কোন পণ্যের নিছক মূল্যে ধনিকের কোন আগ্রহ থাকে না। যাতে সে আগ্রহী হয়, তা হল ঐ পণ্যে অবস্থিত উত্তমূল্য। উত্তমূল্যের আয়ত্তীকরণের সঙ্গে সঙ্গে আবশ্যিক ভাবেই জড়িত থাকে অগ্রিম-প্রদত্ত মূল্য প্রত্যর্পণের ব্যাপারটি। এখন, যেহেতু আপেক্ষিক উত্তমূল্য বৃদ্ধি পায় শ্রমের উৎপাদনশীলতার বিকাশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অনুপাতে, যখন, অন্যদিকে পণ্যের মূল্য হ্রাস পায় একই অনুপাতে, যেহেতু এক ও অভিন্ন এই প্রক্রিয়া পণ্যকে সস্তা করে এবং তার মধ্যে বিস্তৃত উত্তমূল্যকে বৃদ্ধি করে, আমরা এখানে পেয়ে যাই আমাদের ধাধার সমাধান : কেন ধনিক, যার একমাত্র ভানা হচ্ছে বিনিময়মূল্যের উৎপাদন, সেই ধনিক নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায় পণ্যের বিনিময় মূল্যকে দাবিয়ে রাখতে? এটা এমন একটা ধাধা যার সাহায্যে রাষ্ট্রীয় অর্থতত্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে কেনে তাঁর বিরোধীদের উত্যক্ত করতেন এবং যে ধাধাটির কোনো উত্তর তাদের জানা ছিল না। তিনি বলতেন, আপনারা স্বীকার করেন যে, উৎপাদনের ক্ষতি না ঘটিয়ে শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদন শ্রমের খরচ ও ব্যয় যত বেশি কমানো যায়, তত বেশি এই কমতি সুবিধাজনক হয়, কেননা তা তৈরি জিনিসটির দাম কমিয়ে দেয়। এবং তবু আপনারা বিশ্বাস করেন যে, এমকারী মানুষের শ্রম থেকে যার উদ্ভব সেই সম্পদের মানে হচ্ছে তাদের উৎপন্ন দ্রব্যাদির বিনিময়মূল্যের বৃদ্ধি সাধন।[৭]
সুতরাং ধনতান্ত্রিক উৎপাদনে, যখন শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তার সাশ্রয় ঘটানো হয়, তখন তার যা লক্ষ্য থাকে তা কোন মতেই এম-দিবসের হ্রস্বতা-সাধন নয়।[৮] লক্ষ্য থাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় শ্রম-সময়ের হ্রস্বতা-সাধন। শ্রমিকের শ্রমের উৎপাদনশীলতা যখন বর্ষিত হয়, তখন যে সে, ধরুন, আগের তুলনায় ১০ গুণ পণ্য উৎপাদন করে এবং এইভাবে প্রত্যেকটি পণ্যপিছু এক দশমাংশ শ্রম-সময় ব্যয় করে, এই ঘটনা কোন মতেই তাকে আগের মতই ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত তার কাজ চালিয়ে যাওয়া থেকে এবং এইভাবে ঐ ১২ ঘণ্টায় ১২টির বদলে ১২টি জিনিস উৎপাদন করা থেকে তাকে বিরত করে না। এমনকি, অধিকন্তু, তার এম দিবসকে ঐ সময়ে আরো দীর্ঘায়িত করা যেতে পারে, যাতে করে তাকে ১৪ ঘণ্টায় ১,৪০০টি জিনিস তৈরি করতে বাধ্য করা যায়। সুতরাং ম্যাককুলো, উরে সিনিয়র এবং ওঁদের ছাঁচের এক গাদা অর্থনীতিবিদের গ্রন্থগুলিতে আমরা এক পৃষ্ঠায় যখন পড়ি যে, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে আবশ্যিক শ্রম-সময়ের দৈর্ঘ্য হ্রাসের ব্যবস্থা করার জন্য তাকে মূলধনের কাছে সকৃতজ্ঞ ভাবে ঋণ-স্বীকার করা উচিত, তখন পরের পৃষ্ঠাতেই পড়ি যে, দশ ঘণ্টার পরিবর্তে ভবিষ্যতে ১৫ ঘণ্টা কাজ করে তার উচিত কৃতজ্ঞতা স্বীকারের প্রমাণ দেওয়া। ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের চতুঃসীমার মধ্যে শ্রমের উৎপাদন শীলতা বিকাশের সমস্ত ব্যবস্থারই উদ্দেশ্য হচ্ছে এম-দিবসের সেই অংশটির দৈর্ঘ্য হ্রাস, করা, যে অংশটিতে শ্রমিককে অবশ্যই কাজ করতে হবে তার নিজের স্বার্থের জন্য এবং এইভাবে এই অংশটির দৈর্ঘ্য হ্রাস করে শ্রম-দিবসের বাকি অংশটিতে সে ধনিকের স্বার্থে মুফতে কাজ করে যাবার স্বাধীনতা ভোগ কৱে। পণ্যের মূল্য না কমিয়ে এই ফলপ্রাপ্তি কতদূর সম্ভব, তা বোঝা যাবে আপেক্ষিক উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদনের বিশেষ পদ্ধতিগুলি পর্যালোচনা করলে এবং সেই পর্যালোচনার দিকেই এখন আমরা অগ্রসর হব।
————
১. “বাচার জন্য, শ্রম করার জন্য, প্রজনন করার জন্য শ্রমিকের যা যা চাই, তার বারাই নির্ধারিত হয় তার গড় দৈনিক মজুরির মূল্য। (উইলিয়ম পেটিঃ “পলিটিক্যাল অ্যানাটমি অব আয়াণ্ড, ১৬৭২, পৃঃ ৬৪)। “এমের দাম সব সময়েই গঠিত হয় আশিক দ্রব্যসামগ্রীর দামের দ্বারা। যখনি শ্রমজীবী লোকটির মজুরি, শ্রমজীবী লোক হিসাবে তার নিম্ন পদ ও অবস্থান অনুযায়ী তার পরিবারের ভরণ-পোষণে অক্ষম হয়, তাদের অনেকেরই ভাগ্যে প্রায়ই যা হয়, তখনি বুঝতে হবে সে উচিত মজুরি পাচ্ছে না। (জ্যাকব ভ্যাঙারলিন্ট : “মানি অ্যানসারস অল থিংগস, ১৭৭৪, mi se )”Le simple ouvrier qui n’a que ses bras et son industrie, n’a rien qu’autant qu’il parvient a vendre a d’autres sa peine… En tout genre de travail il doit arriver, et il arrive en effet, que le salaire de l’ouvrier se borne a ce qui lui est necessaire pour lui procurer sa subsistance (Turgot : “Reflexions &c” Oeuvres, ed. Daire t. I, P. 10) জীবনধারণের আবশ্যিক দ্রব্যসামগ্রীর দামই হল আসলে এম-উৎপাদনের ব্যয়” (ম্যালথাস, “ইনকুইরি ইনটু রেন্ট ইত্যাদি”, লণ্ড ১৮১৫, পৃঃ ৪৮ টাকা)।
২. “Quando si perfezionano le arti che non e altro che la scoperta di nuove vie, onde si possa compiere una manufattura con meno gente o ( che e lo stesso ) in minor tempo di prima” (Galiani : “Della Moneta”, P. 159 ), “L”, economie sur les frais de production ne peu donc etre autre chose que l’economie sur la quantite de travail employe pour produire” (Sismondi, «Etudes”, t.I, P. 22).
