২. বহু-বিমিশ্র ম্যানুফ্যাকচারের চিরায়ত দৃষ্টান্ত এই ঘড়ি নির্মাণে আমরা, হস্ত শিল্পের উপ-বিভাজনের দ্বারা সংঘটিত, শ্রম-উপকরণগুলির উল্লিখিত পৃথগীভবন ও বিশেষীতবন, খুব সঠিকভাবে অধ্যয়ন করতে পারি।
৩. “জনগণের এত ঘনসন্নিবিষ্ট বসবাসে শকটের প্রয়োজন অবশ্যই হবে সীমিত।” (“দি অ্যাডভান্টেজেস অব দি ইস্ট ইণ্ডিয়া ট্রেড, পৃঃ ১০৬)।
৪. “দৈহিক শ্রম নিয়োগের ফলশ্রুতি হিসাবে ম্যানুফ্যাকচারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচ্ছেদন উৎপাদন ব্যয় দারুণ ভাবে বৃদ্ধি করে; ক্ষতির উদ্ভব ঘটে প্রধানতঃ প্রক্রিয়া থেকে প্রক্রিয়ান্তরে অপসারণের দরুণ।” (“দি ইণ্ডাষ্ট্রি অব নেশনস”, লণ্ডন ১৮৮৫, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২০৬)।
৫. এটা (এম-বিভাগ) একটি কাজকে বিভিন্ন শাখায় ভাগ করে, যেগুলি সবই একই সময়ে করা যায়। এইভাবে তা সময়ের সাশ্রয় ঘটায়। সব কয়টি বিভিন্ন প্রক্রিয়া একই সঙ্গে সম্পাদন করে, যেগুলি একজন ব্যক্তিকে করতে হত আলাদা আলাদা ভাবে, এটা সম্ভব হয় একটা ‘পিন’-কে কাটতে বা ছুচালো করতে যতটা সময় লাগে, সেই সময়ের মধ্যে এক গাদা,পিন’-কে পূর্ণ আকারে উৎপাদন করা।” (ভুগাল্ড স্টুয়ার্ট, “লেকচার্স অন পলিটিক্যাল ইকনমি,” পৃঃ ৩১৯)
৬. “প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারে যত বিভিন্ন রকমের কারিগর: প্রত্যেকটি কাজে তত বেশি শৃংখলা ও নিয়মিত; সেটি সম্পন্ন হয় আরো কম সময়ে, আরো কম শ্রমে।” (“দি অ্যাডভানটেজেস” ইত্যাদি, পৃঃ ৬৮) .
৭. সে যাই হক, অনেক শিল্প-শাখায় ম্যানুফ্যাকচার-প্রণালী এই ফলে উপনীত হয় অসম্পূর্ণ ভাবে, কেননা তা জানেনা কিভাবে উৎপাদন-প্রক্রিয়ার রাসায়নিক ও ভৌত অবস্থাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
৮. “যখন প্রত্যেক ম্যানুফ্যাক্টরির উৎপন্ন দ্রব্যের স্ব-বৈশিষ্ট্যের দরুণ) কতগুলি প্রক্রিয়ায় তাকে বিভক্ত করলে হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক, সেই সংখ্যাটি এবং, সেই সঙ্গে কত জন লোককে নিযুক্ত করতে হবে সেই সংখ্যাটি নির্ধারিত হয়ে যায়, তখন বাকি যেসব ম্যানুফ্যাক্টরি এই সংখ্যার গুণিতককে নিয়োগ না করে তারা জিনিসটি উৎপাদন করে বেশি খরচে। এই কারণেই উদ্ভূত হয় বৃহৎ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের একটা বড় কারণ।” (সি ব্যাবেজ : “অন দি ইকনমি অব মেশিনারি”, প্রথম সংস্করণ, লণ্ডন, ১৮৩২, পরিচ্ছেদ ২১, পৃঃ ১৮২-১৮৩)
৯. ইংল্যাণ্ডে যেখানে গ্লাস নিপুণ ভাবে ব্যবহৃত হয় সেখানে মেলটিং-ফার্নেস এবং মাস-ফার্নেস’ আলাদা। বেলজিয়ামে একই ফার্নেস দুটি কাজই করে।
১০. এটা দেখা যেতে পারে ডবলু পেটি, জন বেলা, অ্যাণ্ডউ ইয়ারান্টন, “দি অ্যাডভানটেজেস অব দি ইস্ট ইণ্ডিয়। ট্রেড”, এবং জে ভ্যাণ্ডারলিন্ট থেকে, অন্যান্যদের লেখাতেও এর উল্লেখ নেই।
১১. ঘোড়শ শতকের শেষ দিকেও ফ্রান্সে আকর চূর্ণ ও পরিষ্কার করার জন্য হামন দিস্তা ও ছাকনি ব্যবহার করা হত।
১২ মেশিনারির বিকাশের গোটা ইতিহাস ময়দা-কলের ইতিহাস থেকেই পাওয়া যায়। ইংল্যাণ্ডে “ফ্যাক্টরি” তখনো পর্যন্ত “মিল”। জার্মান কৃৎবিজ্ঞান সম্পর্কিত বইপত্রে এই শতকের প্রথম দশক অবধি “মুহল” কথাটি ব্যবহৃত হত কেবল প্রাকৃতিক শক্তিচালিত মেশিনারি বোঝাতেই নয়, ব্যবহৃত হত এমন সমস্ত ম্যানুফ্যাকচার বোঝাতে যেখানে মেশিনারি’ জাতীয় অ্যাপারেটাস” ব্যবহার করা হত।
১২. চতুর্থ খণ্ডে সবিস্তারে দেখানো হবে যে, শ্রম-বিভাগ সম্পর্কে অ্যাডাম স্মিথ নোতুন কোনো বক্তব্যই প্রতিষ্ঠা করেননি। কিন্তু যে-কারণে তাকে ম্যানুফ্যাকচার যুগের বিশিষ্ট অর্থতাত্ত্বিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা হল শ্রম-বিভাগের উপরে তার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ। মেশিনারিকে তিনি যে গৌণ স্থান দিয়েছিলেন তা আধুনিক যান্ত্রিক শিল্পের প্রথম পর্যায়ে লডারডেল-এর, পরবর্তী পর্যায়ে, উরে-র বিতর্কের সূচনা করে। অ্যাডাম স্মিথ শ্রমের হাতিয়ারগুলিকে পৃথগীভবনের সঙ্গে-যে-ব্যাপারে প্রত্যংশ শ্রমিকেরা নিজেরাই নিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা—মেশিনারির উদ্ভাবনকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন; এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাক্টরির কর্মীরা নয়, পণ্ডিত ব্যক্তিরা, হন্ত শিল্পীরা এমনকি ক্ষুদ্র-কৃষকেরাও (ব্রিণ্ডলি) একটা ভূমিকা নিয়েছিল।
১৩. “মালিক-ম্যানুফ্যাকচারার বিভিন্ন মাত্রার দক্ষতা ও বলের প্রয়োজন হয় এমন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজটিকে ভাগ করে দেয়; সে জানে কোন কোন প্রক্রিয়ার জন্য কোন কোন্ পরিমাণে দুটিকে ক্রয় করতে হবে; অন্য দিকে, যদি গোটা কাজটাই একজন মাত্র কর্মীর দ্বারা সম্পাদিত হত, তা হলে তাকে সবচেয়ে কঠিন কাজটি করার মত যথেষ্ট দক্ষতা এবং সবচেয়ে শ্রমসাধ্য কাজটি করার মত যথেষ্ট শক্তির অধিকারী হতে হত।” (চার্লস ব্যাবেজ, “অনদি ইকনমি অফ মেশিনারী এ্যাও ম্যানুফ্যাকচার্স,” লন ১৮৩২, অধ্যায় ১৯)।
১৪. যেমন, কোন পেশীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কোন অস্থির বক্রতা ইত্যাদি।
১৫. জনৈক তদন্ত কমিশনার প্রশ্ন করেছিলেন, কেমন করে ছোট ছেলে-মেয়েদের কাজে ধরে রাখা হয়? তার উত্তরে এক কঁচ-কারখানার ম্যানেজার মিঃ মার্শাল সঠিক ভাবেই বলেছিলেন, তারা তাদের কাজ উপেক্ষা করতে পারে না, একবার কাজ শুরু করলে তা শেষ করতেই হবে; তারা ঠিক মেশিনের বিভিন্ন অংশের মত।” (“শিশু নিয়োগ-কমিশন, চতুর্থ রিপোর্ট, ১৮৬৫, পৃঃ ২৪৭)।
