১০. ফাউলহাবার, ডে কজ, ১৬৮।
১১. আধুনিক টার্বাইন জল-শক্তিকে পুরনো অনেক বন্ধন থেকে মুক্ত করেছে
১২. কাপড়ের কলের গোড়ার দিকে কারখানার স্থান নির্ভর করত, কাছেই একটা নদী আছে কিনা এবং তাতে একটা জল-চক্র চালাবার মত গতি আছে কিনা, তার উপরে; এবং যদিও জল-কলের স্থাপনা ম্যানুফ্যাকচায়ের ঘরোয়া পদ্ধতির ভাঙন সুচনা করে; কিন্তু তবু আবশ্যিক ভাবেই নদীর তীরে এবং সাধারণত পরস্পর থেকে দূরে দূরে অবস্থিত এই মিলগুলি সবমিলিয়ে একটা গ্রামীণ পরিবেশই সৃষ্টি করত, শহুরে পরিবেশ নয়; এবং যে পর্যন্ত না বাষ্প-শক্তি নদীর স্থান গ্রহণ করল, সে পর্যন্ত শহরে এবং যেসব জায়গায় বাষ্প উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কয়লা ও জল আছে, সেই সব জায়গায় কারখানার সমাবেশ ঘটল না।” (এ রেভ গ্রেভ, “রিপোর্নস অব দি ইন্ধপেক্টরস অব ফ্যাক্টরিজ”, ১৮৬০ পৃ: ৩৬)।
১৩. যান্ত্রিক শিল্পের আগে উল ম্যানুফ্যাকচারই ছিল ইংল্যাণ্ডে প্রধান ম্যানুফ্যাকচার। এই কারণেই ১৮ শতকের প্রথমার্ধে এই শিল্পেই অনুষ্ঠিত হয় সর্বাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। উল থেকে যে অভিজ্ঞতা পাওয়া গেল, তার সুযোগ ভোগ করল তুললা; পরবর্তীকালে। আবার মেশিনারির সাহায্যে তুলো থেকে সুতো কাটা ও কাপড় বোনার কারখানার অনুকরণে গড়ে উঠল ঠিক আগের দশ বছরে উল-ম্যানুফ্যাকচারের বিভিন্ন কাজ, যেমন উল-আঁচড়ানো ইত্যাদি, কারখানা-ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল। “উল-আঁচড়ানো কাজে ‘ম্বিং মেশিন’ প্রবর্তনের ফলে নিঃসন্দেহে অনেক লোক কর্মচ্যুত হল। আগে উল-আঁচজানো হত হাতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীর নিজের বাড়িতে। এখন তা সাধারণতঃ আঁচড়ানো হয় কারখানাতেই এবং যে কয়েকটি ক্ষেত্রে হাতের কাজ এখনো উৎকৃষ্ট বলে বেছে নেয়া হয়, সে-ক্ষেত্রগুলি ছাড়া, বাকি জায়গায় মেশিন বসানো হয়েছে। কিছু কিছু হাতে-আঁচড়ানো কর্মী কারখানায় কাজ পেলেও, বেশির ভাগই কাজ হারিয়েছে।” “রিপোর্ট অব ইনিসপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ”, ১৮ ৫৬, পৃঃ ১৬)
১৪. “তা হলে, কারখানা-ব্যবস্থার নীতি হল কারিগরদিগের মধ্যে শ্রম-বিভাজন বা পর্যায়ীকরণের পরিবর্তে একটা প্রক্রিয়াকে তার প্রধান প্রধান অংশে বিভাগীকরণ। (অ্যাণ্ড, উরে “দি ফিলসফি অব ম্যানুফ্যাকচার্স”, ১৮৩৫, পৃঃ ২০।)
১৫. পাওয়ার লুম গোড়ায় তৈরি হত কাঠ দিয়ে, এখন তৈরি হয় লোহা দিয়ে। উৎপাদন-উপকরণগুলির পুরনো আকার তাদের নোতুন আকারকে কটা প্রভাবিত করেছে, তা বোঝা যায় বর্তমান পাওয়ারলুমকে আগেকার পাওয়ারলুমের সঙ্গে, আধুনিক ব্লাস্ট ফানেস-এর হাপরকে পুরনো হাপরের সঙ্গে, এবং আরো জাজ্বল্যমান ভাবে, বর্তমান লোকোমোটিভকে আগেকার লোকোমোটিভ তৈরির প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করলে; আগেকার সেই লোকোমোটিভের ছিল দুটি পা, যা ঘোড়ার ভঙ্গিতে পরপর মাটি থেকে উঠত এবং মাটিতে নামত। বল-বিজ্ঞানের প্রভূত অগ্রগতি এবং দীর্ঘ সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ফলেই কেবল শেষ পর্যন্ত একটি মেশিনের আকার স্থিরীকৃত হল বল-বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে এবং তা মুক্তি পেল তার চিরাচরিত আকারটি থেকে, যা থেকে ঘটেছিল তার উদ্ভব।
১৬. আঠারো শতকের যে-কোনো মেশিনের তুলনায় এলি হুইটনির কটন জেনি’-তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল সবচেয়ে কম। কেবল গত দশকে (১৮৫৬-র পরে) আরেকজন আমেরিকান, মিঃ এমেরি ( আলবানি, নিউইয়র্ক) একটা সরল অথচ সফল উন্নয়নের মাধ্যমে হুইটনির ‘জেনি’-কে সেকেলে করে দিয়েছেন।
১৭. “দি ইণ্ডাষ্ট্রি অব নেশনস”, ১৮৫৫, পৃঃ ২৩৯; এই বইখানিও মন্তব্য করে : “সরল ও বাইরে থেকে গুরুত্বহীন বলে মনে হলেও, একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে লেদ-এর এই উপাঙ্গটি মেশিনারির উন্নতি ও প্রসার সাধনে যে-প্রভাব বিস্তার করেছে। তা ওয়াট-এর ঠিম-ইঞ্জিনের উৎকর্ষ সাধনের তুলনায় কম নয়। এর প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত মেশিনারি নিখুত হয়ে উঠল, সসা হল এবং উদ্ভান ও উন্নয়নের দিকে প্রেরণা সঞ্চারিত হল।
১৮. এই মেশিনগুলির মধ্যে একটি মেশিন ব্যবহৃত হয় ‘প্যাডল-হুইল শ্যাফট ‘পেটাই করার জন্য, নাম “র”। একজন কামার যেমন অনায়াসে একটা ঘোড়ার নাল ‘পেটাই করে, তেমনি অনায়াসেই এই মেশিনটি একটি ১৬৫ টন ‘শ্যাফট’-কে পেটাই করে।
.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ — মেশিনারি কর্তৃক উৎপন্নদ্রব্যে স্থানান্তরিত মূল্য।
আমরা দেখেছি সহযোগ ও শ্রম-বিভাগ থেকে সঞ্জাত উৎপাদিকা শক্তির জন্য মূলধনের কিছুই ব্যয় হয়না। এইসব শক্তি সামাজিক শ্রমের স্বাভাবিক শক্তি। তেমনি, বাষ্প, জল ইত্যাদির মত প্রাকৃতিক শ%ি গুলি যখন উৎপাদন-প্রক্রিয়াসমূহে প্রযুক্ত হয়, সেগুলির জন্যও কিছু ব্যয় হয়না। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য মানুষের যেন ফুসফুস প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি প্রাকৃতিক শওি গুলিকে উৎপাদনশীল ভাবে ব্যবহার করতে হলে তার প্রয়োজন হয় এমন কিছু, যা মানুষের হাতের কাজ। জলের শওি কে কাজে লাগাতে হলে চাই একটি জল-চ, বাষ্পের শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে চাই একটি বাম্প-ইঞ্জিন। একবার আবিষ্কৃত হবার পরে, ইলেকট্রিক কারেন্টের ক্ষেত্রে চৌম্বক সুচের বিচ্যুতির নিয়ম, কিংবা যাকে ঘিরে ইলেকট্রিক কারেন্ট আবর্তিত হয়, সেই লৌহের চুম্বকায়নের নিয়ম বাবদে কখনো এক কড়িও ব্যয় হয়না।[১] কিন্তু টেলিগ্রাফ ইত্যাদির কাজে এই নিয়মগুলিকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন হয় একটি ব্যয়বহুল ও সুবিস্তৃত অ্যাপারেটাস। আমরা দেখেছি, মেশিন টুলকে উৎখাত করে না। মানবদেহের একটি ক্ষুদ্রাকৃতি উপকরণ থেকে পরিবর্ধিত ও বহুগুণিত হয়ে টুল মানুষের তৈরি কোন মেকানিজমে পরিণতি লাভ করে। তখন মূলধন শ্রমিককে নিয়োজিত করে একটি হস্তচালিত টুলের সাহায্যে কাজ করবার জন্য নয়, একটি মেশিনের সাহায্যে কাজ করবার জন্য যে মেশিন নিজেই কাজ করায় টুলগুলিকে। অতএব, যদিও এটা প্রথম দৃষ্টিতেই পরিষ্কার যে, উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিপুল প্রাকৃতিক শক্তি ও প্রকৃতি-বিজ্ঞানসমূহকে সংযোজিত করে, আধুনিক শিল্প শ্রমের উৎপাদনশীলতাকে অসাধারণ এক মাত্রায় উন্নীত করে, তবু এটা কিন্তু কোন মতেই পরিষ্কার নয় যে, এই বর্ধিত উৎপাদিকা শক্তি ক্রয় করতে লাগে শ্রমের বর্ধিত ব্যয়। যেমন স্থির মূলধনের অন্যান্য প্রত্যেকটি উপাদান, তেমনি মুলধনও নোতুন কোনো মূল্য সৃষ্টি করে না; তা কেবল তার নিজের মূল্যই সেই উৎপন্ন-দ্রব্যটিতে স্থানান্তরিত করে, যে দ্রব্যটির উৎপাদনে তা অংশ গ্রহণ করে। যেহেতু মেশিনের মূল্য আছে এবং, কাজে কাজেই, তা মূল্য স্থানান্তরিত করে উৎপন্ন দ্রব্যে, সেই হেতু উক্ত উৎপন্ন দ্রব্যটির মূল্যে মেশিনও হচ্ছে একটি উপাদান। সস্তা হবার বদলে, মেশিনের মূল্য অনুপাতে উৎপন্ন দ্রব্যটি হয় আরো মহার্ঘ। এবং এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার যে, হস্তশিল্পে ও ম্যানুফ্যাকচারে ব্যবহৃত উপকরণসমূহের তুলনায় আধুনিক শিল্পের যা বৈশিষ্ট্য সেই মেশিন ও মেশিনারি-রূপ শ্রম-উপকরণসমূহে বিধৃত মূল্য অপরিমেয় ভাবে বেশি।
