তা হলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইংল্যাণ্ডের তুলো-শিল্পের প্রথম ৪৫ বছৱে, ১৭০০ সাল থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত, মাত্র পাঁচটি বছর ছিল সংকট ও অচলাবস্থার বছর; কিন্তু এটা ছিল একচেটিয়া অধিকারের কাল। দ্বিতীয় যুগে, ১৮১৫ থেকে ১৮৬০ পর্যন্ত ৪৮ বছরে, ছিল ২৮ বছরের মন্দা ও অচলাবস্থার পাল্টা মাত্র ২০ বছরের পুনর্জাগরণ ও সমৃদ্ধি। ১৮১৫ থেকে ১৮৩০-এর মধ্যে ইউরোপ মহাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। ১৮৩৩-এর পরে এশিয়ার বাজারের বিস্তৃতি সংঘটিত হয় “মানবজাতির ধ্বংস-সাধনের মাধ্যমে” (ভারতীয় হস্তচালিত তাঁতের তন্তুবায় শ্রেণীর সামগ্রিক-অবলুপ্তির মাধ্যমে)। শস্য আইন প্রত্যাহারের পরে ১৮৪৬ থেকে ১৮৬৩ বছর পর্যন্ত ১৭ বছরে মধ্যে ৮ বছর বলে মাঝারি রকমের তৎপরতা ও সমৃদ্ধি এবং ৯ বছর চলে মন্দা ও অস্থিরতা। এমনকি সমৃদ্ধির বছরগুলিতেও বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষ শ্রমিকদের অবস্থা কি ছিল, তা এই সঙ্গে প্রদত্ত ‘নোট’টি থেকে বিচার করা যায়।
————
১. বিপরীত দিকে, গ্যানিল মনে করেন, কারখানা-ব্যবস্থার চূড়ান্ত ফল হল কর্মীসংখ্যায় অনাপেক্ষিক হ্রাস, আর তাদের বিনিময়ে বেঁচে থাকে এক বর্ধিত সংখ্যক “gens honnectes” এবং গড়ে তোল তাদের সুপরিচিত “perfectibilite perfec tible”। যেহেতু তিনি উৎপাদনের গতি খুব সামান্যই বোঝেন, তিনি অন্তত মনে করেন যে, মেশিনারিকে অবশ্যই হতে হবে একটা মাত্মক প্রতিষ্ঠান, যদি তার প্রজ কর্মব্যস্ত শ্রমিকদের পরিবর্তিত করে দুঃস্থ, এবং তার অগ্রগতি সে যতসংখ্যক ক্রীতদাসত্বের অবসান ঘটিয়েছে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক ক্রীতদাসত্বের প্রাদুর্ভাব ঘটায়। তার নিজের কথাতেই ছাড়া, তার এই বক্তব্যের ভাড়ামি আর কোনো ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয় : “Les classes condamnees a produire et a consommer diminuent, et les classes qui dirigent le travail, qui soulagent, conso lent, et eclairent toute la population, se multiplient…et s’approprient tous les bienfaits qui resultant de la diminution des frais du travail, de l’abondance des productions, et du bon marche des consomma tions. Dans cette direction, l’espece humaine s’eleve aux plus hautes conceptions du genie, penetre dans les profondeurs mysterieuses de la religion, etablit les principes salutaires de la morale ( which consists in ‘s’approprier tous les bienfaits,’ &c.), les lois tutelaires de la liberte (liberty of ‘les classes condamnees a produire?”) et du pouvoir, de l’obeissance et de la justice, du devoir et de l’humanite.” For this twaddle see “Des systemes d’Economie Politique, &c., Par M. Ch. Ganilh.”’ 2cme ed., Paris, 1821, t. I. p. 224, and see p. 212.
২. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর ১৮৬৫, পৃঃ ৫৮। যাই হোক, একই সময়ে, বর্ধিত সংখ্যক কর্মীর জন্য কর্মসংস্থানের উপায় ১১০টি নোতুন মিল-এ প্রস্তুত ছিল, যেগুলিতে ছিল ১১,৬২৫টি তঁত; ৬,২৮,৫৭৬টি টাকু এবং বাষ্প ও জলের মোট ২,৬৯৫ অশ্বশক্তি। (ঐ)।
৩. “রিপোর্টস ইত্যাদি, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ৭৯। ১৮৭১ সালের শেষে, মিঃ এ. রেডগ্রেভ, কারখানা-পরিদর্শক, ব্রেডফোডে ‘নিউ মেকানিক্স ইনষ্টিটিউশনে’ এক বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেন, “কিছুকাল ধরে যেটা আমার নজরে পড়ছে, সেটা হল উল ফ্যাক্টরিগুলির পরিবর্তিত চেহারা। আগে এগুলি ভর্তি ছিল মহিলা আর শিশুতে; এখন মনে হয়, মেশিনারিই সব কাজ করে। এর কারণ জিজ্ঞেস করায় একজন ম্যানুফ্যাকচারার আমাকে বলল, পুরনো ব্যবস্থায় আমি নিয়োগ করতাম ৬৩ জন ব্যক্তি, উন্নত ধরনের মেশিনারি প্রয়োগের পরে আমি তাদের সংখ্যা কমিয়ে করেছিলাম ৩৩ জন, সম্প্রতি আরো নোতুন ও বিস্তারিত অদল-বদলের পরে আমি সেই সংখ্যা নামিয়ে আনতে পেরেছি ১৩-তে।
৪. রিপোর্টস ইত্যাদি, ৩১ অক্টোবর, ১৮৫৬, পৃঃ ১৬ দ্রষ্টব্য।
৫. হস্তচালিত তাঁতের উঁতীদের দুঃখ-দুর্দশা একটি রয়্যাল কমিশন’-এর তদন্তের বিষয় হয়েছিল, যদিও তা স্বীকৃত হয়েছিল এবং তার জন্য বিলাপ করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের অবস্থা সুরাহা করার ব্যাপারটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল দৈব ও কালগত পরিবর্তনের উপরে; আশা করা যায় (২০ বছর পরে !) এখন সেই দুঃখ-দুর্দশা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে সম্ভবতঃ পাওয়ারলুমের বর্তমান ব্যাপক বিস্তারের কল্যাণে। (রিপোর্টস ফ্যাক্টরিজ, ১৮৫৬, পৃঃ ১৫)।
৬. অন্যান্য যে-সব উপায়ে মেশিনারি কাঁচামালের উৎপাদনকে প্রভাবিত করে, তা তৃতীয় গ্রন্থে উল্লেখ করা হবে।
৭. ভারত থেকে গ্রেট ব্রিটেনে তুলা রানির পরিমাণ (পাউণ্ড)
১৮৪৬–৩,৪৫,৪০,১৪৩ / ১৮৬০–২০,৪১,৪১,১৬৮/ ১৮৬৫–৪৪,৫৯,৪৭,৬০০
ভারত থেকে গ্রেট ব্রিটেনে উল রানির পরিমাণ (পাউণ্ড)
১৮৪৬–৪৫,৭৩,৫৮১/ ১৮৬০–২,৩২,১৪,১৭৩/ ১৮৬৫–-২,৬,৭৯,১১১
৮. কেপ থেকে গ্রেট ব্রিটেনে উল-রপ্তানির পরিমাণ : ১৮৪৬–২,৯৫৮,৪৫৭ পাউণ্ড, ১৮৬০–১৬,৫৭৪,৩৪৫ পাউণ্ড, ১৮৬৫–২৯,৯২,৬২৩ পাউণ্ড।
অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্রেট ব্রিটেনে উল-রপ্তানির পরিমাণ : ১৮৪৬–-২,১৭,৮৯,৩৪৬ পাউণ্ড, ১৮৬০–৫,৯১,৬৬,৬১৬ পাউণ্ড, ১৮৬৫–১৩,৯৭,৩৪,২৬১ পাউণ্ড।
