৯. এফ. এঙ্গেলস, ঐ, পৃঃ২১৬।
১০. “দি মাস্টার স্পিনার্স অ্যাও ম্যানুফ্যাকচারার্স ডিফেন্স-ফাণ্ড। রিপোর্ট অব দি কমিটি। ম্যাঞ্চেস্টার, ১৮৫৪, পৃঃ ১৭। এর পরে আমরা দেখব, ‘মাস্টারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা গানও গাইতে পারে, যখন তার সামনে দেখা দেয় তার জীবন্ত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি হাৱাবার আশংকা।
১১. উৱে ‘দি ফিলসফি অব ম্যনুফ্যাকচারার্স পৃঃ ১৫। যিনিই আর্কাইটের জীবন-ইতিহাস জানেন, তিনি কখনো এই পরামানিক প্রতিভাকে “মহৎ” বলে অভিহিত করবেন না। আঠারো শতকের সমস্ত বিরাট উদ্ভাবকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যান্য লোকের উদ্ভাবনগুলি চুরি করার ব্যাপারে সবচেয়ে বিরাট চোর এবং সবচেয়ে জঘন্য ব্যক্তি।
১২. বুর্জোয়া শ্রেণী যে-ক্রীতদাসত্বে প্রটোরিয়্যাট শ্রেণীকে বেঁধেছে, তা কারখানা ব্যবস্থায় যেমন দিনের আলোয় খোলাখুলি বেরিয়ে আসে আর কোথাও তেমন ভাবে আসে না। এই ব্যবস্থায় সমস্ত স্বাধীনতার ইতি ঘটে—কার্যত ও আইনতঃ। শ্রমিক অবশ্যই কারখানায় হাজির হবে সাড়ে পাঁচটায়। যদি তার আসতে কয়েক মিনিট দেরি হয়, তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। যদি ১০ মিনিট দেরি হয়, তাকে প্রাতরাশের আগে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং এই ভাবে সে হারাবে ৪ দিনের মজুরি। তাকে খেতে, পরতে, ঘুমোত হবে মুখের হুকুমে।’ স্বৈরতন্ত্রের ঘণ্টা তাকে ডেকে তোলে তাকে খাবার টেবিল থেকে। এবং ‘মিলে অবস্থা কি? সেখানে মালিকের কথাই নিরঙ্কুশ আইন। সে যেমন খুশি, তেমন আইন তৈরি করে; সে তার মর্জিমত তার অদল-বদল, ও যোগ-বিয়োগ করে, এবং সে যদি আজগুবি অর্থহীন কোন কিছুকে আইনের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়, তা হলে আদালত শ্রমিককে বলবে যেহেতু তুমি স্বেচ্ছায় এই চুক্তিতে প্রবেশ করেছ, সেই হেতু তোমাকে তা মেনে চলতে হবে। তাদের নয় বছর বয়স থেকে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত শ্রমিকে কুণ্ডিত হয় এই মানসিক ও দৈহিক নির্যাতনে। (এফ এজেলস, Die lage der arbeitenden kalasse in Eagland, Leipzing, 1845, পৃ ১১৭)। আদালত কি বলে, দুটি পৃষ্ঠা সাহায্যে আমি তা হাজির করব। একটা ঘটে শেফিতে ১৮৬৬ সালের শেষে। ঐ শহরে একজন শ্রমিক একটা ইস্পাত-কারখানায় দু বছরের জন্য নিজেকে কাজে লাগায়। নিয়োগকর্তার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় সে ঐ কারখানা ছেড়ে যায় এবং যোব করে, কোনো অবস্থাতেই সে আর ঐ মালিকের অধীনে কাজ করবে না। চুক্তিকে দায়ে সে অভিযুক্ত হয় এবং দু মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়। (মালিক যদি চুক্তি ও করে, তা হলে তার বিরুদ্ধে কেবল দেওয়ানি মামলা করা যায় এবং আর্থিক ক্ষতি-পূর্ব ছাড়া আর কোনো কিছুরই ঝকিই তার উপরে কর্তায় না। দু মাস কারাদণ্ড ভোগের পরে ঐ শ্রমিক যখন বেরিয়ে এল, মালিক তাকে তার চুক্তি অনুসারে আবার কাছে যোগ দেবার জন্য আহ্বান করল। শ্রমিক বলল, না, সে ইতিমধ্যেই চুক্তিভজে এ দণ্ড ভোগ করেছে। মালিক তার বিরুদ্ধে আবার নালিশ করে, আদালত বা তাকে দণ্ডিত করে, যদিও মিঃ শী নামে একজন বিচারক একে আইনের দানীয় বিকৃতি বলে প্রকাশ্যেই নিন্দা করেন-এটা এমন একটা বিকৃতি যার ফলে একই অপরাধের জন্য একজনকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে আজীবন দণ্ডিত করা যায়। এই রায় কোনো মফস্বলের গবুচন্দ্রের রায় নয়, লণ্ডনের অন্যতম সর্বোচ্চ আদালতের রায়। [ চতু জার্মান সংস্করণে সংযোজিত এখন এর অবসান ঘটানো হয়েছে। সেখানে সাধারণ গাস-ওয়ার্কস জড়িত, এমন সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া, চুক্তিভরে ক্ষেত্রে এখন ইংল্যাণ্ডে শ্রমিক এবং মালিকের একই অবস্থান এবং উভয়ের বিরুদে কেবল দেওয়ানি ভাবেই মামলা করা যায়।-এফ এঙ্গেলস। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে উইলয়ারে, ১৮৬৩ সালে নভেম্বরের শেষ দিকে। ওয়েস্টবেরি লেইতে অবস্থিত লিওয়ের মিলে হারাপ নামে এক কাপড়-কল-মালিকের অধীনে কর্মরত প্রায় ৩০ জন পাওয়ারলুম-ততী ধর্মঘট করে, কারণ মালিকের একটা অমায়িক অভ্যাস ছিল সকালে আসতে দেরী হবার জন্য শ্রমিকদের মজুরি কেটে নেয়া। ২ মিনিটের জন্য ৬ পেন্স, ৩ মিনিটের জন্য ১ শিলিং, ১০ মিনিটের জন্য ১ শিলিং পেল। এটা ছিল ঘণ্টা-পিছু ৯ শিলিং এবং দিন-পিছু ৫ ৪ ১. শিলিং হারে; যেখানে একজন শ্রমিকের সাপ্তাহিক মজুরি এক বছরের গড়পড়তা ভিত্তিতে কখনো ১০ থেকে ১২ শিলিং-এর বেশি হত না। কাজ শুরুর সময় ঘোণ করার জন্য যারা এখন বালককে নিযুক্ত করেছিল। সে বা বাজিয়ে তা ঘোয়ল করত এক প্রায়ই তা বড় সকালে টানার আগেই। ঐ সময়ের মধ্যে যদি সমস্ত কী সেখানে হাজির না হতে পারত, দরজা বন্ধ করে দেওয়া হত, আর যারা বাইরে পড়ে থাকত, তাদের জরিমানা দিতে হত; এবং যেহেতু সেখানে কোন ঘড়ি ছিল না, সেই হেতু বেচারা শ্রমিকদের নির্ভর করতে হত হারাপের প্রেরণায় অনুপ্রেরিত বাচ্চা-বয়সী সময়-ক্ষটির উপরে। ধর্মঘটি কর্মীরা-মায়েরা ও মেয়েরা-প্রস্তাব দিল যে তারা কাজে যোগ দেবে, যদি সময়-রক্ষী বাচ্চাটার বদলে একটা ঘড়ির ব্যবস্থা করা হয় এবং জরিমানার কিছুটা যুক্তিসঙ্গত হয়। চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে হারাপ ১৯ জন মহিলা ও বালিকাকে ম্যাজিস্ট্রেট-এর কাছে সমন করল। উপস্থিত সকলের ক্রোধ উৎপাদন করে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেকের উপরে ৬ পেন্স করে জরিমানা এবং ২ শিলিং ৬ পেন্স করে মামলার খরচ বাবদ চাপিয়ে দিল।মালিকদের একটা মনোমত কাজ হল শ্রমের উপকরণেও সামগ্রিক ত্রুটির জন্য শ্রমিকদের মজুরি কেটে নিয়ে তাদের শাস্তি দেওয়া। এই পদ্ধতির ফলে ১৮৬৬ সালে মৃৎশিল্পে এক সাধারণ ধর্মঘটের উদ্ভব হয়। শিশু-নিয়োগ কমিশন’ (১৮৬৩-৬৬) যেসব বিপোর্ট দিয়েছে, তাতে এমন বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ আছে, যেখানে শ্রমিক কোনো মজুরি তো পায়ই না, উটে, তার শ্রমের বাবদে এবং শাস্তিমূলক বিবিধ ব্যবস্থার বাবদে তার সুযোগ্য মালিকের দেনাদারে পরিণত হয়। মজরি থেকে কেটে নেবার ব্যাপারে কারখানার স্বৈরপতিরা যে প্রাজ্ঞতার প্রদর্শন করে, তার মহান দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় সর্বশেষ তুলো-সংকটের সময়ে আর বেকার নামে কারখানা-পরিদর্শক বলেন, এই দুঃসহ যন্ত্রণাকর সময়ে তার অধীনে কর্মরত কয়েকজন অল্পবয়সী কর্মীর মজুরি থেকে মাথা পিছু ১০ পেন্স করে কেটে নেবার জন্য সম্প্রতি আমি নিজে একজন তুলোকল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছি। এদের মজুরি কেটে নেওয়া হয় সার্জনের সার্টিফিকেটের জন্য, (যে-বাবদে মালিক নিজে দিয়েছে মাত্র ৬ পেন্স); এর জন্য আইনতঃ ৩ পেন্স কেটে নেওয়া যায় কিন্তু কিছুই কেটে নেবার রীতি নেই। এবং আমাকে আরেকজনের কথা জানানো হয়েছে যে, আইনের বাইরে থেকে একই লক্ষ্য সাধনের জন্য তার অধীনস্থ গরিব শিশুদের কাছ থেকে তাদের তোকাটার শিল্পকলা ও রহস্য শেখানোর নাম করে ১ শিলিং করে আদায় করে; যে মহতে সার্জন তাদের ঐ পেশার জন্য যোগ্য ও সঠিক ব্যক্তি বলে ঘোষণা করে, সেই মহুর্তেই মালিক এই টাকাটা আদায় করে নেয়। সুতরাং, ধর্মঘটের মত অস্বাভাবিক প্রদর্শনীর নেপথ্য কারণ অবশ্যই থাকতে পারে—কেবল সেখানেই নয়, যেখানে তা আত্মপ্রকাশ করে, কিন্তু বিশেষ করে আজকের মত সময়ে ব্যাখ্যা না করলে এই নেপথ্য কারণ জনসাধারণের কাছে অবোধ্যই থেকে যায়। তিনি এখানে উল্লেখ করছেন ১৮৬৩ সালের জুন মাসে ভারওয়েনে পাওয়ারলুম তাদের ধর্মঘটটির কথা। (“রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরি, ৩০ এপ্রিল ১৮৬৩, পৃঃ ৫০-৫১)। এ রিপোর্টগুলি সব সময়ই তাদের সরকারী তারিখকে ছাড়িয়ে যেত।
