যে বাস্তব অবস্থার মধ্যে কারখানায় কাজ করতে হয়, এখানে আমরা কেবল ভাৱ আস দেব। ধনপন্নিবিষ্ট মেশিনারির ভীড়ে জীবন ও অঙ্গহানির বিপদ তো আছেই, ঋতু-ক্রমিক নিয়মিত অনুসারে শিল্পমুদ্ধে নিহত ও আহত সৈনিকদের তালিকা প্রকাশ তো আছেই, তা ছাড়া প্রত্যেকটি ইন্দ্রিয় সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃত্রিমভাবে বর্ধিত তাপমাত্রার দ্বারা, ধুলি-ভারাক্রান্ত আবহাওয়ার দ্বারা।[১৩] উৎপাদনের সামাজিক উপায়-উপকরণের মিথ্যয়, কারখানা-ব্যবস্থাঁর গরম ঘরে পরিণত ও প্রকোপিত হয়ে, মূলধনের হাতে রূপান্তরিত হয় কর্মরত শ্রমিকের জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার ধারাবাহিক লুণ্ঠনে-লুণ্ঠন স্থান, আলো ও বাতাসের, লুণ্ঠন উৎপাদন-প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট কতকগুলি বিপজ্জনক ও ক্ষতিকারক অনুষদের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত সুরক্ষার; প্রমিকের আরামের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের লুণ্ঠনের কথা নাইবা উলেখ করলাম।[১৪] রিয়ার যখন কারখানাকে অভিহিত করেন “উত্তপ্ত কারাগার” বলে, তখন কি তিনি ভুল করেন?[১৫]
————
১. উরে, “রিপোর্ট অব ফ্যাক্টরি, পৃঃ ১৮।
২. উরে, “রিপোর্ট অব ফ্যাক্টরি, পৃঃ ৩১। দ্রষ্টব্য কার্ল মার্ক, পভাটি অব ফিলসফি”, পৃ ১৪০-১৪১।
৩. মনে হয় ইচ্ছা করেই পরিসংখ্যানগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে (অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই ধরনের বিভ্রান্তি-সৃষ্টির বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়া সম্ভব ), যখন ইংল্যাণ্ডের কারখানা আইন তার পরিধি থেকে শেষোক্ত শ্রেণীকে বাইরে রেখেছে, তখন পার্লা মেন্টারি রিটার্ণ কারখানা-কর্মীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ইঞ্জিনীয়ার ও মেকানিকদেরই নয়-সেই সঙ্গে ম্যানেজার, সেলসম্যান, মেসেঞ্জার, ওয়ারহাউজ-ম্যান, প্যাকার ইত্যাদিকেও—এক কথায়, স্বয়ং কারখানা-মালিককে ছাড়া বাকি সবাইকেই।
৪. উরে এটাকে মেনে নেন। বলেন, “প্রয়োজনের সময়ে”, ম্যানেজারের ইচ্ছামত আমিকদের এক মেশিন থেকে অন্য মেশিন সরিয়ে নেওয়া যায়, এবং তিনি বিজয়ীর মত ঘোষণা করেন, “পুরনো যে-রুটিন প্রমকে বিভক্ত করে এবং একজন শ্রমিককে কাজ দেয় অচের মাথা তৈরি করার, আরেকজনকে চুচলো করার, সেই রুটিনের সঙ্গে এই ধরনের অদল-বদল সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” তার পক্ষে ঢের ভাল হত যদি তিনি নিজেকে প্রশ্ন করতেন, কেন এই “পুরনো রুটিন” অটোমেটিক কারখানা থেকে প্রস্থান করে কেবল প্রয়োজনের সময়ে”?
৫. যখন দুর্দশা খুবই বেশি হয়, যেমন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময়ে, তখন কারখানা-কমীকে ‘বুর্জোয়া এখন-তখন রাস্তা তৈরির মত অত্যন্ত বেয়াড়া কাজেও নিয়োগ করে। দুঃস্থ তুলো-শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য স্থাপিত ১৮৬২ ও তার পরবর্তী বছরগুলির ইংরেজ জাতীয় কর্মকাণ্ড এবং ১৮৪৮ সালের ফাসী ‘জাতীয় কর্মকাণ্ড মধ্যে পার্থক্য কেবল এই যে, দ্বিতীয়টিতে রাষ্ট্রের খরচে শ্রমিকদে করতে হত অনুৎপাদনশীল কাজকর্ম আর প্রথমটিতে তাদের করতে হত বুর্জোয়াদের স্বার্থে পৌর কর্ম এবং তা-ও আবার করতে হত নিয়মিত কমার তুলনায় সস্তায় এবং এইভাবে তাদের ঠেলে দেওয়া হত নিয়মিত কর্মীদের তুলনায় প্রতিযোগিতায়। “তুলো শ্রমিকদের দৈহিক চেহারা নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। আমি এটা আবোপ কৰি… কারখানার বাইরে পূর্ত-কাজে নিযুক্ত থাকার উপরে।” (“রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর’ ১৮৬৩, পৃঃ ৫৯)। লেখক এখানে উল্লেখ করছেন প্রেস্টন ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের কথা, যাদের নিযুক্ত করা হয়েছিল প্রস্টন মুর’-এ।
৬. একটি দৃষ্টান্ত : ১৮৪৪ সালের আইনের পর থেকে এমকে স্থানচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের যান্ত্রিক অ্যাপারেটাস’-এর প্রবর্তন। “মেশিনারির মধ্যে, সম্ভবত, স্বয়ংক্রিয় ‘মিউল’-ই অন্য যে-কোনো ধরনের মেশিনারির মতই বিপজ্জনক। এখানে বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে ঘোট ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, যখন ‘মিউল চালু থাকা কালে তাদের হামা দিয়ে তার নিচে যেতে হয় মেঝে ঝাড় দেবার জন্য। এই অপরাধের জন্য বেশ কয়েকজন তদারককারীকে জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো ফল হয়নি। যদি মেশিন-প্রস্তুতকারকেরা কেবল একটা স্বয়ংক্রিয় সম্মার্জনী (সেলফ, সুইপার) উদ্ভাবন করতে পারেন, যার ফলে শিশুদের আর মেশিনের নীচে যাওয়ার দরকার হবে না, তা হলে সেটা হবে আমাদের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলিতে একটি সুখকর সংযোজন। রিপোটল অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮, পৃঃ ৬৩)।
৭. তা হলে, এই হল প্রধোর আশ্চর্য ভাবনা। তিনি একটি মেশিনারিকে উপস্থাপিত করেন শ্রমের উপকরণসমূহের সমন্বয় হিসাবে নয়, স্বয়ং শ্রমিকেরই সুবিধার জন্য প্রত্যংশ প্রক্রিয়াসমূহের সমন্বয় হিসাবে।
৮. এফ. এঙ্গেলস, “Die Lage der arbeitenden classe in England.” p. 217. এমন কি মি. মলিনারির মত একজন সাধারণ ও আশাবাদী ব্যবসায়ী পর্যন্ত T679, “Un homme s’use plus vite en surveillant, quinze heures par jour, l’evolution uniforme d’un mecanisme, qu’en exercant, dans le meme espace de temps, sa force physique. Ce travail de survei llance qui servirait peut-etre d’utile gymnastique a l’intelligence, s’il d’etait pas trop prolonge, detruit a la longue, par son exces, et l’intelligence, et le corps meme.” (G. de Molinari : “Etudes Economiques.” Paris, 1846.)
