখানে সত্যকার বিপননযোগ্য মূল্য ছিল ২,৩,৭,৮২৪। ১৮৫৮ সালে রপ্তানিকৃত তুলাজাত দ্রব্যাদির সরকারী মূল্য ছিল ৫ ১৮,২২,২১,৬৮১, প্রকৃত বিপনন যোগ্য মূল্য ছিল এবং ৪,৩০,৩১,৩২২; প্রায় ১০ গুণ জিনিস বিক্রি হয়েছে আগেকার দামে দ্বিগুণের চেয়ে বেশিতে। সাধারণ ভাবে দেশের পক্ষে এবং বিশেষ ভাবে শ্রমিকদের পক্ষে এত হানিকর ফলাফল উৎপন্ন করতে কয়েকটি কারণ এক সঙ্গে কাজ করছে, যা অবস্থা অনুকূল হলে, আমরা বিশদভাবে আপনার নজরে আনতাম; আপাতত এটুকু বলাই যথেষ্ট হবে যে এই সব কারণের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট কারণ হল শমের নিরন্তর বাহুল্য, যা না থাকলে এমন একটা শিল্প, যার ফল হল এমন সর্বনাশা, তা চালু থাকতে পারত না এবং ধ্বংসের হাত থেকে যাকে বাঁচাতে হলে চাই একটি নিরন্তর প্রসারণশীল বাজার। আমাদের তুলা-কলগুলি পর্যায়ক্রমিক শিল্প-মন্দার জন্য অচল হয়ে যেতে পারে; বর্তমান অবস্থায় যা মৃত্যুর মত অবশ্যম্ভাবী; কিন্তু মানুষে মন সর্বদাই কাজ করে চলেছে এবং যদিও আমার মনে হয় যে যখন আমরা বলি যে গত ২৫ বছরে ৬০ লক্ষ মানুষ এই তীর ছেড়ে চলে গিয়েছে, তখন আমরা কম করেই বলি, তবু জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে এবং উৎপাদন সস্তা করার জন্য শ্রমের স্থান চ্যুতি থেকে, সব চেয়ে সমৃদ্ধির সময়েও বয়স্ক পুরুষ শ্রমিকদের একটা বৃহৎ শতাংশের পক্ষে যে-কোনো শতে কাজ পাওয়া অসম্ভব।” (“রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ,৩০ এপ্রিল ১৮৬৩, পৃঃ ৫১-৫২)। একটি পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা দেখব কিভাবে আমাদের বন্ধুরা, ম্যানুফ্যাক চারকারীরা, তুলো-শিল্পের বিপর্যয়ের সময়ে, চেষ্টা করেছিলেন যে কোনো উপায়ে, এমনকি, রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও, শ্রমিকদের দেশান্তরগমনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে।
