৬. এই ভাবে, সেই সপ্তদশ শতকেই হল্যাণ্ডে মাকু-তৈরি পরিণত হল শিজের একটি বিশেষ শাখায়।
৭. ইংল্যাণ্ডের পশম-জাত দ্রব্যাদির ম্যানুফ্যাকচার কয়েকটি অংশে বা শাখায় বিভক্ত হয়ে, যেসব জায়গায় সেগুলি একান্তভাবে বা বিশেষভাবে উৎপন্ন হয়, সেসব জায়গায় আত্মীকৃত হয়েছে কি হয়নি, কিন্তু মিহি কাপড় সমারসেটশায়ারে, মোটা কাপড় ইয়র্কশায়ারে, লং-এল এক্সেটারে, ক্রেপ’ নকইচে, কম্বল হুইটিনিতে নিবদ্ধ হয়েছে। (ব্রেকলি : “দি কুইরিস্ট” ১৭৫১-৫২০ )
৮. এ ফার্গুসন, “হিস্ট্রি অব সিভিল সোসাইটি” এডিনবরা ১৭৬৭, ৪র্থ অধ্যায়, ২য় অনুচ্ছেদ, পৃঃ ২৮৫।
৯. তিনি বলেন, সঠিক ম্যানুফ্যাকচারে, এম-বিভাগ বেশি হয় বলে মনে হয়, কারণ উপস্থিত কাজটির ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যেকটি শাখায় যারা নিযুক্ত হয়, তাদের প্রায়ই একই কর্ম-নিবাসে সমবেত করা যায় এবং একই সঙ্গে দর্শকের চোখের সামনে স্থাপন করা যায়। অন্য দিকে ঐ সব বৃহৎ ম্যানুফ্যাকচারে—যেগুলি বিপুল জনসংখ্যার বিপুল প্রয়োজন মেটাবে, সেগুলিতে প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন শাখায় এত বিরাট সংখ্যক লোক নিযুক্ত হয় যে তাদের সকলকে একই কর্ম-নিবাসে সমবেত করা অসম্ভব।” (অ্যাডাম স্মিথ, “ওয়েলথ অব নেশনস”, প্রথম খণ্ড, প্রথম পরিচ্ছেদ)। ঐ একই পরিচ্ছেদের সেই বিখ্যাত অনুচ্ছেদটি, যার শুরু এই কথাকটি দিয়ে, “একটি সভ্য ও সমৃদ্ধ দেশে একজন দিনমজুর বা কারিগরের থাকার জায়গাটা দেখুন”, তা প্রায় অক্ষরে অক্ষরে টুকে দেওয়া হয়েছে বি, ডি ম্যাণ্ডেভিল-এর, “মৌমাছির উপাখ্যান বা ব্যক্তিগত অনাচার। এবং সার্বজনিক সুবিধার”-র মন্তব্য থেকে। প্রথম সংস্করণ, মন্তব্য ছাড়া ১৭০৬; মন্তব্য সহ, ১৭১৪)।
১০. “এখন আর তেমন কিছু নেই যাকে আমরা বলতে পারি ব্যক্তিগত শ্রমের স্বাভাবিক পুরস্কার। প্রত্যেক শ্রমিক উৎপাদন করে একটা গোটা জিনিসের একটা অংশমাত্র এবং যেহেতু সেই অংশটির আলাদা ভাবে নিজের কোন মূল্য নেই, সেইহেতু সে কোনো কিছুর উপরে হাত দিয়ে বলতে পারে না, এটা আমার উৎপন্ন; আমি এটাকে আমার কাছে রেখে দেব।” (“লেবর ডিফেডে” এগেনস্ট দি ক্লেমস অব ক্যাপিট্যক লণ্ডন ১৮২৫ পৃঃ ২৫)। এই আকর্ষণীয় গ্রন্থটির প্রণেতা হলেন হজস্কিন, আমি আগেই উল্লেখ করেছি।
১১. সমাজে এবং ম্যনুফ্যাকচার ব্যবস্থার মধ্যে এই পার্থক্য ইয়াকীদের কাছে হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গৃহযুদ্ধের আমলে প্রবর্তিত ট্যাক্সগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে সমস্ত শিল্পজাত দ্রব্যের উপরে ৬% কর। প্রশ্ন : শিল্পজাত দ্রব্য বলতে কি বোঝায়? আইনসভার উত্তর : একটি জিনিস উৎপাদিত হয় তখন, যখন সেটি তৈরি হয়, এবং সেটি তৈরি হয় তখন, যখন সেটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত। নিউইয়র্ক এবং ফিলাডেলফিয়ার ম্যানুফ্যাকচারকারীদের আগে অভ্যাস ছিল তাদের সর্বস্ব দিয়ে ছাতা তৈরি করা। কিন্তু যেহেতু একটি ছাতা হল অত্যন্ত বিভিন্ন অংশের একটি মিশ্র সামগ্রী, সেই হেতু এই অংশগুলি ক্রমে ক্রমে পরিণত হল বিভিন্ন আলাদা আলাদা শিল্পের উৎপন্ন দ্রব্য, যে শিল্পগুলি স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হত ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। তারা ছাতা কারখানায় প্রবেশ করত আলাদা আলাদা পণ্য হিসাবে। এইভাবে একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে তৈরি জিনিসগুলিকে ইয়াংকীরা নাম দিয়েছিল “সন্নিবিষ্ট সামগ্রী, যে নামটি ছিল তাদের পক্ষে উপযুক্ত, কেননা তারা ছিল কতকগুলি ট্যাক্সের সন্নিবেশ। এইভাবে একটি ছাতা একত্রে “সন্নিবেশ করত” তার উপাদানগুলির দামের উপরে ৬% এবং আবার তার মোট দামের উপরে ৬%।
১২. “On peut……etablir en regle generale, que moins l’autorite preside a la division du travail dans l’interieur de la societe, plus la division du travail se developpe dans l’interieur de l’atelier, et plus elle y est soumise a l’autorite d’un seul. Ainsi l’autorite dans l’atelier et celle dans la societe, par rapport a la division du travail. sont en raison inverse l’une de i’autre.” (Karl Marx, “Misere”, &c. pp. 139.131. )
১৩. লেঃ কর্নেল মার্ক উইস, “হিস্টরিকাল স্কেচেজ অব দি সাউথ অব ইণ্ডিয়া”, ১৮১০-১৭, পৃঃ ১১৮-২০। ভারতীয় জনসমাজগুলির একটি সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়। জর্জ ক্যাম্পবেল-এর “মর্ডান ইণ্ডিয়া” নামক বইটিতে, ১৮৫২।
১৪. এই সরল ব্যবস্থার অধীনে দেশের অধিবাসীরা বাস করেছে স্মরণাতীত কাল ধরে। গ্রামগুলির সীমানা পরিবর্তিত হয়েছে কদাচিৎ; এবং যদিও গ্রামগুলি নিজেরা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন কি জন-পরিত্যক্তও হয়েছে, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ এবং ব্যাধির প্রকোপে, তা হলেও একই নাম, একই সীমানা, এবং এমনকি একই পরিবার সমূহ চলে এসেছে যুগ যুগ ধরে। রাজ্যের ভাগাভাগি বা ভাঙাগড়া নিয়ে মানুষ কখনো মাথা ঘামায় নি; গ্রাম যদি থাকে অভগ্ন, তা হলে কোন্ রাজশক্তির অধীনে তারা স্থানান্তরিত হল কিংবা কোন সার্বভৌমের অধিকারে গ্রামটি গেল, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না; তার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থাকে অপরিবর্তিত। (টমাস স্ট্যামফোর্ড, জাভার ভূতপূর্ব শাসনকর্তা : “দি হিস্ট্রি অব জাভা,” লণ্ডন, ১৮১৭, খণ্ড ১, পৃ ২৮৫)।
