৪৯. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরীজ, ৩১শে অক্টোবর ১৮৬২, পৃঃ ৬২।’
৫০. ১৮৬২ সালের পার্লামেন্টারি রিটার্ণও এটা পরিবর্তন করা হয়েছিল। নামীয় অশ্বশক্তির পরিবর্তে আধুনিক চিম-ইঞ্জিন ও জল-চক্রের আসল অশ্বশক্তি দেয়া হয়। ডাবলিং স্পিণ্ডল’-এলিকেও আর ‘স্পিনিং ম্পিগুল’-গুলির মধ্যে ধরা হয়না (১৮৩৯, ১৮৫ এবং ১৮৫৬ সালের রিটার্নে ধরা হয়েছিল)। উলের মিল’-এর ক্ষেত্রে ‘জিগ যোগ করা হয়। পাট এবং শণ মিলগুলির মধ্যে পার্থক্য করা হয় এবং মোজা বোনাকে এই প্রথম অংক কয়।
৫১. “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্ট অ্যাক্টরি, ৩১ অক্টোবর ১৮৫৬, পৃঃ ১৩, ১৪, ২ এ ১৮৫২ পৃ ২৩।
৫২. “রিপোর্টস ফ্যাক্টরি, ১০, ১৫।
৫৩. “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরি, পৃঃ ২০।
৫৪. “রিপোর্টস ইত্যাদি ৩১শে অক্টোবর, ১৮৫৮, পৃ ৯-১০ তুলনীয় রিপোর্ট ইত্যাদি ৩০ এপ্রিল, ১৮৬০ পৃ: ৩।
৫৫. “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ”, ৩১ অক্টোবর ১৮৬২, পৃঃ ১০০, এবং ১৩।
৫৬. দুটি আধুনিক পাওয়ারলুমে একজন তাতী এখন ৬০ ঘণ্টার এক সপ্তাহে করে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গুণমানের ২৬ পিস; পুরনো পাওয়ারলুমে সে এইরকম ৪ পিসের বেশি করতে পারত না। এই ধরনের কাপড় বোনার খরচ ১৮৫০ সালের পরে ২ শিলিং ৯ পেন্স থেকে কমে দাঁড়ায় ৫ ১/৮পেন্স।
“ত্রিশ বছর আগে (১৮৪১) তিন জন ‘পিস’-কর্মী সহ একজন সুতোকাটুনিকে ৩০০ ৩২৪টি টাকুসমন্বিত এক-জোড়ায় বেশি মিউলের দায়িত্ব নিতে হত না। আজকে (১৮৭১) ৫জন ‘পিস’-কর্মী সহ তাকে দেখতে হয় ২,২০০ টাকু এবং উৎপাদন করতে হয় ১৮৪১ সালের তুলনায় অন্তত সাত গুণ।” (জার্নাল অব আর্টস-এ কারখানা পরিদর্শক ও রেগ্রেভ, ৫ই জানুয়ারি, ১৮৭২)।
৫৭. “রিপোর্ট অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬১, পৃঃ ২৫, ২৬।
৫৮. পরপৃষ্ঠার পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাবে ১৮৪৮ থেকে স্কুলে কারখানা কত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ — কারখানা
এই অধ্যায়ের শুরুতে আমরা যা নিয়ে আলোচনা করেছি, তাকে আমরা বলতে পারি কারখানার শরীর অর্থাৎ একটি প্রণালী হিসাবে সংগঠিত মেশিনারী। সেখান আমরা দেখেছি কিভাবে নারী ও শিশুদের শ্রম করায়ত্ত করে মেশিনারি মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে-যে মানুষেরাই হল ধনতান্ত্রিক শোষণের সামগ্রী; দেখেছি কিভাৰে শ্রমের ঘণ্টা মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বাড়িয়ে, মেশিনারি শ্রমিকের খাটাবার মত শ্রমের সবটাই বাজেয়াপ্ত করে নেয়; এবং দেখেছি কিভাবে শেষ পর্যন্ত তার অগ্রগতি যা সম্ভব করে তোলে আরো আরো অল্প সময়ে আরো আরো বিপুল পরিমাণ উৎপাদন– সেই অগ্রগতি কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিকতর উৎপাদন আদায়ের কিংবা শক্তিকে আরো তীব্র ভাবে শোষণের হাতিয়ার হিসাবে। এখন আমরা আলোচনা করব সমগ্র ভাবে কারখানাটিকে নিয়ে এবং তা তার সবচেয়ে নিতে আকারটিকে নিয়ে।
স্বয়ংক্রিয় কারখানার পিওর (মহাকবি) ড. উরে তাকে বর্ণনা করেন, এক দিকে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি দ্বারা নিরন্তর-প্রণাদিত বহু উৎপাদনশীল মেশিনের একটি সংগঠিত প্রণালীকে যত্নধ্য দক্ষতা সহকারে সেবা করার জন্য বিবিধ বর্গের তরুণ বয়স্ক শ্রমিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা” (প্রধান চালক) হিসাবে অন্য দিকে, একটি স্বয়ং-নিয়ন্ত্রিত চালক শক্তির অধীনস্থ, একটি অভিন্ন সামগ্রী উৎপাদনের জন্য অব্যাহত সময়ে কর্মরত, বহুবিধ যান্ত্রিক ও বৌদ্ধিক অবয়বের দ্বারা গঠিত একটি বিশাল অটোমেশন” হিসাবে। এই দুটি বর্ণনায় বিস্তর প্রভেদ আছে। একটি বর্ণনায়, যৌথ শ্রমিকটি অথবা মের সামাজিক সংগঠনটি প্রতিভাত হয় আধিপত্যশল কর্তা হিসাবে এবং যান্ত্রিক অটোমেশন তার কর্ম হিসাবে; অন্যটিতে, অটোমেশন নিজেই হচ্ছে কর্তা এবং প্রমিক হচ্ছে কেবল অটোমেশনের অচেতন অবয়বগুলির সঙ্গে সতিসম্পন্ন সচেতন অবয়ব এবং এই অচেতন অবয়গুলির সঙ্গে একযোগে কেন্দ্রীয় চালক শক্তির বশীভূত। প্রথম বর্ণনাটি মেশিনারির প্রত্যেকটি সম্ভাব্য বৃহদায়তন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; দ্বিতীয় বর্ণনাটি মূলধনের দ্বারা তার ব্যবহারের, এবং সেই কারণেই আধুনিক কারখানাখ্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসূচক। সুতরাং উলে, রে মেশিনটি থেকে গতির সঞ্চার হয়, সেই মেশিনটি কেবল ‘অটোমেশন বলে বর্ণনা করতে চান না, বর্ণনা করতে চান অটোক্র্যাট (স্বৈরন্ত্রী) বলে। এই প্রশ কগুলিতে বাপের মহিয় ক্ষমতা তার, চতুদিকে সমবেত করে অগণিত স্বেচ্ছা প্রণোদিত দাস। [১]
টুল-টির সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক যে-দক্ষতা সহকারে টুলটিকে ব্যবহার করে সেই দক্ষতাটাও মেশিনের অীভূত হয়ে যায়। মানুষের শ্রম-শক্তি থেকে যে সীমাবদ্ধতাগুলি অবিচ্ছেদ্য সেগুলি থেকেও মুক্তি পায় টুল-এর কর্মক্ষমত। তার ফলে ম্যানুফ্যাকচার-ব্যবস্থা যে-কারিগৰি বনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই বনিয়া ভেসে যায়। সুতরাং ম্যানুফ্যাকচারের বৈশিষ্ট্যসূচক, বিশেষায়িত শ্রমিকদের ক্রমোত কারভেদ ব্যবস্থার জায়গায় স্বয়ংক্রির কারখানায় পদক্ষেপ করে এমন একটা প্রবণতা, যা ঐসব মেশিনের অনুষী শ্রমিকদের প্রত্যেক বকমের কাজকে একটি অভিন্ন সমান মানে পর্যবসিত করে।[২] প্রত্যংশ শ্রমিকদের কৃত্রিম পার্থক্য বিধানের পরিবর্তে প্রচলন লাভ করে বয়স ও নারী-পুরুষের প্রাকৃতিক পার্থক্য।
