অধিকন্তু, ম্যানুফ্যাকচার, হয়, সমাজের উৎপাদনের পূর্ণমাত্রা পর্যন্ত আত্মবিস্তার করতে আর, নয়ত, সেই উৎপাদনের মর্ম পর্যন্ত বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছিল। শহরের হস্তশিল্প ও গ্রামের ঘরোয়া শিল্পের বনিয়াদের উপরে একটি কলা-কৃতি হিসাবে তা মাথা তুলে দাড়িয়েছিল, যে সংকীর্ণ কারিগরি ভিত্তির উপরে ম্যানুফ্যাকচার দাড়িয়েছিল বিকাশের একটি বিশেষ পর্যায়ে তা উৎপাদনের প্রয়োজন গুলির সঙ্গে সংঘাতে এল—যে প্রয়োজনগুলি আবার ম্যানুফ্যাকচারেরই সৃষ্টি।
তার সর্বাপেক্ষা সম্পূর্ণায়িত সৃষ্টিসমূহের অন্যতম হচ্ছে স্বয়ং শ্রম-উপকরণাদি উৎপাদনের কর্মশালাটি, যে উপকরণগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল তখনকার দিনে নিযুক্ত সবচেয়ে জটিল যান্ত্রিক অ্যাপারেটাস’-টি। উরে বলেন, একটি মেশিন-ফ্যাক্টরি শ্রম বিভাজনকে প্রদর্শন করত বহুবিধ পর্যায়ক্রমে—ফাইল’, ‘ড্রিল’ ‘লেদ’—যাদের প্রত্যেকেরই ছিল দক্ষতা অনুসারে এক একজন করে শ্রমিক।” (পৃ: ২১)। শ্রম-বিভাজনের অবদান এই কর্মশালাটি আবার পালাক্রমে উৎপাদন করত—‘মেশিন। এই মেশিনগুলিই ঝেটিয়ে বিদায় করল সামাজিক উৎপাদনের নিয়ামক নীতি হিসাবে হস্তশিল্পের কাজকে। এই ভাবে একদিকে অপসারিত হল একটি প্রত্যংশ কাজের সঙ্গে একজন শ্রমিকের আজীবন সংযুক্তির কারিগরি যুক্তিটি, অন্যদিকে, যে-শৃংখল এই একই নীতি আরোপ করেছিল মূলধনের রাজ্য-বিস্তারের উপরে, সেই শৃংখলও ভেঙে লুটিয়ে পড়ল।
————
১. এটাই যথেষ্ট নয় যে, হস্তশিল্পের উপ-বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন” (লেখকের বলা উচিত ছিল জীবনধারণ ও উৎপাদনের উপায়) “সমাজে প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে; নিয়োগকর্তাদের হাতে তাকে থাকতে হবে প্রচুর পরিমাণে, যাতে করে তারা তাদের কাজ বৃহদায়তনে পরিচালিত করতে পারে। যতই বিভাজন বৃদ্ধি পায়, ততই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিককে নিরন্তর কাজে রাখতে হলে যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ইত্যাদিতে বেশি পরিমাণ মূলধনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।” ( স্টর্চ, Coursd Econ. Polit” paris Ed, পৃঃ ২৫০-২৫১) “La concentration des instruments de production et la divisioj du travail sont aussi inseparables l’une de l’autre que le sont, dans le regime politique, la concentration des pouvoirs publics et la division des interets prives.” (Karl Marx,l. c., p. 134.)
২. ভূগাল্ড স্টুয়ার্ট ম্যানুফ্যাকচারকারী শ্রমিকদের অভিহিত করেন “কাজের বিভিন্ন অংশে নিযুক্ত . জীবন্ত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বলে।” (ঐ, পৃঃ ৩১৮)।
৩. প্রবালপুঞ্জে প্রত্যেকটি একক কীট সমগ্র পুঞ্জটির পাকস্থলী হিসাবে কাজ করে, কিন্তু রোমের প্যাট্রিসিয়ানদের মত পুষ্টি কেড়ে না নিয়ে, তা গোটা পুঞ্জটিকে পুষ্টি যোগায়।
8. “L’ouvrier qui porte dans ses bras tout un metier, peut aller partout exercer son industrie et trouver des moyens desubsister : l’autre ( the manufacturing labourer ) n’est qu’un accessoire qui, separe de ses confreres, n’a plus ni capacite, ni independance, et qui se trouve force d’acceptei la loi qu’on juge a propos de lui imposer.” (Storch, 1. c., Petersb. edit., 1815, t.1, p. 204)
৫. এ ফার্গুসন, ঐ পৃঃ ২১৮: “দ্বিতীয়টি যা হারিয়েছে, প্রথমটি হয়ত তা লাভ করেছে।”
৬. জ্ঞানসম্পন্ন লোক এবং উৎপাদনশীল শ্রমিক পরস্পর থেকে ব্যাপক ভাবে ভিন্ন হয়ে যায়; এবং জ্ঞান আর শ্রমিকের হাতে তার উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শ্রমের হাতিয়ার হিসাবে না থেকে প্রায় সর্বত্রই শ্রমের বিরুদ্ধে নিজেকে সমবেত করেছে ধারাবাহিক ভাবে তাদের বিভ্রান্ত করছে এবং বিপথে চালিত করছে, যাতে করে তাদের পেশীগত শক্তিসমূহ সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও বাধ্য হয়ে পড়ে” (ডবল টম্পসন: “অ্যান ইনকুইরি ইনটু দি প্রিন্সিপলস অব ডিষ্ট্রিবিউশন অব ওয়েলথ”, ১৮২৪ পৃঃ ২৭৪)।
৭. এ ফার্গুসন, ঐ, পৃঃ ২৮০
৮. অ্যাডাম স্মিথ, “ওয়েলথ, অব নেশনস”, খণ্ড ৫, পরিচ্ছেদ ১, অনুচ্ছেদ ২। ফার্গুসন দেখিয়ে ছিলেন শ্রম-বিভাজনের অসুবিধাজনক ফলাফলগুলি; তাঁর ছাত্র অ্যাডাম স্মিথ ছিলেন এ বিষয়ে খুবই পরিষ্কার। তার গ্রন্থের ভূমিকায় যেখানে তিনি শ্রম-বিভাগের প্রশংসা করেন, সেখানে তিনি কেবল প্রসঙ্গক্রমে বলেন যে, তা সামাজিক বৈষম্যের উৎস। আমার ‘ফিলসফি অব পভাটি’-তে আমি শ্রম-বিভাগের সমালোচনার ব্যাপারে ফার্গুসন, স্মিথ, লেমটিয়ে এবং সে-র মধ্যে ঐতিহাসিক যোগাযোগটা দেখিয়েছি এবং, প্রথমবারের মত প্রমাণ করেছি যে, ম্যানুফ্যাকচারে যেমন ভাবে প্রযুক্ত হয় সেইভাবে শ্রম-বিভাগ ধনতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির একটি বিশিষ্ট রূপ।
৯. ফার্গুসন ইতিপূর্বেই বলেছেন (ঐ, পৃঃ ২৮১, “এবং এই বিভাজনের যুগে চিন্তা করাটাই হয়ে উঠতে পারে একটা বিশেষ ধরনের দক্ষতা।
১০. জি গার্নিয়ার, অ্যাডাম স্মিথের অনুবাদ, খণ্ড ৫, পৃঃ ৪-৫।
১১. রামাজিনি, পাডুয়াতে, প্র্যাকটিক্যাল মেডিসিন’-এর অধ্যাপক, তাঁর গ্রন্থ “দ্য মৰ্বিস আর্তিফিকাম” প্রকাশ করেন ১৭১৩। আধুনিক যান্ত্রিক শিল্প অবশ্য শ্রমিকদের রোগের নালিকাকে আরো দীর্ঘ করেছে।
