১২. আকু হার্ট : “ফ্যামিলিয়ার ওয়র্ডস”, ১৮৫৫। শ্রম-বিভাগ সম্পর্কে হেগেল এর মতামত ছিল অতি অদ্ভুত। তিনি তাঁর “রেখটসফিলসফি”-তে বলেন, “সুশিক্ষিত লোক বলতে আমরা প্রথমত বুঝি, যিনি, অন্যান্যরা যা করতে পারেন, তা সবই করতে পারেন।”
১৩. শ্রম-বিভাগের ধনতান্ত্রিক চরিত্র উদ্ঘাটন করতে অ্যাডাম স্মিথ যতটা করেছেন তার চেয়ে ঢের বেশি করেছেন প্রাচীনতর লেখকেরা-উইলিয়ম পেটী এবং “অ্যাডভান্টেজেস অব ইস্ট ইণ্ডিয়া ট্রেড”-এর অনামী লেখক প্রমুখ।
১৪. আধুনিকদের মধ্য থেকে বাদ দেওয়া যায় আঠারো শতকের বেকারিয়া এবং জেমস হ্যারিস-এর মত কয়েকজন লেখককে। জেমস হ্যারিস, পরবর্তীকালে আর্ল অব ম্যাসবেরি, তাঁর “ডায়ালগ কনসার্নিং হাপিনেস”-এর মন্তব্যে লেখেন, “ কর্ম-বিভাগের দ্বারা) সমাজকে স্বাভাবিক প্রমাণ করার গোটা যুক্তিটাই গৃহীত হয়েছে প্লেটোর ‘রিপাব্লিক’-এর দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে।”
১৫. যেমন ‘অডিসি’-তে এবং ‘সেক্সটাস এস্পিরিক স’-এ।
১৬. পণ্যোৎপাদনকারী হিসাবে প্রত্যেক অথেনিয়ান নিজেকে একজন স্পার্টানের তুলনায় শ্রেয় মনে করে, কেনন। যুদ্ধের সময় স্পার্টানের হাতে যথেষ্ঠ লোকবল থাকা সত্ত্বেও সে পারেনি অর্থবল সমবেত করতে।
১৭. প্লেটোর মতে, প্রয়োজনের বহুমুখিতা এবং ব্যক্তির সীমাবদ্ধ সক্ষমতা থেকেই সমাজে শ্রম-বিভাগের উদ্ভব। তার কাছে প্রধান বিষয়টি হচ্ছে এই যে, শ্রমিক নিজেকে খাপ খাওয়াবে কাজের সঙ্গে, কাজ নিজেকে খাপ খাওয়াবে না শ্রমিকের সঙ্গে, দ্বিতীয়টি তখনি হয় অপরিহার্য, যদি সে কয়েকটি বৃত্তি একসঙ্গে করে এবং তাদের কোন কোনটিকে গৌণ স্থান দেয়।
১৮. তিনি ( বুসিরিস তাদের সকলকে বিভক্ত করেছিলেন বিভিন্ন জাতিতে ( ‘কাস্ট’-এ :: : নিয়ম করে দিয়েছিলেন যে, একই লোক সব সময়ে একই কাজে নিযুক্ত থাকবে, কারণ তিনি জানতেন যে, যারা তাদের বৃত্তি পরিবর্তন করে, তারা কোনো বৃত্তিতেই কুশলী হয় না, কিন্তু যারা একই বৃত্তিতে লেগে থাকে, তারা তাদের কুশলতাকে সর্বাঙ্গীণ করে তোলে। (ইসক্রেটিস’, বুসিরিস, ৮)।
১৯. ডিওডোরাস সিকিউলাস দ্রষ্টব্য।
২০. উরে, ঐ, পৃঃ ২০। ২১. ফ্রান্সের তুলনায় এটা ইংল্যাণ্ডে বেশি এবং হল্যাণ্ডের তুলনায় ফ্রান্সে বেশি।
১৫. মেশিন ও আধুনিক শিল্প
পঞ্চদশ অধ্যায় — মেশিন ও আধুনিক শিল্প
প্রথম পরিচ্ছেদ — মেশিনের বিকাশ।
জন স্টুয়ার্ট মিল তার “রাষ্ট্রীয় অর্থতন্ত্রের নীতিনিচয়” (“প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল ইকনমি” ) নামক গ্রন্থে বলেন, “আজ পর্যন্ত যাবতীয় যান্ত্রিক উদ্ভাবন কোন মানুষের দৈনিক শ্রমের লাঘব ঘটিয়েছে কিনা তা তর্কসাপেক্ষ।”[১] অবশ্য যন্ত্রপাতির ধনতান্ত্রিক প্রয়োগের উদ্দেশ্যও কোনমতেই তা নয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতায় অন্য প্রত্যেকটি বৃদ্ধির মত, মেশিনারি প্রবর্তনেরও উদ্দেশ্য পণ্য সস্তা করা এবং শ্রমিক শ্রম-দিবসের যে-অংশটিতে নিজের জন্য কাজ করে, সেই অংশটিকে হ্রস্বতর করা এবং যে-অংশটি সে বিনা প্রতিমূল্যে ধনিককে দান করে, সেই অংশটিকে দীর্ঘতর করা। সংক্ষেপে, এটা হল উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদনের একটি উপায়।
ম্যানুফ্যাকচারের উৎপাদন-পদ্ধতিতে বিপ্লব শুরু হয় শ্রমশক্তিকে দিয়ে, আধুনিক শিল্পে তা শুরু হয় শ্রম-উপকরণ দিয়ে। সুতরাং আমাদের জিজ্ঞাসার প্রথম বিষয় হল, কেমন করে উৎপাদনের উপকরণগুলি হাতিয়ার। টুল) থেকে যন্ত্রে (মেশিন-এ রূপান্তরিত হল অথবা হস্তশিল্পের হাতিয়ারগুলি সঙ্গে একটি যন্ত্রের পার্থক্য কি কি? এখানে আমাদের আগ্রহ কেবল সুপ্রকট ও সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে, কেননা ভূতাত্ত্বিক যুগগুলির তুলনায় সমাজ-ইতিহাসের যুগগুলি অধিকতর স্পষ্ট ভেদরেখা দ্বারা চিহ্নিত নয়।
গণিতজ্ঞ ও বলবিদ্যাবিদা (মেকানিসিয়ানস’) এবং তাঁদের অনুকরণে কয়েকজন ইংরেজ অর্থতাত্ত্বিকও হাতিয়ার’ (টুল )-কে অভিহিত করেন সরল যন্ত্র (সিম্পল মেশিন) বলে এবং যন্ত্রকে অভিহিত করেন একটি জটিল হাতিয়ার বলে। তাঁরা দুটির মধ্যে কোনো মর্মগত পার্থক্য দেখতে পান না এবং লেভার’, ‘ইনক্লাইড প্লেন’, ‘’, ‘ওয়েজ ইত্যাদির মত সরল যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলিকেও (মেকানিক্যাল পাওয়াস’-কেও। তাঁরা মেশিন’ নাম দিয়ে থাকেন।[২] বাস্তবিক পক্ষে, প্রত্যেকটি মেশিনই হচ্ছে ঐ সরল ‘পাওয়ার’গুলির এক একটি সংযোজন, তা সেগুলি যেভাবেই আত্মগোপন করে থাক না কেন। অর্থ নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যাখ্যাটি লক্ষ্য করা কর্তব্য, কেননা ঐতিহাসিক উপাদানটি এখানে অনুপস্থিত। হাতিয়ার ও মেশিনারির মধ্যে আর একটি পার্থক্য এই যে, হাতিয়ারের ক্ষেত্রে মানুষ হচ্ছে চালক-শক্তি কিন্তু মেশিনের ক্ষেত্রে চালক-শক্তি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু, যেমন, পশু, জল, বাতাস ইত্যাদি।[৩] এতদনুসারে বলদে-টানা লাঙল, যা এমন একটি কারিকুরি যেটা একেবারে ভিন্ন ভিন্ন যুগে অভিন্ন ব্যাপার, তা-ও হবে একটা মেশিন। যেখানে সে-এর ঘোরানো ত—যা একজন মাত্র শ্রমিকের দ্বারা চালিত হয়, প্রতি মিনিটে বোনে ৯৬,০০০ ‘পিক’ত হবে একটি হাতিয়ার মাত্র। কেবল তাই নয়, এই হাতিয়ারটি, যা হাতে চালিত হলে একটি হাতিয়ার, তাই আবার বাষ্পে চালিত হলে হয় মেশিন; এবং যেহেতু পশুশক্তির প্রয়োগে মানুষের প্রথমতম উদ্ভাবনগুলির মধ্যে এটা একটি, সেই হেতু হস্তশিল্পের দ্বারা উৎপাদনেরও আগে অবশ্যই এসেছিল মেশিনের দ্বারা উৎপাদন। ১৭৩৫ খ্রীষ্টাব্দে জন ওয়াট তাঁর সুতো কাটার মেশিন বার করলেন এবং আঠারো শতকেই শিল্প বিপ্লবের সূচনা করলেন, তিনি একটিবারও বললেন না মানুষের বদলে গাধা দিয়ে সেটা চালাবার কথা। যদিও এই অংশটা পড়ল গাধারই ভাগে। তিনি এটাকে বর্ণনা করলেন “আল-ছাড়া সুতা কাটার” মেশিন বলে।[৪]
