২১. আর জন কিনকেই বিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ, ১৮৫৬, পৃঃ ৬৬।
২২. এ. রেডগ্রেভ, “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ”, ১৮৫৭, পৃঃ ৪১-৪২। যেসব শিল্পে আসল কারখানা-আইন (মূল গ্রন্থে উল্লেখিত ছাপাখানা আইন নয়) চালু আছে,সেখানে শিক্ষাগত ধারাগুলি সম্পর্কে বাধাসমূহ সাম্প্রতিককালে অপসারিত হয়েছে। এই আইনের আওতায় পড়ে, এই সমস্ত শিল্পে মিঃ জে গেছেস নামক জনৈক কাঁচ ম্যানুফ্যাকচারকারীর কথা আজও প্রযোজ্য। তিনি একজন অনুসন্ধানকারী কমিশনার মি. হোয়াইট-কে জনিয়েছেন “আমি যতটা বুঝি, শ্রমিক শ্রেণীর একটা অংশ যে শিক্ষা অতীতে পেয়েছে, তার বেশির ভাগটাই অমঙ্গলজনক। এটা বিপজ্জনক কারণ শিক্ষা তাদের স্বাধীন করে তোলে।” (“শিশু-নিয়োগ কমিশন, চতুর্থ বিপোট”, ১৮৬৫, লণ্ডন পৃঃ ২৫৩)।
২৩. মিঃ ই. একজন ম্যানুফ্যাকচারার, আমাকে জানালেন তিনি তাঁর পাওয়ার লুমগুলিতে একান্তভাবে মহিলাদের নিযুক্ত করেন, বিশেষ করে তাদের যারা বিবাহিত, যাদের বাড়িতে পরিবার পোষণ করতে হয়, তারা অবিবাহিত মহিলাদের চেয়ে বেশি মনোযোগী, বেশি অনুগত এবং জীবনের আবশ্যিক সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য তারা বাধ্য হয় যথাসাধ্য খাটতে। এই গুণগুলি—যা নারী-চরিত্রের নিজস্ব গুণ —সেগুলি বিকৃত করলে তাদেরই ক্ষতি হয়। এই ভাবে নারীর প্রকৃতিতেযা কমনীয়তা, যা কর্তব্যনিষ্ঠা, তার সব কিছুকেই ব্যবহার করা হয় তার উপরে বন্ধন ও দুর্দশা চাপিয়ে দেবার উপায় হিসাবে।” (দশ ঘণ্টার কারখানা আইনের প্রস্তাব, লর্ড অ্যাশলির ভাষণ, ১৫ই মার্চ, লণ্ডন, ১৮৪৪, পৃঃ ২০।
২৪. মেশিনারির সার্বিক প্রবর্তনের পর থেকে মানব-প্রকৃতিতে জোর করে তার গড়-শক্তির অনেক বাই সম্প্রসারিত করা হয়েছে।” (রবার্ট ওয়েন : “অবজার্ভেশনস অন দি এফেক্টস অব দি ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেম” ২য় সংস্করণ লণ্ডন ১৮১৭)।
২৫. ইংরেজদের একটা প্রবণতা আছে, কোনো জিনিসের আবির্ভাবের প্রথম রূপটিকে তার অস্তিত্বের কারণ বলে গণ্য করার; কারখানা-ব্যবস্থার শৈশবে ধনিকেরা। দুঃস্থ-নিবাস ও অনাথ-ভবনগুলি থেকে পাইকারি ভাবে শিশু-হরণ করত; এই লুণ্ঠন কার্যের মাধ্যমে তারা সংগ্রহ করত শোষণের প্রতিরোধহীন সামগ্রী; কারখানায় কাজের দীর্ঘসময়ের কারণ হিসাবে ইংরেজরা নির্দেশ করে এই শিশু-লুণ্ঠনের রেওয়াজকে। যেমন ফিলডেন, যিনি নিজেই একজন ম্যানুফ্যাকচারার বলেন, “দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে যোগানো হত এত বিপুল সংখ্যক দুঃস্থ শিশু যে মালিকেরা তাদের কর্মীদের আর পবোয়া করতেন না-এই ঘটনাই কাজের দীর্ঘ সময়ের জন্য দায়ী; এই শোচনীয় সামগ্রী গুলির উপরে একবার একটা রীতি চালু করে দিলে, পরে প্রতিবেশীদের উপরে তা চালু করে দেওয়া যায় আরো অনায়াসে।” (জে ফিলডেন, “দি কার্স অব দি ফ্যাক্টরি সিস্টেম”, লণ্ডন ১৮৩৬, পৃঃ ১১)। নারী-শ্রম সম্পর্কে কারখানা-পরিদর্শক সণ্ডার্স তার ১৮৪৪ সালের রিপোর্টে বলেন, “নারীশ্রমিকদের মধ্যেএমন কিছুনারী আছে যারা,সামান্য কয়েক দিন বাদে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ সকাল ৬টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করে, খাবার জন্য পায় দু’ঘণ্টারও কম; ফলে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ দিন করে তারা বাড়ি যাতায়াতের জন্য এবং বিছানায় বিশ্রাম নেবার জন্য পায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬ ঘণ্টা।
২৬. “নিষ্ক্রিয়তার দ্বারা ধাতব যন্ত্রটির সুক্ষ্ম সচল অংশগুলির ক্ষতি সাধন করে।” (উলে, “শিশু-নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ২৮১)।
২৭. ‘ম্যাঞ্চেস্টার স্পিনার (টাইমস”, ২৬শে নভেম্বর ১৮৭২) এই প্রসঙ্গে বলে, এটার মেশিনারির ক্ষয়-ক্ষতির জন্য প্রদত্ত সুবিধার) উদ্দেশ্য হচ্ছে পুরনো মেশিন জীর্ণ হয়ে যাবার আগেই তার বদলে নোতুন ও আরো ভাল মেশিন বসাবার যে-নিরন্তর লোকসান তা পুষিয়ে নেওয়া।
২৮. “হিসেব করে দেখা গিয়েছে যে, একটি নোতুন উদ্ভাবিত মেশিনের প্রথমটি তৈরি করতে দ্বিতীয়টির তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি খরচ হয়।” (ব্যাবেজ, “শিশু-নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ৩৪৯)
২৯, “‘পেটেন্টনেট’ তৈরি করার জন্য যে-ফ্রেম’, তাতে কিছুকাল আগে যে-উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে, তা এত বিপুল যে একটি মেশিন, যা কয়েক বছর আগে কেনা হয়েছিল ৪১,২০০ পাউণ্ডে, তাই ভাল অবস্থায় বিক্রি করতে হল £৬০ পাউণ্ডে। একটার পরে একটা উন্নয়ন এমন দ্রুত গতিতে ঘটতে লাগল যে প্রস্তুত কারককে তার হাতের মেশিন শেষ হবার আগেই সেটাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটা ধরতে হল।” কারণ নব উন্নয়ন তার ব্যবহার উপযোগকে রুদ্ধ করে দিচ্ছিল (ব্যাবেজ, “শিশু-নিয়োগ কমিশন, রিপোর্ট”, পৃঃ ২৩৩)। এই ঝড়ের মত অগ্রগতির সময়ে টুলে’ (সূক্ষ্ম রেশমি কাপড় ) প্রস্তুতকারকেরা অচিরেই দুই প্রান্ত কর্মী নিয়োগ করে, কাজের ঘণ্টা বাড়িয়ে নিল ৮ ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘণ্টায়।
৩০. “এটা স্পষ্ট যে, বাজারের জোয়ার-ভাটা এবং চাহিদার তেজি-মন্দার মধ্যে এমন অবস্থা বারংবার দেখা দেবে যে, ম্যানুফ্যাকচারার অতিরিক্ত স্থির মূলধন নিয়োগ না করে অতিরিক্ত অস্থির মূলধন নিয়োগ করবে: যদি বাড়িঘর ও মেশিনারি বাদে অতিরিক্ত খরচ না করে অতিরিক্ত পরিমাণ কাঁচামালকে তৈরি মালে পরিণত করা যায়।” (আর টরেন্স, “অন ওয়েজেস অ্যান্ড কম্বিনেশন”, লণ্ডন ১৮৩৪, পৃঃ ৬৪)।
