২. “পুরুষ-শ্রমের জায়গায় নারী-শ্রম এবং বয়স্ক-শ্রমের জায়গায় শিশু-শ্রমের নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিপুল সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটেছে। সপ্তাহে ৬ শিলিং থেকে ৮ শিলিং পায় এমন ৩ জন করে বালিকা সপ্তাহে ১৮ শিলিং থেকে ৪৫ শিলিং পায় এমন ১ জন পরিণত বয়স্ক শ্রমিকের স্থান গ্রহণ করেছে।” (থমাস ভি কুইন্সি, “দি লজিক অব পলিটিক্যাল ইকনমি,” লণ্ডন ১৮৪৪, টীকা, পৃঃ ১৪৭)। যেহেতু শিশুদের পরিচর্যা করা, স্তন্যদান করা ইত্যাদির মত কয়েকটি পারিবারিক কাজকে নাকচ করে দেওয়া যায় না, সেহেতু মূলধনের দ্বারা বাজেয়াপ্ত কৃত মায়েরা কিছু কিছু বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করে। সেলাই, রিফু করার মত গার্হস্থ্য কাজের বদলে চালু করে তৈরি জামা-কাপড় কেনার রেওয়াজ। এই ভাবে ঘরের কাজে কম-পরিমাণ শ্রম-ব্যয়ের সঙ্গে চলে বেশি-পরিমাণ অর্থ-ব্যয়। পরিবারের পোষণের ব্যয় বেড়ে যায় এবং বর্ধিত আয়ের দাবি করে। অধিকন্তু, জীবন ধারণের দ্রব্যসামগ্রীর প্রস্তুতি ও ব্যবহারে মিতব্যয় ও বিচার-বিবেচনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই সব তথ্য সম্পর্কে প্রচুর সামগ্রী, যা সরকারি অর্থনীতি লুকিয়ে রাখে, পাওয়া যায় কারখানা-পরিদর্শকদের, শিশু-নিয়োগ কমিশনের এবং, বিশেষ করে, জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্টগুলিতে।
৩. ইংরেজ কল-কারখানাগুলিতে নারী ও শিশুদের কাজের ঘণ্টা কমাবার দাবি মূলধনের হাত থেকে আদায় করে নিয়েছিল পুরুষ-শ্রমিকেরা—এই মহতী ঘটনার বিপরীত-তুলনায়, আমরা শিশু-নিয়োগ কমিশনের সর্বসাম্প্রতিক বিপোর্টগুলির মধ্যে লক্ষ্য করি শিশুদের দিয়ে ব্যবসা করাবার দিকে শ্রমিক মাতা-পিতাদের এমন কিছু প্রবণতা, যা সত্যসত্যই ধিক্কারজনক এবং পুরোপুরি দাস-ব্যবসার অনুরূপ। কিন্তু ধনিক নামধেয় ঐ বিড়াল-তপস্বী এই পাশবিকতার নিন্দা করে, অথচ সে-ই একে সৃষ্টি করে, বাঁচিয়ে রাখে এবং শোষণ করে আর সেই সঙ্গে একে আশীর্বাদ করে “মের স্বাধীনতা” বলে। “শিশু-শ্রমকে সাহায্যের জন্য ডাকা হয়েছে এমনকি তাদের দৈনিক রুটি রোজগার করার জন্য। এই মাত্রাহীন পরিশ্রম সহ করার মত শক্তি ছাড়া, তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে পরিচালনা করার মত শিক্ষা ছাড়া, তাদের ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এমন এক পরিস্থিতিতে, যা দৈহিক ও মানসিক উভয় ভাবেই দূষিত। টাইটাস কর্তৃক জেরুজালেম-এর পত্ন ঘটাবার ঘটনা সম্পর্কে ইহুদী ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন, এতে কোনো আশ্চর্যের কারণ নেই যে তা ধ্বংস হবে, যখন এক অমানবিক মাতা তার নিজের সন্তানকে বলি দেয় তীব্র ক্ষুধার তাড়না তৃপ্ত করার জন্য (“পাবলিক ইকনমি কনসেন্টে টেড, কালি, ১৮৩৩, পৃঃ ৬৬)।
৪. এ. রেডগ্রেভ, “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ,” ৩১ অক্টোবর, ১৮৫৮, পৃঃ ৪০, ৪১।
৫. “শিশু-নিয়োগ কৃমিশন, পঞ্চম বিপোর্ট”, লণ্ডন ১৮৬৬, পৃঃ ৮১।
[ ৪র্থ জার্মান সংস্করণে সংযোজিতবেথনীল গ্রীন সিল্ক ইনডাস্ট্রি এখন প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে—এফ এঙ্গেলস ]। *
৬. “শিশু-নিয়োগ কমিশন, তৃতীয় রিপোর্ট”, লণ্ডন ১৮৬৪, পৃঃ ৫৩। .
৭. শিশুনিয়োগ কমিশন পঞ্চম রিপোর্ট, পৃঃ ২২।
৮. “জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ষষ্ঠ রিপোর্ট”, ১৮৬৪, পৃঃ ৩৪
৯. “এই রিপোর্ট (১৮৬১) দেখায় যে, যখন উল্লিখিত অবস্থার মধ্যে অবহেলা ও অব্যবস্থায়—যা তাদের মায়েদের কাজের প্রকৃতি-সঞ্জাত শিশুরা মারা যায়, তখন মায়েরা শিশুদের প্রতি এক শোচনীয় ভাবে অস্বাভাবিক মানসিকতা-গ্রস্ত হয়ে ওঠে শিশুদের মৃত্যুতে তারা কোনো উদ্বেগ পোষণ তো করেই না: অনেক সময় মৃত্যু ঘটানোর ব্যাপারেও তাদের হাত থাকে।” (জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট।
১০. ঐ, পৃঃ ৪৫৪।
১১. ঐ, পৃঃ ৪৫৪-৪৬৩: “ইংল্যাণ্ডের কয়েকটি গ্রামীণ অঞ্চলে শিশু-মৃত্যুর অত্যধিক :হার সম্পর্কে ডঃ হেনরি জুলিয়ান হান্টারের রিপোর্ট।”
১২. জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট পৃঃ ৩৫ এবং ৪৫৫, ৪৫।
১৩. জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট, পৃঃ ৪৫৬।
১৪. কৃষি-অঞ্চলে এবং শিল্পাঞ্চলে পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে বয়ঃপ্রাপ্ত শ্রমিকদের মধ্যে অহিফেন-সেবন প্রত্যহ বিস্তার লাভ করছে। “কিছু পাইকারি ব্যবসায়ীর মহৎ লক্ষ্য হল আফিমের বিক্রি আরো বৃদ্ধি করা।” (“জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট”, পৃঃ ৪৫৯)। শিশুরা, যারা আফিম খায়, তারা “ক্ষুদ্রাকার বৃদ্ধ লোকের মত কুঁচকে যায় কিংবা “ছোট ঘোট বানরের মত শুকিয়ে যায়।” (“জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট” পৃ: ৪৬)। আমরা এখানে দেখতে পাই কিভাবে ভারত এবং চীন ইংল্যাণ্ডের উপরে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
১৫. ঐ পৃ: ৩৭।
১৬. “রিপোর্ট অব ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ”, ৩১ অক্টোবর, ১৮৬২, পৃঃ ৫৯, মি. বেকার একজন প্রাক্তন ভাক্তার ছিলেন।
১৭. এল হর্ণার : “রিপোর্ট অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ”, ৩ জুন ১৮৫৭, পৃঃ ১৭ দ্রষ্টব্য।
১৮. এল হর্ণার : “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ, ৩১ অক্টোবর ১৮৫৫, পৃ ১৮, ১৯ দ্রষ্টব্য।
১৯. স্যার জন কিনকেইউ : “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ”, ৩১ অক্টোবর ১৮৫৮, পৃঃ ৩১, ৩২।
২০. এল. হর্ণার : “রিপোর্টস অব ইন্সপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ”, ৩১ অক্টোবর ১৮৫৭, পৃ ১৭, ১৮ দ্রষ্টব্য।
