কিংবা এক ঘণ্টার এমসময়ের সমান। এখন যদি ক। রেখায় অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার এম-দিবসে, আমরা খ-কে বিন্দুতে সরিয়ে দেই, তা হলে খগ হয় খগ, উক্ত এম অর্ধেক বৃদ্ধি পেয়ে ২ ঘণ্টা থেকে দাড়ায় ৩ ঘণ্টা—যদিও শ্রম-দিবসটি থাকে আগের মতই ১২ ঘণ্টা। খগ-থেকে খগ, ২ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা অবশ্য শ্রম-দিবসের এই সম্প্রসারণ স্পষ্টতই অসম্ভব যদি সেই সঙ্গে আবশ্যিক শ্রম-সময়কে কখ-থেকে ক, ১ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টায় সংকুচিত করা না হয়। উত্তমের সম্প্রসারণ মানে হল আবশ্যিক এম-সময়ের সংকোচন। বস্তুতঃ পক্ষে যার তাৎপর্য হল শ্রমিকের নিজের স্বার্থে শ্রমিক আগে যে শ্রম-সময় ভোগ করত, তারই একটা অংশ ধনিকের স্বার্থে নিয়োজিত শ্রম-সময়ে রূপান্তরণ। এর ফলে এম-দিবসের দৈর্ঘ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না কিন্তু পরিবর্তন ঘটবে আবশ্যিক শ্রম-সময়ে ও উত্ত-সময়ে তার ভাগাভাগিতে।
অন্য দিকে এটা স্পষ্ট যে, যখন এম-দিবসের দৈর্ঘ্য এবং শ্রমশক্তির মূল্য নির্দিষ্ট, তখন উত্তমের স্থায়িত্বকালও নির্দিষ্ট। শ্রমশক্তির মূল্য, তথা শ্রমশক্তি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় শ্রম-সময়, নির্ধারণ করে দেয় উক্ত মূল্যের পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় এ-সময়ের পরিমাণ। যদি একটা শ্রম-ঘণ্টা মূর্ত হয় ছয় পেন্সে এবং এক দিনের শ্রম শক্তি মূর্ত হয় পাঁচ শিলিংয়ে, তা হলে তার শ্রমশক্তির জন্য মূলধন তাকে যে মূল্য দেয়, সেই মূল্যের পুনঃসংস্থান করতে কিংবা তার দৈনিক গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণাদির মূল্যের সম-মূল্য সামগ্রী উৎপাদন করতে শ্রমিককে অবশ্যই দিনে ১০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে। গ্রাসাচ্ছাদনের এই উপকরণাদির মূল্য যদি নির্দিষ্ট থাকে, তা হলে তার শ্রমশক্তির মূল্যও নির্দিষ্ট থাকবে[১] এবং তার শ্রমশক্তির মূল্য যদি নির্দিষ্ট থাকে, তা হলে তার আবশ্যিক শ্রমসময়ের স্থায়িত্বকালও নির্দিষ্ট থাকবে। কি। উত্তমের স্থায়িত্বকাল হিসাব করতে হয় সমগ্র ম-দিবসটি থেকে আবশ্যিক এম সময়কে বিয়োগ করে। বাবো ঘণ্টা থেকে দশ ঘণ্টা বিয়োগ, করলে থাকে দুখটা এক এটা বোঝা সহজ নয় যে, কিভাবে নির্দিষ্ট অবস্থায় উত্তমকে দুই ঘণ্টার বেশি বাড়ানো সম্ভব। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ধনিক ঐ শ্রমিককে পাঁচ শিলিং না দিয়ে চার শিলিং ছয় পেন্স, এমন কি আরো কমও দিতে পারে। চার শিলিং ছয় পেন্সের এই মূল্যের পুনরুৎপাদনের জন্য নয় ঘণ্টার এমসময়ই যথেষ্ট; কাজে কাজেই দুই ঘণ্টার পরিবর্তে তিন ঘণ্টার শ্রম-সময় ঘনিকের হাতে যাবে এবং উত্ত মূল্য এক শিলিং থেকে বেড়ে দাঁড়াবে আঠারো পেন্স। কিন্তু এই ফলপ্রাপ্তির জন্য শ্রমিকের মজরি কমিয়ে আনতে হবে তার এম-শক্তির মূল্যের নীচে। যা উৎপাদন করতে তার লাগে নয় ঘণ্টা, সেই চার শিলিং ছয় পেন্স নিয়ে, সে তার গ্রাসাচ্ছাদনের উপকরণাদির জন্য পূর্বে যা পেত, তা থেকে পাচ্ছে এক-দশমাংশ কম এবং ফলতঃ যথাযথ পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা পঙ্গু হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে উদ্ধ-শমকে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে তার স্বাভাবিক মাত্রাকে অতিক্রম করে; তার এলাকাকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে আবশ্যিক শ্রম-সময়ের এলাকার একটি অংশকে জবর-দখল করে। বাস্তব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করলেও আমরা এখানে তার আলোচনা থেকে বিরত থাকছি, কেননা আমরা ধরে নিয়েছি যে, শ্রমশক্তি সমেত সমস্ত পণ্য দ্রব্যেরই ক্রয়-বিক্রয় হয় তাদের নিজ নিজ পূর্ণ মূল্যে। এটা মেনে নিলে, শ্রমশক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় তার এম-শক্তির মূল্যের নীচে শ্রমিকের মজুরির পতন ঘটিয়ে হ্রাস করা যায় না, হ্রাস করা যায় কেবল খোদ ঐ মূল্যেরই পতন ঘটিয়ে। শ্রম-দিবসের দৈর্ঘ্য যদি নির্দিষ্ট থাকে, তা হলে উদ্ধও-এমকে দীর্ঘায়িত করতে হলে অবশ্যই তা করতে হবে আবশ্যিক শ্রম-সময়ের হ্রাস সাধন করে; শেষোক্তটির উদ্ভব পূর্বোক্তটি থেকে ঘটতে পারে না। আমাদের গৃহীত দৃষ্টান্তটিতে আবশ্যিক শ্রম-সময়কে যদি এক-দশমাংশ কমাতে হয় অর্থাৎ যদি দশ ঘণ্টা থেকে নয় ঘণ্টা করতে হয় এবং, ফলত, উত্ত-এমকে দুই ঘণ্টা থেকে দীর্ঘায়িত করে তিন ঘণ্টা করা যায়, সেজন্য শ্রমশক্তির মূল্য বস্তুতই এক দশমাংশ হ্রাস হওয়া প্রয়োজন।
শ্রমশক্তির মূল্যে এই হ্রাস-প্রাপ্তির মানে অবশ্য দাঁড়ায় যে, আগে জীবনধারণের যেসব প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদিত হত দশ ঘণ্টায়, সেগুলি এখন উৎপাদিত হয় নয় ঘণ্টায়। কিন্তু শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ছাড়া এটা অসম্ভব। দৃষ্টান্ত হিসাবে ধরা যাক, নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতির সাহায্যে একজন জুতো-নির্মাতা বারো ঘণ্টার একটি এম দিবসে এক জোড়া জুতো তৈরি করে। যদি তাকে একই সময়সীমার মধ্যে দুই জোড়া জুতো তৈরি করতে হয়, তা হলে তার শ্রমের উৎপাদনশীলতাকে দ্বিগুণ বাড়াতে হবে; আর তা করা যায় না, যদি তার যন্ত্রপাতিতে বা তার কাজের পদ্ধতিতে বা দুটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন না ঘটানো যায়। অতএব উৎপাদনের অবস্থাদিতে অর্থাৎ তার উৎপাদনের পদ্ধতিতে এবং খোদ শ্রম-প্রক্রিয়াটিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির দ্বারা আমরা বোঝাই, সাধারণ ভাবে, এম-প্রক্রিয়ার এমন ধরণের এক পরিবর্তন, যার ফলে একটি পণ্য উৎপাদনের জন্য সামাজিক ভাৰে। আবশ্যক শ্রম-সময় হ্রাসপ্রাপ্ত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রম অধিকতর পরিমাণ ব্যবহার-মূল্য উৎপাদনের ক্ষমতাসমম্বিত হয়।[২] এই পর্যন্ত শ্রম-দিবসের সরল সম্প্রসারণ থেকে উদ্ভূত উত্তমূল্য সম্পর্কিত আলোচনায় আমরা উৎপাদন পদ্ধতিকে ধরে এসেছি নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বলে। কিন্তু যখন আবশ্যিক শ্রমকে উদ্ধৃত্ত-শ্রমে রূপান্তরিত করে উত্তমূল্য উৎপাদন করতে হয়, তিনি ইতিহাসের ধারাক্রমে প্রাপ্ত শ্রম-প্রক্রিয়াটিকে তুলে নেওয়া এবং সেই প্রক্রিয়াটির স্থায়িত্বকে দীর্ঘায়িত করাই মূলধনের পক্ষে কোনক্রমে যথেষ্ট নয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতা যাতে বাড়ানো যেতে পারে, তাই আগে ঐ প্রক্রিয়াটির কারিগরি ও সামাজিক অবস্থালীর এবং, ফলত, স্বয়ং উৎপাদন-পদ্ধতিটির বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কেবল সেই উপায়েই শ্রমশক্তির মূল্যকে তলিয়ে দেওয়া যায় এবং উক্ত মূল্য পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম-সময়ের হ্রাস করা সম্ভব। হয়।
