২০ গজ ছিট = ১ কোটি এই প্রথম রূপের মধ্যে নিদিষ্ট পরিমাণ দুটি বিশেষ দ্রব্যের বিনিময়কে একটা আপতিক ঘটনা বলে মনে করাটা কিছুই বিচিত্র নয়। কিন্তু এই দ্বিতীয় রূপটি দেখেই এই আপতিক বিনিময়ের পটভূমিতে কি আছে এবং যা আছে তা যে বস্তুতঃ ভিন্ন একটি বিষয় তা আমরা তৎক্ষণাৎ ধরে ফেলতে পারি। ছিটের মূল্য কোট, কফি, লৌহ অথবা অন্য যে কোনো পণ্যের মাধ্যমেই প্ৰকাশিত হোক, আর ঐসব পণ্য যে কোনো মালিকেরই সম্পত্তি হোক, তাতে তার পরিমাণের কোন তারতম্য ঘটে না। দুটি বিশেষ বিশেষ পণ্যের ভিতরকার আপতিক সম্পর্ক তখন আর থাকে না! একথা তখন পরিষ্কার হয়ে যায় যে, পণ্যবিনিময় দ্বারা মূল্যের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং পণ্য-মূল্যের আয়ুতন দ্বারাই বিনিময় অনুপাত নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. বিশেষ সম-অৰ্ঘ রূপ
কোট, চা, শস্য, লৌহ প্রভৃতি প্ৰত্যেকটি পণ্য ছিটের মূল্য-ব্লাশিতে এক একটি সমঅৰ্থরূপ হিসেবে বিদ্যমান, তা এমন একটি জিনিস যাকে বলে মূল্য। এই সমস্ত পণ্যের প্রত্যেকটিই বস্তুর মধ্যে অন্যতম বিশেষ একটি সমঅৰ্থরূপ। সেইরকম, যেসমস্ত বিমূর্ত স্কুল, ব্যবহারযোগ্য শ্রম এইসব পণ্যের মধ্যে বিধৃত হয়ে আছে সে সমস্ত ও একই অভিন্ন মনুষ্য-শ্রমের ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বাস্তবায়িত বা অভিব্যক্তি রূপ।
৩. মূল্যের সামগ্রিক তথা সম্প্রসারিত রূপের বিবিধ ত্রুটি
প্রথমতঃ মূল্যের আপেক্ষিক প্রকাশটি অসম্পূর্ণ, কেননা যে রাশিমালায় তার অভিব্যক্তি তার কোন শেষ নেই। মূল্যের প্রত্যেকটি সমীকরণ যে শৃংখলের এক একটি গ্ৰন্থি তার দৈর্ঘ্য নিত্যই বধিত হয় নিত্য নতুন পণ্যের আবির্ভাবের ফলে মূল্য প্রকাশের নিত্য নতুন আধার উদভূত হওয়ায়। দ্বিতীয়তঃ, তা হল মূল্যের ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র অভিব্যক্তির একখানি বহু বৰ্ণ মোজাইক! সৰ্বশেষে, যদি প্ৰত্যেকটি পণ্যের আপেক্ষিক মূল্য পালাক্রমে এই সম্প্রসারিত রূপের মধ্যে প্রকাশিত হয়, যা হতে বাধ্য, তাহলে আমরা তার প্রত্যেকটির জন্য পাচ্ছি এক একটি স্বতন্ত্র আপেক্ষিক মূল্যরূপ এবং এইভাবে তৈরী হচ্ছে মূল্য অভিব্যক্তির এক অনন্ত রাশিমালা। সম্প্রসারিত আপেক্ষিক মূল্যের ত্রুটি সমূহ অনুরূপ সমঅৰ্থমূল্য-রূপের মধ্যে প্রতিফলিত হয়! যেহেতু প্ৰত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের দেহরূপ অন্যান্য অসংখ্য সমঅৰ্ঘ মূল্যরূপের মধ্যে একটি, সেহেতু মোটের উপর আমরা পাচ্ছি মূল্যের শুধুমাত্র কতকগুলি টুকরো টুকরে! সমরূপ, যার প্রত্যেকটি বাকিগুলির ব্যতিরোকী। ঐ একইভাবে প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সমরূপের মধ্যে অঙ্গীভূত হয়ে আছে যে বিশেষ মূর্ত ও ব্যবহার্য শ্রম, তাও উপস্থাপিত হয় একটি বিশেষ ধরনের শ্রম হিসেবেই, নিবিশেষভাবে এই নিবিশেষ শ্রমের যথাযথ প্ৰকাশ ঘটে তার অসংখ্য সবিশেষ মূর্ত রূপের সমগ্ৰতার মধ্যে। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে, এক অনন্ত রাশিমালাক্স ভিতর তার অভিব্যক্তি সর্বদাই থাকে অসম্পূর্ণ এবং খণ্ডিত।
সম্প্রসারিত আপেক্ষিক মূল্য রূপ তো আর কিছুই নয়, শুধু প্রথমটির মতো বহু প্ৰাথমিক আপেক্ষিক অভিব্যক্তি বা সমীকরণের সমষ্টি। যথা, ২০ গজ ছিট = ১ কোট, ২০ গজ ছিট = ১০ পাঃ চা, ইত্যাদি।
এর প্রত্যেকটির মধ্যে নিহিত আছে তার অনুরূপ, বিপরীত সমীকরণ,
১ কোট = ২০ গজ ছিট
১০ পাঃ চা=২০ গজ ছিট, ইত্যাদি।
বস্তুতঃ, যখন কোন ব্যক্তি তার ছিটের বিনিময়ে অন্যান্য অনেক জিনিস গ্রহণ করে এবং এইভাবে তার মূল্য প্রকাশ করে অন্যান্য অনেক পণ্যের মাধ্যমে, তখন স্বভাবতই দাঁড়ায় এই যে, শেষোক্ত পণ্যসমূহের বিভিন্ন মালিক তাদের নিজ নিজ পণ্যের বিনিময়ে ছিট গ্রহণ করেছে এবং ফলত, তাদের বিভিন্ন পণ্যের মূল্য প্রকাশ করছে ছিট নামে পরিচিত একটি তৃতীয় পণ্যের মাধ্যমে। সুতরাং, আমরা যদি এখন ২০ গজ ছিট= ১ কোট অথবা = ১০ পাঃ চা ইত্যাদি এই রাশিমালাটিকে উন্টে দিই, অর্থাৎ কিনা। এই রাশিমালার মধ্যে যে বিপরীত রাশিমালা আছে তা প্ৰকাশ্যভাবে উপস্থিত করি, তাহলে আমরা পাই :-
গ. মূল্যের সাধারণ রূপ
১ কোট=২০ গজ ছিট
৪ ও পাম কফি=২০ গজ ছিট
১ কোয়াটার শস্য=২০ গজ ছিট
২ আঃ স্বর্ণ=২০ গজ ছিট
১/২টন লৌহ =২০ গজ ছিট
ও পরিমাণ ক পণ্য ইত্যাদি=২০ গজ ছিট
১. মূল্যরূপের পরিবর্তিত চরিত্র
এখন সমস্ত পণ্যেই তাদের মূল্য প্ৰকাশ করেছে (১) প্ৰাথমিক রূপে, কারণ একটিমাত্র পণ্যের মাধ্যমে; (২) একত্ব সহকারে, কাৰ্বণ অবিকল একই পণ্যের মাধ্যমে। মূল্যের এই রূপটি প্রাথমিক এবং সর্বক্ষেত্রেই একরকম, সুতরাং তা
ক এবং খ এই ছকে মূল্যকে দেখানো যায় কেবল পণ্যের ব্যবহারমূল্য হিসাবে বা বহু রূপ থেকে স্বতন্ত্র একটি সত্তা হিসেবে।
প্ৰথম ছক “ক” এ আছে নিম্নলিখিত সমীকরণটি–১ কোট = ২০ গজ ছিট, ১০ পাঃ চা=১/২ টন লৌহ। কোটের মূল্য সমীকৃত হচ্ছে ছিটের সঙ্গে, চা-এর মূল্য লৌহের সঙ্গে। কিন্তু প্ৰথমে ছিট এবং পরে লৌহের সঙ্গে সমীকরণে দাঁড়াচ্ছে যেয়ে পণ্য তাদেরকে ছিট এবং লৌহের মতোই ভিন্ন ভিন্ন হতে হয়েছে। সুতরাং একথা পরিষ্কার যে, এ হচ্ছে প্ৰথম আরম্ভের সময়কার বিনিময় সম্পর্ক, যখন শ্ৰমজাত দ্রব্য বিনিময় দ্বারা পণ্যে পরিণত হতো মাঝে মাঝে, হঠাৎ হঠাৎ।
