৩. একটি অশ্বশক্তি প্রতি মিনিটে ৩,০০০ ফুট-পাউণ্ডের শক্তির সমান, কিংবা রে শক্তি এক মিনিটে ৩৩,০০০ পাউণ্ড এক ফুট উত্তোলন করে অথবা এক পাউণ্ড ৩৩,০০০. ফুট তার সমান। এই গ্রন্থে এই অর্থেই অশ্বশক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি ভাষায়, এবং এই গ্রন্থেও. এখানে সেখানে উদ্ধৃতির মধ্যে একই ইঞ্জিনের নামীয়” এবং “বাণিজ্যিক কিংবা “নির্দেশিত” অশ্বশক্তির মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। পুরনো বা নামীয় অশ্বশক্তি গণনা করা হয় একান্ত ভাবেই পিস্টন-স্ট্রোকের দৈর্ঘ্য, এবং সিলিণ্ডারের ব্যাস থেকে, এবং বাষ্পের চাপ এবং পিস্টনের বেগকে বাইরে রাখে। কার্যত তা বোঝায় এই এই ইঞ্জিনটি হবে ৫০ অশ্বশক্তিসম্পন্ন, যদি তা বুলটন এবং ওয়াট-এর দিনের মত সেই একই নিয় বাষ্প-চাপে ও একই মন্থর পিস্টন-বেগে চালানো হয়। কিন্তু এই চাপ ও বেগ পরবর্তী কালে অনেক বেড়ে গিয়েছে। একটি ইঞ্জিন যে-যান্ত্রিক শক্তি আজ খাটায়, তাকে মাপবার জন্য একটি নির্দেশক” উদ্ভাবিত হয়েছে, যা সিলিণ্ডারের গায়ে চাপ নির্দেশ করে। পিস্টনের বেগ তত সহজেই জানা যায়। এই ভাবে একটি ইঞ্জিনের নির্দেশিত” বা “বাণিজ্যিক” অশ্বশক্তি প্রকাশিত হয় একটি বাণিজ্যিক ‘ফমূলা’র দ্বারা, যার মধ্যে যুগপৎ অন্তর্ভূক্ত সিলিণ্ডারের ব্যাস, স্ট্রোকের দৈর্ঘ্য, পিস্টনের বেগ, বাম্পের চাপ এবং তা প্রকাশ করে ৩৩,০০০ পাউণ্ডের কত গুণিতক ইঞ্জিনটির দ্বারা এক মিনিটে উভোলিত হয়। সুতরাং একটি নামীয়” অশ্বশক্তি খাটাতে পারে তিন, চার, বা এমনকি, পাঁচটি নির্দেশিত” বা “বাস্তব” অশ্বশক্তি। পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলিতে যা যা বলা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য এই ব্যাখ্যাটি যোগ করা হল। এফ, এঙ্গেলস।
৪. যে-পাঠক ধনতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার দ্বারা আচ্ছন্ন, তিনি এখানে স্বভাবতই “সু”-এর অভাব লক্ষ্য করবেন—যা মেশিন, তার মূলধন-মূল্যের অনুপাতে, উৎপন্ন সামগ্রীতে সংযোজিত করে। কিন্তু এটা সহজেই বোঝা যায় যে, যেহেতু মেশিন স্থির মূলধনের অন্য কোন অংশ ছাড়া, কোন নোতুন মূল্য সৃষ্টি করে না, সেই হেতু “সুদ” নামে কোনো মূল্য তা সংযোজিত করতে পারে না। এটাও স্পষ্ট যে, যেখানে আমরা। উদ্বৃত্ত-মূল্যের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করছি, সেখানে আমরা আগে ভাগেই সুদ” এই নামের অধীনে মূল্যের কোনো অংশের অস্তিত্বকে ধরে নিতে পারি না। ধনতান্ত্রিক গণনা-পদ্ধতি, যা আপাত দৃষ্টিতেই আজগুবি এবং মূল্য-সৃষ্টির নিয়মের পরিপন্থী বলে মনে হয়, তা পরবর্তী খণ্ডে ব্যাখ্যা করা হবে।
৫. মূল্যের এই যে অংশ, যা মেশিনারির দ্বারা সংযোজিত হয়, তা অনাপেক্ষিক এবং আপেক্ষিক উভয় ভাবে হ্রাস পায়, যখন মেশিনারি ঘোড়া ও অন্যান্য পশুকে বিদায় করে দেয়—যারা কেবল সঞ্চলনের শক্তি হিসাবেই কাজ করে, বস্তুর রূপ-পরিবর্তন ঘটাবার জন্য মেশিন হিসাবে কাজ করে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দেকার্তে যখন পশুকে বর্ণনা করেন কেবল মেশিন হিসাবে, তখন তিনি দেখেছিলেন ম্যানুফ্যাকচারিং যুগের চোখ দিয়ে, অন্য দিকে, মধ্যযুগের চোখে পণ্ড হল মানুষের সহকারী। দেকার্তে যে বেকনের মত, পরিবর্তিত চিন্তা-পদ্ধতির ফলে, উৎপাদনের রূপে একটি পরিবর্তন এবং প্রকৃতির উপরে মানুষের কার্যতঃ প্রাধান্য-স্থাপনের কথা আগে থেকেই দেখতে পেয়েছিলেন, তা তার “Discours de la Methode থেকেই পরিষ্কার। সেখানে তিনি বলেছেন, “l est possible (by the methods he introduced in philosophy ) de parvenir a des connaissances fort utiles a la vie, et qu’au lieu de cette philosophie speculative qu’on enseigne dans les ecoles, on en peut trouver une pratique par laquelle, connaissant la force et les actions du feu, de l’eau, de l’air, des astres, et de tous les autres corps qui nous environnent, aussi distinctement que nous connaissons les divers metiers de nos artisans, nous les pourrions employer en meme facon a tous les usages auxquels ils sont propres, et ainsi nous rendre comme maitres et possesseurs de la nature and thus “contrubuer au perfectionnement de la vie huniaine”. স্যার ডাডলি নর্থ-এর “ক্সিকোর্সেস আপন ট্রেড” (১৬৯১)-এর ভূমিকায় বলা হয়েছে, দেকার্তের পদ্ধতি স্বর্ণ, বাণিজ্য ইত্যাদি সম্পর্কে পুরনো গল্পকথা ও কুসংস্কার থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থতত্ত্বকে মুক্ত করতে শুরু করেছিল। মোটামুটি ভাবে কিন্তু প্রথম দিককার ইংরেজ অর্থতাত্ত্বিকেরা তাঁদের দার্শনিক হিসাবে বেকন এবং হবস-এর পক্ষাবলম্বন করেছিলেন, যদিও পরবর্তী কালে ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে অর্থতত্ত্বের মুখ্য দার্শনিক হয়েছিলেন লক।
৬. এসেন বণিক সমিতির বাৎসরিক রিপোর্ট ( ১৮৬৩) অনুসারে ১৮৬২ সালে, ১৬১টি ফানেস, ৩২টি টিম-ইঞ্জিন ( ১৮০০ সালে ম্যাঞ্চেস্টারে কর্মরত সমস্ত কিম-ইঞ্জিন গুলির সংখ্যার প্রায় সমান ), ১৪টি স্টিম-হ্যামার। মোট ১,২৩৬ অশ্বশক্তি প্রতিস্থাপন), ৪৯টি কামারশালা, ২০৩টি টুল-মেশিন এবং প্রায় ২,৪০০ শ্রমিক সমন্বিত কূপ-এর কাস্ট আয়রণ কারখানায় উৎপন্ন হয়েছিল ১ কোটি ৩০ লক্ষ পাউণ্ড কাস্ট-আয়রণ। এখানে প্রত্যেকটি অশ্বশক্তি-পিছু দুজন করে শ্রমিক নয়।
