৩. “ধরা যাক ম্যানুফ্যাকচারকারীর উৎপন্ন সামগ্রী মেশিনারির উৎকর্ষ সাধনের ফলে দ্বিগুণিত হয়।”…..সমগ্র উৎপাদনের একটি ক্ষুদ্রতর অংশের সাহায্য সে তার কর্মীদের পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করতে পারবে এবং এই ভাবে তার মুনাফা উন্নীত হবে। কিন্তু অন্য কোনো উপায় দ্বারা তা প্রভাবিত হবে না।” (ব্যামসে “অ্যান এসে অন দি ডিষ্ট্রিবিউশন অব ওয়েলথ”, ১৮৩৬, পৃঃ ১৬৮, ১৬৯)।
৪. একজন মানুষের মুনাফা অন্যান্য মানুষদের এম-ফলের উপরে তার নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে স্বয়ং শ্রমের উপরে তার নিয়ন্ত্রণের উপর। যখন তার কর্মীদের মজুরি অপরির্তত থাকে, তখন সে যদি তার জিনিস উচ্চতর জানে বিক্রয় করতে পারে, তা হলে সে স্পষ্টভাবে উপকৃত হয়। সে যা উৎপাদন করে তার একটি ক্ষুদ্রতর অনুপাতে সেই এমকে গতিশীল করার পক্ষে যথেষ্ট হয়। সুতরাং একটি বৃহত্তর অনুপাত তার নিজের কাছে থেকে যায়।” (আউটলাইনস অব পলিটিক্যাল ইকনমি,” লণ্ডন, ১৮৩২, পৃঃ ৪৯, ৫০)।
৫. “যদি আমার প্রতিবেশী অল্প শ্রম দিয়ে বেশি তৈরি করে সস্তায় বিক্রি করতে পারে, আমিও এমন ব্যবস্থা করব যাতে তার মত সস্তায় বিক্রি করতে পারি। সুতরাং প্রত্যেক কৌশল, বৃত্তি, বা ইঞ্জিন, যা অল্পতর সংখ্যক কর্মীর শ্রমের সাহায্যে কাজ করে, অতএব, সস্তায় কাজ করে, তা অন্যান্যদের মধ্যে একই কৌশল, বৃত্তি বা ইঞ্জিন ব্যবহারের কিংবা অনুরূপ কিছু উদ্ভাবনের, আবশ্যিকতা বা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষই তার উপযুক্ত স্থানে দাড়াতে পারে এবং কেউ তার প্রতিবেশীর চেয়ে সস্তায় বিক্রি না করতে পারে (“দি অ্যাডভানটেজেস অব দি ইষ্ট ইণ্ডিয়া ট্রেড টু ইংল্যাণ্ড, লণ্ডন ১৭২০, পৃঃ ৬৭)।
৬. একজন শ্রমিকের ব্যয় যে অনুপাতেই কমুক না কেন, সেই একই অনুপাতে তার মজুরিও কমানো হবে, যদি শিল্পের উপরে আরোপিত নিয়ন্ত্রণগুলি তুলে নেওয়া হয়।” (“কনসিডারেশনস কনসার্নিং টেকিং অফ দি বাউন্টি অন কর্ণ এক্সপোর্টেড”, লন, ১৭৫৩, পৃঃ ৭)। “ব্যবসার স্বার্থ দাবি করে যে, শস্য এবং সমস্ত খাদ্যদ্রব্য যথাসম্ভব সস্তা হবে; কেননা যা কিছু তাকে মহার্ঘ করবে, তা শ্রমকেও মহার্ঘ করবে যেখানে শিল্পের উপরে নিয়ন্ত্রণ নেই, তেমন সমস্ত দেশেই, খাদ্য-দ্রব্যের দাম অবশ্যই এমের দামকে প্রভাবিত করবে।” এটা সব সময়ই কম হবে যখন জীবনধারণের। দ্রব্যাদি সস্তা নয়। (ঐ, পৃঃ ৩)। “যে অনুপাতে উৎপাদনের ক্ষমতাগুলি বৃদ্ধি পায়, সেই অনুপাতে মজুরি হ্রাস পায়। এটা সত্য, মেশিনারি জীবনধারণের আবশ্যিক দ্রব্যাদিকে সস্তা করে, কিন্তু শ্রমিককেও সস্তা করে।” (“এ প্রাইজ এসে অন দি কমপ্যারাটিভ মেরিটস অব কমপিটিশন অ্যান্ড কো-অপারেশন”, ১৮৩৪, পৃঃ ২৭)।
৭. “Ils conviennent que plus on peut, sans prejudice, epargner de frais ou de travaux dispendieux dans la fabrication des ouvrages des artisans, plus cette epargne est profitable par la diminution des prix de ces ouvrages. Cependant ils croient que la production de richesse qui resulte des travaux des artisans consiste dans l’augmentation dela valeur venate de leurs ouvrages.” (Quesnay : “Dialogues sur le commerce et les Travauxdes Artisans, pp. i88, 189)
৮. “Ces speculateurs si economes du travail des ouvriers qu’il faudrait qu’ils payassent.” (J. N. Bidaut: “Du Monopole qui s’etablit dans les arts industriels et le commerce.“ Paris, 1828, p. 13.) নিয়োগকর্তা সব সময়েই সচেষ্ট থাকবে সময় ও শ্রম কমাতে (ভুগাড় স্টয়ার্ট : স্যার ডবলিউ. হামিলটন সম্পাদিত গ্রন্থ, এডিনবরা খণ্ড ৮, ১৮৫৫, “লেকচারস অন পলিটিক্যাল ইকনমি” পৃষ্ঠা-৩১৮। “তাদের (ধনিকদের) স্বার্থ এই যে, তারা যে শ্রমিকদের নিয়োগ করে, তাদের উৎপাদিকা ক্ষমতা যেন সর্বাধিক হয়। ঐ ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে তাদের মনোযোগ নিবিষ্ট, একান্ত ভাবে নিবিষ্ট, থাকে।” (আর- জোন্স, টেকস্টট বুক অব লেকচার্স অন দি পলিটিক্যাল ইকনমি অব নেশন, খটফোর্ট ১৮৫২ “লেকচার-৩”)
১৩. সহযোগ (ত্রয়োদশ অধ্যায়)
ত্রয়োদশ অধ্যায় — সহযোগ
আমরা আগেই দেখেছি, ধনতান্ত্রিক উৎপাদন কেবল তখনি বস্তুতঃ পক্ষে শুরু হয়, যখন প্রত্যেকটি ব্যক্তিগত মূলধন একইসঙ্গে তুলনামূলকভাবে বৃহৎ সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করে থাকে, যখন তার ফলে শ্রম-প্রক্রিয়া ব্যাপক আয়তনে পরিচালিত হয় এবং আপেক্ষিকভাবে বৃহৎ পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হয়। একই জায়গায়, কিংবা বলতে পারেন, শ্রমের এই ক্ষেত্রে একই সময়ে, একই সঙ্গে বৃহত্তর সংখ্যক শ্রমিক একজন নিকের প্রভুত্বাধীনে একই ধরনের পণ্য উৎপাদনে লিপ্ত হলে ইতিহাস ও যুক্তিবিজ্ঞান– উভয় দিক থেকেই ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের সূচনা-ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। উৎপাদনের পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে, একই ব্যক্তিগত মূলধনের অধীনে বৃহত্তর সংখ্যক শ্রমিকের যুগপৎ নিয়োগ ছাড়া অন্য কোন ভাবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে যথাযথ অর্থে যন্ত্র শিল্পোৎপাদন থেকে গিলতগুলির হস্তশিল্পোৎপাদনকে কদাচিৎ পার্থক্য করা যায়। মধ্যযুগের মালিক-হস্তশিল্পীর কর্মশালাটিরই সম্প্রসারণ মাত্র।
